জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম শুধু বাংলাদেশের গর্ব নন, তিনি মুসলিম রেনেসাঁরও এক অনন্য রূপকার বলে মন্তব্য করেছেন ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু।
তিনি বলেন, নজরুলের সৃষ্টি, চিন্তা ও সাহিত্যকর্ম উপমহাদেশের মানুষের মাঝে জাগরণ সৃষ্টি করেছে। তার রচিত রণসঙ্গীত ‘চল চল চল’ বাংলাদেশসহ বিশ্বের প্রায় ১১টি দেশে পরিবেশিত হয়। এর মধ্যে ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, ভুটান, আফগানিস্তান ও ইরান অন্যতম।
শনিবার (১৮ জুলাই) বেলা ১১টার দিকে রাজশাহী কেন্দ্রীয় বোটানিক্যাল গার্ডেন ও চিড়িয়াখানার বিপরীতে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের স্মরণে ঘোষিত ‘নজরুল বর্ষ’ উপলক্ষে নবনির্মিত ‘নজরুল ভিলেজ’-এর ফলক উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
রাজশাহী জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে নির্মিত ‘নজরুল ভিলেজ’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভূমিমন্ত্রী বলেন, রাজশাহীতে ‘নজরুল ভিলেজ’ স্থাপনের মাধ্যমে নজরুল গবেষণা ও সাংস্কৃতিক চর্চার ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনার সৃষ্টি হবে। এটি স্থানীয় সংস্কৃতি বিকাশেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তিনি বলেন, ‘নজরুল ভিলেজ’-এর কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে রাজশাহীতে এনে এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ সময় তিনি জাতীয় কবির বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।
আরো পড়ুন
কথা বলছেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর
জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তা, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সুধীসমাজ এবং সাংস্কৃতিক অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠান শেষে দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। পরে ‘নজরুল ভিলেজ’ চত্বরে একটি কৃষ্ণচূড়া গাছের চারা রোপণ করেন ভূমিমন্ত্রী।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ‘নজরুল ভিলেজ’ প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রাথমিকভাবে বিভিন্ন উৎস থেকে ২৫ লাখ টাকার তহবিল সংগ্রহ করা হয়েছে। এর মধ্যে ‘নজরুল মঞ্চ’ নির্মাণে ১০ থেকে ১২ লাখ টাকা ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রকল্প এলাকায় কোনো বহুতল ভবন নির্মাণ করা হবে না। এটি সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত সাংস্কৃতিক চর্চার স্থান হিসেবে গড়ে তোলা হবে। এখানে যেকোনো দল বা গোষ্ঠী নজরুলের নাটক, পালাগান, কবিতা ও সাহিত্যের বিভিন্ন শাখা নিয়ে চর্চা করতে পারবেন।
নজরুল চর্চাকে নিয়মিত ও পরিকল্পিতভাবে এগিয়ে নিতে ইতোমধ্যে একটি ‘নজরুল ক্যালেন্ডার’ প্রণয়ন করা হয়েছে। সেই অনুযায়ী সারা বছর বিভিন্ন সাংস্কৃতিক আয়োজন করা হবে। আগামী মাসের নির্ধারিত অনুষ্ঠানগুলো যাতে এই প্রাঙ্গণে আয়োজন করা যায়, সে লক্ষ্যে দ্রুত ‘নজরুল মঞ্চ’-এর নির্মাণকাজ শেষ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
জাতীয় কবির সাহিত্য, কবিতা ও গান নতুন প্রজন্মের কাছে আরও বিস্তৃতভাবে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যেই ‘নজরুল মঞ্চ’ ও ‘নজরুল কর্নার’ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।