• ই-পেপার

ইসি সব সময় ইভিএমে নির্বাচন করার পক্ষে : সিইসি

৪ মাস পর দেশে ফিরলেন হরমুজে আটকে থাকা ১৭ নাবিক

অনলাইন ডেস্ক
৪ মাস পর দেশে ফিরলেন হরমুজে আটকে থাকা ১৭ নাবিক

ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে সৃষ্ট নিরাপত্তাসংকটের কারণে প্রায় চার মাস হরমুজ প্রণালিতে আটকে থাকা বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) জাহাজ এমভি ‘বাংলার জয়যাত্রা’র ১৭ বাংলাদেশি নাবিক দেশে ফিরেছেন। দীর্ঘ অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগের পর স্বজনদের কাছে ফিরতে পেরে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন তারা।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বিকেল ৫টা ৪২ মিনিটে এমিরেটস এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে দুবাই হয়ে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান তারা। বিমানবন্দরে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আবেগঘন পুনর্মিলনের পর নাবিকরা নিজ নিজ গন্তব্যে রওনা হন।

বিএসসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমোডর মাহমুদুল মালেক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, দক্ষিণ আফ্রিকার ডারবান বন্দর থেকে বিমানে যাত্রা করে তারা দেশে ফিরেছেন। জাহাজে কর্মরত নাবিকদের পর্যায়ক্রমে দেশে ফেরানোর পরিকল্পনার অংশ হিসেবে প্রথম দফায় ১৭ জনকে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।

বিএসসির তথ্য অনুযায়ী, দেশে ফেরা নাবিকদের মধ্যে জাহাজের মাস্টার, চিফ অফিসার, বিভিন্ন পর্যায়ের প্রকৌশলী, ক্যাডেট ও রেটিং রয়েছেন। তাদের দায়িত্ব পালনের জন্য এরই মধ্যে নতুন ১৭ জন নাবিক দক্ষিণ আফ্রিকার ডারবানে পৌঁছে এমভি বাংলার জয়যাত্রায় যোগ দিয়েছেন।

বিএসসির মহাব্যবস্থাপক (শিপ পারসোনেল বিভাগ) ক্যাপ্টেন জিয়াউর রহমান জানান, জাহাজটি বর্তমানে নির্ধারিত বাণিজ্যিক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। পরবর্তী পণ্য খালাস ও বোঝাই শেষে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে এটি ডারবান বন্দর ত্যাগ করবে। এরপর জাহাজটির সম্ভাব্য গন্তব্য মালয়েশিয়া। সেখানে পৌঁছানোর পর জাহাজে থাকা অবশিষ্ট ১৪ বাংলাদেশি নাবিক দেশে ফিরবেন।

তিনি বলেন, দীর্ঘ সময় সমুদ্রে দায়িত্ব পালন, যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকা এবং মানসিক চাপের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েই প্রথম ধাপে ১৭ জনকে দেশে ফেরানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তাদের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধি এবং হরমুজ প্রণালিতে নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হওয়ার পর এমভি বাংলার জয়যাত্রাসহ ওই অঞ্চলে থাকা বেশ কয়েকটি বাণিজ্যিক জাহাজের চলাচল ব্যাহত হয়। ফলে জাহাজটির বাংলাদেশি নাবিকদের নির্ধারিত সময়ের অনেক বেশিদিন জাহাজে অবস্থান করতে হয়। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর প্রথম দফায় ১৭ নাবিকের দেশে ফেরায় স্বস্তি প্রকাশ করেছে তাদের পরিবার এবং বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন।

স্থানীয় নির্বাচনে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের অংশগ্রহণ নিয়ে যা বললেন ইসি সচিব

অনলাইন ডেস্ক
স্থানীয় নির্বাচনে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের অংশগ্রহণ নিয়ে যা বললেন ইসি সচিব

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থিতা নিয়ে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন না। পাশাপাশি ঋণখেলাপি, ঋণের জামিনদার এবং যাদের ইউটিলিটি বিল বকেয়া রয়েছে, তারাও নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার অযোগ্য বিবেচিত হবেন।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) নির্বাচন কমিশনের ১২তম কমিশন সভা শেষে এসব তথ্য জানান ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ।

তিনি বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা, সিটি করপোরেশন এবং জেলা পরিষদ—এই পাঁচ ধরনের স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নির্বাচনী আইন পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সংশোধনের প্রস্তাব চূড়ান্ত করেছে কমিশন। প্রস্তাবগুলো শিগগিরই আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।

জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ও ভোটার তালিকা নিয়ে আখতার আহমেদ বলেন, বর্তমানে ১৬ বছর বা তার বেশি বয়সীদের তথ্য সংগ্রহ করা হয়। তবে তারা ১৮ বছর পূর্ণ করার আগে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হন না। ১৮ বছর পূর্ণ হলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভোটার তালিকায় তাদের নাম যুক্ত হয়। এর আগে পর্যন্ত তাদের তথ্য ‘ডরম্যান্ট’ অবস্থায় থাকে।

তিনি আরো জানান, তথ্য সংগ্রহের বয়সসীমা আরো কমানো যায় কি না, তা নিয়ে কমিশন পর্যালোচনা করছে। এসএসসি, অষ্টম শ্রেণি কিংবা প্রাথমিক স্তর—কোন পর্যায় থেকে তথ্য সংগ্রহ শুরু করা হবে, সে বিষয়ে তুলনামূলক বিশ্লেষণের ভিত্তিতে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

পাঁচ মাসে ৬০৫ কোটি টাকা কৃষিঋণ মওকুফ

অনলাইন ডেস্ক
পাঁচ মাসে ৬০৫ কোটি টাকা কৃষিঋণ মওকুফ

পাঁচ মাসে ৭ লাখের বেশি কৃষকের ৬০৪ কোটি ৮১ লাখ টাকার কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফ করেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক (বিকেবি)। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটি।

কৃষি ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, সরকারের নির্দেশনা অনুসারে দেশের ৪৮টি জেলার মোট ৭ লাখ ৯ হাজার ৬৭৯ জন কৃষক এই সুবিধার আওতায় এসেছেন। তথ্য যাচাই-বাছাই ও হিসাব সমন্বয়ের মাধ্যমে প্রকৃত সুবিধাভোগীদের চিহ্নিত করে ঋণ মওকুফ কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়েছে।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে দায়িত্ব গ্রহণের পর বিএনপি সরকারের প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকেই কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সে সময় মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি জানিয়েছিলেন, শস্য, ফসল, মৎস্য ও পশুপালন খাতের কৃষকেরা এ সুবিধা পাবেন। সরকারের এই উদ্যোগে মোট ১ হাজার ৫৫০ কোটি টাকার কৃষিঋণ মওকুফের পরিকল্পনা রয়েছে, যার আওতায় প্রায় ১২ লাখ কৃষক উপকৃত হওয়ার কথা।

কৃষি ব্যাংক জানিয়েছে, সরকার ঘোষিত মোট ঋণ মওকুফ কর্মসূচির প্রায় ৩৯ শতাংশ এককভাবে বাস্তবায়ন করেছে প্রতিষ্ঠানটি। একই সঙ্গে দেশের মোট কৃষিঋণের প্রায় ৬৩ শতাংশই বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের মাধ্যমে বিতরণ করা হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে অনাদায়ী থাকা ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের ঋণ তাদের ওপর বড় ধরনের আর্থিক ও মানসিক চাপ সৃষ্টি করেছিল। প্রাকৃতিক দুর্যোগ, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, বাজারের মন্দা এবং নানা অর্থনৈতিক সংকটের কারণে অনেক কৃষক সময়মতো ঋণ পরিশোধ করতে পারেননি। ফলে নতুন করে ব্যাংকঋণ নেওয়ার সুযোগ থেকেও তারা বঞ্চিত হচ্ছিলেন। ঋণ মওকুফের ফলে এসব কৃষক আবারও নিয়মিত ব্যাংকিং সেবার আওতায় এসে নতুন করে কৃষিঋণ গ্রহণের সুযোগ পাবেন বলে জানিয়েছে ব্যাংকটি।

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সঞ্চিয়া বিনতে আলী বলেন, সরকারের নির্দেশনার আলোকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে কৃষকদের তথ্য যথাযথভাবে যাচাই-বাছাই করে ঋণ মওকুফ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এর ফলে বিপুলসংখ্যক ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষক ঋণের দায় থেকে মুক্ত হয়েছেন এবং ভবিষ্যতে নতুন ঋণ নিয়ে কৃষি উৎপাদনে যুক্ত হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।

বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহারেও কৃষকদের জন্য ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফের প্রতিশ্রুতি ছিল। পাশাপাশি ‘কৃষক কার্ড’ চালু, ‘ফ্যামিলি কার্ড’ প্রবর্তন, ২০ হাজার কিলোমিটার নদী ও খাল খনন, পুনঃখনন ও পুনরুদ্ধার এবং প্রতিবছর ৫ কোটি বৃক্ষরোপণের মতো কর্মসূচির কথাও উল্লেখ করা হয়।

এর আগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ১৯৯১-১৯৯৬ মেয়াদে পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণের আসল ও সুদ মওকুফের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। দীর্ঘ প্রায় তিন দশক পর আবারও কৃষিঋণ মওকুফের এমন কর্মসূচি বাস্তবায়িত হলো।

এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ কৃষিঋণ-সংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে (জুলাই-মে) কৃষি ব্যাংকের কৃষিঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৭ হাজার ৮০০ কোটি টাকা। তবে একই সময়ে ব্যাংকটি বিতরণ করেছে ৯ হাজার ৮১ কোটি টাকা, যা লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ১ হাজার ২৮১ কোটি টাকা বেশি।

বায়ুদূষণে শীর্ষে কিনশাসা, ঢাকার বাতাস মাঝারিমানের

অনলাইন ডেস্ক
বায়ুদূষণে শীর্ষে কিনশাসা, ঢাকার বাতাস মাঝারিমানের

জলবায়ু পরিবর্তন ও বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ চলায় বিশ্বের বিভিন্ন শহরে বায়ুদূষণের মাত্রা দিন দিন বাড়ছেই। এমন অবস্থায় মেগাসিটি ঢাকার বায়ুমান মাঝারিমানের। বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায় রাজধানী ঢাকার অবস্থান ২৬তম। যার বায়ুমান স্কোর ৭৫। এই অবস্থার বায়ুমানকে মাঝারিমানের বলে বিবেচিত হয়।

বুধবার (২২ জুলাই) সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বায়ুর মান পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্সের (আইকিউএয়ার) সূচক থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্সের (আইকিউএয়ার) তথ্য অনুযায়ী, বুধবার (২২ জুলাই) সকালে বায়ুদূষণের শীর্ষে রয়েছে ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোর রাজধানী কিনশাসা। যার বায়ুমান স্কোর ১৮৭। এই অবস্থাকে ‘অস্বাস্থ্যকর’ বলা হয়। এছাড়া তালিকার দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ভিয়েতনামের রাজধানী হ্যানয়। যার বায়ুমান স্কোর ১৫৪। তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে সৌদি আরবের রিয়াদ। যার বায়ুমান স্কোর ১৩৪। চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে ইসরায়েলের জেরুজালেম। যার বায়ুমান স্কোর ১১৮। অপরদিকে তালিকার পঞ্চম অবস্থানে রয়েছে মিসরের কায়রো। যার বায়ুমান স্কোর ১১৫।

আইকিউএয়ারের স্কোর শূন্য থেকে ৫০ ভালো হিসেবে বিবেচিত। ৫১ থেকে ১০০ মাঝারি হিসেবে গণ্য করা হয়, আর সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর বিবেচিত হয় ১০১ থেকে ১৫০ স্কোর। স্কোর ১৫১ থেকে ২০০ হলে তাকে ‘অস্বাস্থ্যকর’ বায়ু বলে মনে করা হয়।

এ ছাড়া, ২০১ থেকে ৩০০ এর মধ্যে থাকা স্কোরকে ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ বলা হয়। এ অবস্থায় শিশু, প্রবীণ এবং অসুস্থ রোগীদের বাড়ির ভেতরে এবং অন্যদের বাড়ির বাইরের কার্যক্রম সীমাবদ্ধ রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়ে থাকে। ৩০১ থেকে ৪০০-এর মধ্যে থাকা স্কোর ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ বলে বিবেচিত, যা নগরের বাসিন্দাদের জন্য গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে।

ইসি সব সময় ইভিএমে নির্বাচন করার পক্ষে : সিইসি | কালের কণ্ঠ