• ই-পেপার

খালেদা জিয়ার জন্মদিন

নথি চেয়েছেন হাইকোর্ট, এখন কী করবে বিএনপি?

আইনি প্রক্রিয়ায় শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের বিষয় পর্যালোচনা করছে ভারত : জয়সোয়াল

অনলাইন ডেস্ক
আইনি প্রক্রিয়ায় শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের বিষয় পর্যালোচনা করছে ভারত : জয়সোয়াল
রণধীর জয়সোয়াল। সংগৃহীত ছবি

বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের অনুরোধ পর্যালোচনা করে দেখা হচ্ছে বলে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল জানিয়েছেন।

শুক্রবার (১৭ জুলাই) দিল্লিতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ব্রিফিংয়ে এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন জয়সোয়াল।

সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে এক সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, আমরা জানতে পারছি, শেখ হাসিনা ও অন্য অভিযুক্ত ব্যক্তিদের প্রত্যর্পণের জন্য বাংলাদেশ আবারও ভারতকে অনুরোধ করেছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে কোনো যোগাযোগ হয়েছে কি না। তা ছাড়া শেখ হাসিনা নিজেই ডিসেম্বরে দেশে ফেরার ঘোষণা দিয়েছেন। তাই বিষয়টি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে কোনো যোগাযোগ হয়েছে কি না।

এ প্রশ্নের জবাবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, আমরা প্রত্যর্পণের জন্য একটা অনুরোধ পেয়েছি। যেমনটি আমরা আগে বলেছিলাম, অনুরোধটি পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট আইনগত ও বিচারিক প্রক্রিয়ার আলোকে অনুরোধটি বিবেচনা করা হবে।

আরেক সাংবাদিক প্রশ্ন করেন বাংলাদেশের করা আরেকটি প্রত্যর্পণের অনুরোধ নিয়ে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, তাঁরা এক ব্যক্তিকে প্রত্যর্পণের অনুরোধ জানিয়ে ভারতীয় কর্তৃপক্ষকে সব কাগজপত্র পাঠিয়েছেন। ওই ব্যক্তি গ্রেপ্তার হয়ে ভারতীয় পুলিশের হেফাজতে আছে। তাঁর বিরুদ্ধে বাংলাদেশে নির্বাচনের প্রাক্কালে একজন রাজনীতিবিদকে হত্যার অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে আপনাদের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ হয়েছে কি না এবং হয়ে থাকলে সেটার বর্তমান অবস্থা কী?

এ প্রশ্নের জবাবে রণধীর জয়সোয়াল বলেন, এ বিষয়ে তার কিছু জানা নেই। এই প্রশ্নের উত্তরেও তিনি জানান, প্রত্যাবর্তনের যেকোনো অনুরোধ আইনগত বিষয় ও বিচারপ্রক্রিয়া খতিয়ে দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়ে থাকে।
 

৬৪ হাজার টাকাসহ নিখোঁজ শিশুকে উদ্ধার করলেন আনসার সদস্য

নিজস্ব প্রতিবেদক
৬৪ হাজার টাকাসহ নিখোঁজ শিশুকে উদ্ধার করলেন আনসার সদস্য

বাবা-মার সঙ্গে অভিমান করে নগদ ৬৪ হাজার টাকা ও প্রিয় খেলনা নিয়ে বাড়ি ছেড়েছিল আট বছরের এক শিশু। গত বুধবার মাদারীপুরের শিরখাড়া থেকে নিখোঁজ হওয়া শিশুটি অবশেষে আজ শুক্রবার ফিরেছে পরিবারের কোলে। আর এই অবুঝ শিশুকে উদ্ধার করেছেন মাদারীপুর সদর জেলা হাসপাতালে নিয়োজিত আনসার সদস্যরা।

গত ১৬ জুলাই (বৃহস্পতিবার) রাত ১০টার দিকে হাসপাতালের আউটডোরে একা ঘুরে বেড়ানো শিশুটিকে লক্ষ্য করেন আনসার মো. অন্তর মিয়া। তিনি বিষয়টি ক্যাম্প ইনচার্জ পিসি মোখলেসকে জানালে তারা শিশুটির সঙ্গে পরম মমতায় কথা বলেন। পরে তল্লাশি চালিয়ে শিশুটির ব্যাগ থেকে খেলনাসহ নগদ ৬৪ হাজার ১২০ টাকা উদ্ধার করা হয়।

শিশুটিকে নিরাপদ হেফাজতে নিয়ে আনসার সদস্যরা বিষয়টি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এবং উপজেলা আনসার-ভিডিপি কর্মকর্তা মনির হোসেনকে জানান। তিনি হাসপাতালে এসে গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের সহায়তায় শিশুর বাবা ও চাচার সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং সদর থানার ওসিকে বিষয়টি জানান। 

পরে শিশুটিকে পুলিশের মাধ্যমে আজ শুক্রবার (১৭ জুলাই) ভোররাতে আইনি প্রক্রিয়া শেষে উদ্ধারকৃত অর্থসহ শিশুটিকে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

অভিমানে হারিয়ে যাওয়া সন্তান ফিরে পেয়ে আনসার সদস্যদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে শিশুটির পরিবার। 

এ সময় স্থানীয় প্রশাসনও বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর এই দায়িত্বশীল ও মানবিক ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন।

দেশে নতুন সংগঠনের আত্মপ্রকাশ

অনলাইন ডেস্ক
দেশে নতুন সংগঠনের আত্মপ্রকাশ

দেশের সামরিক ও বেসামরিক বিভিন্ন সেবা খাত থেকে অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা, অর্জিত দক্ষতা ও দেশপ্রেমকে সার্বিক উন্নয়ন ও সেবামূলক কাজে লাগানোর প্রত্যয়ে যাত্রা শুরু করেছে নতুন সংগঠন ‘ভেটেরানস বাংলাদেশ’। 

শুক্রবার (১৭ জুলাই) বিকেলে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় অবস্থিত ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) সংগঠনটির আনুষ্ঠানিক আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠিত হয়। 

সংগঠনটির নেতারা জানান, সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক, অলাভজনক ও সেবামূলক এই প্ল্যাটফর্মটির উদ্দেশ্য একটি ঐক্যবদ্ধ, সম্মানিত, স্বনির্ভর ও কল্যাণমুখী ভেটেরান সমাজ প্রতিষ্ঠা করা, যারা জাতীয় উন্নয়ন, দেশ গঠন ও মানবকল্যাণে ইতিবাচক অবদান রাখবে। এ ছাড়া ভেটেরানদের মর্যাদা রক্ষা, জীবনমান উন্নয়ন এবং একটি শক্তিশালী ও ঐক্যবদ্ধ ভেটেরান কমিউনিটি গড়ে তোলা। 

অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন ভেটেরানস বাংলাদেশের আহ্বায়ক মেজর (অব.) আমীন আহমেদ আফসারী। এ সময় তিনি সংগঠনের সদস্যদের শপথবাক্য পাঠ করান।

‘দেশ গঠনে ভেটেরানদের ভূমিকা’- শীর্ষক বিশেষ আলোচনাসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লে. কর্নেল (অব.) আ ক ম জাহিদ হোসেন। অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য দেন মেজর (অব.) আব্দুর রাজ্জাক, মেজর (অব.) সিকদার, মেজর (অব.) ইউসুফ প্রমুখ। 

সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বাংলাদেশের অবসরপ্রাপ্ত ভেটেরানদের পারস্পরিক ঐক্য জোরদার করা, কল্যাণমূলক কার্যক্রম পরিচালনা এবং দেশের মানুষের সেবায় তাদের জ্ঞান ও নেতৃত্বের ইতিবাচক ব্যবহার নিশ্চিত করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। এই মিলনমেলায় অংশ নেন বিভিন্ন বাহিনী ও প্রতিষ্ঠানের ভেটেরান সদস্য, বীর মুক্তিযোদ্ধা, বিশিষ্ট নাগরিক, গবেষক ও গণমাধ্যমকর্মীরা।  

পশ্চিমবঙ্গে খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের ওপর হামলার ঘটনায় ঢাকায় প্রতিবাদ

নিজস্ব প্রতিবেদক
পশ্চিমবঙ্গে খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের ওপর হামলার ঘটনায় ঢাকায় প্রতিবাদ

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের ওপর হামলার অভিযোগের প্রতিবাদে ঢাকায় প্রতিবাদ সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে বাংলাদেশ খ্রিস্টান অ্যাসোসিয়েশন। সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেছেন, ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা কোনো দেশের একান্ত অভ্যন্তরীণ বিষয় নয়; এটি মানবাধিকার, আইনের শাসন এবং দক্ষিণ এশিয়ার সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির প্রশ্ন। তাই পশ্চিমবঙ্গের ঘটনাবলি নিয়ে বাংলাদেশের খ্রিস্টান সমাজের উদ্বেগ কূটনৈতিকভাবে ভারত সরকারের কাছে তুলে ধরতে হবে।

আজ শুক্রবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে আয়োজিত সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ খ্রিস্টান অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নির্মল রোজারিও। 

তিনি বলেন, পশ্চিমবঙ্গে সাম্প্রতিক সময়ে গির্জায় হামলা, প্রার্থনাসভায় বাধা, খ্রিস্টান পরিবারকে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও ধর্মীয় স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপের যেসব অভিযোগ উঠেছে, সেগুলো বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। একটি গণতান্ত্রিক ও ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা হলো সংখ্যালঘু নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

তিনি বলেন, গির্জা ও খ্রিস্টানদের ওপর ধারাবাহিক হামলা শুধু উপাসনালয়ের ওপর আঘাত নয়, এটি ধর্মীয় স্বাধীনতা ও মৌলিক মানবাধিকারের ওপরও আঘাত।

সমাবেশে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে কোনো নাগরিক আতঙ্কে জীবনযাপন করবে, এমন পরিস্থিতি সভ্য সমাজে গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। তিনি অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ীদের বিচারের দাবি জানান।

বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট আবেদ রেজা বলেন, প্রতিবেশী দেশের সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তার প্রশ্নকে শুধু অভ্যন্তরীণ বিষয় হিসেবে দেখলে চলবে না। দক্ষিণ এশিয়ায় মানবাধিকার, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার সঙ্গে বিষয়টি গভীরভাবে সম্পর্কিত।

বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মনিন্দ্র কুমার নাথ বলেন, আজ যদি একটি সম্প্রদায়ের উপাসনালয় আক্রান্ত হয়, কাল অন্য সম্প্রদায়ও একই ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তার প্রশ্নে নীরবতা শেষ পর্যন্ত গণতন্ত্রকে দুর্বল করে।

রমনা ক্যাথিড্রালের পরিচালক ফাদার আলবার্ট টি. রোজারিও বলেন, প্রতিশোধ নয়, ন্যায়বিচারই প্রয়োজন। ঘৃণা কখনো ঘৃণাকে পরাজিত করতে পারে না। আমরা নিরাপত্তা চাই, ভয় নয়; সহাবস্থান চাই, বিভাজন নয়।

যুব প্রতিনিধি লিংকার্স বি. রোজারিও বলেন, নতুন প্রজন্ম এমন একটি দক্ষিণ এশিয়া দেখতে চায়, যেখানে নাগরিকের পরিচয় নির্ধারিত হবে মানবিক মর্যাদায়, ধর্মীয় পরিচয়ে নয়।

সেলেসিয়ান সিস্টার ফ্লোরেন্স মিতা বলেন, উপাসনালয়ে হামলা শুধু একটি স্থাপনার ক্ষতি নয়; এটি মানুষের বিশ্বাস, মর্যাদা ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের ওপর আঘাত।

সমাবেশ থেকে ভারত সরকারের প্রতি অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত, দায়ীদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়। সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

নথি চেয়েছেন হাইকোর্ট, এখন কী করবে বিএনপি? | কালের কণ্ঠ