• ই-পেপার

সরকারের উদ্দেশে রিজভী

ক্ষমতায় থেকে দেশের জনগণের প্রতি জুলুম করবেন না

বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫৮

অনলাইন ডেস্ক
বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫৮
সংগৃহীত ছবি

অতিবৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল ও পাহাড়ধসে দেশের সাত জেলায় অন্তত ৫৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন আরো ৪০ জন। বন্যা ও জলাবদ্ধতায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা ১২ লাখ ১৬ হাজার ৮০৫ জনে পৌঁছেছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে ৫২ হাজার ৪৯৩টি পরিবার। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম জেলায়। বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) বিকেল ৩টা পর্যন্ত দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের হালনাগাদ প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

বন্যাকবলিত জেলাগুলো হলো খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, বান্দরবান, কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ। এসব জেলার ৫৭টি উপজেলা এবং ৮টি পৌরসভা বন্যা ও অতিবৃষ্টির প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র তথ্য অফিসার মাহবুবুর রহমান তুহিন জানান, মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি হয়েছে কক্সবাজারে। জেলাটিতে ৩২ জন মারা গেছেন। নিহতদের মধ্যে ১৯ জন স্থানীয় বাসিন্দা এবং ১৩ জন রোহিঙ্গা। চট্টগ্রামে ১৫ জন, বান্দরবানে সাতজন, রাঙামাটিতে তিনজন এবং মৌলভীবাজারে একজনের মৃত্যু হয়েছে।

আহত ৪০ জনের মধ্যে কক্সবাজারে ২৫ জন, চট্টগ্রামে ১২ জন, বান্দরবানে দুজন এবং খাগড়াছড়িতে একজন রয়েছেন। কক্সবাজারে এখনো একজন নিখোঁজ রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য সাত জেলায় মোট ৮৭টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। এসব কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছেন ৮৪৯ জন। চট্টগ্রামে ১১টি আশ্রয়কেন্দ্রে ৩৯৫ জন, বান্দরবানে ৬৭টি কেন্দ্রে ১৫০ জন, মৌলভীবাজারে ছয়টি কেন্দ্রে ২৪৯ জন এবং রাঙামাটির একটি কেন্দ্রে ৫৫ জন আশ্রয় নিয়েছেন। তবে খাগড়াছড়িতে কোনো আশ্রয়কেন্দ্রে মানুষ অবস্থান করছেন না বলে সরকারি হিসাবে দেখানো হয়েছে।

সবচেয়ে বেশি ক্ষতি কক্সবাজার ও চট্টগ্রামে

কক্সবাজারের ১০টি উপজেলার ৭১টি ইউনিয়ন এবং চারটি পৌরসভা বন্যায় আক্রান্ত হয়েছে। জেলাটিতে ৩২ জনের মৃত্যু ও ২৫ জন আহত হওয়ার পাশাপাশি একজন নিখোঁজ রয়েছেন। দুর্গতদের জন্য ৪০ লাখ টাকা, ৪৫০ মেট্রিক টন চাল, ১ হাজার বান্ডিল টিন এবং গৃহ নির্মাণে ৩০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৪৯ লাখ ৮০ হাজার টাকা নগদ, ৪৪৫ মেট্রিক টন চাল ও ৪৫০ প্যাকেট শুকনা খাবার বিতরণের তথ্যও দিয়েছে মন্ত্রণালয়।

চট্টগ্রামের মহানগরসহ ১৬টি উপজেলায় আংশিক জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। জেলার ১৭৬টি ইউনিয়ন বা এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেখানে ১৫ জন নিহত ও ১২ জন আহত হয়েছেন। চট্টগ্রামের জন্য ৭৫ লাখ টাকা, ১ হাজার ২০০ মেট্রিক টন চাল, ১ হাজার বান্ডিল টিন ও গৃহ নির্মাণে ৩০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৭০ লাখ ৭৫ হাজার টাকা, ১ হাজার ৪০ মেট্রিক টন চাল এবং ৪৬ হাজার ১০০ প্যাকেট শুকনা খাবার বিতরণ করা হয়েছে।

বান্দরবানের সাতটি উপজেলার ৩৪টি ইউনিয়ন ও দুটি পৌরসভা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেখানে সাত জন নিহত ও দুই জন আহত হয়েছেন। দুর্গতদের মধ্যে ১৩ হাজার ১৯৩ প্যাকেট শুকনা খাবার এবং ১ হাজার ১৭৫ প্যাকেট শিশুখাদ্য বিতরণের তথ্য রয়েছে।

রাঙামাটির ৯টি উপজেলার ৪৩টি ইউনিয়ন ও দুটি পৌরসভা আক্রান্ত হয়েছে। সেখানে তিন জনের মৃত্যু হয়েছে। খাগড়াছড়ির ১০টি উপজেলার ৪১টি ইউনিয়ন ক্ষতিগ্রস্ত হলেও সেখানে প্রাণহানির তথ্য নেই; একজন আহত হয়েছেন।

মৌলভীবাজারের সদর ও রাজনগর উপজেলার ১২টি ইউনিয়ন আক্রান্ত হয়েছে। সেখানে একজন মারা গেছেন। ছয়টি আশ্রয়কেন্দ্রে ২৪৯ জন অবস্থান করছেন। হবিগঞ্জের সদর, বাহুবল ও বানিয়াচং উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নও বন্যাকবলিত হয়েছে।

৬৪ জেলায় মানবিক সহায়তা

মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৭ জুলাই থেকে ১৬ জুলাই পর্যন্ত দেশের ৬৪ জেলায় মানবিক সহায়তার জন্য মোট ৫ কোটি ১৫ লাখ টাকা এবং ৯ হাজার ৫০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ৪ হাজার ২০০ বান্ডিল টিন এবং গৃহ নির্মাণে ১ কোটি ২৬ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র উপদেষ্টার সঙ্গে ৫ ইউরোপীয় রাষ্ট্রদূতের বৈঠক

অনলাইন ডেস্ক
প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র উপদেষ্টার সঙ্গে ৫ ইউরোপীয় রাষ্ট্রদূতের বৈঠক

প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে বৈঠক করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত পাঁচ ইউরোপীয় রাষ্ট্রদূত ও জ্যেষ্ঠ কূটনীতিকরা।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) বিকেলে তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এই বৈঠক হয়। বৈঠকে বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় অংশীদারদের মধ্যকার দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক অংশীদারি এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠকে অংশ নেন ঢাকায় নিযুক্ত ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত জ্যাঁ-মার্ক সেরে-চার্লে, স্পেনের রাষ্ট্রদূত গ্যাব্রিয়েল সিসটিয়াগা, যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনার সারাহ কুক, ইউরোপীয় ইউনিয়নের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স (সিডিএ) বাইবা জারিনা এবং জার্মানির চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স (সিডিএ) আনজা কারস্টেন। এ সময় বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।

আলোচনায় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, প্রতিরক্ষা, বেসামরিক বিমান চলাচল (এভিয়েশন) এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট অন্যান্য খাতে সহযোগিতা আরো গভীর ও বহুমাত্রিক করার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়।

প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র উপদেষ্টা ইউরোপীয় দেশগুলোর সঙ্গে পারস্পরিক আস্থা এবং অভিন্ন স্বার্থের ভিত্তিতে বিদ্যমান সম্পর্ককে আরো জোরদার করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

ইউরোপীয় কূটনীতিকরা বাংলাদেশের সঙ্গে তাদের নিজ নিজ দেশের বহুমাত্রিক অংশীদারি আরো সম্প্রসারণের আগ্রহ পুনর্ব্যক্ত করেন।

দেশের সব প্রতিষ্ঠান ও অর্থনীতি ফ্যাসিস্ট সরকার ধ্বংস করে গেছে : প্রধানমন্ত্রী

বাসস
দেশের সব প্রতিষ্ঠান ও অর্থনীতি ফ্যাসিস্ট সরকার ধ্বংস করে গেছে : প্রধানমন্ত্রী
সংগৃহীত ছবি

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘এখনকার যুদ্ধটা অনেক বড়। এখানে টিকে থাকতে হলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘আমাদের ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে। দেশের সব প্রতিষ্ঠান ও দেশের অর্থনীতি ফ্যাসিস্ট সরকার ধ্বংস করে গেছে। প্রতিবছর ১৬ বিলিয়ন ডলার পাচার হতো। এভাবে যদি অর্থপাচার না হতো, তাহলে অনেক সমস্যার সমাধান হয়ে যেত।’

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) দুপুরে সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জনপ্রশাসন সভাকক্ষে দেশের সমতল এলাকায় বসবাসকারী ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন।

সভায় এলজিআরডিমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী বিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সম্প্রদায়ের প্রথম সংরক্ষিত আসনের নারী সংসদ সদস্য আন্না মিনজ, সংস্কৃতিকর্মী সঞ্জীব দ্রংসহ ১৭ জেলার ১৮টি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের সব প্রতিষ্ঠান ও দেশের অর্থনীতি ফ্যাসিস্ট সরকার ধ্বংস করে গেছে। প্রতিবছর ১৬ বিলিয়ন ডলার পাচার হতো। এভাবে যদি অর্থপাচার না হতো, তাহলে আপনাদের (ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর) অনেক সমস্যার সমাধান হয়ে যেত। তবে আমাদের সরকার পর্যায়ক্রমে যেগুলো সমাধানযোগ্য, সেগুলো আগে সমাধান করার চেষ্টা করছে।’

সভায় প্রধানমন্ত্রী সুখী, সমৃদ্ধ ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীকে দেশের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে অভিহিত করে  প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সরকার এমন একটি দেশ গড়ে তুলতে কাজ করছেন, যেখানে কোনো জাতি-গোষ্ঠীর প্রতি বৈষম্য থাকবে না।’

সবার জন্য প্রত্যাশিত বাংলাদেশ বিনির্মাণে তিনি সবাইকে সঙ্গে নিয়ে এগিয়ে যেতে চান। কাউকে আলাদা মনে করেন না।

এ সময় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সম্প্রদায়ের নেতারা তাদের জন্য পৃথক ভূমি কমিশন গঠন, সমতলের আদিবাসী অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর জন্য জাতীয় কনভেনশন, ‘ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী’ শব্দের পরিবর্তে জাতিভিত্তিক পরিচয়ের দাবি, আদিবাসী হিসেবে সাংবিধানিক স্বীকৃতি, আইনগতভাবে ভূমির মালিকানা প্রতিষ্ঠা, কেন্দ্রীয় কালচারাল সেন্টার প্রতিষ্ঠা, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ঋণসুবিধা এবং বিভিন্ন প্রকল্পের নামে বা রিজার্ভ ফরেস্টের নামে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীদের বসতি থেকে উচ্ছেদ বন্ধের দাবি জানান।

প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত মনোযোগ দিয়ে তাদের বক্তব্য শোনেন এবং সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেন।

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারকে ইঙ্গিত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ওরা একটি প্রজন্মকে ধ্বংস করে দিয়ে গেছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের যাত্রা শুরু করেছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। তার সময়ে ৩১ শয্যার হাসপাতাল প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। এরপর আমাদের সরকার যখনই ক্ষমতায় এসেছে, তখনই এর উন্নয়ন হয়েছে। বেগম খালেদা জিয়া ক্ষমতায় আসার পর সেটি ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়। এখন আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, এটিকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করার। অথচ আগের সরকার ইউনিয়নভিত্তিক কমিউনিটি স্বাস্থ্যকেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করেছিল। কিন্তু সেগুলোর কোনো কার্যক্রম নেই।’

২০২৬-২৭ অর্থবছরে স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি, কিডনি ডায়ালাইসিস ও হার্টের রিংসহ জরুরি চিকিৎসাসামগ্রীর ওপর আরোপিত কর হ্রাসের বিষয়েও প্রধানমন্ত্রী কথা বলেন।

গণমানুষ ও গণতান্ত্রিক দলের অংশগ্রহণে গণ-অভ্যুত্থান সফল হয় : মাহ্দী আমিন

নিজস্ব প্রতিবেদক
গণমানুষ ও গণতান্ত্রিক দলের অংশগ্রহণে গণ-অভ্যুত্থান সফল হয় : মাহ্দী আমিন

সব শ্রেণি-পেশার গণমানুষ ও গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলের সম্মিলিত অংশগ্রহণে চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থান সফল হয়েছে বলে মনে করেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তার কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন। 

তিনি বলেন, সেদিন ফ্যাসিবাদের পতনের লক্ষ্যে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে রাজপথে নেমে এসেছিল সর্বস্তরের জনগণ। বাংলা ও ইংরেজি মাধ্যমের কোমলমতি শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে মাদরাসা, কলেজ এবং পাবলিক ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীরা একযোগে এই আন্দোলনে শামিল হয়েছিল। শুধু শিক্ষার্থীরাই নয়, ফ্যাসিবাদের কবল থেকে দেশকে মুক্ত করতে রাজপথে রক্ত ঢেলে দিয়েছেন সমাজের প্রান্তিক ও তৃণমূল পর্যায়ের সাধারণ মানুষও। রাস্তার দিনমজুর, হকার, রিকশাচালক, গার্মেন্টস শ্রমিক, কৃষক, প্রবাসী রেমিট্যান্সযোদ্ধা এবং সর্বস্তরের নারীরা—বিশেষ করে মায়েরা এই গণ-অভ্যুত্থানে অনন্য ভূমিকা পালন করেছেন।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে  ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) আয়োজনে শফিকুল কবির মিলনায়তনে ‘ফল উৎসব-২০২৬’ এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। 

ঐতিহাসিক ১৬ জুলাই উপলক্ষে অনুষ্ঠানের শুরুতেই মাহ্দী আমিন শহীদ আবু সাঈদ, শহীদ ওয়াসিম আকরামসহ ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আন্দোলনে আত্মদানকারী সব শহীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। 

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এই মুখপাত্র বলেন, গণ-অভ্যুত্থানের মূল আকাঙ্ক্ষাই ছিল দেশে প্রকৃত গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনা, যেখানে প্রতিটি নাগরিকের জন্য সমতা এবং সামাজিক ন্যায্যতা নিশ্চিত হবে। যারা আন্দোলনে দেশের জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করেছেন, তাদের মায়েদের অশ্রু আর প্রত্যাশার সেই কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ গড়তে সবাই এক হয়ে কাজ করার আহ্বান জানান মাহ্দী আমিন।

প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, আজকে ফ্যাসিবাদ- পরবর্তী বাংলাদেশে একটি অবাধ, সুষ্ঠু এবং গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে এসেছে। এটি সেই দল যারা গত ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের সবচেয়ে বেশি গুম-খুন, হামলা-মামলা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার হয়েছিল। বিএনপি সেই রাজনৈতিক দল, যার ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে সবচেয়ে বেশি নেতাকর্মী শহীদ হয়েছে, কেবল গণ-অভ্যুত্থানে যে দলের শহীদ হয়েছেন ৪০০-এর বেশি নেতাকর্মী। বিএনপি সেই রাজনৈতিক দল যার সহযোগী সংগঠন ছাত্রদলের ১৪০ জনের বেশি শহীদ হয়েছিলেন।

মাহ্দী আমিন বলেন, গণ-অভ্যুত্থান বাংলাদেশের প্রতিটি শ্রেণি-পেশার মানুষের এবং অবশ্যই প্রতিটি গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলের। যেহেতু বিএনপি বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক দল, আমাদের ৬০ লাখ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা হয়েছিল। গণ-অভ্যুত্থানে আমাদের প্রতিটি নেতাকর্মী এবং পেশাজীবী সংগঠন এবং সহযোগী সংগঠন সর্বস্ব দিয়ে জনগণের সাথে থেকেছিল, জনগণের পাশে থেকেছিল।

গণ-অভ্যুত্থান প্রসঙ্গে মাহ্দী আমিন আরো বলেন, ‘আমাদের প্রবাসী ভাই-বোনেরা ছিলেন এই আন্দোলনের আন্তর্জাতিক কণ্ঠস্বর। দেশে যখন ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট করে দেওয়া হয়েছিল, তখন প্রবাসীরাই বিশ্ব দরবারে স্বৈরাচারের নির্মমতার চিত্র তুলে ধরেছেন। তারা বিভিন্ন দেশে বিক্ষোভ করেছেন, রেমিট্যান্স শাটডাউনের ডাক দিয়ে ফ্যাসিবাদের অর্থনৈতিক ভিত নাড়িয়ে দিয়েছেন এবং আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টিতে অনন্য অবদান রেখেছেন।’

সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাক্টিভিস্টদের ভূমিকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ডিজিটাল ফ্রন্টে লড়েছেন আমাদের সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাক্টিভিস্টরা। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে, সাইবার নিরাপত্তা আইনের ভয় তোয়াক্কা না করে তারা রাজপথের প্রতি মুহূর্তের আপডেট, ভিডিও এবং তথ্য ছড়িয়ে দিয়েছেন। প্রপাগান্ডা ও গুজব রুখে দিয়ে তারা জনমত গঠনে এবং সাধারণ মানুষকে রাস্তায় নেমে আসতে উদ্বুদ্ধ করতে মূল ভূমিকা পালন করেছেন।

গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম আবেগঘন ও শক্তিশালী দিক ছিল নারী ও মায়েদের অংশগ্রহণ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, কেবল ছাত্রীরাই রাজপথে বুক চিতিয়ে লড়েনি, মায়েরা তাদের সন্তানদের বাঁচাতে ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছেন। আন্দোলনে শহীদদের মায়েদের কান্না ও সাহসী অবস্থান পুরো জাতিকে স্বৈরাচার পতনের চূড়ান্ত লড়াইয়ে নামতে বাধ্য করেছিল।

দীর্ঘ দেড় দশক ধরে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছেন তৎকালীন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেও জানান প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা। তিনি বলেন, ২৪-এর ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের সূচনালগ্ন থেকেই তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের সাধারণ শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানোর ও তাদের ঢাল হিসেবে কাজ করার স্পষ্ট নির্দেশনা দেন। তার দূরদর্শী রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা, আন্দোলনকে বেগবান করতে জাতীয় ঐক্যের ডাক এবং বিএনপির লাখো নেতাকর্মীর রাজপথে আত্মত্যাগ এই গণঅভ্যুত্থানকে একটি সফল পরিণতির দিকে নিয়ে যেতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও পরিপূরক ভূমিকা পালন করেছে।

গণতান্ত্রিক বাংলাদেশে আমরা সেই বৃহত্তর ঐক্যকে আবারও ধারণ করতে চাই উল্লেখ করে মাহ্দী আমিন বলেন, অবশ্যই আমাদের ভিন্ন মত, ভিন্ন পথ, ভিন্ন আদর্শ, ভিন্ন মূল্যবোধ থাকবে। যতক্ষণ পর্যন্ত আমরা গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করব, যতক্ষণ পর্যন্ত আমরা দেশপ্রেম ধারণ করব, ততক্ষণ পর্যন্ত জাতির বৃহত্তর স্বার্থ জায়গাগুলোতে, দেশের সার্বভৌমত রক্ষার জায়গাতে, জনগণের অধিকার এবং স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে আমরা অটুট থাকবো, একসাথে কাজ করে যাব। সেখানে প্রতিটি পেশার এবং শ্রেণির মানুষ যেভাবে গণ-অভ্যুত্থানে এবং ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আন্দোলনের ভূমিকা রেখেছিল, সেই ধারাবাহিকতায় আজকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

ডিআরইউ’র সভাপতি আবু সালেহ আকনের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. রিয়াজুল ইসলামসহ সংগঠনটির কার্যনির্বাহী কমিটির নেতৃবৃন্দ এবং সাবেক সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ সাধারণ সদস্যরা।

ক্ষমতায় থেকে দেশের জনগণের প্রতি জুলুম করবেন না | কালের কণ্ঠ