• ই-পেপার

হামের উপসর্গে কুমেকে শিশুর মৃত্যু, জেলায় প্রাণহানি বেড়ে ১৩

পটিয়ায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৪০০ পরিবারের মাঝে ত্রাণ বিতরণ

পটিয়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
পটিয়ায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৪০০ পরিবারের মাঝে ত্রাণ বিতরণ
ছবি : কালের কণ্ঠ

দক্ষিণ চট্টগ্রামের বন্যাকবলিত পটিয়া পৌরসভার ৪০০ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে খাদ্য সহায়তা হিসেবে ১০ কেজি করে চাল বিতরণ করা হয়েছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এ ত্রাণ বিতরণ করা হয়।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) দুপুরে পটিয়া পৌরসভা চত্বরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে উপকারভোগীদের হাতে খাদ্য সহায়তা তুলে দেন চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ এনামুল হক এনাম।

অনুষ্ঠানে এমপি এনাম বলেন, দুর্যোগ মানুষকে দলীয় পরিচয়ে বিভক্ত করে না। তাই এই সংকট মোকাবিলায়ও কোনো রাজনৈতিক বিভাজন থাকা উচিত নয়। মানুষের জীবন ও জীবিকা রক্ষা করাই এখন সবচেয়ে বড় দায়িত্ব। সরকার সেই দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে এবং পটিয়ার কোনো মানুষ যেন খাদ্যকষ্টে না থাকেন, সে লক্ষ্যেই এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

তিনি আরো বলেন, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি পরিবারের পাশে সরকার রয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত চিত্র বিবেচনায় নিয়ে পর্যায়ক্রমে প্রয়োজনীয় সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হবে। শুধু ত্রাণ নয়, ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন ও স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতেও সরকার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করবে।

এমপি এনাম স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও সমাজের বিত্তবানদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, দুর্যোগের এই সময়ে মানবিক দায়িত্ববোধ থেকে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মধ্য দিয়েই একটি দায়িত্বশীল ও মানবিক সমাজ গড়ে ওঠে।

ত্রাণ বিতরণ অনুষ্ঠানে পটিয়া পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ নেজামুল হক, পৌর নির্বাহী প্রকৌশলী শ্যামল চন্দ্র, পটিয়া থানার ওসি (তদন্ত) যুযুৎসু যশ চাকমা, পটিয়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব খোরশেদ আলম, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য বদরুল খায়ের চৌধুরী, শফিকুল ইসলাম, বিএনপি নেতা মিসকাত আহমেদ, পটিয়া পৌরসভা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব গাজী মোহাম্মদ আবু তাহের, যুগ্ম আহ্বায়ক আবদুল মাবুদ, ইদ্রিস পানু, জাসাস নেতা নাছির উদ্দীন, পৌরসভা কৃষক দলের আহ্বায়ক বুলবুল আহমেদ নান্নু, পটিয়া উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব অহিদুল আলম চৌধুরী পিবলু, পৌরসভা যুবদলের সদস্য সচিব হাবিবুর রহমান রিপন, যুবদল নেতা আল রায়হান সোহেল, বিএনপি নেতা মিজানুর রহমানসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

শেরপুরে নদীতে পানিবৃদ্ধির ফলে ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত স্থানীয়রা, ৬৫ বসতভিটা বিলীন

শেরপুর প্রতিনিধি
শেরপুরে নদীতে পানিবৃদ্ধির ফলে ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত স্থানীয়রা, ৬৫ বসতভিটা বিলীন
পানি উন্নয়ন বোর্ডের বালিভর্তি জিওব্যাগ ফেলে শেরপুর-নালিতাবাড়ী ভায়া গাজীরখামার সড়কের গোল্লারপাড় এলাকায় ১০০ ফুট পাকা রাস্তা সংস্কারকাজ চলছে।

ভারি বর্ষণ থামলেও উজানের ঢলে মৃগী নদীতে পানিবৃদ্ধির ফলে শেরপুরে নকলা উপজেলার চরমধুয়া নামাপাড়া এবং শ্রীবরদী উপজেলার কেকেরচর ইউনিয়নের গড়পাড়া গ্রামে নদীভাঙনের সৃষ্টি হয়েছে। এতে ওই দুটি এলাকায় নদী তীরবর্তী অন্তত, ৬৫টি পরিবারের বসতভিটা, আবাদি জমি ও গাছপালা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। হুমকির মুখে রয়েছে স্থানীয় একটি স্কুল, মাদ্রাসা, মসজিদসহ আরো কয়েকটি স্থাপনা। সব হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছেন ক্ষতিগ্রস্তরা। নদী ভাঙন রোধে জরুরি সহায়তার আকুতি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

এদিকে পাহাড়ি ঢলে চেল্লাখালি নদীর ভাঙনে শেরপুর-নালিতাবাড়ী ভায়া গাজীরখামার সড়কের গোল্লারপাড় এলাকায় ১০০ ফুট পাকা রাস্তা নদীগর্ভে বিলীণ হয়ে গেছে। ১৬ জুলাই বৃহস্পতবার দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে জরুরী রক্ষণাবেক্ষণ কর্মসূচির আওতায় ৫০০  ওই সড়কটি রক্ষার কাজ চলছে।

জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন জানিয়েছেন, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মৃগী নদী ও চেল্লাখালি নদীর ভাঙণ কবলিত এলাকা পরিদর্শন করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মাঝে শুকনো খাবার সামগ্রী ও নগদ অর্থ বিতরণ করা হয়েছে। ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনার এস.এম. হুমায়ুন কবীর মহেদয়ও ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা সমূহ পরিদর্শন করেছেন। পানি উন্নয়ন বোর্ডের মাধ্যমে বিধ্বস্ত সড়ক জরুরী মেরামতের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। পরবর্তীতে ক্ষয়ক্ষতি নিরূপন করে বন্যা ও পাহড়ি ঢলে ক্ষতিগ্রস্তদের পূণর্বাসন ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার মাধ্যে বাঁধ সংস্কারসহ রাস্তাঘাটের টেকসই উন্নয়ন করা হবে।  

কুপির তেল ফুরোলেই স্টেশনে, ল্যাম্পপোস্টের নিচে পড়াশোনা

নীলফামারী সংবাদদাতা
কুপির তেল ফুরোলেই স্টেশনে, ল্যাম্পপোস্টের নিচে পড়াশোনা
নীলফামারী রেলওয়ে স্টেশনের ২ নম্বর প্ল্যাটফর্মে ল্যাম্পপোস্টের আলোয় রাতের বেলায় একা পড়াশোনা করছে শিশু নীরব। সম্প্রতি তোলা। কালের কণ্ঠ

রেলস্টেশনের পাশে ছোট্ট ঘর। সেখানে নেই বিদ্যুতের আলো। সন্ধ্যার পর কেরোসিনে জ্বলে একটি কুপি। তার আলোয় চলে নীরবের পড়াশোনা। কিন্তু কেরোসিন কিনতেও তো পয়সা লাগে। অভাবের সংসার, তাই বেশিক্ষণ জ্বলতে পারে না কুপিটি। তখন বই-খাতা নিয়ে সাত বছর বয়সী শিশুটি দৌড়ে চলে যায় স্টেশনে। সেখানে ল্যাম্পপোস্টের আলোয় খানিকটা রাত পর্যন্ত চলে লেখাপড়া।

নীলফামারী রেলওয়ে স্টেশনের পাশে ছোট্ট ঘরে বিদ্যুৎহীন ঘরে ছেলে নীরবকে নিয়ে বসবাস রূপসানা বেগমের। তার দুই সন্তানের মধ্যে নীরব ছোট। ১৬ বছর বয়সী বড় ছেলে রিফাত রাজমিস্ত্রির কাজ করে। সেই রোজগারে কোনোমতে চলে সংসারটি। কিন্তু চরম দারিদ্র্যের মধ্যে বেড়ে উঠলেও নীরব লেখাপড় শিখতে চায়। তাই ঘরে কুপির তেল ফুরিয়ে গেলে বই-খাতা হাতে ছুটে যায় স্টেশনের ২ নম্বর প্ল্যাটফর্মে। কেননা সেখানে প্ল্যাটফর্মজুড়ে বিদ্যুতের আলো। 

রূপসানা বেগম জানান, নীরবের বয়স যখন মাত্র ১৬ মাস, তখনই তার বাবা অন্য এক মেয়েকে বিয়ে করে তাদের ছেড়ে যান। এর পর থেকেই মায়ের সংগ্রাম আর অভাবের মধ্যেই বড় হচ্ছে নীরব। তার বড় ভাই রিফাত ঢাকায় রাজমিস্ত্রির কাজ করে যা আয় করে, তা দিয়েই কোনোমতে চলে সংসার।

ডায়াবেটিসসহ নানা জটিল রোগে আক্রান্ত হওয়ায় তেমন কাজ করতে পারেন না রূপসানা। তিন বেলা খাবার জোগাড় করাই যেখানে কঠিন, সেখানে ছেলের লেখাপড়ার খরচ চালানো কঠিন। তবু স্থানীয় একটি মাদরাসায় পড়াশোনা করছে নীরব। ছেলেকে উচ্চশিক্ষিত করার স্বপ্ন থাকলেও আর্থিক অবস্থা সেই স্বপ্নকে কঠিন বাস্তবতার মুখে দাঁড় করাচ্ছে।

রূপসানা বেগম বলেন, ‘আমার ছেলেটাকে নিয়ে অনেক স্বপ্ন। কিন্তু তাকে ঠিকমতো পড়ানোর মতো আর্থিক সামর্থ্য আমার নেই। মানুষের সহযোগিতায় তাকে পড়াচ্ছি।’ তিনি বলেন, ‘সে আর্মি অফিসার হতে চায়, তাই আমিও চেষ্টা করছি। সে আর্মি হোক বা অন্য কিছু করুক, জীবনে যেন প্রতিষ্ঠিত হয়, এটাই আমার স্বপ্ন।’ 

রূপসানা আরো বলেন, ‘আমি অসুস্থ, ঠিকমতো কাজ করতে পারি না। মাদরাসার শিক্ষকও বলেন, ছেলেটা খুব মেধাবী। বড় ছেলে যা আয় করে, তা দিয়েই কোনোমতে সংসার চলে।’

স্থানীয়দের বিশ্বাস, সময়মতো সহযোগিতা পেলে নীরবের মতো মেধাবী শিশুর ভবিষ্যৎ বদলে যাবে।

সাঈদ রানা নামের এক বাসিন্দা বলেন, ‘আমরা রাতে এখানে ক্রিকেট খেলি। প্রায় প্রতিদিনই দেখি নীরব ল্যাম্পপোস্টের নিচে বসে বই পড়ছে। আমরা খেলাধুলা করি, কিন্তু এতে তার কোনো আগ্রহ নেই। সে শুধু পড়াশোনায়ই মনোযোগী।’

আরেক বাসিন্দা পিয়াল হোসেন আপেল বলেন, ‘নীরব খুব মেধাবী একটি ছেলে। পরিবারটি অত্যন্ত অসহায়। তার মা একাই জীবনযুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে। সমাজের বিত্তবানরা যদি তার পাশে দাঁড়ান, তাহলে ছেলেটি একদিন অনেক দূর যেতে পারবে।’

নীরবের ভাষ্য, ‘আমার মা আমার জন্য অনেক কষ্ট করে। আমি বড় হয়ে আর্মি অফিসার হতে চাই। মায়ের কষ্ট দূর করতে চাই।’

নীলফামারী রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন মাস্টার মিঠুন রায় বলেন, ‘প্রতিদিন সন্ধ্যায় ছেলেটিকে স্টেশনের আলোয় বসে পড়তে দেখি। বিষয়টি আমাকে গভীরভাবে স্পর্শ করে। পারিবারিক সংকট না থাকলে নিশ্চয়ই তাকে এখানে এসে পড়তে হতো না। তার শেখার আগ্রহ অসাধারণ। আমরা সবাই যদি তার পাশে দাঁড়াই, তাহলে সে অবশ্যই ভালো কিছু করতে পারবে।’

ছোট ভাইকে বাঁচাতে পুকুরে ঝাঁপ বোনের, প্রাণ গেল দুজনেরই

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি
ছোট ভাইকে বাঁচাতে পুকুরে ঝাঁপ বোনের, প্রাণ গেল দুজনেরই
সংগৃহীত ছবি

ময়মনসিংহের নান্দাইলে ছোট ভাইকে বাঁচাতে পুকুরে ঝাঁপ দিয়েছিল সাত বছর বয়সী এক শিশু। এ ঘটনায় পানিতে ডুবে দুই ভাই-বোনেরই মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) বিকেলে উপজেলার চরলক্ষ্মীদিয়া বালুচর গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলো ওই গ্রামের শমশের আলীর মেয়ে শরীফা খাতুন (৭) ও ছেলে মাহমুদুল হাসান (৫)।

পারিবারিক সূত্র জানায়, বাবার বেগুনক্ষেত দেখে বাড়িতে ফেরার পথে অসাবধানতাবশত পাশের একটি পুকুরে পড়ে যায় মাহমুদুল। বিষয়টি দেখে তাকে উদ্ধার করতে বড় বোন শরীফা পুকুরে ঝাঁপ দেয়। তবে সাঁতার না জানায় দুজনই পানিতে তলিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা অন্য শিশুদের কাছ থেকে খবর পেয়ে পুকুরে নেমে তাদের উদ্ধার করেন। তবে এর আগেই প্রাণ হারান ওই দুজন।

এদিকে দুই সন্তানকে হারিয়ে মা মঞ্জিলা বেগমের আহাজারিতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।

নান্দাইল মডেল থানার তদন্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) মোজাহিদুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেছে এবং প্রয়োজনীয় আইনি কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন।