বলিউডের প্রখ্যাত চিত্রনাট্যকার সেলিম খানের ছোট ছেলে এবং সুপারস্টার সালমান খানের ভাই অভিনেতা ও নির্মাতা সোহেল খান জানিয়েছেন, তার বড় ছেলে নির্বাণ খানের নাম প্রথমে ‘রাম খান’ রাখতে চেয়েছিলেন তিনি। তবে সন্তান জন্মের পর সেই পরিকল্পনা বদলে যায় এবং ছেলের নাম রাখা হয় ‘নির্বাণ’।
সম্প্রতি ‘অ্যালায়েন্স’ শো-তে নিজের পারিবারিক জীবনের নানা বিষয় নিয়ে কথা বলেন সোহেল খান। সেখানেই তিনি জানান, ছেলে জন্মের আগে তার ও সাবেক স্ত্রী সীমা সাজদেহর মধ্যে একটি মজার চুক্তি হয়েছিল।
সোহেল বলেন, সন্তান জন্মের আগে তারা ঠিক করেছিলেন—ছেলে হলে নাম রাখবেন সোহেল, আর মেয়ে হলে নাম রাখবেন সীমা। সেই অনুযায়ী তিনি ছেলের জন্য ‘রাম খান’ নামটি পছন্দ করেছিলেন।
সোহেলের ভাষ্য, আমি আমার ছেলের নাম ‘রাম খান’ রাখতে চেয়েছিলাম। আমরা এ ব্যাপারে খুবই ধর্মনিরপেক্ষ ছিলাম।
আরো পড়ুন
দ্বিতীয় সন্তানের আগমনে পিতৃত্বকালীন ছুটিতে রণবীর সিং
তবে সন্তান জন্মের পর শেষ পর্যন্ত সেই নাম রাখা হয়নি। সোহেল জানান, নির্বাণের জন্মের পর সীমার জ্ঞান ফেরার সময় তিনি ছেলের নাম হিসেবে ‘নির্বাণ’ শব্দটি বলেন। সীমা যখন জানতে চান, ‘নির্বাণ কেমন আছে?’, তখন সোহেলের মনে হয়, এই নামটিই যেন ছেলের জন্য ঠিক করা হয়ে গেছে।
সোহেল বলেন, সীমা যেভাবে স্বাভাবিকভাবে নামটি বলেছিলেন, এরপর আর তিনি নাম পরিবর্তনের কথা ভাবেননি। মজার ছলে তিনি আরো জানান, নির্বাণের স্বভাবও তার নামের মতো—শান্ত ও স্থির।
সন্তানদের লালন-পালন নিয়ে প্রশংসা
‘অ্যালায়েন্স’ শো-তে অভিনেতা আলি গনির সঙ্গে কথোপকথনের সময় সোহেল ও সীমার সন্তানদের নিয়েও আলোচনা হয়। আলি তাদের সন্তানদের ভদ্রতা ও ব্যক্তিত্বের প্রশংসা করেন।
তিনি বলেন, সোহেল ও সীমার সন্তানদের মধ্যে বাবা-মায়ের শিক্ষা ও মূল্যবোধের প্রতিফলন দেখা যায়।
বিচ্ছেদের পরও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক
সোহেল খান ও সীমা সাজদেহের বিচ্ছেদের পরও তাদের সম্পর্কের উষ্ণতা ‘অ্যালায়েন্স’ শো-তে দেখা যায়। শো-তে সীমার উপস্থিতির সময় সোহেল তাকে বিশেষভাবে স্বাগত জানান।
সোহেল বলেন, ‘আমি এই সুন্দরী নারীর সঙ্গে ২৫ বছর কাটিয়েছি। জাতীয় টেলিভিশনে আমি স্বীকার করছি, যদি কোনো ভুল হয়ে থাকে, তার দায়ভার আমিই নেব।’
এর জবাবে সীমাও সোহেলের সঙ্গে দেখা হওয়ার আনন্দ প্রকাশ করেন। পরে যখন তাকে জিজ্ঞেস করা হয়, শো-তে তার ‘অ্যালায়েন্স’ বা সহযোগী কে, তখন সীমা বলেন, ‘এই মুহূর্তে সোহেলই আমার একমাত্র সহযোগী।’
সোহেলও জানান, শো-তে সীমাকে দেখে তিনি ভেতর থেকে খুশি হয়েছিলেন। দীর্ঘদিন পর পরিবারের একজন সদস্যের সঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগ পাওয়াটা তার কাছে বিশেষ অনুভূতি ছিল।
আরো পড়ুন
‘তুম্বাড় ২’-এ থাকছেন আলিয়া ভাট
বিয়ে ভাঙা নিয়ে সোহেলের স্বীকারোক্তি
শো-এর আরেক পর্বে নিজের বিবাহবিচ্ছেদ নিয়েও খোলামেলা কথা বলেন সোহেল। তিনি জানান, একসময় তার ক্যারিয়ার ভালো যাচ্ছিল না এবং সেই সময় মানসিক অবস্থাও ভালো ছিল না।
সোহেল বলেন, নিজের আচরণের কারণেই তিনি এমন একজন মানুষকে হারিয়েছেন, যাকে তিনি সত্যিই ভালোবাসতেন।
তিনি আরো বলেন, ‘সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখা এবং সুখে থাকাটাই আসল। ও আমার দুই সুন্দর সন্তানের মা, তাই ভালোবাসার চেয়েও সীমার প্রতি আমার অগাধ শ্রদ্ধা রয়েছে।’
সোহেলের মতে, বিচ্ছেদের পরও সন্তানদের জন্য ভালো সম্পর্ক বজায় রাখা জরুরি। কারণ বাবা-মায়ের দূরত্ব যেন সন্তানদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব না ফেলে।
২৪ বছরের দাম্পত্যের পর বিচ্ছেদ
সোহেল খান ও সীমা সাজদেহ ১৯৯৮ সালে পালিয়ে বিয়ে করেন। দীর্ঘ প্রায় ২৪ বছরের দাম্পত্য জীবনের পর ২০২২ সালে তারা আলাদা হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
তাদের দুই ছেলে—নির্বাণ খান ও ইয়োহান খান। বিচ্ছেদের পরও তারা দুজন মিলে সন্তানদের দায়িত্ব পালন করছেন।
সোহেল জানান, সন্তানদের কথা ভেবেই তারা একে অপরের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখেছেন। তিনি বলেন, সন্তানরা যখন একসঙ্গে থাকে, তখন তারাও একসঙ্গে সময় কাটান।
তিনি আরো জানান, সীমা নিয়মিত সন্তানদের সঙ্গে দেখা করতে তার বাড়িতে আসেন এবং তাদের সম্পর্ক এখন পারস্পরিক সম্মান ও বোঝাপড়ার ওপর ভিত্তি করে তৈরি।
বর্তমানে সীমা সাজদেহ ব্যবসায়ী বিক্রম আহুজার সঙ্গে সম্পর্কে রয়েছেন। উল্লেখ্য, সোহেল খানকে বিয়ে করার আগে সীমার সঙ্গে বিক্রম আহুজার বাগদান হয়েছিল।