kalerkantho

শুক্রবার । ১৩ ফাল্গুন ১৪২৭। ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২১। ১৩ রজব ১৪৪২

বিশিষ্ট সাহাবি আবদুর রহমান বিন আউফ (রা.)

বিত্তবান সাহাবির সামাজিক সেবা

মুফতি মুহাম্মদ মর্তুজা   

২৪ জানুয়ারি, ২০২১ ১০:২৬ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বিত্তবান সাহাবির সামাজিক সেবা

আয়েশা (রা.) মসজিদ, জেদ্দা সৌদি আরব

ধন-সম্পদ মহান আল্লাহর নিয়ামত। ধন-সম্পদ থাকলে মহান আল্লাহর আর্থিক ইবাদতগুলো সহজে করা যায়। সঠিক পথে ধন-সম্পদ অর্জন ও ব্যয় করার মাধ্যমে মহান আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করা যায়। ধন-সম্পদ থাকলেই যে সে পাপী হয়ে যায়, পথভ্রষ্ট হয়ে যায়, বিষয়টি এমন নয়। বরং ধন-সম্পদপ্রাপ্তের পরও যারা মহান আল্লাহর নির্দেশিত পথে নিজেকে পরিচালিত করে, তারা অবশ্যই মহান আল্লাহর অফুরন্ত রহমত অর্জনের সুযোগ পায়। 

বিশিষ্ট সাহাবি : মহানবী (সা.)-এর অন্যতম একজন সাহাবি হলেন আবদুর রহমান ইবনে আউফ (রা.)। তিনি জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত ১০ সাহাবির একজন এবং তৃতীয় খলিফা নির্বাচনের জন্য ওমর (রা.) কর্তৃক গঠিত ছয় সদস্যবিশিষ্ট শুরা পরিষদের অন্যতম সদস্য। এ ছাড়া তিনি রাসুল (সা.)-এর ভায়রা।

প্রাথমিক যুগে ইসলাম গ্রহণ : ইসলামের প্রথম দিকে যাঁরা ইসলাম গ্রহণ করেছেন আবদুর রহমান ইবনে আউফ (রা.) ছিলেন তাঁদেরই একজন। আবু বকর (রা.)-এর সঙ্গে ছিল তাঁর গভীর বন্ধুত্ব। তাঁর আহ্বানেই তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন। (আত তাবকাতুল কুবরা : ৩/৯২)

মহানবীর দোয়ায় সম্পদ বৃদ্ধি : আবদুর রহমান ইবনে আউফ (রা.) একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ছিলেন। রাসুল (সা.) তাঁর সম্পদ বৃদ্ধির জন্য দোয়া করেছিলেন এবং সে দোয়া আল্লাহ তাআলা কবুল করেছেন। যার ফলে তিনি একসময় অঢেল সম্পদের মালিক হন। তবে ধন-সম্পদের প্রাচুর্য তাঁকে এক মুহূর্তের জন্যও আল্লাহর স্মরণ থেকে উদাসীন করেনি। তিনি দান-সদকা করতে বেশি ভালোবাসতেন। 

বিশাল অঙ্কের সামাজিক সেবা : রাসুল (সা.)-এর জীবদ্দশায় একবার তিনি নিজের সমুদয় সম্পদের অর্ধেক সদকা করেন। এরপর ৪০ হাজার দিনার সদকা করেন। এরপর ৫০০ ঘোড়া আল্লাহর রাস্তায় জিহাদের জন্য প্রস্তুত করেন। এরপর ৫০০ উট প্রস্তুত করেন। এসব তাঁর ব্যবসায় অর্জিত সম্পদ। এক দিনেই তিনি ৩০টি দাস মুক্ত করেছেন। মৃত্যুকালে তিনি বদরি সাহাবিদের জন্য জনপ্রতি ৪০০ দিনারের অসিয়ত করেন। তখন ১০০ বদরি সাহাবি জীবিত ছিলেন। সবাই ৪০০ দিনার করে লাভ করেছেন। (আল-ইসাবাহ : ৪/২৯১, ২৯৩, আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া : ৭/১৬৩)

পুরো বাণিজ্য কাফেলা দান : একবার তাঁর এক বিশাল বাণিজ্য কাফেলা সাত শ উটবোঝাই করে ছোলা, আটা ও অন্যান্য মুদি সামগ্রী নিয়ে মদিনায় প্রবেশ করে। বিশাল এই বাণিজ্য-কাফেলা মদিনাজুড়ে যথেষ্ট আলোড়ন সৃষ্টি করে। এই খবর আয়েশা (রা.)-এর কাছে পৌঁছার পর তিনি বলেন, আমি রাসুল (সা.)-কে বলতে শুনেছি, আবদুর রহমান হামাগুড়ি দিয়ে জান্নাতে প্রবেশ করবে। আবদুর রহমান এ কথা শোনামাত্রই আম্মাজান আয়েশা (রা.)-এর খিদমতে উপস্থিত হয়ে আরজ করলেন, আমি আপনাকে সাক্ষ্য করে বলছি, আমার এ বিশাল বাণিজ্য-কাফেলা ও সব পণ্য এমনকি উট ও তার হাওদাসহ সব কিছুই মহান আল্লাহর জন্য ওয়াকফ করে দিলাম। (আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া : ৭/১৬৪)

যুদ্ধে অংশগ্রহণ : আবদুর রহমান বিন আউফ (রা.) শুধু দান-সদকার মাধ্যমে ইসলামের খিদমত করেছেন বিষয়টি তা নয়, বরং নিজের জীবন বাজি রেখে বদর, উহুদ, খন্দকসহ সব যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন এবং অত্যন্ত সাহস ও দৃঢ়তার পরিচয় দেন। উহুদ যুদ্ধে মুসলমানদের সাময়িক বিপর্যয়ের মুহূর্তে রাসুল (সা.)-কে রক্ষা করার জন্য যে ১৪ জন সাহাবি নিজেদের মানবঢালরূপে ব্যবহার করেছেন, আবদুর রহমান ইবনে আউফ (রা.) ছিলেন তাঁদেরই একজন। (আত তাবকাতুল কুবরা : ৩/৯৫)

ইন্তেকাল : ইবনে সাদ (রহ.)-এর বর্ণনামতে, আবদুর রহমান ইবনে আউফ (রা.) ৭৫ বছর বয়সে, আর ইবনে হাজার আসকালানি (রহ.)-এর বর্ণনামতে ৭২ বছর বয়সে ৩২ হিজরি সনে ইন্তেকাল করেন। তাঁকে মদিনার জান্নাতুল বাকিতে দাফন করা হয়।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা