• ই-পেপার

এআই চিপের চাহিদায় দ্রুত এগোচ্ছে চীনের সিএক্সএমটি

শুধু মানুষ নয়, বনমানুষও হাসে একই ছন্দে

অনলাইন ডেস্ক
শুধু মানুষ নয়, বনমানুষও হাসে একই ছন্দে
ছবি: রয়টার্স

হাসতে পারে শুধু মানুষ—এমন ধারণা ভুল প্রমাণ করেছে নতুন এক গবেষণা। গবেষকেরা বলছেন, মানুষের মতো শিম্পাঞ্জি, বনোবো, গরিলা ও ওরাংওটাংও একই ধরনের ছন্দে হাসে। এই মিল মানুষের ভাষার উৎপত্তি ও বিবর্তন সম্পর্কে নতুন তথ্য দিতে পারে।

সম্প্রতি বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে। গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে বিজ্ঞানবিষয়ক সাময়িকী যোগাযোগ জীববিজ্ঞান (কমিউনিকেশনস বায়োলজি) -তে।

গবেষণায় মানুষ এবং চার প্রজাতির গ্রেট এপের মোট ১৪০টি হাসির রেকর্ড বিশ্লেষণ করা হয়। এতে দেখা যায়, সব প্রজাতির হাসির শব্দই নির্দিষ্ট বিরতিতে বা একই ছন্দে বের হয়। গবেষকদের ধারণা, এই বৈশিষ্ট্য প্রায় ১ কোটি ৫০ লাখ বছর আগে মানুষ ও গ্রেট এপের অভিন্ন পূর্বপুরুষের মধ্যেও ছিল।

তবে মানুষের হাসি অন্যদের তুলনায় কিছুটা আলাদা। মানুষ পরিস্থিতি অনুযায়ী হাসির গতি ও ধরন বদলাতে পারে। যেমন আনন্দ, অস্বস্তি বা মজার পরিবেশে মানুষের হাসি ভিন্ন হতে পারে। কিন্তু গ্রেট এপদের ক্ষেত্রে এমন পরিবর্তনের প্রমাণ খুব কম পাওয়া গেছে।

গবেষকেরা জার্মানি ও মালয়েশিয়ার বিভিন্ন চিড়িয়াখানায় থাকা শিম্পাঞ্জি, বনোবো, গরিলা ও ওরাংওটাংয়ের হাসির শব্দ রেকর্ড করেন। খেলাধুলা বা পরিচিত পরিচর্যাকারীদের সঙ্গে মজার মুহূর্তে তাদের হাসি বিশ্লেষণ করা হয়। এরপর মানুষের হাসির সঙ্গে সেগুলোর তুলনা করা হয়।

গবেষকদের মতে, এই ফলাফল মানুষের ভাষার বিবর্তন বুঝতে সহায়তা করবে। তাদের ধারণা, ভাষা তৈরি হওয়ার অনেক আগেই মানুষের পূর্বপুরুষের কণ্ঠ নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা বর্তমান বনমানুষের তুলনায় বেশি উন্নত ছিল। সেই দক্ষতাই পরে ভাষা বিকাশের ভিত্তি তৈরি করে।

গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, হাসি শুধু আনন্দ প্রকাশের উপায় নয়। এটি সামাজিক যোগাযোগেরও গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। বিশেষ করে খেলাধুলার সময় হাসি অন্যকে জানিয়ে দেয় যে আচরণটি বন্ধুত্বপূর্ণ, আক্রমণাত্মক নয়। মানুষের পাশাপাশি অনেক স্তন্যপায়ী প্রাণীর মধ্যেও এমন খেলাধুলাভিত্তিক শব্দ বা আচরণ দেখা যায়।

ডাইনোসরের যুগের সাপের জীবাশ্মে মিলল বিবর্তনের নতুন তথ্য

অনলাইন ডেস্ক
ডাইনোসরের যুগের সাপের জীবাশ্মে মিলল বিবর্তনের নতুন তথ্য
ছবি : রয়টার্স

ডাইনোসরের যুগে বসবাস করা একটি প্রাচীন সাপের প্রায় সম্পূর্ণ জীবাশ্ম খুঁজে পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। তাদের মতে, এই আবিষ্কার সাপের বিবর্তন ও কিভাবে তারা আজকের রূপে এসেছে, সে সম্পর্কে নতুন তথ্য দেবে।

বুধবার (২৩ জুলাই) প্রকাশিত এক গবেষণার বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে।

ব্রাজিলের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে পাওয়া জীবাশ্মটি টামেতারা মিরিম নামে একটি সাপের। প্রায় ৭ কোটি ৫০ লাখ থেকে ৮ কোটি ৫০ লাখ বছর আগে, অর্থাৎ ক্রিটেশিয়াস যুগে এটি বাস করত। সাপটির দৈর্ঘ্য ছিল প্রায় ৪২ সেন্টিমিটার।

গবেষকদের মতে, এটি প্রাচীন সাপের সবচেয়ে ভালোভাবে সংরক্ষিত জীবাশ্মগুলোর একটি। জীবাশ্মটির খুলির বড় একটি অংশ অক্ষত থাকায় বিজ্ঞানীরা প্রথমবারের মতো এর মস্তিষ্কের গঠন পুনর্নির্মাণ করতে পেরেছেন।

গবেষণায় দেখা গেছে, টামেতারা মিরিম মাটির নিচে গর্ত করে বসবাস করত। বর্তমানে প্রবাল সাপসহ (কোরাল স্নেক) কিছু সাপও একই ধরনের জীবনযাপন করে।

বিজ্ঞানীরা জানান, সাপের পূর্বপুরুষ ছিল টিকটিকি-জাতীয় প্রাণী। ধারণা করা হয়, প্রায় ১৭ কোটি বছর আগে জুরাসিক যুগে সাপের আবির্ভাব হয়েছিল। তবে সেই সময়ের জীবাশ্ম খুব কম পাওয়া যাওয়ায় তাদের বিবর্তনের ইতিহাস এত দিন পুরোপুরি জানা যায়নি।

গবেষণার প্রধান লেখক ও প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবর্তন জীববিজ্ঞানের অধ্যাপক তিয়াগো সিমোয়েস বলেন, এই জীবাশ্ম থেকে বোঝা যায়, প্রাচীন সাপের বিবর্তন সরল ছিল না। তারা ধীরে ধীরে বিভিন্ন পরিবেশে খাপ খাইয়ে নেয় এবং তাদের স্নায়ুতন্ত্রও সময়ের সঙ্গে নানা ধরনের পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যায়।

গবেষকদের ধারণা, টামেতারা মিরিম মূলত পোকামাকড় খেয়ে বেঁচে থাকত। তবে জীবাশ্মে দাঁত না থাকায় এটি বিষধর ছিল কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

বিজ্ঞানীদের মতে, এই আবিষ্কার শুধু সাপের নয়, বরং মেরুদণ্ডী প্রাণীর বিবর্তন বোঝার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

মহাকাশ স্টেশন থেকে নিরাপদে পৃথিবীতে ফিরলেন ৩ নভোচারী

অনলাইন ডেস্ক
মহাকাশ স্টেশন থেকে নিরাপদে পৃথিবীতে ফিরলেন ৩ নভোচারী
ছবি : রয়টার্স

আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন (আইএসএস) থেকে রাশিয়ার দুই মহাকাশচারী ও যুক্তরাষ্ট্রের এক নভোচারীকে নিয়ে নিরাপদে পৃথিবীতে ফিরেছে সয়ুজ এমএস-২৮ মহাকাশযান।

রবিবার (২৬ জুলাই) বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। 

রাশিয়ার মহাকাশ সংস্থা রসকসমস জানায়, মহাকাশযানটিতে ছিলেন রুশ মহাকাশচারী সের্গেই কুদ-সভেরচকভ, সের্গেই মিকায়েভ এবং যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার নভোচারী ক্রিস্টোফার উইলিয়ামস।

রসকসমসের তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় দুপুর ১টা ২৭ মিনিটে (গ্রিনিচ মান সময় সকাল ১০টা ২৭ মিনিট) কাজাখস্তানের জেজকাজগান শহরের কাছে মহাকাশযানটি নিরাপদে অবতরণ করে।

অবতরণের পর উদ্ধারকারী দল দ্রুত মহাকাশচারীদের কাছে পৌঁছে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেয়। আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে দায়িত্ব পালন শেষে তারা এখন নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাবেন।

বিশ্বের সবচেয়ে বড় স্যান্ড ব্যাটারি চালু করল ফিনল্যান্ড

অনলাইন ডেস্ক
বিশ্বের সবচেয়ে বড় স্যান্ড ব্যাটারি চালু করল ফিনল্যান্ড
সংগৃহীত ছবি

নবায়নযোগ্য জ্বালানির সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো—সব সময় বিদ্যুৎ উৎপাদন না হওয়া। সূর্য না থাকলে সৌরবিদ্যুৎ এবং বাতাস না থাকলে বায়ুবিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। এই সমস্যার সমাধানে অভিনব প্রযুক্তি নিয়ে এসেছে ফিনল্যান্ড। দেশটির একটি ছোট শহরে চালু হয়েছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক ‘স্যান্ড ব্যাটারি’, যা বালুর মাধ্যমে তাপশক্তি সংরক্ষণ করে প্রয়োজনের সময় ব্যবহার করা যায়।

শনিবার (২৫ জুলাই) সিএনবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

ফিনল্যান্ডের দক্ষিণাঞ্চলের পোরনাইনেন শহরে নির্মিত এই স্যান্ড ব্যাটারিটি ১৩ মিটার উঁচু ও ১৫ মিটার চওড়া। এতে প্রায় ২ হাজার টন চূর্ণ সাবানপাথর ব্যবহার করা হয়েছে। এটি প্রায় ১০০ মেগাওয়াট-ঘণ্টা তাপশক্তি সংরক্ষণ করতে পারে।

এই ব্যাটারির মাধ্যমে প্রায় ৫ হাজার বাসিন্দার গ্রীষ্মকালে প্রায় এক মাস এবং শীতকালে প্রায় এক সপ্তাহের গরমের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব।

প্রকল্পটি পরিচালনা করেছে পোলার নাইট এনার্জি, আর এটি ব্যবহার করছে স্থানীয় জেলা তাপ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান লভিসান ল্যাম্পো। প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, এই প্রযুক্তি চালুর ফলে স্থানীয় হিটিং নেটওয়ার্কের গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন প্রায় ৭০ শতাংশ কমেছে এবং কাঠের চিপসের ব্যবহার প্রায় ৬০ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। যদিও জরুরি প্রয়োজনে আগের কাঠভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি চালু রাখা হয়েছে।

কিভাবে কাজ করে?

স্যান্ড ব্যাটারি মূলত একটি বড় তাপ সংরক্ষণাগার। যখন সৌর বা বায়ুবিদ্যুৎ থেকে প্রচুর এবং তুলনামূলক সস্তা বিদ্যুৎ পাওয়া যায়, তখন সেই বিদ্যুৎ দিয়ে বালুকে উচ্চ তাপমাত্রায় গরম করা হয়। বিশেষভাবে নিরোধকযুক্ত (ইনসুলেটেড) সাইলোতে সেই তাপ কয়েক দিন বা কয়েক সপ্তাহ ধরে সংরক্ষণ করা যায়। পরে প্রয়োজন অনুযায়ী সেই তাপ ব্যবহার করে পানি গরম করা হয় এবং শহরের জেলা হিটিং নেটওয়ার্কে সরবরাহ করা হয়।

পোলার নাইট এনার্জির প্রধান নির্বাহী টমি এরোনেন বলেন, ভবিষ্যতের নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবস্থায় বড় আকারের শক্তি সংরক্ষণ প্রযুক্তি প্রয়োজন হবে। তার মতে, স্যান্ড ব্যাটারির অন্যতম সুবিধা হলো এতে লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারির মতো বিরল খনিজ প্রয়োজন হয় না।

বিশ্বজুড়ে আগ্রহ

পোলার নাইট এনার্জির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিশ্বের প্রায় সব মহাদেশ থেকেই এই প্রযুক্তি নিয়ে আগ্রহ প্রকাশ করা হয়েছে, বিশেষ করে যেসব অঞ্চল এখনো কয়লা ও তেলের ওপর নির্ভরশীল।

অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্বালানি ও জলবায়ু নীতির অধ্যাপক জ্যান রোজেনো বলেন, তাপ সংরক্ষণভিত্তিক এই প্রযুক্তি ভবিষ্যতে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়তে পারে। কারণ এটি দীর্ঘ সময় শক্তি সংরক্ষণ করতে পারে এবং বিদ্যুৎ সস্তা থাকলে শক্তি জমিয়ে পরে প্রয়োজনের সময় ব্যবহার করা যায়।

তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই প্রযুক্তির কিছু সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। যেমন, সংরক্ষিত তাপকে আবার বিদ্যুতে রূপান্তর করা তুলনামূলক কঠিন এবং এর শক্তি ঘনত্ব প্রচলিত রাসায়নিক ব্যাটারির তুলনায় কম।

তবুও নবায়নযোগ্য জ্বালানির অনিয়মিত উৎপাদনের সমস্যা কমাতে এবং জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার হ্রাসে স্যান্ড ব্যাটারি ভবিষ্যতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন গবেষক ও জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা।