• ই-পেপার

এআই চিপের চাহিদা বাড়ায় ৯৫০ বিলিয়ন ডলারের নতুন চুক্তি

নিবন্ধন ছাড়া বিজ্ঞাপন প্রচার করতে পারবে না গুগল-ফেসবুক-ইউটিউব

অনলাইন ডেস্ক
নিবন্ধন ছাড়া বিজ্ঞাপন প্রচার করতে পারবে না গুগল-ফেসবুক-ইউটিউব

ডিজিটাল বিজনেস আইডেনটিটি (ডিবিআইডি) নিবন্ধন ছাড়া ফেসবুক, ইউটিউব ও গুগলের মতো কোনো বিদেশি ডিজিটাল প্ল্যাটফরম বা প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশে অনলাইনে নতুন কোনো বিজ্ঞাপন প্রচার করতে পারবে না। একই সঙ্গে বিদেশি কোনো ডিজিটাল বাণিজ্য প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশে পণ্য বা সেবা বিক্রি করতে চাইলে তাদের বাধ্যতামূলকভাবে ডিবিআইডি নিবন্ধন নিতে হবে এবং দেশের প্রচলিত ভ্যাট, আয়কর ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট আইন কঠোরভাবে মেনে ব্যবসা পরিচালনা করতে হবে।

এমন বেশ কিছু বিধান রেখে ‘ক্রস-বর্ডার ডিজিটাল বাণিজ্য নীতিমালা, ২০২৬’-এর পূর্ণাঙ্গ খসড়া প্রকাশ করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে প্রকাশিত খসড়ার ওপর আগামী ৬ আগস্ট পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট অংশীজন ও সাধারণ মানুষের সুনির্দিষ্ট মতামত আহ্বান করা হয়েছে। মতামত পর্যালোচনার পর চূড়ান্ত খসড়া আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে বলে জানিয়েছেন দাপ্তরিক কর্মকর্তারা।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানান, দেশে ডিজিটাল বিজ্ঞাপনের বাজার দিন দিন অত্যন্ত দ্রুত সম্প্রসারিত হলেও এ খাতে একটি নির্দিষ্ট দিকনির্দেশনামূলক ও সুনির্দিষ্ট নীতিমালা না থাকায় সরকার নিয়মিত বিপুল রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। সে কারণেই একটি সমন্বিত ও যুগোপযোগী নীতিমালার খসড়া প্রণয়ন করা হয়েছে। অংশীজনদের গঠনমূলক মতামত পর্যালোচনা করেই এটি চূড়ান্ত করা হবে।

কয়েক বছর আগে মেটা, গুগল, অ্যামাজন ও নেটফ্লিক্সের মতো আন্তর্জাতিক ডিজিটাল পরাশক্তিগুলো বাংলাদেশে আনুষ্ঠানিকভাবে ভ্যাট নিবন্ধন গ্রহণ করে প্রতিনিধি বা পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তাদের ভ্যাট রিটার্ন দাখিল ও কর পরিশোধের প্রক্রিয়া শুরু করে।

প্রকাশিত খসড়া নীতিমালায় স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে যেকোনো প্রকার বাণিজ্য পরিচালনা করার আগে বিদেশি ডিজিটাল বাণিজ্য প্রতিষ্ঠানকে ডিজিটাল বিজনেস আইডেনটিটি (ডিবিআইডি) নিবন্ধন নিতে হবে। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনলাইনে খুচরা বিক্রি বা কোনো ধরনের ডিজিটাল বাণিজ্য পরিচালনার ক্ষেত্রে এ প্রাতিষ্ঠানিক নিবন্ধন সম্পূর্ণ বাধ্যতামূলক। নিবন্ধনের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে দেশের প্রচলিত ভ্যাট, আয়কর ও অন্যান্য কর-সংক্রান্ত আইনি বিধানও অক্ষরে অক্ষরে অনুসরণ করতে হবে।

নীতিমালাটি চূড়ান্তভাবে কার্যকর হলে মেটা, গুগল, ইউটিউবসহ অন্যান্য বিদেশি ডিজিটাল প্ল্যাটফরমগুলো প্রয়োজনীয় নিবন্ধন ব্যতিরেকে বাংলাদেশে নতুন করে কোনো বিজ্ঞাপন প্রচার করতে পারবে না। তবে সঠিক প্রক্রিয়ায় নিবন্ধন নেওয়ার পর বাংলাদেশে বৈধভাবে আমদানি করা পণ্য বা সেবার সুনির্দিষ্ট বিজ্ঞাপন দেশের প্রচলিত আইন মেনে অনলাইন প্ল্যাটফরমে সহজভাবে প্রচার করা যাবে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও ওটিটি প্ল্যাটফরমে বিজ্ঞাপন প্রচারের ক্ষেত্রেও বিদ্যমান সরকারি নীতিমালা ও বিধি-বিধান কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে।

খসড়ায় দেশের এমএসএমই উদ্যোক্তাদের ডিজিটাল মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে রপ্তানি বাড়াতে বিশেষ নীতিসহায়তা, পার্সেলভিত্তিক আধুনিক রপ্তানির পূর্ণ সুবিধা এবং উপযুক্ত বীমাব্যবস্থা চালুর সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব রাখা হয়েছে। পাশাপাশি ডিজিটাল প্রক্রিয়ায় অর্জিত আন্তর্জাতিক রপ্তানি আয়কে প্রচলিত সাধারণ রপ্তানির মতোই পূর্ণ স্বীকৃতি দিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে বিশেষ আর্থিক প্রণোদনা দেওয়ার বিষয় বিবেচনার কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে দেশে ও বিদেশে দ্রুত প্রসেসিং সেন্টার এবং বিশ্বমানের গুদামজাতকরণে অবকাঠামোগত নীতিসহায়তা দেওয়ার প্রস্তাবও রয়েছে।

নীতিমালায় ডিজিটাল প্ল্যাটফরম ব্যবহার করে নকল, ভেজাল ও যেকোনো প্রতারণামূলক পণ্য বিক্রি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে অনলাইনভিত্তিক সব ধরনের অনৈতিক জুয়া, লটারি, বেটিং এবং দেশের আমদানি-রপ্তানি নীতিতে কঠোরভাবে নিষিদ্ধঘোষিত যেকোনো পণ্য বা সেবার ডিজিটাল বাণিজ্য থেকে বিরত থাকতে হবে। এমন কোনো চটকদার বা বিভ্রান্তিকর বিজ্ঞাপনও প্রচার করা যাবে না, যা আমাদের অভ্যন্তরীণ ডিজিটাল বাজারের স্থিতিশীল শৃঙ্খলা নষ্ট করতে পারে অথবা সাধারণ ভোক্তাকে প্রতারিত বা বিভ্রান্ত করতে পারে।

এ ছাড়া ব্যবসা-টু-ব্যবসা (বি-টু-বি), ব্যবসা-টু-ভোক্তা (বি-টু-সি) ও বি-টু-বি-টু-সি ভিত্তিক আন্তর্জাতিক ডিজিটাল আমদানির সুযোগ আরো প্রসারণের তাগিদ দেওয়া হয়েছে। অনলাইনে সরাসরি আমদানির ক্ষেত্রে বিদ্যমান মূল্যসীমা একটি যৌক্তিক পর্যায়ে পুনর্নির্ধারণ বা পুনর্বিবেচনার জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সঙ্গে দ্রুত সমন্বয়ের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। পাশাপাশি বিদেশ থেকে আমদানি করা পণ্য ত্রুটিপূর্ণ হলে তা ফেরত দেওয়া বা পুনরায় রপ্তানির ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সঠিক নিয়ম অনুসরণের কথা বলা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক মুদ্রা লেনদেন প্রক্রিয়া সহজ ও নিরাপদ করতে বৈশ্বিক পেমেন্ট নেটওয়ার্কের সঙ্গে দেশের বিদ্যমান ডিজিটাল পেমেন্ট অবকাঠামোর প্রযুক্তিগত সংযোগ স্থাপন এবং অনলাইন লেনদেনে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ‘ক্রস-বর্ডার এসক্রো’ সেবা চালুর সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব রয়েছে। একই সঙ্গে নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানের রপ্তানি আয় দ্রুত দেশে আনা এবং আমদানি ব্যয় পরিশোধ প্রক্রিয়া সহজ করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় কার্যকরী ব্যবস্থা নেবে দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাংলাদেশ ব্যাংক।

ভোক্তা অধিকার সুরক্ষার বিষয়েও নীতিমালায় একাধিক কঠোর বাধ্যবাধকতা রাখা হয়েছে। বিক্রয়োত্তর সেবা, পরিশোধিত মূল্য ফেরত, পণ্য ফেরত প্রদান, পণ্যের ওয়ারেন্টি ও গ্যারান্টি সম্পর্কে ক্রেতাকে কেনাকাটার পূর্বেই স্পষ্ট ও সঠিক তথ্য দিতে হবে। সরবরাহ করা পণ্য প্রদর্শিত বর্ণনার সঙ্গে না মিললে কিংবা কোনো কারণে ত্রুটিপূর্ণ বা নকল প্রমাণিত হলে বিক্রেতাকে অবিলম্বে তা ফেরত নিয়ে ক্রেতার সম্পূর্ণ অর্থ দ্রুত ফেরত প্রদান করতে হবে।

এ ছাড়া যেকোনো ডিজিটাল বাণিজ্যসংক্রান্ত বিরোধ অতিদ্রুত নিষ্পত্তির উদ্দেশ্যে ‘জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর’-এর ডিজিটাল অভিযোগ ও সেবা প্রদান ব্যবস্থাকে আরো বেশি আধুনিকায়ন করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। আন্তর্জাতিক লেনদেনসংক্রান্ত সার্বিক বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য একটি স্বাধীন ‘বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি’ (এডিআর) ব্যবস্থা চালুর কথাও এই খসড়া নীতিমালায় বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিনা মূল্যে ভেরিফায়েড ব্যাজ চালু করছে ফেসবুক, যেভাবে পাবেন

অনলাইন ডেস্ক
বিনা মূল্যে ভেরিফায়েড ব্যাজ চালু করছে ফেসবুক, যেভাবে পাবেন
সংগৃহীত ছবি

এআই দিয়ে তৈরি ভুয়া প্রোফাইল, ছবি ও কথোপকথন বেড়ে যাওয়ায় আসল ব্যবহারকারী শনাক্ত করতে বিনা মূল্যের ভেরিফায়েড ব্যাজ চালু করছে ফেসবুক।

‘ফেসবুক ভেরিফায়েড’ নামের এই ব্যাজ পেতে ব্যবহারকারীকে সেলফি ভিডিও যাচাই সম্পন্ন করতে হবে। মেটা জানিয়েছে, এই ব্যাজ দেখাবে যে সংশ্লিষ্ট প্রোফাইলের পেছনে সত্যি একজন আছেন, যিনি যাচাইপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছেন। এটি মেটার পেইড সাবস্ক্রিপশন সার্ভিস ‘মেটা ভেরিফায়েড’ থেকে আলাদা।

নতুন ফেসবুক ভেরিফায়েড ব্যাজটি বিনা মূল্যে দেওয়া হবে এবং এটি সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য চালু করা হচ্ছে।

কী এই নতুন ‘ফেসবুক ভেরিফায়েড’?
নতুন ‘ফেসবুক ভেরিফায়েড’ হলো এমন একটি পরিচয় যাচাই ব্যবস্থা, যেখানে ব্যবহারকারীকে একটি ছোট ভিডিও সেলফি ধারণ করতে হবে। মেটা সেই ভিডিওটি অ্যাকাউন্টে থাকা বিদ্যমান প্রোফাইল ছবির সঙ্গে মিলিয়ে পরিচয় যাচাই করবে। পুরো প্রক্রিয়াটি সাধারণত কয়েক মিনিটের মধ্যেই সম্পন্ন হবে বলে জানিয়েছে মেটা।

কারা এই ব্যাজ পাবেন?
এই ফিচার ব্যবহার করতে হলে কয়েকটি শর্ত পূরণ করতে হবে।

ব্যবহারকারীর বয়স কমপক্ষে ১৮ বছর হতে হবে, অ্যাকাউন্টটি ফেসবুকের কমিউনিটি স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী ভালো অবস্থায় থাকতে হবে; প্রতারণা, ভুয়া পরিচয় বা সন্দেহজনক কার্যকলাপের ইতিহাস থাকা যাবে না, পরিচয় যাচাই সফল হতে হবে এবং পরিচয় যাচাই সম্পন্ন হলে ব্যাজটি ফেসবুকের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে দেখা যাবে। যেমন - প্রোফাইল, মার্কেটপ্লেস, গ্রুপ ও ফেসবুক ডেটিং।

পরবর্তী সময়ে নিউজ ফিডেও এই ব্যাজ দেখানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

কেন এই উদ্যোগ?
মেটা বলছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের মাধ্যমে এখন খুব সহজেই ভুয়া ছবি, ভুয়া পরিচয় এবং বিশ্বাসযোগ্য প্রোফাইল তৈরি করা যাচ্ছে। এসব ব্যবহার করে প্রতারণা, জালিয়াতি এবং ভুয়া অ্যাকাউন্টের সংখ্যা বাড়ছে।

নতুন ‘ফেসবুক ভেরিফায়েড’ ব্যাজের মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা অন্তত বুঝতে পারবেন, যার সঙ্গে যোগাযোগ করছেন তিনি একজন বাস্তব ব্যক্তি কি না। তবে মেটা স্পষ্ট করেছে, এই ব্যাজ কোনো ব্যক্তির সততা বা বিশ্বাসযোগ্যতার নিশ্চয়তা দেয় না। এটি শুধু পরিচয় যাচাইয়ের প্রমাণ।

মেটা জানিয়েছে, ‘ফেসবুক ভেরিফায়েড’ ধাপে ধাপে চালু করা হবে। শুরুতে নির্বাচিত কয়েকটি দেশে এটি চালু হবে। পরে পর্যায়ক্রমে বিশ্বের অন্যান্য দেশেও ফিচারটি সম্প্রসারণ করা হবে। কোন কোন দেশে প্রথমে চালু হবে, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত জানানো হয়নি।

এআই প্রযুক্তির প্রসারের সঙ্গে অনলাইনে ভুয়া পরিচয়ের ঝুঁকিও বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য বিনা মূল্যের পরিচয় যাচাই ব্যবস্থা চালু করা ফেসবুকের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হতে পারে। তবে এই ব্যাজ কোনো ব্যক্তির চরিত্র বা বিশ্বাসযোগ্যতার নিশ্চয়তা দেয় না। তাই অনলাইনে লেনদেন বা ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ার করার আগে সব সময় সতর্ক থাকা প্রয়োজন।

সূত্র : এনগ্যাজেট

এআই দিয়ে তৈরি মানুষের ছবি ব্যবহারে নতুন নিয়ম অ্যামাজনের

অনলাইন ডেস্ক
এআই দিয়ে তৈরি মানুষের ছবি ব্যবহারে নতুন নিয়ম অ্যামাজনের
ছবি: রয়টার্স

অনলাইন মার্কেটপ্লেস অ্যামাজন তাদের তৃতীয় পক্ষের বিক্রেতাদের জন্য নতুন নিয়ম চালু করেছে। এখন থেকে পণ্যের প্রচারে এআই দিয়ে তৈরি মানুষের ছবি বা ভিডিও ব্যবহার করলে তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে।

 বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়।

নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যে নতুন একটি আইন কার্যকর হওয়ার পর এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে অ্যামাজন। আইনে বলা হয়েছে, বিজ্ঞাপনে সত্যিকারের মানুষের পরিবর্তে এআই দিয়ে তৈরি মানুষের ছবি বা ভিডিও ব্যবহার করলে সেটি অবশ্যই জানাতে হবে।

নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, বিক্রেতাদের পণ্যের ছবি, ভিডিও বা অন্যান্য প্রচারমূলক কনটেন্ট আপলোডের আগে সেগুলোতে বিশেষ পরিচয়চিহ্ন যুক্ত করতে হবে। এরপর প্রয়োজন হলে অ্যামাজন ক্রেতাদের জানাবে, ওই কনটেন্টে এআই দিয়ে তৈরি মানুষ ব্যবহার করা হয়েছে।

তবে সিনেমা, টেলিভিশন অনুষ্ঠান বা ভিডিও গেমের কাল্পনিক চরিত্রের ক্ষেত্রে এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে না। আবার বাস্তব মানুষের ছবি এআই দিয়ে সম্পাদনা করা হলেও সেটি এই নিয়মের আওতায় পড়বে না।

সাম্প্রতিক সময়ে অনেক বিক্রেতাই পণ্যের বিবরণ, ছবি ও ভিডিও তৈরিতে এআই ব্যবহার করছেন। এ জন্য অ্যামাজন নিজেও বিভিন্ন এআইভিত্তিক টুল চালু করেছে।

বর্তমানে অ্যামাজনের মোট বিক্রির ৬০ শতাংশের বেশি আসে তৃতীয় পক্ষের বিক্রেতাদের কাছ থেকে। তাই নতুন এই নিয়মের প্রভাব বিপুলসংখ্যক বিক্রেতার ওপর পড়বে।

বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে এআই দিয়ে তৈরি বিজ্ঞাপনের বিষয়ে কোনো কেন্দ্রীয় আইন নেই। তবে নিউইয়র্কের পাশাপাশি ক্যালিফোর্নিয়াসহ কয়েকটি অঙ্গরাজ্য এআই কনটেন্ট ব্যবহারে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে নতুন নিয়ম চালু করছে।

একই কারণে মেটা, টিকটক, পিন্টারেস্ট ও ইউটিউবও এআই দিয়ে তৈরি ছবি ও ভিডিওতে আলাদা পরিচয়চিহ্ন দেখানোর ব্যবস্থা করেছে।

এআই নিরাপত্তায় যুক্তরাষ্ট্র-চীন দ্বন্দ্ব, বাড়ছে নতুন শঙ্কা

অনলাইন ডেস্ক
এআই নিরাপত্তায় যুক্তরাষ্ট্র-চীন দ্বন্দ্ব, বাড়ছে নতুন শঙ্কা
ছবি: রয়টার্স

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি দ্রুত শক্তিশালী হয়ে উঠছে। এমন সময়ে এআই নিরাপত্তা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে বাড়তে থাকা বিরোধ নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, এই দ্বন্দ্ব দুই দেশের মধ্যে এআই নিরাপত্তা নিয়ে যৌথ কাজের উদ্যোগকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে।

শুক্রবার (২৪ জুলাই) বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানায়।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র সম্প্রতি চীনের এআই প্রতিষ্ঠান মুনশট–এর বিরুদ্ধে মেধাস্বত্ব চুরি এবং রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ এনেছে। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়ারও সতর্কবার্তা দিয়েছে ওয়াশিংটন।

এ ছাড়া মার্কিন কর্মকর্তারা খতিয়ে দেখছেন, চীনের কিছু প্রতিষ্ঠান উন্নত মার্কিন চিপ অবৈধভাবে ব্যবহার করে এআই মডেল প্রশিক্ষণ দিচ্ছে কি না।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এআই যত উন্নত হচ্ছে, ততই এটি সাইবার হামলাসহ বিভিন্ন ক্ষতিকর কাজে ব্যবহারের ঝুঁকি বাড়ছে। তাই এআই নিরাপত্তার জন্য আন্তর্জাতিকভাবে অভিন্ন নীতিমালা তৈরি করা এখন আগের চেয়ে বেশি জরুরি।

এমন পরিস্থিতিতে দুই দেশের সম্পর্কের টানাপোড়েন নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনাকেও ঝুঁকিতে ফেলতে পারে। আগামী সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে এআই নিরাপত্তা নিয়ে যে বৈঠকের পরিকল্পনা রয়েছে, সেটিও অনিশ্চয়তার মুখে পড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

সম্প্রতি ওপেনএআইয়ের একটি পরীক্ষামূলক এআই মডেল অন্য প্রতিষ্ঠানের পরীক্ষামূলক সিস্টেমে প্রবেশের ঘটনাও এআই নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতে আরো শক্তিশালী এআই মডেলের ঝুঁকি মোকাবেলায় দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানো প্রয়োজন।

তবে চীনের অনেক এআই প্রতিষ্ঠান এখনো নিরাপত্তার চেয়ে মডেলের সক্ষমতা বাড়ানোর দিকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রেও উন্নত এআই মডেল বাজারে আনার আগে আরো কঠোর নিরাপত্তা পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করার দাবি উঠছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এআই প্রযুক্তি নিরাপদ রাখতে প্রতিযোগিতার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সহযোগিতাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।