• ই-পেপার

মেসির অবসরের বিষয়ে বোমা ফাটালেন লিয়ান্দ্রো পারেদেস

গবেষণায় উঠে এলো মেসির পারিবারিক ইতিহাসের এক অজানা অধ্যায়

ক্রীড়া ডেস্ক
গবেষণায় উঠে এলো মেসির পারিবারিক ইতিহাসের এক অজানা অধ্যায়

ফুটবল মহাতারকা লিওনেল মেসির মায়ের পক্ষের পূর্বপুরুষরা আর্জেন্টিনার আগে কিছু সময় ব্রাজিলে বসবাস করেছিলেন। সেখানেই মেসির এক প্রপিতামহ (পরদাদা/পরনানা)  জন্মগ্রহণ করেন। তিন বছরের দীর্ঘ গবেষণায় মেসির পারিবারিক ইতিহাসের একটি অজানা অধ্যায় উন্মোচিত করেছেন ইতালীয় ইতিহাসবিদ এবং বংশানুক্রম গবেষক ফিওরেনজো সান্তিনি।

ব্রাজিলিয়ান সংবাদমাধ্যম গ্লোবোর প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, ১৮৯৯ সালে মেসির মাতৃপক্ষের প্রপিতামহ রানিয়েরি কোচ্চেত্তিনি তাঁর স্ত্রী রোসা রিচ্চেজ্জাকে নিয়ে ইতালি থেকে ‘ওয়াশিংটন’ নামক একটি জাহাজে করে ব্রাজিলের সান্তোস বন্দরে পৌঁছান। খবর বিজনেসটাইমস

পরে পরিবারটি ব্রাজিলের সাঁও পাওলোর রিনকাও অঞ্চলের খামারে শ্রমিক হিসেবে কাজ শুরু করে। পরবর্তীতে ১৯০৪ সালে সাঁও পাওলোর রিবেরাও প্রেতো শহরে মেসির প্রপিতামহ আর্দেরিগো কোচ্চেত্তিনি জন্মগ্রহণ করেন।

আর্দেরিগোর জন্মের এক বছর পর, ১৯০৫ সালে পুরো পরিবারটি ব্রাজিল ছেড়ে আর্জেন্টিনার রোজারিও শহরে চলে যায়। যেখানে পরবর্তীতে লিওনেল মেসির জন্ম হয়। 

সান্তিনির গবেষণা অনুযায়ী, ব্রাজিলে থাকার সময়ই মেসির মায়ের বংশের মূল পদবিটি পরিবর্তিত হয়ে যায়। ইতালীয় মূল পদবি কোচ্চেত্তিনি ব্রাজিলের স্থানীয় নথিপত্রে ভুলবশত পরিবর্তিত হয়ে কুচ্চিত্তিনি রূপ নেয়। একই সাথে প্রপিতামহ আর্দেরিগোর নাম নথিপত্রে ফেদেরিকো হয়ে যায়। এই পরিবর্তিত ‘কুচ্চিত্তিনি’ পদবিটিই পরবর্তীতে মেসির মায়ের মাধ্যমে মেসির নামের অংশে যুক্ত হয়।

এই গবেষণার পর ফুটবল বিশ্বে কৌতুকপূর্ণ আলোচনা তৈরি হয়েছে। মেসির পূর্বপুরুষ ব্রাজিলে থাকায় তাত্ত্বিকভাবে তাঁর ব্রাজিলের হয়ে খেলারও একটি দূরবর্তী সুযোগ থাকতে পারত। 

তবে ১৯০৫ সালের পর এই পরিবারের আর কোনো সদস্য ব্রাজিলে থেকে যাননি। বর্তমানে সেই শহরের একটি রাস্তার নাম ‘মার্তিনিকো প্রাডো’, যা মেসির পূর্বপুরুষদের আশ্রয় দেওয়া খামার মালিকের নামে রাখা হয়েছে। এটিই এখন মেসির সঙ্গে ওই শহরের একমাত্র প্রতীকী সংযোগ। 

জার্মানি, ব্রাজিল, আর্জেন্টিনাকে হারানোর মানসিকতা ছড়িয়ে দিতে চান বাংলাদেশের কোচ

ক্রীড়া প্রতিবেদক
জার্মানি, ব্রাজিল, আর্জেন্টিনাকে হারানোর মানসিকতা ছড়িয়ে দিতে চান বাংলাদেশের কোচ
বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের কোচ টমাস ডুলি। ছবি: মীর ফরিদ

নভেম্বরে ঢাকায় বসতে যাচ্ছে দক্ষিণ এশিয়ান ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসর সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ। টুর্নামেন্ট নিয়ে বেশ আত্মবিশ্বাসী ও উচ্ছ্বসিত বাংলাদেশ দলের কোচ টমাস ডুলি। 

আজ শনিবার (২৫ জুলাই) রাজধানীর একটি হোটেলে সাফের লোগো উন্মোচন অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি সাফ জেতার তীব্র আকাক্সক্ষা এবং দলের প্রস্তুতি নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন। দীর্ঘ ২৩ বছর পর সাফ শিরোপা ঘরে তোলার এই অভিযানে ডুলি তার পরিকল্পনা এবং দলের মানসিকতার ওপর সবচেয়ে বেশি জোর দিচ্ছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের হয়ে দুটি বিশ্বকাপ খেলেছেন ডুলি। খেলা ছাড়ার পর দীর্ঘ চার বছর যুক্তরাষ্ট্র দলের সহকারী কোচের দায়িত্বে ছিলেন। এ ছাড়া ফিলিপাইন, গায়ানার মতো দলকে কোচিং করিয়েছেন। 

বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে নিজেকে ডুলি গড়ে তুলেছিলেন বিজয়ী মানসিকতায়। সেই ইতিবাচক মানসিকতাই বাংলাদেশ দলের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার কথা বলেছেন কোচ।

প্রতিপক্ষ যেই হোক, জয়ই ডুলির একমাত্র চাওয়া, ‘আমরা কার বিপক্ষে খেলছি, তা বিবেচ্য নয়। আমরা যদি জার্মানি, ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা বা অন্য যেকোনো দলের বিপক্ষে খেলি, আমি জিততে চাই। তাই এটি এমন এক ধরনের মানসিকতা, যা আমাকে খেলোয়াড়দের মাঝে ছড়িয়ে দিতে হবে যেন তারাও একই কথা ভাবে।’

দলে তরুণ ও অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের সংমিশ্রণ রয়েছে উল্লেখ করে কোচ জানান, প্রত্যেকেই তাদের নিজস্ব গুণ নিয়ে জাতীয় দলে জায়গা করে নিয়েছে। মাঠের লড়াইয়ে নিজেদের সেরাটা দেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন তিনি, ‘আমরা এমন খেলা উপহার দিতে চাই যেন দর্শকরা হতাশ হয়ে বাড়ি ফিরে না যায়। তারা যেন মুখ ফিরিয়ে না নেয়। তারা যেন বলে, দল যে খেলাটা খেলে তা পছন্দ হয়েছে এবং আমি চাই দর্শকরা যেন জয় নিয়ে খুশি মনে বাড়ি ফিরতে পারে।’

ঘরের মাঠে আট বছর পর সাফ খেলবে বাংলাদেশ। তাই শিরোপা জয়ের বিকল্প দেখছেন না কোচ, ‘টুর্নামেন্টের মূল লক্ষ্য? আপনাদের কী মনে হয়? অবশ্যই চ্যাম্পিয়ন হওয়া। ফুটবলারদেরও আমি একটাই বার্তা দিব—মাঠে নামো, নিজের যা আছে সবটুকু উজাড় করে দাও। এরপর যদি অন্য দল ভালো খেলে ফেলে বা জিতে যায়, সেটা হবে আমাদের দুর্ভাগ্য। দর্শকদের প্রতি অনুরোধ, আমরা ভুল করলে কঠোর হবেন না। কারণ, বিশ্বকাপের মঞ্চে খেলে কোটি কোটি ডলার উপার্জন করা ফুটবলাররাও ভুল করে।’

বাংলাদেশ একবারই সাফে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে; ২০০৩ সালে দেশের মাটিতেই। ২৩ বছর ধরে যে ট্রফি আর পাওয়া হয়নি, সেই খরা এবার কাটাতে চান ডুলি। সেজন্য দর্শকদের মাঠে এসে বাংলাদেশ দলকে উৎসাহিত করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। 

ডুলির এই অদম্য মানসিকতা এবং সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা বাংলাদেশকে কাক্সিক্ষত সাফল্য এনে দিতে পারে কি না, তা সময়ই বলে দিবে। 

বৃষ্টি উপেক্ষা করে নিকো গঞ্জালেসকে বরণ করে নিতে হাজারো মানুষের ঢল

ক্রীড়া ডেস্ক
বৃষ্টি উপেক্ষা করে নিকো গঞ্জালেসকে বরণ করে নিতে হাজারো মানুষের ঢল

২০২৬ বিশ্বকাপ শেষে দেশে ফিরেই নিজ শহর বেলিন দে এসকোবার ফেরেন আর্জেন্টাইন তারকা ফরোয়ার্ড নিকোলাস গঞ্জালেস। গত শুক্রবার এসকোবারে পৌঁছালে পুরো শহরজুড়ে এক আবেগঘন পরিবেশ ও উৎসবের আমেজ তৈরি হয়েছিল। প্রবল বৃষ্টি উপেক্ষা করে হাজার হাজার মানুষ প্রিয় তারকাকে বরণ করতে রাস্তায় নেমে আসেন।

অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের এই ফুটবলারকে তাঁর অসামান্য ক্যারিয়ার ও বিশ্বকাপে অবদানের জন্য শহরের ‘সম্মানসূচক নাগরিক’ হিসেবে ভূষিত করে এসকোবার নগর প্রশাসন।

স্থানীয় ফায়ার সার্ভিসের একটি গাড়ির ওপর চড়ে নিকো গঞ্জালেস প্লাজা সান মার্তিনের চারপাশের রাস্তা প্রদক্ষিণ করেন। এ সময় তিনি হাজারো ভক্তের উদ্দেশে হাত নাড়েন এবং অনেকের জার্সিতে অটোগ্রাফ দেন।

ফায়ার সার্ভিস সদর দপ্তরে মূল অনুষ্ঠান চলাকালীন এসকোবারের মালভিনাস যুদ্ধ ভেটেরানরা তাঁর হাতে মালভিনাস দ্বীপপুঞ্জের মানচিত্র খচিত একটি আর্জেন্টিনার পতাকা তুলে দেন, যা পরিবেশকে অত্যন্ত আবেগঘন করে তোলে।

সংবর্ধনা মঞ্চে গঞ্জালেস তাঁর শৈশবের ক্লাব ‘অ্যাটলেটিকো দে এসকোবারো’র জার্সি হাতে নিয়ে ছবি তোলেন।

ভক্তদের এমন উপচে পড়া ভিড় দেখে ফরোয়ার্ড নিজেই অবাক হয়ে যান । তিনি জানান, কখনো ভাবেননি তাঁকে এত মানুষ স্বাগত জানাতে আসবে। সবার ভালোবাসার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি। 

একই সাথে আর্জেন্টিনার জাতীয় দলের ভবিষ্যৎ নিয়ে একটি বড় ইঙ্গিত দিয়ে বলেন, সামনে আলবিসেলেস্তেদের স্কোয়াডে ‘একটি বড় পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে।’

গাড়ির বেপরোয়া গতি, শরীরে কোকেনের উপস্থিতি—ভোররাতে পুলিশের জালে বিশ্বকাপে খেলা ফুটবলার

ক্রীড়া ডেস্ক
গাড়ির বেপরোয়া গতি, শরীরে কোকেনের উপস্থিতি—ভোররাতে পুলিশের জালে বিশ্বকাপে খেলা ফুটবলার
বিশ্বকাপে খেলা অস্ট্রেলিয়ার ফুটবলার ক্রিস্টিয়ান ভলপাতো। ছবি: ফিফা

সদ্য সমাপ্ত ফিফা বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে দারুণ খেলেছেন ক্রিস্টিয়ান ভলপাতো। তবে তরুণ এই ফুটবলার এবার হয়তো বড় ধরনের বিপদে পড়তে যাচ্ছেন। 

সিডনিতে ভোররাতে বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালিয়ে পুলিশের জালে আটকা পড়েছেন ভলপাতো। এরপর মাদক পরীক্ষায় তার শরীরে কোকেনের উপস্থিতি পাওয়া গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে বিষয়টি এখনো তদন্তাধীন এবং এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কোনো ফৌজদারি অভিযোগ আনা হয়নি।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্থানীয় সময় গতকাল শুক্রবার ভোররাতে সিডনির অ্যানজ্যাক ব্রিজে ৬০ কিলোমিটার গতিসীমার এলাকায় ঘণ্টায় ১০৯ কিলোমিটার বেগে নিজের বিএমডব্লিউ গাড়ি চালানোর সময় নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশ ভলপাতোকে থামায়।

এরপর ঘটনাস্থলেই ভলপাতোর মাদক পরীক্ষা করা হয়। প্রাথমিকভাবে তার শরীরে কোকেনের উপস্থিতি পাওয়া যায়। পরে নিশ্চিত হওয়ার জন্য তার মুখগহ্বর থেকে দ্বিতীয় নমুনা সংগ্রহ করা হয়। ওই পরীক্ষার ফল এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

পুলিশ জানিয়েছে, একই রাতে এর প্রায় দুই ঘণ্টা আগে একই এলাকায় গতিসীমার চেয়ে ২০ কিলোমিটারের বেশি গতিতে গাড়ি চালানোর অভিযোগে ভলপাতোকে একবার থামানো হয়েছিল। তখন তার অ্যালকোহল পরীক্ষার ফল নেগেটিভ আসে এবং তাকে জরিমানা করে ছেড়ে দেওয়া হয়।

দ্বিতীয়বার অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানোর কারণে ভলপাতোকে আবারো জরিমানা করা হয়। পাশাপাশি নিউ সাউথ ওয়েলসে তার আন্তর্জাতিক ড্রাইভিং লাইসেন্স ছয় মাসের জন্য স্থগিত করা হয়। 

ফুটবল অস্ট্রেলিয়া এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বিষয়টি সম্পর্কে আমরা অবগত। তবে তদন্ত চলমান থাকায় এই মুহূর্তে আমরা কোনো মন্তব্য করব না। পুরো প্রক্রিয়াজুড়ে খেলোয়াড়ের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হবে এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে।

২২ বছর বয়সী ভলপাতো ইতালিয়ান ক্লাব সাসসুয়োলোর হয়ে খেলেন। ইতালির বয়সভিত্তিক দলে খেলার পর তিনি আন্তর্জাতিক ফুটবলে অস্ট্রেলিয়ার প্রতিনিধিত্ব করার সিদ্ধান্ত নেন। 

সদ্য সমাপ্ত বিশ্বকাপে ভলপাতো তিনটি ম্যাচ খেলেন এবং অস্ট্রেলিয়াকে নকআউট পর্বে তোলার পথে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। শেষ বত্রিশ পর্বে মোহাম্মদ সালাহর মিশরের কাছে টাইব্রেকারে হেরে বিদায় নেয় অস্ট্রেলিয়া।