• ই-পেপার

কুকুর হত্যা মামলায় দুজনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

খুলনায় একা বসবাস করতেন মতি, ঘরে মিলল অর্ধগলিত মরদেহ

খুলনা অফিস
খুলনায় একা বসবাস করতেন মতি, ঘরে মিলল অর্ধগলিত মরদেহ
সংগৃহীত ছবি

খুলনায় একটি ভবন থেকে মো. মতি (৫৪) নামে এক ব্যক্তির অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রবিবার (২৬ জুলাই) দুপুরে নগরীর সোনাডাঙ্গা মডেল থানার শেখপাড়া এলাকা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

মৃত মতি নগরীর শেখপাড়ার হাবিবুল্লাহর ছেলে। তিনি গড়াই পরিবহনের টিকিট কালেকক্টর হিসেবে কাজ করতেন। 

পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, পরিবহনের টিকেট কালেকক্টর মতি দীর্ঘদিন শেখপাড়া খলিল চেম্বারের পার্শ্ববর্তী বাসিন্দা আনোয়ারের বাড়ির ভাড়াটিয়া হিসেবে একা বসবাস করতেন। শারীরিকভাবে কিছুটা অসুস্থ ছিলেন। তাকে সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার দেখা গেছে। রবিবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে একজন কাজ করার জন্য বাড়ির ছাদে উঠলে দুর্গন্ধ পান। পরে খবর পেয়ে পুলিশ দরজা ভেঙে ঘরের ভেতর থেকে মতির মরদেহ উদ্ধার করে।

সোনাডাঙ্গা থানার এসআই মো. ফরিদুল ইসলাম জানান, নিহত মতির মরদেহের ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হচ্ছে। এ ঘটনায় আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

যশোরে বাসচাপায় প্রাণ গেল মুক্তিযোদ্ধার

কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি
যশোরে বাসচাপায় প্রাণ গেল মুক্তিযোদ্ধার
সংগৃহীত ছবি

যশোরের কেশবপুরে বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী (৭৫) সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন। রবিবার (২৬ জুলাই) দুপুরে শহরের মাইকেলগেট নামক এলাকায় বাসচাপায় নিহত হন তিনি। ঘাতক বাসটি আটক করেছে পুলিশ।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মোহাম্মদ আলী মোটরসাইকেলযোগে সাগরদাঁড়ি সড়কের মুক্তিযোদ্ধা অফিসে যাওয়ার পথে যশোর-সাতক্ষীরা সড়কে দ্রুতগতির একটি বাস তাকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলে নিহত হন তিনি। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

কেশবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রোকসানা খাতুন বলেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন। মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। 

ঘাতক বাসটি আটক করা হয়েছে বলে জানান ওসি।

১৭ বছরে মানুষ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেনি : এস এম জিলানী

কোটালীপাড়া (গোপালগঞ্জ) প্রতিনিধি
১৭ বছরে মানুষ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেনি : এস এম জিলানী
ছবি : কালের কণ্ঠ

স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও গোপালগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জিলানী বলেছেন, বিগত ১৭ বছর দেশের মানুষ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেনি। গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেশের ভোটাররা ভোটকেন্দ্রে গিয়ে স্বতঃস্ফূর্তভাবে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন।

রবিবার (২৬ জুলাই) কোটালীপাড়া পল্লী উন্নয়ন একাডেমি হলরুমে  উপজেলা ও পৌর বিএনপি আয়োজিত মতবিনিময়সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। 

এস এম জিলানী বলেন, ‘আমরা আমাদের নেতাকর্মীদের কখনো বলিনাই যে আপনারা ভোটকেন্দ্রে গিয়ে জাল ভোট দেবেন। আমরা নেতাকর্মীদের বলেছিলাম, আপনারা ভোটারদের কেন্দ্রে নিয়ে আসবেন। ভোটাররা কেন্দ্রে এসে তাদের পছন্দমতো প্রার্থীকে ভোট দিয়েছেন।’

তিনি আরো বলেন, ‘জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে বর্তমান সরকার ক্ষমতা গ্রহণ করেছেন। নির্বাচনের সময় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী দেশনায়ক তারেক রহমান জাতির সামনে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন ভোটারদের আঙুল থেকে কালি মোছার আগেই তিনি সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন শুরু করেছেন। নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন ১০ হাজার টাকা করে কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফ করে দেবেন। নির্বাচিত হয়ে তিনি তা করেছেন। প্রধানমন্ত্রী ফ্যামিলি ও কৃষক কার্ডের কথা বলেছিলেন। ইতিমধ্যে ফ্যামিলি ও কৃষক কার্ড শুরু হয়েছে। অর্থাৎ বিএনপি মানুষের কাছে যে প্রতিশ্রুতি দেয় সেটি বাস্তবায়ন করে।’

উপজেলা বিএনপির সভাপতি এস এম মহিউদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মতবিনিময়সভায় উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল বাশার হাওলাদার, পৌর বিএনপি'র সভাপতি ইউসুফ আলী দাড়িয়া,সাধারণ সম্পাদক ওয়ালিউর রহমান হাওলাদারসহ উপজেলার ১১ টি ইউনিয়ন ও  পৌরসভার সিরিয়ার নেতৃবৃন্দ বক্তব্য দেন।

তিস্তার ভাঙন রোধের দাবিতে পাউবো ঘেরাও

গঙ্গাচড়া (রংপুর) প্রতিনিধি
তিস্তার ভাঙন রোধের দাবিতে পাউবো ঘেরাও
তিস্তার ভাঙন রোধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) কার্যালয় ঘেরাও কর্মসূচি পালন করেছে ভুক্তভোগী স্থানীয় বাসিন্দারা। ছবি : কালের কণ্ঠ

তিস্তার ভাঙন রোধে দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) কার্যালয় ঘেরাও কর্মসূচি পালন করেছে ভুক্তভোগী স্থানীয় বাসিন্দারা। ‘তিস্তা নদী পাড়ের এলাকাবাসী’ ব্যানারে রবিবার (২৬ জুলাই) সকালে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে গঙ্গাচড়া উপজেলার বিভিন্ন চরাঞ্চল থেকে আসা দুই শতাধিক ভাঙনকবলিত মানুষ এতে অংশ নেন। তারা প্রায় এক ঘণ্টা রংপুর জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন এবং দ্রুত স্থায়ী নদী শাসনের দাবি জানান।

বিক্ষোভকারীরা অভিযোগ করেন, বছরের পর বছর তিস্তার ভয়াবহ ভাঙনে হাজার হাজার হেক্টর কৃষিজমি ও শত শত বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হলেও পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো স্থায়ী উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। মাঝে মধ্যে কিছু জিওব্যাগ দেওয়া হলেও তা দিয়ে ভাঙন ঠেকানো সম্ভব হচ্ছে না। জিও ব্যাগে বালু ভরাটের খরচও ভুক্তভোগীদের বহন করতে হচ্ছে। 

ভুক্তভোগী কৃষক আব্দুল কাদের বলেন, তিস্তার ভাঙনে আমার কয়েক বিঘা আবাদি জমি নদীগর্ভে চলে গেছে। এখন বসতভিটাও ভাঙনের মুখে। পরিবার নিয়ে চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছি। আমরা আর সাময়িক ব্যবস্থা চাই না, দ্রুত স্থায়ী নদী শাসনের মাধ্যমে ভাঙন রোধের ব্যবস্থা চাই। তা না হলে আমাদের শেষ সম্বলটুকুও তিস্তা কেড়ে নেবে।

রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম বলেন, কোথাও ভাঙন দেখা দিলে প্রথমে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে জরুরি ভিত্তিতে কিছু সাপ্লাই বস্তা বা জিওব্যাগ দেওয়া হয়। এটি মূলত ফার্স্ট এইড বা তাৎক্ষণিক প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, উপজেলা প্রশাসন এবং স্বেচ্ছাশ্রমের সহযোগিতায় এসব কাজ পরিচালিত হয়।

তিনি আরো বলেন, স্থায়ী প্রতিরক্ষা কাজের ক্ষেত্রে কাজের গুরুত্ব নির্ধারণ, পরিকল্পনা প্রণয়ন, বরাদ্দ অনুমোদন এবং ঠিকাদার নিয়োগসহ কয়েকটি প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে কিছুটা সময় লাগে। তবে জরুরি পরিস্থিতিতে তাৎক্ষণিক ভাঙনরোধের ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষ করে পর্যায়ক্রমে স্থায়ী প্রতিরক্ষা কাজ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।