• ই-পেপার

নিজের এআই এজেন্টের হ্যাকিং টের পেতে ওপেনএআইয়ের এক সপ্তাহ

চীনের এআই অগ্রগতিতে ‘ডিস্টিলেশন’ নিয়ে উদ্বেগ যুক্তরাষ্ট্রের

অনলাইন ডেস্ক
চীনের এআই অগ্রগতিতে ‘ডিস্টিলেশন’ নিয়ে উদ্বেগ যুক্তরাষ্ট্রের
ছবি : রয়টার্স

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির জগতে এখন সবচেয়ে বেশি আলোচিত বিষয়গুলোর একটি হলো ‘ডিস্টিলেশন’। প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ থেকে শুরু করে যুক্তরাষ্ট্রের নীতিনির্ধারকদের মধ্যেও এটি নিয়ে তীব্র আলোচনা চলছে। বিশেষ করে চীনের স্টার্টআপ মুনশট এআই তাদের নতুন কিমি কে৩ (Kimi K3) মডেল উন্মুক্ত করার পর এই বিতর্ক আরও বেড়েছে।

শনিবার (২৫জুলাই) সিএনবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানায়।

ডিস্টিলেশন হলো এমন একটি পদ্ধতি, যেখানে একটি শক্তিশালী বা বড় এআই মডেলের দেওয়া উত্তর ও তথ্য ব্যবহার করে ছোট একটি মডেলকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। এর ফলে কম খরচে এবং কম কম্পিউটিং শক্তি ব্যবহার করে ভালো মানের এআই তৈরি করা সম্ভব হয়। 

তবে যুক্তরাষ্ট্রের কিছু কর্মকর্তা অভিযোগ করেছেন, চীনের কিছু প্রতিষ্ঠান এই পদ্ধতি ব্যবহার করে মার্কিন কোম্পানিগুলোর এআই প্রযুক্তির সুবিধা নিচ্ছে। হোয়াইট হাউসের উপদেষ্টা মাইকেল ক্রাটসিওস দাবি করেন, মুনশট এআই তাদের কিমি কে৩ মডেল তৈরিতে অ্যানথ্রপিকের ফেবল মডেলের তথ্য ব্যবহার করেছে। যদিও এ অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রকাশ্য প্রমাণ দেওয়া হয়নি।

অন্যদিকে এনভিডিয়া, মাইক্রোসফট, মেটা, প্যালান্টিরসহ ২০টির বেশি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান এক যৌথ চিঠিতে বলেছে, ডিস্টিলেশন এআই উন্নয়নের একটি স্বাভাবিক ও বহুল ব্যবহৃত প্রযুক্তি। তাদের মতে, এ ধরনের প্রযুক্তির ওপর আগেভাগে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করলে প্রতিযোগিতা কমবে এবং নতুন উদ্ভাবন অন্য দেশে চলে যেতে পারে। 

গুগলের এআই প্রধান জেফ ডিনও আগে বলেছিলেন, ডিস্টিলেশন ব্যবহার করে বড় মডেলের দক্ষতা ছোট মডেলে আনা সম্ভব হয়। এনভিডিয়াও তাদের কিছু এআই মডেল তৈরিতে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করেছে। 

তবে অ্যানথ্রপিকের অবস্থান ভিন্ন। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, চীনের কিছু কোম্পানি ভুয়া অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে তাদের ক্লড মডেলের তথ্য বড় পরিসরে সংগ্রহ করেছে, যা মেধাস্বত্ব লঙ্ঘনের শামিল এবং জাতীয় নিরাপত্তার জন্যও উদ্বেগের বিষয়। 

বিশেষজ্ঞদের মতে, ডিস্টিলেশন নিজে কোনো অবৈধ প্রযুক্তি নয়। তবে অনুমতি ছাড়া অন্য প্রতিষ্ঠানের উন্নত এআই মডেলের তথ্য ব্যবহার করা হলে তা মেধাস্বত্বের প্রশ্ন তুলতে পারে। ফলে এআই শিল্পে এই প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে বিতর্ক আরো বাড়তে পারে।

এআই চিপের চাহিদা বাড়ায় ৯৫০ বিলিয়ন ডলারের নতুন চুক্তি

অনলাইন ডেস্ক
এআই চিপের চাহিদা বাড়ায় ৯৫০ বিলিয়ন ডলারের নতুন চুক্তি
ছবি : রয়টার্স

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তারের কারণে বিশ্বের বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো আরো বেশি চিপ নিশ্চিত করতে একের পর এক বড় চুক্তি করছে। এবার দক্ষিণ কোরিয়ার স্যামসাং ইলেকট্রনিকস ও এসকে গ্রুপ যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি কম্পানিগুলোর সঙ্গে মোট ৯৫০ বিলিয়ন ডলারের নতুন চুক্তি করেছে।

শনিবার (২৫ জুলাই) রয়টার্সের এক প্রতিবেদন এ তথ্য দেয়।

সান ফ্রান্সিসকোতে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে-মিয়ং আয়োজিত একটি এআই সম্মেলনে এসব চুক্তির ঘোষণা দেওয়া হয়। এর মধ্যে এসকে গ্রুপের চুক্তির মূল্য ৭৫০ বিলিয়ন ডলার এবং স্যামসাং ইলেকট্রনিকসের চুক্তির মূল্য ২০০ বিলিয়ন ডলার।

এসকে গ্রুপের সবচেয়ে বড় অংশীদারত্ব হয়েছে এনভিডিয়ার সঙ্গে। ৫০০ বিলিয়ন ডলারের এই চুক্তির আওতায় এসকে হাইনিক্স দীর্ঘ মেয়াদে এনভিডিয়াকে উন্নত এইচবিএম মেমোরি চিপ সরবরাহ করবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতের এআই প্রযুক্তির জন্য আরো উন্নত মেমোরি চিপ যৌথভাবে তৈরি করবে।

এ ছাড়া এসকে টেলিকম ২০২৭ সালের মধ্যে ২ গিগাওয়াট ক্ষমতার একটি বড় এআই ডাটা সেন্টার নির্মাণ করবে। এতে এনভিডিয়ার ভেরা রুবিন চিপ এবং এসকে হাইনিক্সের এইচবিএম৪ মেমোরি ব্যবহার করা হবে।

অন্যদিকে স্যামসাং ইলেকট্রনিকস ব্রডকমের সঙ্গে ২০০ বিলিয়ন ডলারের সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই করেছে। এই চুক্তির আওতায় মেমোরি চিপ, চিপ উৎপাদন (ফাউন্ড্রি), উন্নত প্যাকেজিং এবং নতুন প্রজন্মের এআই অ্যাক্সিলারেটর তৈরিতে দুই প্রতিষ্ঠান একসঙ্গে কাজ করবে।

সম্মেলনে প্রেসিডেন্ট লি বলেন, দক্ষিণ কোরিয়া বৈশ্বিক প্রযুক্তি কম্পানিগুলোর সঙ্গে মিলে এআই খাতে নেতৃত্ব দিতে চায়। এ লক্ষ্যেই তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রযুক্তিগত সহযোগিতা বাড়ানোর পরিকল্পনা তুলে ধরেন।

এসকে গ্রুপের চেয়ারম্যান চে তাই-ওন বলেন, এআই কোম্পানিগুলোর চিপের চাহিদা ধারণার চেয়েও দ্রুত বাড়ছে। এনভিডিয়া, ওপেনএআই, অ্যানথ্রপিক ও ব্রডকম—সব প্রতিষ্ঠানই আগের চেয়ে আরো বেশি মেমোরি চিপ চাইছে।

তিনি আরো জানান, ওপেনএআই সরাসরি এসকে গ্রুপের কাছ থেকে চিপ সরবরাহ চেয়েছে। অন্যদিকে অ্যানথ্রপিকও ভবিষ্যতের চিপ সরবরাহ নিশ্চিত করতে নিয়মিত যোগাযোগ করছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এআই প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতির কারণে আগামী কয়েক বছরে উন্নত মেমোরি চিপ ও ডাটা সেন্টারের চাহিদা আরো বাড়বে। নতুন এই চুক্তিগুলো সেই বাড়তি চাহিদা পূরণের প্রস্তুতিরই অংশ।

নিবন্ধন ছাড়া বিজ্ঞাপন প্রচার করতে পারবে না গুগল-ফেসবুক-ইউটিউব

অনলাইন ডেস্ক
নিবন্ধন ছাড়া বিজ্ঞাপন প্রচার করতে পারবে না গুগল-ফেসবুক-ইউটিউব

ডিজিটাল বিজনেস আইডেনটিটি (ডিবিআইডি) নিবন্ধন ছাড়া ফেসবুক, ইউটিউব ও গুগলের মতো কোনো বিদেশি ডিজিটাল প্ল্যাটফরম বা প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশে অনলাইনে নতুন কোনো বিজ্ঞাপন প্রচার করতে পারবে না। একই সঙ্গে বিদেশি কোনো ডিজিটাল বাণিজ্য প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশে পণ্য বা সেবা বিক্রি করতে চাইলে তাদের বাধ্যতামূলকভাবে ডিবিআইডি নিবন্ধন নিতে হবে এবং দেশের প্রচলিত ভ্যাট, আয়কর ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট আইন কঠোরভাবে মেনে ব্যবসা পরিচালনা করতে হবে।

এমন বেশ কিছু বিধান রেখে ‘ক্রস-বর্ডার ডিজিটাল বাণিজ্য নীতিমালা, ২০২৬’-এর পূর্ণাঙ্গ খসড়া প্রকাশ করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে প্রকাশিত খসড়ার ওপর আগামী ৬ আগস্ট পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট অংশীজন ও সাধারণ মানুষের সুনির্দিষ্ট মতামত আহ্বান করা হয়েছে। মতামত পর্যালোচনার পর চূড়ান্ত খসড়া আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে বলে জানিয়েছেন দাপ্তরিক কর্মকর্তারা।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানান, দেশে ডিজিটাল বিজ্ঞাপনের বাজার দিন দিন অত্যন্ত দ্রুত সম্প্রসারিত হলেও এ খাতে একটি নির্দিষ্ট দিকনির্দেশনামূলক ও সুনির্দিষ্ট নীতিমালা না থাকায় সরকার নিয়মিত বিপুল রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। সে কারণেই একটি সমন্বিত ও যুগোপযোগী নীতিমালার খসড়া প্রণয়ন করা হয়েছে। অংশীজনদের গঠনমূলক মতামত পর্যালোচনা করেই এটি চূড়ান্ত করা হবে।

কয়েক বছর আগে মেটা, গুগল, অ্যামাজন ও নেটফ্লিক্সের মতো আন্তর্জাতিক ডিজিটাল পরাশক্তিগুলো বাংলাদেশে আনুষ্ঠানিকভাবে ভ্যাট নিবন্ধন গ্রহণ করে প্রতিনিধি বা পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তাদের ভ্যাট রিটার্ন দাখিল ও কর পরিশোধের প্রক্রিয়া শুরু করে।

প্রকাশিত খসড়া নীতিমালায় স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে যেকোনো প্রকার বাণিজ্য পরিচালনা করার আগে বিদেশি ডিজিটাল বাণিজ্য প্রতিষ্ঠানকে ডিজিটাল বিজনেস আইডেনটিটি (ডিবিআইডি) নিবন্ধন নিতে হবে। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনলাইনে খুচরা বিক্রি বা কোনো ধরনের ডিজিটাল বাণিজ্য পরিচালনার ক্ষেত্রে এ প্রাতিষ্ঠানিক নিবন্ধন সম্পূর্ণ বাধ্যতামূলক। নিবন্ধনের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে দেশের প্রচলিত ভ্যাট, আয়কর ও অন্যান্য কর-সংক্রান্ত আইনি বিধানও অক্ষরে অক্ষরে অনুসরণ করতে হবে।

নীতিমালাটি চূড়ান্তভাবে কার্যকর হলে মেটা, গুগল, ইউটিউবসহ অন্যান্য বিদেশি ডিজিটাল প্ল্যাটফরমগুলো প্রয়োজনীয় নিবন্ধন ব্যতিরেকে বাংলাদেশে নতুন করে কোনো বিজ্ঞাপন প্রচার করতে পারবে না। তবে সঠিক প্রক্রিয়ায় নিবন্ধন নেওয়ার পর বাংলাদেশে বৈধভাবে আমদানি করা পণ্য বা সেবার সুনির্দিষ্ট বিজ্ঞাপন দেশের প্রচলিত আইন মেনে অনলাইন প্ল্যাটফরমে সহজভাবে প্রচার করা যাবে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও ওটিটি প্ল্যাটফরমে বিজ্ঞাপন প্রচারের ক্ষেত্রেও বিদ্যমান সরকারি নীতিমালা ও বিধি-বিধান কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে।

খসড়ায় দেশের এমএসএমই উদ্যোক্তাদের ডিজিটাল মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে রপ্তানি বাড়াতে বিশেষ নীতিসহায়তা, পার্সেলভিত্তিক আধুনিক রপ্তানির পূর্ণ সুবিধা এবং উপযুক্ত বীমাব্যবস্থা চালুর সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব রাখা হয়েছে। পাশাপাশি ডিজিটাল প্রক্রিয়ায় অর্জিত আন্তর্জাতিক রপ্তানি আয়কে প্রচলিত সাধারণ রপ্তানির মতোই পূর্ণ স্বীকৃতি দিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে বিশেষ আর্থিক প্রণোদনা দেওয়ার বিষয় বিবেচনার কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে দেশে ও বিদেশে দ্রুত প্রসেসিং সেন্টার এবং বিশ্বমানের গুদামজাতকরণে অবকাঠামোগত নীতিসহায়তা দেওয়ার প্রস্তাবও রয়েছে।

নীতিমালায় ডিজিটাল প্ল্যাটফরম ব্যবহার করে নকল, ভেজাল ও যেকোনো প্রতারণামূলক পণ্য বিক্রি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে অনলাইনভিত্তিক সব ধরনের অনৈতিক জুয়া, লটারি, বেটিং এবং দেশের আমদানি-রপ্তানি নীতিতে কঠোরভাবে নিষিদ্ধঘোষিত যেকোনো পণ্য বা সেবার ডিজিটাল বাণিজ্য থেকে বিরত থাকতে হবে। এমন কোনো চটকদার বা বিভ্রান্তিকর বিজ্ঞাপনও প্রচার করা যাবে না, যা আমাদের অভ্যন্তরীণ ডিজিটাল বাজারের স্থিতিশীল শৃঙ্খলা নষ্ট করতে পারে অথবা সাধারণ ভোক্তাকে প্রতারিত বা বিভ্রান্ত করতে পারে।

এ ছাড়া ব্যবসা-টু-ব্যবসা (বি-টু-বি), ব্যবসা-টু-ভোক্তা (বি-টু-সি) ও বি-টু-বি-টু-সি ভিত্তিক আন্তর্জাতিক ডিজিটাল আমদানির সুযোগ আরো প্রসারণের তাগিদ দেওয়া হয়েছে। অনলাইনে সরাসরি আমদানির ক্ষেত্রে বিদ্যমান মূল্যসীমা একটি যৌক্তিক পর্যায়ে পুনর্নির্ধারণ বা পুনর্বিবেচনার জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সঙ্গে দ্রুত সমন্বয়ের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। পাশাপাশি বিদেশ থেকে আমদানি করা পণ্য ত্রুটিপূর্ণ হলে তা ফেরত দেওয়া বা পুনরায় রপ্তানির ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সঠিক নিয়ম অনুসরণের কথা বলা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক মুদ্রা লেনদেন প্রক্রিয়া সহজ ও নিরাপদ করতে বৈশ্বিক পেমেন্ট নেটওয়ার্কের সঙ্গে দেশের বিদ্যমান ডিজিটাল পেমেন্ট অবকাঠামোর প্রযুক্তিগত সংযোগ স্থাপন এবং অনলাইন লেনদেনে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ‘ক্রস-বর্ডার এসক্রো’ সেবা চালুর সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব রয়েছে। একই সঙ্গে নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানের রপ্তানি আয় দ্রুত দেশে আনা এবং আমদানি ব্যয় পরিশোধ প্রক্রিয়া সহজ করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় কার্যকরী ব্যবস্থা নেবে দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাংলাদেশ ব্যাংক।

ভোক্তা অধিকার সুরক্ষার বিষয়েও নীতিমালায় একাধিক কঠোর বাধ্যবাধকতা রাখা হয়েছে। বিক্রয়োত্তর সেবা, পরিশোধিত মূল্য ফেরত, পণ্য ফেরত প্রদান, পণ্যের ওয়ারেন্টি ও গ্যারান্টি সম্পর্কে ক্রেতাকে কেনাকাটার পূর্বেই স্পষ্ট ও সঠিক তথ্য দিতে হবে। সরবরাহ করা পণ্য প্রদর্শিত বর্ণনার সঙ্গে না মিললে কিংবা কোনো কারণে ত্রুটিপূর্ণ বা নকল প্রমাণিত হলে বিক্রেতাকে অবিলম্বে তা ফেরত নিয়ে ক্রেতার সম্পূর্ণ অর্থ দ্রুত ফেরত প্রদান করতে হবে।

এ ছাড়া যেকোনো ডিজিটাল বাণিজ্যসংক্রান্ত বিরোধ অতিদ্রুত নিষ্পত্তির উদ্দেশ্যে ‘জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর’-এর ডিজিটাল অভিযোগ ও সেবা প্রদান ব্যবস্থাকে আরো বেশি আধুনিকায়ন করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। আন্তর্জাতিক লেনদেনসংক্রান্ত সার্বিক বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য একটি স্বাধীন ‘বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি’ (এডিআর) ব্যবস্থা চালুর কথাও এই খসড়া নীতিমালায় বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিনা মূল্যে ভেরিফায়েড ব্যাজ চালু করছে ফেসবুক, যেভাবে পাবেন

অনলাইন ডেস্ক
বিনা মূল্যে ভেরিফায়েড ব্যাজ চালু করছে ফেসবুক, যেভাবে পাবেন
সংগৃহীত ছবি

এআই দিয়ে তৈরি ভুয়া প্রোফাইল, ছবি ও কথোপকথন বেড়ে যাওয়ায় আসল ব্যবহারকারী শনাক্ত করতে বিনা মূল্যের ভেরিফায়েড ব্যাজ চালু করছে ফেসবুক।

‘ফেসবুক ভেরিফায়েড’ নামের এই ব্যাজ পেতে ব্যবহারকারীকে সেলফি ভিডিও যাচাই সম্পন্ন করতে হবে। মেটা জানিয়েছে, এই ব্যাজ দেখাবে যে সংশ্লিষ্ট প্রোফাইলের পেছনে সত্যি একজন আছেন, যিনি যাচাইপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছেন। এটি মেটার পেইড সাবস্ক্রিপশন সার্ভিস ‘মেটা ভেরিফায়েড’ থেকে আলাদা।

নতুন ফেসবুক ভেরিফায়েড ব্যাজটি বিনা মূল্যে দেওয়া হবে এবং এটি সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য চালু করা হচ্ছে।

কী এই নতুন ‘ফেসবুক ভেরিফায়েড’?
নতুন ‘ফেসবুক ভেরিফায়েড’ হলো এমন একটি পরিচয় যাচাই ব্যবস্থা, যেখানে ব্যবহারকারীকে একটি ছোট ভিডিও সেলফি ধারণ করতে হবে। মেটা সেই ভিডিওটি অ্যাকাউন্টে থাকা বিদ্যমান প্রোফাইল ছবির সঙ্গে মিলিয়ে পরিচয় যাচাই করবে। পুরো প্রক্রিয়াটি সাধারণত কয়েক মিনিটের মধ্যেই সম্পন্ন হবে বলে জানিয়েছে মেটা।

কারা এই ব্যাজ পাবেন?
এই ফিচার ব্যবহার করতে হলে কয়েকটি শর্ত পূরণ করতে হবে।

ব্যবহারকারীর বয়স কমপক্ষে ১৮ বছর হতে হবে, অ্যাকাউন্টটি ফেসবুকের কমিউনিটি স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী ভালো অবস্থায় থাকতে হবে; প্রতারণা, ভুয়া পরিচয় বা সন্দেহজনক কার্যকলাপের ইতিহাস থাকা যাবে না, পরিচয় যাচাই সফল হতে হবে এবং পরিচয় যাচাই সম্পন্ন হলে ব্যাজটি ফেসবুকের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে দেখা যাবে। যেমন - প্রোফাইল, মার্কেটপ্লেস, গ্রুপ ও ফেসবুক ডেটিং।

পরবর্তী সময়ে নিউজ ফিডেও এই ব্যাজ দেখানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

কেন এই উদ্যোগ?
মেটা বলছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের মাধ্যমে এখন খুব সহজেই ভুয়া ছবি, ভুয়া পরিচয় এবং বিশ্বাসযোগ্য প্রোফাইল তৈরি করা যাচ্ছে। এসব ব্যবহার করে প্রতারণা, জালিয়াতি এবং ভুয়া অ্যাকাউন্টের সংখ্যা বাড়ছে।

নতুন ‘ফেসবুক ভেরিফায়েড’ ব্যাজের মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা অন্তত বুঝতে পারবেন, যার সঙ্গে যোগাযোগ করছেন তিনি একজন বাস্তব ব্যক্তি কি না। তবে মেটা স্পষ্ট করেছে, এই ব্যাজ কোনো ব্যক্তির সততা বা বিশ্বাসযোগ্যতার নিশ্চয়তা দেয় না। এটি শুধু পরিচয় যাচাইয়ের প্রমাণ।

মেটা জানিয়েছে, ‘ফেসবুক ভেরিফায়েড’ ধাপে ধাপে চালু করা হবে। শুরুতে নির্বাচিত কয়েকটি দেশে এটি চালু হবে। পরে পর্যায়ক্রমে বিশ্বের অন্যান্য দেশেও ফিচারটি সম্প্রসারণ করা হবে। কোন কোন দেশে প্রথমে চালু হবে, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত জানানো হয়নি।

এআই প্রযুক্তির প্রসারের সঙ্গে অনলাইনে ভুয়া পরিচয়ের ঝুঁকিও বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য বিনা মূল্যের পরিচয় যাচাই ব্যবস্থা চালু করা ফেসবুকের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হতে পারে। তবে এই ব্যাজ কোনো ব্যক্তির চরিত্র বা বিশ্বাসযোগ্যতার নিশ্চয়তা দেয় না। তাই অনলাইনে লেনদেন বা ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ার করার আগে সব সময় সতর্ক থাকা প্রয়োজন।

সূত্র : এনগ্যাজেট