• ই-পেপার

সাইবার ঝুঁকি এড়াতে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট সুরক্ষার উপায়

নিয়ন্ত্রণ হারাল এআই মডেল, আতঙ্কে ওপেনএআই কর্তারা

অনলাইন ডেস্ক
নিয়ন্ত্রণ হারাল এআই মডেল, আতঙ্কে ওপেনএআই কর্তারা
ছবি : রয়টার্স

চ্যাটজিপিটির নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ওপেনএআইয়ের একটি এআই মডেল গত সপ্তাহে সিকিউরিটি টেস্টের সময় নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।

মডেলটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে এআই স্টার্টআপ ‘হাগিং ফেস’-এর সাইবার অবকাঠামোতে অনুপ্রবেশ করে। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) এক বিবৃতিতে ওপেনএআই বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। খবর রয়টার্স

জানা গেছে, একটি নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে তাদের কিছু সর্বাধুনিক এআই মডেলের ক্ষমতা পরীক্ষা করছিল ওপেনএআই। কিন্তু একপর্যায়ে এআই এজেন্টটি নির্ধারিত গণ্ডি ভেদ করে ইন্টারনেটে প্রবেশ করে। পরীক্ষার লক্ষ্য অর্জনের জন্য হাগিং ফেসের সিস্টেমে জোরপূর্বক ঢুকে পড়ে।

ওপেনএআই তাদের একটি ব্লগ পোস্টে জানিয়েছে, এটি ‘অভূতপূর্ব এক ঘটনা, যাতে অত্যাধুনিক সাইবার সক্ষমতার প্রমাণ মিলেছ’। প্রতিষ্ঠানটি তাদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করছে বলে উল্লেখ করেছে।

নিউইয়র্কভিত্তিক স্টার্টআপ হাগিং ফেস জানিয়েছে, আক্রমণটি প্রতিহত করার জন্য তারা একটি ওপেন সোর্স চাইনিজ মডেল ব্যবহার করেছে। কারণ শীর্ষস্থানীয় মার্কিন মডেলগুলো আক্রমণকারী ও রক্ষাকারীর মধ্যে পার্থক্য করতে না পেরে বিশ্লেষণের জন্য প্রয়োজনীয় ডেটা প্রসেস করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল।

কোম্পানিটি গত সপ্তাহে এক ব্লগ পোস্টে জানিয়েছে, তারা বিশ্লেষণের জন্য ঝিপু এআই-এর জিএলএম-৫.২ মডেলটি ব্যবহার করেছে। এটি তাদের সিস্টেমের মধ্যেই আক্রমণকারীর ডেটা ও বিভিন্ন ক্রেডেনশিয়াল সংরক্ষণে সহায়তা করেছিল।

ওপেনএআই স্বীকার করেছে, তাদের উন্নত মডেলগুলোকে ‘অত্যন্ত সুরক্ষিত ও পৃথক পরিবেশে’ রাখা সত্ত্বেও এই নিরাপত্তা লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে। এই স্বীকারোক্তির মাধ্যমে ফ্রন্টিয়ার এআই মডেলগুলোর ক্ষমতা ও ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দেবে বলেই মনে করা হচ্ছে।

প্রতিভার অপব্যবহার!

অনলাইন ডেস্ক
প্রতিভার অপব্যবহার!
ছবি : সংগৃহীত

প্রযুক্তি আমাদের জীবনকে অনেক সহজ করে দিয়েছে। তবে সুবিধার সঙ্গে আছে অনেক বিপদের হাতছানিও। প্রযুক্তির হাত ধরেই আমাদের গোপন ঘরে ঢুকে পড়ে চোর, হাতিয়ে নেয় টাকা-পয়সা। বিশ্বজুড়েই হ্যাকিং একটা বড় সমস্যা। ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের বিভিন্ন একাউন্ট ও ফোন নাম্বার হ্যাক হওয়ার ঘটনা এখন অহরহ। আগে দরজা ভেঙে চোর আসত ঘরে। এখন চোর নিজের ঘরে বসেই হাতিয়ে নিতে পারে আপনার তথ্য, আর সেই তথ্য ব্যবহার করে আপনার অর্থ। সাইবার যুগে চোরদের নামও এখন সাইবার চোর মানে সাইবার ক্রিমিনাল। তবে সাইবার চুরি করাটা অত সহজ নয়। আরেকজনের ফোন বা স্মার্ট ডিভাইস হ্যাক করতেও প্রতিভা লাগে। বলা যায় প্রতিভার অপব্যবহার করতে হয়। 

বিশ্বজুড়ে অনেক প্রতিভাবান ড্রপআউটের গল্প অনুপ্রাণিত করে অনেককে। তেমন না হলেও ভারতে এক প্রতিভাবান ড্রপআউটের সন্ধান মিলেছে। তবে নিজের প্রতিভা সে ভালো কাজে না লাগিয়ে চুরির কাজে ব্যবহার করেছে। ১৮ বছর বয়সী রোহিত বীরেন্দ্র সিং শাক্য কলেজে ভর্তি হলেও শেষ করেনি। এখন তার পেশা হলো নকল ব্যাংকিং অ্যাপ্লিকেশন ও ম্যালওয়ার যুক্ত এপিকে ফাইল বানানো ও দেশজুড়ে সাইবার অপরাধীদের কাছে তা বিক্রি করা।
তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, অভিযুক্ত রোহিত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং টেলিগ্রাম আপ ব্যবহার করে এমন জটিল ও অত্যাধুনিক টুল তৈরি করতো, যা বড় ধরণের সাইবার জালিয়াতিতে ব্যবহৃত হতো। এখন পুলিশের হাতে ধরা পড়লেও ১৬ বছর বয়স থেকেই রোহিত এআই টুল এবং টেলিগ্রামের সাহায্যে এই ক্ষতিকারক এপিকে ফাইলগুলো বানানো শুরু করে। এই অ্যাপগুলো যেকোনো মোবাইল ফোন হ্যাক করতে এবং সংবেদনশীল তথ্য চুরি করতে পারতো। তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, ঝাড়খণ্ডের জামতারা, হরিয়ানা এবং রাজস্থানের বেশ কয়েকটি সাইবার অপরাধী চক্র তার কাছ থেকে এই ভাইরাসযুক্ত অ্যাপ্লিকেশনগুলো কিনত।

ভারতের গুজরাটের সুরাটে দায়ের হওয়া একটি সাইবার জালিয়াতি মামলার তদন্ত করতে গিয়ে এই চক্রের সন্ধান পায় পুলিশ। ২০২৬ সালের মে মাসে এক ভুক্তভোগী হোয়াটসঅ্যাপে একটি এপিকে ফাইল পান, যা দেখতে হুবহু পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাংকের অফিসিয়াল অ্যাপ 'পিএনবি ওয়ান’এর মতো ছিল। সেটিকে আসল ভেবে ভুক্তভোগী অ্যাপটি তার মোবাইলে ডাউনলোড ও ইনস্টল করেন। ইনস্টল করার পরপরই তার মোবাইল ফোনটি হ্যাক হয়ে যায় এবং মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যে প্রাইম কো-অপারেটিভ ব্যাংকে থাকা তার একাউন্ট থেকে ৫ লাখ টাকা ইউনিয়ন ব্যাংকের একটি একাউন্টে সরিয়ে নেওয়া হয়।
অভিযোগ পাওয়ার পর সুরাট সাইবার ক্রাইম সেল তদন্ত শুরু করে। এই তদন্তের সূত্র ধরেই পুলিশ মূল হোতার সন্ধান পায়। সাইবার ক্রাইম অফিসার এবং আইটি বিশেষজ্ঞদের একটি দল কানপুরের একটি হোটেলে অভিযান চালিয়ে রোহিতকে গ্রেফতার করে। পুলিশ তার ল্যাপটপ, মোবাইল ফোন এবং অন্যান্য ডিজিটাল ডিভাইস জব্দ করেছে। জিজ্ঞাসাবাদে তদন্তকারীরা জানতে পেরেছে, রোহিত মূলত দুই ধরণের অ্যাপ্লিকেশন তৈরি করত। প্রথম অ্যাপটি ভুক্তভোগীর ফোনে ইনস্টল করার জন্য ডিজাইন করা হয়েছিল, আর দ্বিতীয়টি কাজ করত 'অ্যাডমিন অ্যাপ্লিকেশন' হিসেবে। এই অ্যাডমিন অ্যাপের মাধ্যমে সাইবার অপরাধীরা রিয়েল-টাইমে ভুক্তভোগীর মোবাইলের ওটিপি, ব্যাংকিং তথ্য এবং অন্যান্য গোপনীয় বিষয় দেখতে পেতো।

তদন্তে তার এই ব্যবসার মডেলটিও সামনে এসেছে। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত রোহিত একটি সাবস্ক্রিপশন-ভিত্তিক সিস্টেমে কাজ করত। সফটওয়্যারটি প্রথমবার সেটআপ করার জন্য সে ১৫ হাজার রুপি নিতো।  পরবর্তীতে মাসিক চার্জ ছিল ১৫ হাজার রুপি করে। তদন্তকারীদের মতে, সে গ্রাহকদের চাহিদা অনুযায়ী ব্যাংক, সরকারি দপ্তর এবং বড় বড় কোম্পানির হুবহু নকল অ্যাপ্লিকেশন তৈরি করে দিত। এর মধ্যে পিএনবি, এসবিআই, অ্যাক্সিস ব্যাংক, ইউসিও ব্যাংক, বিগ বাস্কেট, আমেরিকান এক্সপ্রেস’এর ভুয়া অ্যাপ্লিকেশন ও পেমেন্ট লিঙ্ক ছিল, যা সে সাইবার অপরাধী চক্রগুলোর কাছে সরবরাহ করত।
পুলিশ জানিয়েছে, এই চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্যান্য ব্যক্তিদের চিহ্নিত ও গ্রেফতার করার চেষ্টা চলছে।

চিপের দাম বাড়ায় ফোল্ডেবল ফোনের দাম বাড়াল স্যামসাং

অনলাইন ডেস্ক
চিপের দাম বাড়ায় ফোল্ডেবল ফোনের দাম বাড়াল স্যামসাং
ছবিঃ রয়টার্স

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান স্যামসাং নতুন তিনটি ফোল্ডেবল স্মার্টফোন উন্মোচন করেছে। তবে নতুন ফোনের সঙ্গে দামও বাড়িয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। মেমোরি চিপের দাম বেড়ে যাওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে স্যামসাং।

বুধবার (২২ জুলাই) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে রয়টার্স

লন্ডনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে স্যামসাং গ্যালাক্সি জেড ফোল্ড ৮, গ্যালাক্সি জেড ফোল্ড ৮ আলট্রা এবং গ্যালাক্সি জেড ফ্লিপ ৮ উন্মোচন করে। তিনটি ফোনেই রয়েছে গুগলের জেমিনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি।

এর মধ্যে নতুন গ্যালাক্সি জেড ফোল্ড ৮-এ আগের তুলনায় বড় ডিসপ্লে দেওয়া হয়েছে। ভিডিও দেখা ও মাল্টিটাস্কিংয়ের সুবিধার কথা বিবেচনা করে এই পরিবর্তন আনা হয়েছে। ফোনটির দাম রাখা হয়েছে ১ হাজার ৮৯৯ মার্কিন ডলার যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২ লাখ ৩২ হাজার টাকা।

এ ছাড়া গ্যালাক্সি জেড ফোল্ড ৮ আলট্রা ও গ্যালাক্সি জেড ফ্লিপ ৮-এর দাম আগের মডেলের তুলনায় ১০০ মার্কিন ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১২ হাজার ২০০ টাকা) বাড়িয়েছে স্যামসাং। ফলে ফোন দুটির নতুন দাম রাখা হয়েছে যথাক্রমে ২ হাজার ৯৯ মার্কিন ডলার (প্রায় ২ লাখ ৫৬ হাজার টাকা) এবং ১ হাজার ১৯৯ মার্কিন ডলার (প্রায় ১ লাখ ৪৬ হাজার টাকা)।

বিশ্লেষকদের মতে, ফোল্ডেবল স্মার্টফোন বাজারে স্যামসাংয়ের সবচেয়ে বড় প্রতিদ্বন্দ্বী হতে পারে অ্যাপল। চলতি বছরই আইপ্যাড মিনি আকারের স্ক্রিনযুক্ত প্রথম ফোল্ডেবল আইফোন বাজারে আনতে পারে প্রতিষ্ঠানটি।

গবেষণা প্রতিষ্ঠান আইডিসি-এর পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালে বৈশ্বিক স্মার্টফোন বাজার সংকুচিত হলেও ফোল্ডেবল ফোনের বাজার ২০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে মেমোরি চিপের দাম বাড়ায় স্মার্টফোন উৎপাদন ব্যয়ও বেড়েছে। তাই প্রিমিয়াম ফোনের দাম বাড়িয়ে সেই অতিরিক্ত খরচ সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছে স্যামসাং।

অনলাইন বাজির প্ল্যাটফর্ম কালশির কার্যক্রমে আদালতের নিষেধাজ্ঞা

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন বাজির প্ল্যাটফর্ম কালশির কার্যক্রমে আদালতের নিষেধাজ্ঞা
ছবি : রয়টার্স

যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যে কালশি নামে একটি অনলাইন বাজির প্ল্যাটফর্মের কার্যক্রমে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন আদালত। আদালতের মতে, প্রতিষ্ঠানটি অঙ্গরাজ্যের জুয়া আইন লঙ্ঘন করে থাকতে পারে।

মঙ্গলবার  (২১ জুলাই) বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদন এ তথ্য দেয়।


সোমবার কিং কাউন্টি সুপিরিয়র কোর্টের বিচারক জন ম্যাকহেল এই আদেশ দেন। তিনি বলেন, কালশির কার্যক্রম চলতে থাকলে সাধারণ মানুষ অবৈধ জুয়ার কারণে ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন। তাই আপাতত প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম বন্ধ রাখা প্রয়োজন।

কালশি একটি প্রেডিকশন মার্কেট। এখানে মানুষ খেলাধুলা, নির্বাচন বা অন্য কোনো ঘটনার ফল কী হতে পারে, তা নিয়ে অর্থের বিনিময়ে বাজি ধরতে পারেন।

তবে কালশির দাবি, তারা কোনো অবৈধ জুয়ার ব্যবসা চালায় না। প্রতিষ্ঠানটির মতে, তাদের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব যুক্তরাষ্ট্রের কমোডিটি ফিউচার্স ট্রেডিং কমিশনের। তাই কোনো অঙ্গরাজ্যের এ বিষয়ে আলাদা ব্যবস্থা নেওয়ার অধিকার নেই।

ওয়াশিংটনের অ্যাটর্নি জেনারেল নিক ব্রাউন অভিযোগ করেন, কালশি খেলাধুলা, নির্বাচন, রোগের প্রাদুর্ভাব এমনকি প্রাকৃতিক দুর্যোগের মতো বিষয়েও বাজির সুযোগ দিয়ে মুনাফা করেছে।

এর আগে ম্যাসাচুসেটস, মিশিগান, নেভাদা ও নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যেও কালশির কার্যক্রমে আদালত একই ধরনের নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল।

বিচারক জানিয়েছেন, আগামী ৫ আগস্ট এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক নিষেধাজ্ঞার আদেশ জারি করা হবে।

সাইবার ঝুঁকি এড়াতে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট সুরক্ষার উপায় | কালের কণ্ঠ