পুনর্ব্যবহারযোগ্য রকেট তৈরিতে বড় সাফল্য পেল চীন। প্রথমবারের মতো সমুদ্রে একটি বিশেষ ভাসমান প্ল্যাটফর্মে রকেটের বুস্টার সফলভাবে উদ্ধার করেছে দেশটি।
শুক্রবার (১০ জুলাই) বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদন এ তথ্য জানায়।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দক্ষিণ চীনের হাইনান থেকে লং মার্চ–১০বি রকেট উৎক্ষেপণ করা হয়।
রকেটটি একটি উপগ্রহকে সফলভাবে মহাকাশে পাঠায়। এরপর মূল রকেট থেকে আলাদা হওয়ার প্রায় ছয় মিনিট পর বুস্টারটি নিয়ন্ত্রিতভাবে নিচে নেমে আসে।
সমুদ্রে থাকা একটি ভাসমান প্ল্যাটফর্মে লাগানো বিশেষ জালের সাহায্যে বুস্টারটি নিরাপদে ধরা হয়। চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশন সিসিটিভি জানিয়েছে, এটিই দেশটির প্রথম সফল রকেট বুস্টার উদ্ধার।
বুস্টার হলো রকেটের সবচেয়ে শক্তিশালী অংশ। উৎক্ষেপণের সময় এটি রকেটকে ওপরে তুলতে সাহায্য করে। কাজ শেষ হলে এটি রকেট থেকে আলাদা হয়ে যায়।
সাধারণত এই অংশটি নষ্ট হয়ে যায়। কিন্তু এটি উদ্ধার করে আবার ব্যবহার করা গেলে নতুন রকেট তৈরির খরচ অনেক কমে।
লং মার্চ–১০বি রকেট একবারে পৃথিবীর নিচের কক্ষপথে অন্তত ১৬ টন ওজনের উপগ্রহ বা অন্যান্য যন্ত্রপাতি বহন করতে পারে।
এর আগে ইলন মাস্কের প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স পুনর্ব্যবহারযোগ্য রকেট প্রযুক্তিতে সাফল্য দেখিয়েছে। এখন চীনও সেই প্রযুক্তি আরও উন্নত করার চেষ্টা করছে।
চীনা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জালের সাহায্যে বুস্টার ধরার এই পদ্ধতিতে রকেটের ওজন কম রাখা যায়। ফলে একই রকেটে আরও বেশি মালামাল মহাকাশে পাঠানো সম্ভব।
চীন জানিয়েছে, চলতি বছরের শেষ দিকে এই উদ্ধার করা বুস্টার আবার নতুন একটি উৎক্ষেপণে ব্যবহার করার পরিকল্পনা রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রযুক্তি সফল হলে মহাকাশে উপগ্রহ পাঠানোর খরচ কমবে। পাশাপাশি মহাকাশ প্রযুক্তিতে চীনের সক্ষমতাও আরও বাড়বে।






