• ই-পেপার

ক্ষতিকর ৩৬টি ক্যামেরা অ্যাপ সরিয়ে নিল গুগল

প্রথমবার সমুদ্রে রকেটের বুস্টার উদ্ধার করল চীন

অনলাইন ডেস্ক
প্রথমবার সমুদ্রে রকেটের বুস্টার উদ্ধার করল চীন
ছবিঃ রয়টার্স

পুনর্ব্যবহারযোগ্য রকেট তৈরিতে বড় সাফল্য পেল চীন। প্রথমবারের মতো সমুদ্রে একটি বিশেষ ভাসমান প্ল্যাটফর্মে রকেটের বুস্টার সফলভাবে উদ্ধার করেছে দেশটি।

শুক্রবার (১০ জুলাই) বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদন এ তথ্য জানায়।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দক্ষিণ চীনের হাইনান থেকে লং মার্চ–১০বি রকেট উৎক্ষেপণ করা হয়।

রকেটটি একটি উপগ্রহকে সফলভাবে মহাকাশে পাঠায়। এরপর মূল রকেট থেকে আলাদা হওয়ার প্রায় ছয় মিনিট পর বুস্টারটি নিয়ন্ত্রিতভাবে নিচে নেমে আসে।

সমুদ্রে থাকা একটি ভাসমান প্ল্যাটফর্মে লাগানো বিশেষ জালের সাহায্যে বুস্টারটি নিরাপদে ধরা হয়। চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশন সিসিটিভি জানিয়েছে, এটিই দেশটির প্রথম সফল রকেট বুস্টার উদ্ধার।

বুস্টার হলো রকেটের সবচেয়ে শক্তিশালী অংশ। উৎক্ষেপণের সময় এটি রকেটকে ওপরে তুলতে সাহায্য করে। কাজ শেষ হলে এটি রকেট থেকে আলাদা হয়ে যায়।

সাধারণত এই অংশটি নষ্ট হয়ে যায়। কিন্তু এটি উদ্ধার করে আবার ব্যবহার করা গেলে নতুন রকেট তৈরির খরচ অনেক কমে।

লং মার্চ–১০বি রকেট একবারে পৃথিবীর নিচের কক্ষপথে অন্তত ১৬ টন ওজনের উপগ্রহ বা অন্যান্য যন্ত্রপাতি বহন করতে পারে।

এর আগে ইলন মাস্কের প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স পুনর্ব্যবহারযোগ্য রকেট প্রযুক্তিতে সাফল্য দেখিয়েছে। এখন চীনও সেই প্রযুক্তি আরও উন্নত করার চেষ্টা করছে।

চীনা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জালের সাহায্যে বুস্টার ধরার এই পদ্ধতিতে রকেটের ওজন কম রাখা যায়। ফলে একই রকেটে আরও বেশি মালামাল মহাকাশে পাঠানো সম্ভব।

চীন জানিয়েছে, চলতি বছরের শেষ দিকে এই উদ্ধার করা বুস্টার আবার নতুন একটি উৎক্ষেপণে ব্যবহার করার পরিকল্পনা রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রযুক্তি সফল হলে মহাকাশে উপগ্রহ পাঠানোর খরচ কমবে। পাশাপাশি মহাকাশ প্রযুক্তিতে চীনের সক্ষমতাও আরও বাড়বে।

এআই সেবায় ৮ হাজার ৯০০ প্রকৌশলী মোতায়েন করবে টিসিএস

অনলাইন ডেস্ক
এআই সেবায় ৮ হাজার ৯০০ প্রকৌশলী মোতায়েন করবে টিসিএস
ছবিঃ রয়টার্স

ভারতের সবচেয়ে বড় তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান টাটা কনসালট্যান্সি সার্ভিসেস (টিসিএস) এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে বড় পরিকল্পনা নিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ৮ হাজার ৯০০ প্রকৌশলীকে এআই–সম্পর্কিত কাজে নিয়োজিত করবে।

রবিবার (১২ জুলাই) রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

টিসিএসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) কে. কৃতিবাসান বলেন, এসব প্রকৌশলী সরাসরি গ্রাহক প্রতিষ্ঠানে কাজ করবেন। তারা দেখবেন, কীভাবে সেই প্রতিষ্ঠানে এআই ব্যবহার করলে কাজ আরও দ্রুত ও সহজ হবে।

প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের কাজ এক রকম নয়। তাই সবার জন্য একই এআই ব্যবহার করা যায় না। এসব প্রকৌশলী প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজন বুঝে উপযুক্ত এআই ব্যবস্থা তৈরি করতে সহায়তা করবেন।

কোম্পানির মোট কর্মীর প্রায় ১ থেকে ১ দশমিক ৫ শতাংশ এই দলে থাকবেন। বর্তমান কর্মীসংখ্যা অনুযায়ী তাদের সংখ্যা ৫ হাজার ৯০০ থেকে ৮ হাজার ৯০০ জন হতে পারে।

তবে এই কাজের জন্য নতুন কর্মী নেওয়া হবে, নাকি বর্তমান কর্মীদের প্রশিক্ষণ দিয়ে দায়িত্ব দেওয়া হবে, সে বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

বর্তমানে ওপেনএআই, মাইক্রোসফট ও অ্যানথ্রপিকও একই ধরনের প্রকৌশলী নিয়োগ দিচ্ছে। কারণ সারা বিশ্বের অনেক প্রতিষ্ঠান এখন এআই ব্যবহার শুরু করছে।

টিসিএস শুধু নতুন প্রকৌশলী নিয়োগই দিচ্ছে না। এআই, ডেটা নিরাপত্তা ও সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করে—এমন প্রতিষ্ঠান কেনার বিষয়েও ভাবছে। এতে নতুন প্রযুক্তি দ্রুত নিজেদের সেবায় যুক্ত করা সহজ হবে।

টিসিএসের প্রধান অর্থ কর্মকর্তা সামির সেক্সারিয়া বলেন, যেসব প্রতিষ্ঠান কিনলে ভবিষ্যতে কোম্পানির সেবা আরও ভালো হবে, সেগুলো খুঁজে দেখা হচ্ছে।

অনেকের আশঙ্কা, এআই বাড়লে আইটি খাতে চাকরি কমে যাবে। কারণ অনেক কাজ এখন এআই দিয়ে কম সময়ে করা সম্ভব।

তবে টিসিএসের সিইও এই ধারণার সঙ্গে একমত নন।

তিনি বলেন, এআই নিজে কোনো কাজ করে না। মানুষকেই সেটি ঠিকভাবে ব্যবহার করতে হয়। একটি প্রতিষ্ঠানের কাজ, নিয়ম ও প্রয়োজন না বুঝে এআই কাজে লাগানো সম্ভব নয়। তাই দক্ষ প্রকৌশলীর চাহিদা ভবিষ্যতেও থাকবে।

চাকরি হারিয়ে অনিশ্চয়তায় অ্যামাজনের কর্মীরা

অনলাইন ডেস্ক
চাকরি হারিয়ে অনিশ্চয়তায় অ্যামাজনের কর্মীরা
ছবি : রয়টার্স

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতে বড় বিনিয়োগের পাশাপাশি ব্যাপক কর্মী ছাঁটাই করছে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অ্যামাজন। এতে চাকরি হারানো হাজারো কর্মী এখন অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। নতুন চাকরি খুঁজে পেতেও তাদের অনেক সংগ্রাম করতে হচ্ছে।

শনিবার (১১ জুলাই) সিএনবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত আট মাসে অ্যামাজন তাদের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় কর্মী ছাঁটাই করেছে। চলতি বছরের জানুয়ারিতে প্রায় ১৬ হাজার কর্মী চাকরি হারান। এর তিন মাস আগে আরো ১৪ হাজার কর্মী ছাঁটাই করা হয়। সব মিলিয়ে ২০২২ সাল থেকে এখন পর্যন্ত কম্পানিটি ৫৭ হাজারের বেশি করপোরেট কর্মী ছাঁটাই করেছে।

শুধু অ্যামাজন নয়, মেটা, মাইক্রোসফট, সিসকো, ওরাকল ও সেলসফোর্সের মতো বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানও একই পথে হাঁটছে। ফলে প্রযুক্তি খাতের চাকরির বাজারে প্রতিযোগিতা অনেক বেড়ে গেছে।

পরামর্শক প্রতিষ্ঠান চ্যালেঞ্জার, গ্রে অ্যান্ড ক্রিসমাসের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে প্রযুক্তি খাতে প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার কর্মী চাকরি হারিয়েছেন। মে মাসে প্রযুক্তি খাতে ছাঁটাইয়ের সংখ্যা ২০২৪ সালের আগস্টের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়।

প্রতিষ্ঠানটির তথ্য জানায়, টানা চার মাস ধরে কর্মী ছাঁটাইয়ের অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে কম্পানিগুলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কথা উল্লেখ করেছে। বর্তমানে অনেক প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন কাজ স্বয়ংক্রিয় করতে এআই ব্যবহার করছে। একই সঙ্গে নতুন এআই প্রযুক্তি উন্নয়নে শত শত বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছে। ফলে অনেক পুরোনো পদ বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে।

অ্যামাজনের প্রধান নির্বাহী অ্যান্ডি জ্যাসি আগেই জানিয়েছেন, এআই কর্মীদের কাজের ধরন বদলে দেবে। আগামী কয়েক বছরে প্রযুক্তিটির কারণে কোম্পানির করপোরেট কর্মীর সংখ্যা কমে যেতে পারে বলেও তিনি সতর্ক করেছেন।

চাকরি হারানো অনেক কর্মী জানান, তারা শত শত প্রতিষ্ঠানে আবেদন করেও সাক্ষাৎকারের সুযোগ পাচ্ছেন না। অনেক চাকরির বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পরপরই ২০০ থেকে ৩০০টি আবেদন জমা পড়ছে। এতে দক্ষ কর্মীরাও নতুন চাকরি পেতে হিমশিম খাচ্ছেন।

কেউ কেউ আগের চেয়ে কম বেতনে চাকরি নিতে বাধ্য হয়েছেন। আবার অনেকেই বড় প্রতিষ্ঠানের বদলে ছোট স্টার্টআপে যোগ দিচ্ছেন। কিছু কর্মী ভবিষ্যতের চাকরির বাজারে টিকে থাকতে এআই–সম্পর্কিত নতুন দক্ষতা অর্জনে সময় দিচ্ছেন।

চাকরি হারানো একাধিক কর্মী জানান, তারা একসময় অ্যামাজনকে দীর্ঘমেয়াদি কর্মজীবনের নিরাপদ প্রতিষ্ঠান মনে করতেন। কিন্তু হঠাৎ ছাঁটাইয়ের পর সেই ধারণা বদলে গেছে। অনেকের জন্য এটি মানসিকভাবে কঠিন অভিজ্ঞতা হয়ে দাড়িয়েছে।

তবে অ্যামাজনের দাবি, সব কর্মী ছাঁটাই এআইয়ের কারণে হয়নি। কোম্পানির মতে, দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া, ব্যয় কমানো এবং ভবিষ্যতের গুরুত্বপূর্ণ খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর জন্য এই পুনর্গঠন করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যৎ ব্যবসার জন্য গুরুত্বপূর্ণ খাতে নতুন কর্মী নিয়োগও অব্যাহত রয়েছে।

ক্রপ করা এআই ছবি শনাক্তে ব্যর্থ মেটার নতুন টুল

অনলাইন ডেস্ক
ক্রপ করা এআই ছবি শনাক্তে ব্যর্থ মেটার নতুন টুল
ছবি : রয়টার্স

মেটার নতুন এআই ছবি শনাক্তকারী টুল নিজেদের তৈরি কিছু এআই ছবি শনাক্ত করতে ব্যর্থ হয়েছে। বিশেষ করে ছবি ক্রপ করার পর টুলটির কার্যকারিতা কমে গেছে বলে জানিয়েছে রয়টার্স।

শুক্রবার (১০ জুলাই) বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

সম্প্রতি মেটা তাদের নতুন ছবি তৈরির এআই মডেল মিউজ ইমেজ এর সঙ্গে একটি পরীক্ষামূলক এআই শনাক্তকারী টুল উন্মুক্ত করে।

রয়টার্স ৪০টি এআই-তৈরি ছবি নিয়ে পরীক্ষা চালায়। এতে দেখা যায়, টুলটি মূল ছবিগুলোর সবগুলোই শনাক্ত করতে সক্ষম হয়। তবে একই ছবিগুলো আকারে ছোট করে বা ক্রপ করার পর ৫৫ শতাংশ ছবি শনাক্ত করতে পারেনি।

মেটা জানিয়েছে, তাদের এআই-তৈরি প্রতিটি ছবিতে কনটেন্ট সিল নামে একটি অদৃশ্য ওয়াটারমার্ক যুক্ত থাকে। এই ওয়াটারমার্কের মাধ্যমে ছবিটি এআই দিয়ে তৈরি কি না, তা শনাক্ত করা যায়।

তবে কম্পানিটি স্বীকার করেছে, ছবি বেশি পরিমাণে ক্রপ করা হলে ওয়াটারমার্কের সংকেত দুর্বল হয়ে যেতে পারে। ফলে শনাক্তকারী টুলটি সব ক্ষেত্রে কার্যকর নাও থাকতে পারে।

মেটা আরো জানিয়েছে, টুলটি এখনো পরীক্ষামূলক পর্যায়ে রয়েছে এবং এটি উন্নয়নের কাজ চলছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু ওয়াটারমার্কভিত্তিক প্রযুক্তির ওপর নির্ভর করলে এআই ছবি শনাক্তে সীমাবদ্ধতা থেকে যায়। ছবি ক্রপ করা, আকার পরিবর্তন, অতিরিক্ত কমপ্রেস করা বা সম্পাদনা করলে শনাক্তকরণ কঠিন হয়ে পড়তে পারে।

গুগল ও ওপেনএআইও আগে সতর্ক করেছে, তাদের এআই শনাক্তকারী টুলগুলোও ছবি পরিবর্তনের পর সব সময় শতভাগ নির্ভুলভাবে কাজ করে না।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ডিপফেক ও বিভ্রান্তিকর এআই-তৈরি কনটেন্ট শনাক্ত করতে আরো শক্তিশালী প্রযুক্তি উন্নয়ন করা প্রয়োজন।

ক্ষতিকর ৩৬টি ক্যামেরা অ্যাপ সরিয়ে নিল গুগল | কালের কণ্ঠ