কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতে বড় বিনিয়োগের পাশাপাশি ব্যাপক কর্মী ছাঁটাই করছে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অ্যামাজন। এতে চাকরি হারানো হাজারো কর্মী এখন অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। নতুন চাকরি খুঁজে পেতেও তাদের অনেক সংগ্রাম করতে হচ্ছে।
শনিবার (১১ জুলাই) সিএনবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত আট মাসে অ্যামাজন তাদের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় কর্মী ছাঁটাই করেছে। চলতি বছরের জানুয়ারিতে প্রায় ১৬ হাজার কর্মী চাকরি হারান। এর তিন মাস আগে আরো ১৪ হাজার কর্মী ছাঁটাই করা হয়। সব মিলিয়ে ২০২২ সাল থেকে এখন পর্যন্ত কম্পানিটি ৫৭ হাজারের বেশি করপোরেট কর্মী ছাঁটাই করেছে।
শুধু অ্যামাজন নয়, মেটা, মাইক্রোসফট, সিসকো, ওরাকল ও সেলসফোর্সের মতো বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানও একই পথে হাঁটছে। ফলে প্রযুক্তি খাতের চাকরির বাজারে প্রতিযোগিতা অনেক বেড়ে গেছে।
পরামর্শক প্রতিষ্ঠান চ্যালেঞ্জার, গ্রে অ্যান্ড ক্রিসমাসের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে প্রযুক্তি খাতে প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার কর্মী চাকরি হারিয়েছেন। মে মাসে প্রযুক্তি খাতে ছাঁটাইয়ের সংখ্যা ২০২৪ সালের আগস্টের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়।
প্রতিষ্ঠানটির তথ্য জানায়, টানা চার মাস ধরে কর্মী ছাঁটাইয়ের অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে কম্পানিগুলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কথা উল্লেখ করেছে। বর্তমানে অনেক প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন কাজ স্বয়ংক্রিয় করতে এআই ব্যবহার করছে। একই সঙ্গে নতুন এআই প্রযুক্তি উন্নয়নে শত শত বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছে। ফলে অনেক পুরোনো পদ বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে।
অ্যামাজনের প্রধান নির্বাহী অ্যান্ডি জ্যাসি আগেই জানিয়েছেন, এআই কর্মীদের কাজের ধরন বদলে দেবে। আগামী কয়েক বছরে প্রযুক্তিটির কারণে কোম্পানির করপোরেট কর্মীর সংখ্যা কমে যেতে পারে বলেও তিনি সতর্ক করেছেন।
চাকরি হারানো অনেক কর্মী জানান, তারা শত শত প্রতিষ্ঠানে আবেদন করেও সাক্ষাৎকারের সুযোগ পাচ্ছেন না। অনেক চাকরির বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পরপরই ২০০ থেকে ৩০০টি আবেদন জমা পড়ছে। এতে দক্ষ কর্মীরাও নতুন চাকরি পেতে হিমশিম খাচ্ছেন।
কেউ কেউ আগের চেয়ে কম বেতনে চাকরি নিতে বাধ্য হয়েছেন। আবার অনেকেই বড় প্রতিষ্ঠানের বদলে ছোট স্টার্টআপে যোগ দিচ্ছেন। কিছু কর্মী ভবিষ্যতের চাকরির বাজারে টিকে থাকতে এআই–সম্পর্কিত নতুন দক্ষতা অর্জনে সময় দিচ্ছেন।
চাকরি হারানো একাধিক কর্মী জানান, তারা একসময় অ্যামাজনকে দীর্ঘমেয়াদি কর্মজীবনের নিরাপদ প্রতিষ্ঠান মনে করতেন। কিন্তু হঠাৎ ছাঁটাইয়ের পর সেই ধারণা বদলে গেছে। অনেকের জন্য এটি মানসিকভাবে কঠিন অভিজ্ঞতা হয়ে দাড়িয়েছে।
তবে অ্যামাজনের দাবি, সব কর্মী ছাঁটাই এআইয়ের কারণে হয়নি। কোম্পানির মতে, দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া, ব্যয় কমানো এবং ভবিষ্যতের গুরুত্বপূর্ণ খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর জন্য এই পুনর্গঠন করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যৎ ব্যবসার জন্য গুরুত্বপূর্ণ খাতে নতুন কর্মী নিয়োগও অব্যাহত রয়েছে।




