• ই-পেপার

চট্টগ্রামে ব্যবসায়ীর কাছে ২ কোটি টাকা চাঁদা দাবি

স্ত্রীর সঙ্গে ঝগড়ার পরদিন স্বামীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

জগন্নাথপুর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি:
স্ত্রীর সঙ্গে ঝগড়ার পরদিন স্বামীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার
ছবি: কালের কণ্ঠ

সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে পারিবারিক কলহের জেরে স্ত্রীর সঙ্গে ঝগড়ার পরদিন এক ব্যক্তির  (স্বামীর) ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

সোমবার (১৩ জুলাই) দুপুরে জগন্নাথপুর পৌরসভার হবিবনগর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত সুন্দর আলী (২৫) হবিবনগর গ্রামের ছমেদ আলীর ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, বেশ কিছুদিন ধরে সুন্দর আলী ও তার স্ত্রী লুবনা বেগমের মধ্যে পারিবারিক বিষয় নিয়ে বিরোধ চলছিল।

রবিবার দুপুরে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে আবারও ঝগড়া হয়। একপর্যায়ে লুবনা বেগম তার বোনের সঙ্গে বাড়ি ছেড়ে চলে যান।

পরদিন সোমবার দুপুর ১টা পর্যন্ত সুন্দর আলী ঘর থেকে বের না হওয়ায় প্রতিবেশীদের সন্দেহ হয়। তারা তাকে ডাকাডাকি করেও কোনো সাড়া পাননি।

পরে পুলিশে খবর দেওয়া হলে জগন্নাথপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘরের দরজা ভেঙে সুন্দর আলীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে।

এ ঘটনার পর থেকে সুন্দর আলীর স্ত্রীর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।

খবর পেয়ে সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (জগন্নাথপুর সার্কেল) রফিকুল ইসলাম এবং জগন্নাথপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

ওসি শফিকুল ইসলাম বলেন, ময়নাতদন্তের জন্য সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে। প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।

ময়মনসিংহে শিশু ধর্ষণের অভিযোগ, বিচারের দাবিতে থানা ঘেরাও

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি
ময়মনসিংহে শিশু ধর্ষণের অভিযোগ, বিচারের দাবিতে থানা ঘেরাও
ছবি : কালের কণ্ঠ

ময়মনসিংহের নান্দাইলে পাঁচ বছর বয়সী এক শিশুকে নৌকা ভ্রমণের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার বিচারের দাবিতে সোমবার (১৩ জুলাই) সকালে নান্দাইল মডেল থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেন কয়েক হাজার স্থানীয় বাসিন্দা।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গতকাল রবিবার দুপুরে নান্দাইল পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডে এক দিনমজুরের কন্যাশিশুকে প্রতিবেশী যুবক মোস্তফা (২৫) নৌকা ভ্রমণের কথা বলে বাড়ি থেকে নিয়ে যান। অভিযোগ অনুযায়ী, নির্জন স্থানে নিয়ে শিশুটিকে ধর্ষণ করা হয়।

পরিবারের সদস্যরা জানান, শিশুটি আহত অবস্থায় বাড়ি ফিরে ঘটনাটি মাকে জানায়। পরে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে রাতে নান্দাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। বর্তমানে সেখানে তার চিকিৎসা চলছে।

ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে পুলিশ রবিবার রাতেই অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত যুবক মোস্তফাকে আটক করে। পরে সোমবার সকালে ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও ধর্ষকের ফাঁসির দাবিতে পৌরসভার সর্বস্তরের কয়েক হাজার বাসিন্দা নান্দাইল মডেল থানায় গিয়ে জড়ো হন এবং থানা ঘেরাও করেন। এ সময় উত্তেজিত জনতা স্লোগান দিয়ে দ্রুত বিচার নিশ্চিতের দাবি জানান।

এ সময় নান্দাইল মডেল থানার ওসি (তদন্ত) মো. মোজাহিদুল ইসলাম বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশে বলেন, ‘অভিযুক্তকে ইতোমধ্যেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্তসাপেক্ষে সর্বোচ্চ আইনি ব্যবস্থা ও সঠিক বিচার নিশ্চিত করা হবে।’

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিশুর পরিবারের পক্ষ থেকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলেও জানিয়েছে পুলিশ।

লালমনিরহাটে তিস্তার পানি আবারও বিপৎসীমার ওপরে

লালমনিরহাট প্রতিনিধি
লালমনিরহাটে তিস্তার পানি আবারও বিপৎসীমার ওপরে
ফাইল ছবি

লালমনিরহাটের তিস্তা ব্যারাজ (ডালিয়া) পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানি আবারও বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সোমবার (১৩ জুলাই) সন্ধ্যা সোয়া ৭টায় নদীটির পানি বিপৎসীমার ১০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। ভারি থেকে অতি ভারি বৃষ্টি ও উজানের ঢলে পানি বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানায়, ডালিয়া পয়েন্টে সন্ধ্যা ৬টায় পানিপ্রবাহ ছিল বিপৎসীমার তিন সেন্টিমিটার ওপরে। এর আগে সকাল ৬টায় ওই পয়েন্টে বিপৎসীমার ১৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে তিস্তার পানি প্রবাহিত হয়।

পাউবো জানায়, রংপুর অঞ্চলের তিস্তা অববাহিকায় এবং উজানে ভারতের জলপাইগুড়িসহ বিভিন্ন এলাকায় ভারি থেকে অতিভারি বৃষ্টির প্রভাবে নদীটিতে পানি বৃদ্ধি পেয়েছে।

এদিকে সোমবার বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় তিস্তার পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে কোথাও কোথাও স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দিতে পারে।

উজানের ঢলের কারণে নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে জানিয়েছেন লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শুনীল কুমার।

টানা বৃষ্টিতে ডুবছে পাবনা শহর, জলাবদ্ধতায় নাকাল পৌরবাসী

পাবনা প্রতিনিধি
টানা বৃষ্টিতে ডুবছে পাবনা শহর, জলাবদ্ধতায় নাকাল পৌরবাসী
ছবি : কালের কণ্ঠ

টানা বর্ষণ ও অপর্যাপ্ত পানি নিষ্কাশনব্যবস্থার কারণে পাবনা পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় ভয়াবহ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। সড়ক, অলিগলি ও বাসাবাড়িতে হাঁটু থেকে কোমর সমান পানি জমে জনজীবন প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। দুর্ভোগে পড়েছেন শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ীসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ।‎

জানা গেছে, জলাবদ্ধতার কারণে শহরের বিভিন্ন সড়কে যানবাহন চলাচলেও বিঘ্ন ঘটছে। অনেক শিক্ষার্থীকে পানি মাড়িয়ে স্কুল-কলেজে যেতে দেখা গেছে। এ ছাড়া স্থির পানি জমে থাকায় মশার উপদ্রব বেড়েছে। এতে ডেঙ্গুসহ বিভিন্ন পানিবাহিত রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করছে স্থানীয়রা।

সোমবার (১৩ জুলাই) সকালে সরেজমিনে পৌরসভার শালগাড়িয়া, রাধানগর, দিলালপুর, নারায়ণপুর, আরিফপুর, মুজাহিদ ক্লাব আতাইকুলা রোড, গোবিন্দা, কালাচাঁদপাড়া, নূরপুর, মনসুরাবাদ আবাসিক এলাকা, ছাতিয়ানী, বাজিতপুর রোড বাইলেন  বাবলাতলা, নয়নামতি,  যুগিপাড়া পাড়া, হাসপাতাল রোড, মহিষের ডিপো, অনন্ত পাড়ার কলোনি, রূপকথা সিনেমা হল রোড, বিনা বানী সিনেমা হল রোড, খাদিজাতুল কোবরা মহিলা মাদরাসা রোড, অনন্ত এলাকার আবুল কাশেম মহিলা মাদরাসা পাড়াসহ বেশ কিছু সড়ক বর্ষা মৌসুমজুড়েই পানির নিচে ডুবে আছে। এ ছাড়া শহরের বিভিন্ন নিচু এলাকায় পানি জমে রয়েছে। অনেক বাসাবাড়িতে পানি ঢুকে পড়ায় আসবাবপত্র ও প্রয়োজনীয় মালামাল উঁচু স্থানে সরিয়ে রাখতে বাধ্য হচ্ছেন বাসিন্দারা।

‎স্থানীয়রা জানায়, কয়েক দিনের বৃষ্টিতেই শহরের বিভিন্ন এলাকায় পানি জমে যায়। ড্রেনেজব্যবস্থা অকার্যকর থাকায় সেই পানি দ্রুত নামতে পারে না। ফলে প্রতিবার বর্ষা মৌসুমে একই দুর্ভোগের শিকার হতে হচ্ছে। পৌরবাসীর অভিযোগ ভ্যাট ট্যাক্স দিয়ে বসবাস করলেও ন্যূনতম নাগরিক সেবা পাওয়া যায় না।

00

‎শালগাড়িয়া এলাকার বাসিন্দা আব্দুল করিম বলেন, ‘সামান্য বৃষ্টি হলেই আমাদের এলাকায় পানি জমে যায়। এবার টানা বৃষ্টিতে ঘরের ভেতর পর্যন্ত পানি ঢুকে পড়েছে। শিশু ও বৃদ্ধদের নিয়ে চরম কষ্টে আছি।’ ‎‎রাধানগরের এক ব্যবসায়ী সবুজ হোসেন বলেন, ‘দোকানের সামনে পানি জমে থাকায় ক্রেতা আসছে না। ব্যবসায় বড় ধরনের ক্ষতি হচ্ছে।’

আরিফপুর এলাকার বাসিন্দা খোকন হোসেন বলেন, সামান্য বৃষ্টিতেই হাঁটু পরিমাণ পানি জমে। বাড়ির মধ্যে পানি ডুকে গেছে। জরুরি কাজের জন্য বাহিরে বের হতে পারছি না। প্রথম শ্রেণির পৌরসভা হলেও নেই ড্রেনেজব্যবস্থা। দীর্ঘদিন পৌরসভার মেয়র না থাকায় ভোগান্তি দিন দিন বেড়েই যাচ্ছে।

‎কালাচাঁদপাড়া মহল্লার বাসিন্দা কল্পনা আক্তার বলেন, আজ ৫ দিন হলো ঘরের খাটের নিচে পানিতে হাবুডুবু খাচ্ছে। রান্নাবান্না থেকে শুরু করে বাড়ির কাজ পর্যন্ত করতে পারছি না। ছেলেমেয়েদের পরীক্ষা চলছে ঠিকমতো পড়াশোনা করতে পারছে না। পানিতে চরম ময়লা-আবর্জনা হওয়াতে ব্যাপক দুর্ঘন্ধ ছড়িয়ে পড়েছে। বিকেল হতে হতেই মশার উপদ্রব বাড়ছে। পানিবাহিত রোগ ও ডেঙ্গু জ্বর হওয়ার আতঙ্কে দিন যাচ্ছে।

‎মুজাহিদ ক্লাব এলাকার বাসিন্দা মো. রমজান আলী বলেন, ‘মুজাহিদ ক্লাব এলাকা থেকে বুলবুল কলেজ পর্যন্ত সড়কে বর্তমানে নৌকা ছাড়া যাওয়ার উপায় নাই। অর্ধ মানুষ পরিমাণ পানি জমা হয়েছে। অটোরিকশা ও অটোভ্যানের যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। ছোটবেলা থেকেই দেখতেছি এই রোডের এমন বেহাল।’

মুজাহিদ ক্লাব এলাকার কেমিক্যাল ব্যবসায়ী রাসেল হোসেন বলেন, ‘পানি নিয়ে আমার সবই সমস্যা। পাবনাতে বৃষ্টি হলে কোথাও পানি না উঠলে এই মুজাহিদ ক্লাব আতাইকুলার সড়কে পানি উঠবেই। পানির মধ্যে কাস্টমার আসে না তবু দোকানে আসি দোকানে জমে থাকা পানি ফেলে দিতে। তবে আশা করছি চলমান ড্রেনের কাজ সম্পন্ন হলে এ থেকে রেহাই পাব।’

পাবনার লতিফ গ্রুপের জেনারেল ম্যানেজার অচিন্ত কুমার ঘোষ বলেন, ‘পাবনা পৌর এলাকার সব পানি নিষ্কাশন হয় মূলত দোহারপাড়া ও আরিফপুর সংলগ্ন বুড়িদাহ কালভার্টের নিচের খাল দিয়ে। কিন্তু পানি নিষ্কাশনের ওই খালটি দখল দূষণে সরু হয়ে যাওয়ায় পানি দ্রুত গতিতে বের হতে পারছে না। তাই দ্রুত পানি নিষ্কাশনের জন্য খাল দখলমুক্ত ও খনন করে প্রসার করতে হবে। এ জন্য পৌরসভা ও পানি উন্নয়ন বোর্ডকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।’

ঈশ্বরদী আবহাওয়া অধিদপ্তরের পর্যবেক্ষক নাজমুল হক জানান, গত ৪ জুলাই থেকে ১২ জুলাই (রবিবার) পর্যন্ত পাবনা জেলায় বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে ১৬৬ মিলিমিটার। সামনের দিনগুলোতে বৃষ্টিপাত বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
11

‎এ বিষয়ে পাবনা পৌর প্রশাসক খাইরুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা জলাবদ্ধ এলাকাগুলো সরেজমিনে গিয়ে দেখছি। কোথায় কি ব্যবস্থা নিতে হবে সেগুলো পর্যবেক্ষণ করছি। আমরা চেষ্টা করি সব সময় পরিষ্কার রাখার। তারপরও কিছু ড্রেনেজ ব্যবস্থা সংস্কার ও কিছু ড্রেন নতুন করে নির্মাণ করতে হবে। আশা করছি দ্রুত সমাধান হবে।’

পাবনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী সুধাংশু কুমার সরকার বলেন, ‘সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে ইছামতি নদী ও সংযোগ খাল খনন প্রকল্পের কাজ চলমান। নদী ও সংযোগ খাল গুলো খনন হলে পাবনা পৌরসভা সহ জেলায় আর জলাবদ্ধতা থাকবে না।’