জামালপুর সদর উপজেলার রশিদপুর ইউনিয়নের গজারিআটা থেকে ময়নার মোড় পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার সড়ক পাকাকরণের কথা বলে পুরোনো ইট খুলে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে একটি প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে। এতে গত দুই মাস ধরে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন ওই সড়ক ব্যবহারকারী হাজারো মানুষ।
স্থানীয় সূত্র জানায়, গত ১২ মে সড়ক পাকাকরণের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন দিগপাইত ইউনিয়নের হবদেশ গ্রামের আবদুল মান্নান। অনুষ্ঠানে জামালপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য শাহ মো. ওয়ারেছ আলী মামুনসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে আবদুল মান্নান দাবি করেন, ঢাকার একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সড়কটির নির্মাণকাজের দায়িত্ব পেয়েছে এবং তিনি সাব-ঠিকাদার হিসেবে কাজ করবেন। পরদিন থেকেই তার লোকজন সড়কের পুরোনো ইট খুলে বিভিন্ন যানবাহনে করে অন্যত্র নিয়ে বিক্রি শুরু করে। তবে পরে দীর্ঘ সময়েও নির্মাণকাজ শুরু না হওয়ায় স্থানীয়দের সন্দেহ হয়।
খোঁজ নিয়ে এলাকাবাসী জানতে পারেন, ওই সড়কের কোনো সরকারি প্রকল্প বা দরপত্রই হয়নি। প্রতারণার মাধ্যমে সড়কের ইট তুলে বিক্রি করা হয়েছে।
এরপর গত ১৬ জুন দিগপাইত ইউনিয়নের চাঁদপুর এলাকার আরেকটি সড়ক থেকেও একই কৌশলে ইট তুলতে গেলে স্থানীয়রা আবদুল মান্নানসহ ১১ জনকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেন।
শনিবার (১২ জুলাই) ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়।
সোমবার (১৩ জুলাই) সরেজমিন দেখা যায়, সড়কের ইট তুলে নেওয়ায় বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। বৃষ্টির কারণে পুরো সড়ক কাদায় পরিণত হয়েছে। এতে পথচারী, শিক্ষার্থী ও যানবাহন চলাচলে চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে। অনেক শিক্ষার্থী জুতা হাতে নিয়ে খালি পায়ে হেঁটে স্কুলে যেতে বাধ্য হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা আছমত আলী বলেন, ‘সড়ক পাকাকরণের কথা বলে পুরোনো ইট তুলে নেওয়া হয়েছিল। বলা হয়েছিল নতুন ইট বসানো হবে। কিন্তু পরে সব ইট বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। এখন কাদা আর গর্তের কারণে চলাচলই দায়।’
আরেক বাসিন্দা বলেন, ‘এভাবে প্রতারণা করবে, কেউ ভাবেনি। দ্রুত সড়কটি সংস্কার করে চলাচলের উপযোগী করার দাবি জানাই।’
সড়কের ইটের এক ক্রেতা আফসার আলী বলেন, ‘আবদুল মান্নানের কাছ থেকে প্রতি হাজার ৭ হাজার টাকা দরে ৮ হাজার ইট কিনেছিলাম। পরে জানতে পারি, তিনি প্রতারণা করে সড়কের ইট বিক্রি করেছেন।’
জামালপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাজনীন আখতার বলেন, ‘ওই সড়ক পাকাকরণের কোনো সরকারি প্রকল্প ছিল না। একটি প্রতারক চক্র প্রতারণার মাধ্যমে সড়কের ইট তুলে নিয়ে গেছে। এ ঘটনায় ইউপি সচিব বাদী হয়ে মামলা করেছেন। ইতিমধ্যে কিছু ইট উদ্ধার করা হয়েছে। বাকি ইট শনাক্ত ও উদ্ধারে সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্যদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।’
জামালপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য শাহ মো. ওয়ারেছ আলী মামুন বলেন, ‘প্রতারক চক্রটি সড়ক পাকাকরণের টেন্ডার হয়েছে বলে প্রচার করে ইট তুলে বিক্রি করে দেয়। প্রথমে আমরাও বিষয়টি বুঝতে পারিনি। পরে তদন্ত করে জানা যায়, ওই সড়কের কোনো টেন্ডারই হয়নি। এরপর ১১ জনকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে এবং আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।’