• ই-পেপার

চলে গেলেন ‘আকাশ ৮’ চ্যানেলের প্রযোজক ইশিতা সুরানা

‘আমি মরে গেলেও গানগুলো থাকুক’, গানে আর ফিরবেন না রিংকু

বিনোদন প্রতিবেদক
‘আমি মরে গেলেও গানগুলো থাকুক’, গানে আর ফিরবেন না রিংকু
সংগৃহীত ছবি

চারবার স্ট্রোকে আক্রান্ত হওয়ার পর জীবন যেন পুরোপুরি বদলে গেছে ক্লোজআপ ওয়ানখ্যাত জনপ্রিয় লোকসংগীতশিল্পী মশিউর রহমান রিংকুর। ২০২০ সাল থেকে শরীরের এক পাশ অবশ হয়ে যাওয়ার পর তিনি নিজ গ্রামের বাড়িতেই নিভৃতে দিন কাটাচ্ছেন। 

শারীরিক অবস্থার কারণে সংগীতাঙ্গনে আর ফেরা সম্ভব নয় বলেই মনে করছেন এই শিল্পী। তবে তার শেষ চাওয়া, তার সৃষ্টি করা গানগুলো যেন হারিয়ে না যায়।

সম্প্রতি ‘পথের গল্প’ নামের একটি ট্রাভেল ডকুমেন্টারিতে অংশ নিয়ে নিজের বর্তমান শারীরিক অবস্থা, ফেলে আসা ক্যারিয়ার এবং জীবনের নানা অভিজ্ঞতা নিয়ে কথা বলেন রিংকু।

তিনি বলেন, ‘পুরোপুরি গানে ফেরার ইচ্ছা আমার নেই। ইচ্ছা করলেও সেই সম্ভাবনা নেই। কারণ, চারবার স্ট্রোক হয়েছে, এর মধ্যে একবার-দুবার তো কেউ জানতই না। চারবার যখন স্ট্রোক হয়ে গেল, তখন আমি বুঝলাম সব আশা শেষ। এটা মানতে হবে, কারণ এটাই সত্য। আসলে আমি যেভাবে ব্যাক করতে চাই, সেভাবে আর হবে না। পরিপূর্ণভাবে ব্যাক করতে না পারলে ব্যাক করার দরকার নেই। আমি মরে গেলেও গানগুলো তো থাকবে। একটাই আহ্বান আমার, গানগুলো যেন নষ্ট না হয়।’

শহরের মানুষের সম্পর্ক নিয়েও আক্ষেপ প্রকাশ করেন এই শিল্পী। তার কথায়, ‘শহরের মানুষের ভালোবাসা হচ্ছে কাজের জন্য ভালোবাসা। আর গ্রামের মানুষের ভালোবাসা অরিজিনাল। তারাই এখন আমার বন্ধু। একটা কথা আছে—কাজ করলে কাজী, কাজ ফুরালে পাজি। ঠিক তেমন হচ্ছে শহরের মানুষের ভালোবাসা। যদি কারও কাজ করে দিতাম তাহলে ভালোবাসত, কাজ না করে দিলে আমি নেই—বিষয়টি এমন আরকি। সেই সময়ের কোনো বন্ধুই নেই এখন। কেউ খোঁজ রাখে না। যদি কারও জন্য কিছু করে থাকি, সেটা আমি করেছি। কিন্তু কারও সিমপ্যাথি আমি চাই না।’

রিংকু জানান, বর্তমানে গ্রামের সাধারণ মানুষের আন্তরিক ভালোবাসাই তাকে বেঁচে থাকার শক্তি জোগাচ্ছে। জীবনের কঠিন এই সময়ে তাদের সঙ্গেই তিনি খুঁজে পেয়েছেন প্রকৃত বন্ধুত্ব ও নতুন করে বাঁচার প্রেরণা।

রোমান্টিক সিনেমায় ত্রিশোর্ধ্ব নায়িকাতে অনীহা পরিচালকদের, ক্ষোভ তাপসীর

বিনোদন ডেস্ক
রোমান্টিক সিনেমায় ত্রিশোর্ধ্ব নায়িকাতে অনীহা পরিচালকদের, ক্ষোভ তাপসীর
সংগৃহীত ছবি

বলিউডে নারী ও পুরুষ তারকাদের ক্ষেত্রে বয়সভিত্তিক বৈষম্যের বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এনেছেন অভিনেত্রী তাপসী পান্নু। 

তার অভিযোগ, ইন্ডাস্ট্রিতে এখনো এমন একটি প্রচলিত ধারণা রয়েছে যে ৩০ বছরের বেশি বয়সী অভিনেত্রীদের রোমান্টিক বা কমেডি ঘরানার সিনেমায় প্রধান চরিত্রে নেওয়ার ক্ষেত্রে অনীহা দেখা যায়।

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে এ প্রসঙ্গে তাপসী বলেন, ‘ইন্ডাস্ট্রিতে এখনো এমন ধারণা কাজ করে যে ৩০ বছরের বেশি বয়সী অভিনেত্রীদের রোমান্টিক, কমেডি ঘরানার ছবিতে নিতে চায় না।’

এই মানসিকতার সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘যদি বয়স সত্যিই একটি মানদণ্ড হয়, তাহলে সেটা নারী-পুরুষ উভয়ের ক্ষেত্রেই সমানভাবে হওয়া উচিত।’

নিজের বক্তব্যের পক্ষে তিনি বলিউডের জনপ্রিয় পুরুষ তারকাদের দীর্ঘ ক্যারিয়ারের উদাহরণও তুলে ধরেন। বিশেষ করে শাহরুখ খানকে উল্লেখ করে তাপসী বলেন, ‘বয়স বাড়লেও তিনি এখনো রোমান্টিক ঘরানার সিনেমায় কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করছেন এবং দর্শকের কাছে গ্রহণযোগ্য।’

‘সমস্যা বয়স নয়, সমস্যা দৃষ্টিভঙ্গি’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘৩০ বছরের পর অনেক অভিনেত্রীকে রোমান্টিক লিড চরিত্রে কম দেখা যায়, অথচ তাদের দক্ষতা বা জনপ্রিয়তা কমে না।’

তাপসীর বিশ্বাস, সময়ের সঙ্গে এই মানসিকতার পরিবর্তন প্রয়োজন। তার ভাষায়, ‘আধুনিক সিনেমায় চরিত্র ও গল্পই হওয়া উচিত মূল বিষয়, বয়স নয়।’

১৯৮৭ সালে জন্ম নেওয়া তাপসী পান্নু ২০১০-এর দশকের শুরু থেকে বলিউডে কাজ করছেন। শক্তিশালী অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি নিজের আলাদা অবস্থান তৈরি করেছেন। তার উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘পিংক’, ‘বদলা’, ‘থাপ্পড়’, ‘মিশন মঙ্গল’, ‘মারজাবান’, ‘হাসিন দিলরুবা’ এবং ‘দুনকি’।

বর্তমানে তিনি বলিউডের ব্যস্ত অভিনেত্রীদের অন্যতম। সাম্প্রতিক সময়ে অনুভব সিনহার পরিচালনায় ‘অস্সি’ চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন, যা ২০২৬ সালে মুক্তি পেয়েছে এবং তার অভিনয় সমালোচকদের প্রশংসা কুড়িয়েছে।

এ ছাড়া তার আসন্ন কাজের তালিকায় রয়েছে কনিকা ধিল্লনের সঙ্গে নির্মিত নেটফ্লিক্স থ্রিলার ‘গান্ধারী’, যেখানে তাকে একটি অ্যাকশনধর্মী চরিত্রে দেখা যাবে। পাশাপাশি আরও কয়েকটি নতুন প্রজেক্টে কাজ করছেন তিনি, যেগুলো ২০২৬–২০২৭ সালে পর্যায়ক্রমে মুক্তির কথা রয়েছে।
 

দেশের বাইরে ঈদের আরো দুই সিনেমা

বিনোদন প্রতিবেদক
দেশের বাইরে ঈদের আরো দুই সিনেমা
সংগৃহীত ছবি

দেশের প্রেক্ষাগৃহে ঈদের আমেজের মধ্যেই আন্তর্জাতিক যাত্রা শুরু করেছে এ বছরের আলোচিত কয়েকটি বাংলা সিনেমা। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্রবাসী বাংলাদেশি দর্শকের আগ্রহ বাড়ায় যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের বাজারকে গুরুত্ব দিয়ে মুক্তির পরিকল্পনা করছেন নির্মাতা ও পরিবেশকরা। সেই ধারাবাহিকতায় এবার ঈদে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘রকস্টার’ এর পর এবার ‘রইদ’ ও ‘মালিক’ বিদেশের বিভিন্ন প্রেক্ষাগৃহে প্রদর্শিত হচ্ছে।

রকস্টারের সঙ্গে একই দিনে অস্ট্রেলিয়ার সিডনি ও মেলবোর্নে মুক্তি পেয়েছে মেজবাউর রহমান সুমন পরিচালিত ‘রইদ’। পর্যায়ক্রমে সিনেমাটি ব্রিসবেন, পার্থ, অ্যাডিলেড ও ক্যানবেরাতেও প্রদর্শিত হবে। অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডে ছবিটির পরিবেশনার দায়িত্বে রয়েছে স্ক্রিন এক্সকোপ এবং দেশি ইভেন্টস।

সিনেমাটির প্রধান দুই চরিত্রে অভিনয় করেছেন মোস্তাফিজুর নূর ইমরান ও নাজিফা তুষি। মুক্তির আগেই চলচ্চিত্রপ্রেমীদের মধ্যে ছবিটি নিয়ে কৌতূহল তৈরি হয়েছে।

ঈদের আরেক সিনেমা ‘মালিক’ আগামী ১৩ ও ১৪ জুন অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলসের ব্যাংকসটাউনে প্রদর্শিত হবে। সিনেমাটির আন্তর্জাতিক পরিবেশনার দায়িত্বে রয়েছে বঙ্গজ ফিল্মস।

আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, প্রদর্শনী উপলক্ষে ইতোমধ্যে অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু হয়েছে এবং দর্শকদের কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া মিলছে। বিশেষ এই প্রদর্শনীতে অংশ নিতে অস্ট্রেলিয়ায় যাচ্ছেন ছবির নায়ক আরিফিন শুভ।

সাইফ চন্দন পরিচালিত ‘মালিক’ নির্মিত হয়েছে অপরাধজগতের ক্ষমতার দ্বন্দ্বকে কেন্দ্র করে। এতে আরিফিন শুভকে দেখা গেছে এক ভিন্নধর্মী চরিত্রে, আর তার বিপরীতে অভিনয় করেছেন বিদ্যা সিনহা মিম। নির্মাতাদের আশা, দেশের দর্শকদের মতো প্রবাসী দর্শকরাও সিনেমাটি সাদরে গ্রহণ করবেন।
 

২৭ বছর পর ফিরছে ‘হঠাৎ বৃষ্টি’

বিনোদন প্রতিবেদক
২৭ বছর পর ফিরছে ‘হঠাৎ বৃষ্টি’
সংগৃহীত ছবি

বাংলাদেশ-ভারত যৌথ প্রযোজনার জনপ্রিয় সিনেমা ‘হঠাৎ বৃষ্টি’ মুক্তির প্রায় ২৭ বছর পর নতুন রূপে ফিরছে পর্দায়। ‘আবার হঠাৎ বৃষ্টি’ নামে নির্মিত এই রিমেকে জুটি বেঁধেছেন নবীন অভিনয়শিল্পী আরিয়ান সারোয়ার ও রাদিফা নারমিন। ছবিটি পরিচালনা করেছেন কামরুজ্জামান।

পরিচালক জানান, প্রায় তিন মাস আগে সিনেমাটির শুটিং শেষ হয়েছে। ইতিমধ্যে এটি সার্টিফিকেশন বোর্ডের ছাড়পত্রও পেয়েছে। এখন সব কিছু ঠিক থাকলে আসন্ন দুর্গাপূজায় ছবিটি মুক্তির পরিকল্পনা রয়েছে।

রিমেক নির্মাণের অভিজ্ঞতা নিয়ে কামরুজ্জামান বলেন, ‘এ ধরনের ছবি রিমেক করাটা একটা বড় চ্যালেঞ্জ। বর্তমান সময়ের কথা মাথায় রেখে আমরা কাজটা করেছি। ছবিটি দেখার পর বাকিটা সবাই বলবেন।’

১৯৯৮ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘হঠাৎ বৃষ্টি’ পরিচালনা করেছিলেন বাসু চ্যাটার্জি। সিনেমাটির প্রধান দুই চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন ফেরদৌস ও প্রিয়াঙ্কা ত্রিবেদী। নতুন সংস্করণে ফেরদৌসের চরিত্রে অভিনয় করেছেন আরিয়ান সারোয়ার এবং প্রিয়াঙ্কা ত্রিবেদীর চরিত্রে দেখা যাবে রাদিফা নারমিনকে।

এ ছাড়া ‘আবার হঠাৎ বৃষ্টি’ সিনেমায় আরো অভিনয় করেছেন আজাদ আবুল কালাম, ফারজানা ছবি, ক্রিস্টানো তন্ময়, কায়েস আরজু, মৌ খান ও ঝুনা চৌধুরীসহ অনেকে।

এটি আরিয়ান সারোয়ারের দ্বিতীয় সিনেমা হলেও প্রথমবার তিনি প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন। নিজের অভিজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘শুটিংয়ের আগে পুরো ছবিটি দেখেছি একাধিকবার। ফেরদৌস ভাইকে অনুসরণ করেছি, তবে অনুকরণ নয়, পরিচালকের নির্দেশনা ও আমার মতো করে চরিত্রটা পর্দায় ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করেছি। তবে অভিনয়জীবনের শুরুতে এটা বড় একটা প্রাপ্তি এমন চরিত্রে অভিনয় করতে পারা।’

উল্লেখ্য, ‘হঠাৎ বৃষ্টি’ বাংলাদেশ-ভারত যৌথ প্রযোজনার অন্যতম সফল সিনেমাগুলোর একটি। মূল ছবিটি যৌথভাবে প্রযোজনা করেছিল বাংলাদেশের আশীর্বাদ চলচ্চিত্র ও ভারতের গ্রামকো ফিল্মস। আর নতুন রিমেক ‘আবার হঠাৎ বৃষ্টি’ প্রযোজনা করেছে আশীর্বাদ চলচ্চিত্র ও ইমপ্রেস টেলিফিল্ম।