• ই-পেপার

সিমসন ঘাট ফের চালুর দাবিতে মাঝিদের অবস্থান ধর্মঘট ও বিক্ষোভ

হত্যাকাণ্ডের পর প্রতিপক্ষের বাড়িতে ধ্বংসযজ্ঞ, লুটপাট আতঙ্কে জনশূন্য গ্রাম

ফরিদপুর প্রতিনিধি
হত্যাকাণ্ডের পর প্রতিপক্ষের বাড়িতে ধ্বংসযজ্ঞ, লুটপাট আতঙ্কে জনশূন্য গ্রাম
ছবি : কালের কণ্ঠ

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার টগরবন্দ ইউনিয়নের বড়ভাগ গ্রামে ঢুকতেই চোখে পড়ে এক অস্বাভাবিক নীরবতা। গ্রামের সরু পথ ধরে যত ভেতরে যাওয়া যায়, ততই সামনে আসে ধ্বংসযজ্ঞের চিহ্ন। কোথাও দোতলা ভবনের ছাদে হাতুড়ির আঘাতে বড় বড় গর্ত, কোথাও ভেঙে ফেলা হয়েছে দেয়াল। কোনো বাড়ির দরজা-জানালা নেই, কোনো বাড়ির টিনের চাল খুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ঘরের ভেতরে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে ভাঙা আলমারি, খাট, টেলিভিশন, চেয়ার-টেবিলসহ গৃহস্থালির নানা সামগ্রী।

গত ২৬ জুন কলেজছাত্র সুমন শেখ (২৪) হত্যাকাণ্ডের পর প্রায় তিন সপ্তাহ কেটে গেলেও বড়ভাগ গ্রামে এখনো থামেনি প্রতিশোধের নামে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট। শুক্রবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত কয়েক ঘণ্টা গ্রামজুড়ে ঘুরে দেখা যায়, অন্তত ৮ থেকে ১০টি পরিবারের বসতবাড়িতে সংঘটিত হয়েছে নজিরবিহীন ধ্বংসযজ্ঞ। তবে গ্রামবাসীদের দাবি, এসব হামলার বেশির ভাগই ঘটেছে প্রকাশ্য দিবালোকে।

বড়ভাগ গ্রামের বিভিন্ন পাড়া ঘুরে দেখা যায়, অধিকাংশ বাড়ির প্রধান ফটকে তালা ঝুলছে। যেসব বাড়িতে হামলা হয়েছে, সেসব পরিবারের সদস্যরা অনেক আগেই গ্রাম ছেড়ে চলে গেছেন। গ্রামের মানুষের চোখে-মুখে স্পষ্ট আতঙ্ক। কেউ ক্যামেরার সামনে কথা বলতে রাজি নন, এমনকি নাম প্রকাশ করতেও ভয় পাচ্ছেন।

এক বৃদ্ধ কথা বলতে শুরু করতেই পাশ থেকে তার স্ত্রী ছুটে এসে বলেন, চুপ করেন, কিছু বলবেন না। আবার যদি বিপদ হয়? এরপর আর একটি শব্দও বলেননি ওই বৃদ্ধ।

সাবেক ইউপি সদস্য কুদ্দুস শেখের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, দুটি ভবনই কার্যত বসবাসের অনুপযোগী। ঘরের প্রতিটি কক্ষ ভাঙচুর করা হয়েছে। আলমারি, ড্রেসিং টেবিল, খাট, ফ্রিজ, টিভি-যা ছিল সবকিছুই ভেঙে তছনছ করে ফেলা হয়েছে। দরজা-জানাল খুলে নেওয়া হয়েছে। পাশেই ছেলে হুসাইন শেখের দোতলা ভবনের অবস্থা আরো ভয়াবহ। ভবনের ছাদে শাবল দিয়ে একাধিক স্থানে বড় বড় গর্ত করা হয়েছে। কয়েকটি কক্ষের দেয়াল ভেঙে ফেলা হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক ব্যক্তি বলেন, চুরি করতে হলে মানুষ দরজা ভাঙে। কিন্তু এখানে তো পুরো বাড়িটাই ভেঙে ফেলেছে। এটা শুধু লুটপাট না, প্রতিশোধের ধ্বংসযজ্ঞ।

গ্রামবাসীর দাবি, প্রথমে হামলাকারীরা মূল্যবান মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। এরপর দ্বিতীয় ও তৃতীয় দফায় এসে শাবল, হাতুড়ি, রড দিয়ে পুরো বাড়ি ভাঙতে থাকে। অনেক বাড়ির টিনের চাল পর্যন্ত খুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। দরজা, জানালা, গ্রিল, কাঠ, বৈদ্যুতিক তার-যা খুলে নেওয়া সম্ভব হয়েছে, তাই নিয়ে গেছে।

স্থানীয় ও থানা সূত্রে জানা যায়, বড়ভাগ গ্রামের দুই পক্ষের বিরোধ নতুন নয়। সাবেক ইউপি সদস্য কুদ্দুস শেখের ছেলে হুসাইন শেখ এবং একই গ্রামের মুরাদ খানের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় আধিপত্য নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। বছর কয়েক আগে ওই বিরোধে হুসাইন শেখের ডান হাতের কবজি কেটে ফেলার ঘটনাও ঘটে। সেই মামলা এখনও আদালতে বিচারাধীন। ১৯ জুন হুসাইন শেখের সমর্থক আলিম শেখ ও তার ছেলে হামলার শিকার হন। এর ঠিক এক সপ্তাহ পর ২৬ জুন সন্ধ্যায় কলেজছাত্র সুমন শেখকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।

নিহত সুমনের ভাই শামীম শেখ বাদী হয়ে ১৭ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন। মামলায় ১৭ জন আসামির মধ্যে শনিবার (১৮ জুলাই) পর্যন্ত মাত্র একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শামীম শেখ অভিযোগ করে বলেন, ২১ দিনেও পুলিশ মাত্র একজনকে ধরেছে। বাকিরা প্রকাশ্যে ঘুরছে। আমাদের এখনও হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছে।

ফরিদপুর পুলিশ জানিয়েছে, নিরাপত্তার জন্য অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। কিন্তু বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার কয়েক ঘণ্টা গ্রাম ঘুরেও কোনো পুলিশ সদস্যের উপস্থিতি দেখা যায়নি। ওই সময় ঘটনাটি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন কয়েকজন গ্রামবাসী।

আলফাডাঙ্গা থানার ওসি ফকির ফাইজুর রহমান এ বিষয়ে বিস্তারিত বক্তব্য দিতে রাজি হননি। তিনি বলেন, ওপরের নির্দেশ রয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের সঙ্গে কথা বলেন।

ফরিদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. শামসুল আজম বলেন, হত্যা মামলার তদন্ত চলছে। একজন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রতিপক্ষের বাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তিনি বলেন, এ ঘটনায় কেউ মামলা করলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জুলাই আন্দোলন

ফেনীর ৭ হত্যায় ২২ মামলা নিয়ে অনিশ্চয়তা

ফেনী প্রতিনিধি
ফেনীর ৭ হত্যায় ২২ মামলা নিয়ে অনিশ্চয়তা
২০২৪ সালের ৪ আগস্ট ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে ফেনীর মহিপাল ফ্লাইওভারের নিচে সমবেত হয় ছাত্র-জনতা। -ফাইল ছবি

জুলাই আন্দোলনে ফেনীর মহিপালে সাত হত্যার ঘটনায় হওয়া মামলার ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। এসব মামলায় ঢালাওভাবে আসামির নাম অন্তর্ভুক্তি, দুর্বল অভিযোগপত্র (চার্জশিট) ও মূল ঘটনায় জড়িত না থাকা ব্যক্তিদের জড়ানোসহ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) নানা আইনি অসংগতি খুঁজে পেয়েছে বলে জানা গেছে।

সম্প্রতি ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম মামলাগুলোর নথি পর্যবেক্ষণ করার পর ফেনীর স্থানীয় প্রশাসন ও আদালতে ব্যাপক আলোচনার জন্ম হয়।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, মামলার নথিতে বড় ধরনের অসংগতি ধরা পড়ার পর সম্প্রতি ফেনী জেলা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট মেজবাহ উদ্দিন খাঁন ও বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মেজবাহ উদ্দিন ভূঁঞাকে ঢাকায় তলব করেন আইসিটির চিফ প্রসিকিউটর।

গত বৃহস্পতিবার ফেনীর পিপি মেজবাহ উদ্দিন খাঁন সাংবাদিকদের জানান, আইনি ত্রুটি, ইচ্ছানুযায়ী আসামির তালিকা তৈরি এবং বিচার বিশ্লেষণ ছাড়াই তড়িঘড়ি চার্জশিট দাখিল করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন চিফ প্রসিকিউটর। সার্বিক পরিস্থিতি সরেজমিন খতিয়ে দেখতে এবং আদালতের বিচারক, আইনজীবী, তদন্তকারী কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করতে আগামী সপ্তাহেই আইসিটির চিফ প্রসিকিউটরের ফেনী সফরে আসার কথা রয়েছে। এর পরই মামলাগুলোর বিষয়ে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করা হবে।

২০২৪ সালের ৪ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনে এক দফা দাবিতে ফেনীর মহিপালে  আন্দোলনরত ছাত্র-জনতার ওপর নির্বিচারে গুলি ও হামলা চালায় আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। এতে গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই নিহত হন সাতজন। আহত হন সাড়ে চার শতাধিক মানুষ। পঙ্গুত্ব বরণ করেন প্রায় অর্ধশত। ওই ঘটনায় সাতটি হত্যাসহ মোট ২২টি মামলা দায়ের করা হয়। 

এরই মধ্যে পুলিশ ছয়টি হত্যা ও পাঁচটি হত্যাচেষ্টা মামলাসহ ১১টি মামলার চার্জশিট দাখিল করেছে। দুইটি হত্যা মামলার বিচার কাজও স্থানীয় আদালতে শুরু হয়েছে। এর মধ্যে টমটমচালক সবুজ হত্যা মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ চলছে ও আলোচিত শিহাব হত্যা মামলায় চার্জ গঠন শেষে সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য রয়েছে।

মামলাগুলোতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল, সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, ফেনী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক এমপি নিজাম উদ্দিন হাজারী, সাবেক এমপি আলাউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী নাসিম, সাবেক সেনা কর্মকর্তা ও সাবেক এমপি লে. জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীসহ আসামির সংখ্যা প্রায় ১১ হাজার। 

আসামিদের মধ্যে প্রায় ৫০০ জনকে বিভিন্ন সময় গ্রেপ্তার করা হলেও অনেকে ইতিমধ্যে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। লে. জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী ছাড়া মামলার মূল ও প্রভাবশালী আসামিদের প্রায় সবাই বর্তমানে পলাতক।

স্থানীয় পর্যায়ে অভিযোগ রয়েছে ঘটনার সঙ্গে কোনো সংশ্লিষ্টতা না থাকা সত্ত্বেও রাজনৈতিক হয়রানি, সামাজিক দ্বন্দ্ব ও ব্যবসা সংক্রান্ত বিষয়ে প্রতিহিংসার কারণে অনেক সাধারণ মানুষকে এসব মামলায় জড়ানো হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়ার এই দুর্বলতার কারণে প্রকৃত অপরাধীরা পার পেয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা  আইনজ্ঞদের।

হত্যাচেষ্টার এক মামলার বাদী ও ‘আমরাই জুলাইযোদ্ধা’ ফেনী জেলা কমিটির সদস্যসচিব নাসির উদ্দিন বলেন, ‘ফেনীর মহিপালে ৪ আগস্টের গণহত্যায় যারা সরাসরি জড়িত, তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবিতে জুলাইযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারগুলো রাজপথ ও আদালতে অনড় থাকবে।’

ফেনী জেলা জজ আদালতের পিপি মেজবাহ উদ্দিন খাঁন বলেন, হত্যাচেষ্টা ও বিস্ফোরক আইনে হওয়া ১৫টি মামলার বিচার ফেনীর আদালতে চলমান থাকলেও সাতটি হত্যা মামলা দ্রুত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে (আইসিটি) স্থানান্তর করা হবে। চিফ প্রসিকিউটরের ফেনী সফরের পর মামলাগুলোর সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ বিচার নিশ্চিতে পুনঃতদন্তের নির্দেশ আসতে পারে। এর মধ্যে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালের তদন্ত দল সম্প্রতি ফেনীতে তদন্ত পরিচালনা করে গেছে।

বাদীপক্ষের আইনজীবী মেজবাহ উদ্দিন ভূঁঞা বলেন, ‘বিচার কোন আদালতে হচ্ছে- সেটি বড় বিষয় নয়, মূল লক্ষ্য হলো সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে প্রকৃত দোষীদের অপরাধ অনুযায়ী সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা।’

তদন্তে গাফিলতির অভিযোগ অস্বীকার করে ফেনীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) মু. সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘পুলিশ সততার সঙ্গে তথ্য-উপাত্ত ও সাক্ষ্যপ্রমাণ যাচাই করেই চার্জশিট দাখিল করেছে। তবে আদালতের যেকোনো নির্দেশনা বা পুনঃতদন্তের আদেশ বাস্তবায়নে পুলিশ সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।’

টেকনাফে ফের শিশু অপহরণ, মুক্তিপণ দাবি

উখিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি
টেকনাফে ফের শিশু অপহরণ, মুক্তিপণ দাবি
ছবি: কালের কণ্ঠ

কক্সবাজারের টেকনাফের বাহারছড়া ইউনিয়নে ফের এক শিশুকে অপহরণের অভিযোগ উঠেছে। মহিষ আনতে গিয়ে নিখোঁজ হওয়ার একদিন পর পরিবারের কাছে ১২ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্বজনরা।

শুক্রবার (১৭ জুলাই) বিকেলে বাহারছড়া ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর নয়াপাড়া এলাকার পাহাড়ের পাদদেশে এ ঘটনা ঘটে। অপহৃত শিশু মো. আরাফাত (১২) ওই এলাকার আবদুল মাবুদের ছেলে।

অপহৃত শিশুর বাবা আবদুল মাবুদ জানান, প্রতিদিনের মতো শুক্রবার বিকেলে তার ছেলে মহিষ আনতে বাড়ি থেকে বের হয়। সন্ধ্যা পর্যন্ত ফিরে না আসায় আত্মীয়-স্বজন ও পরিচিতদের কাছে খোঁজ নেওয়া হয়, কিন্তু কোথাও তার সন্ধান মেলেনি। শনিবার বিকেলে এক পরিচিত ব্যক্তির মোবাইল নম্বরে ফোন করে দুর্বৃত্তরা ১২ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে।

আবদুল মাবুদ বলেন, আমি একজন সাধারণ মানুষ। এত টাকা দেওয়ার সামর্থ্য আমার নেই। ছেলেকে জীবিত উদ্ধারে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর জরুরি সহযোগিতা চাই।

স্থানীয় কয়েকজন জানান, ঘটনার পেছনে পারিবারিক বিরোধ থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাদের দাবি, পূর্বশত্রুতার জেরে পরিকল্পিতভাবে শিশুটিকে অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়ের চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে এ বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

এর আগে গত ২৮ জুন টেকনাফের বাহারছড়া ইউনিয়নের জুম্মাপাড়া এলাকা থেকে দিনের বেলায় অস্ত্রধারীরা পল্লী চিকিৎসক কামাল মাস্টারকে অপহরণ করে। পরিবারের দাবি, আট দিন পর গত ৬ জুলাই রাতে দুই লাখ টাকা মুক্তিপণের বিনিময়ে তাকে মৌচনী এলাকায় ছেড়ে দেওয়া হয়। অপহরণের সময় নির্যাতনের কারণে তিনি এখনো অসুস্থ রয়েছেন।

টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম বলেন, ঘটনার বিষয়ে জানতে পেরেছি। বিষয়টি তদন্ত করে শিশুটিকে উদ্ধারে প্রয়োজনীয় অভিযান পরিচালনা করা হবে।

প্রসঙ্গত, গত ৪ জুলাই টেকনাফে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত চার ঘণ্টাব্যাপী বিশেষ আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় অপহরণপ্রবণ (হটস্পট) এলাকায় পুলিশ চৌকি স্থাপন এবং চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের সলিমপুর পাহাড়ে পরিচালিত অভিযানের আদলে বিশেষ যৌথ অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, এখনো কার্যকরভাবে সেই যৌথ অভিযান শুরু না হওয়ায় বাহারছড়াসহ সীমান্তবর্তী এলাকায় অপহরণের ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বেড়েই চলেছে।

ঝুড়িতে পাওয়া জর্দার কৌটায় মিলল স্বর্ণ-টাকা, ফিরিয়ে দিলেন স্টুয়ার্ড গার্ড

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
ঝুড়িতে পাওয়া জর্দার কৌটায় মিলল স্বর্ণ-টাকা, ফিরিয়ে দিলেন স্টুয়ার্ড গার্ড
সংগৃহীত ছবি

ট্রেনের ময়লার ঝুড়িতে পেয়েছিলেন দুটি জর্দার কৌটা। শাশুড়ি জর্দা পছন্দ করেন বিধায় সেটি নিজের কাছে রেখেও দিয়েছিলেন তাকে দেওয়ার জন্য। একটি কল পেয়ে তিনি পেয়ে কৌটা খুলে দেখেন, এতে আছে স্বর্ণালংকার ও টাকা। এবার অবশ্য না রেখে মালিকের কাছে ফেরত দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন মো. মোশারফ হোসেন। কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ফেরত দিয়েও দিয়েছেন।

মহানগর গোধূলি ট্রেনে স্টুয়ার্ড গার্ড হিসেবে কর্মরত ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর এলাকার কাউতলীর বাসিন্দা মো. মোশারফ হোসেন তার এই দৃষ্টান্তের জন্য প্রশংসিত হচ্ছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে তাকে নিয়ে অনেকেই প্রশংসা করছেন।

ঘটনার শুরু গত ১৫ জুলাই সন্ধ্যায়। চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী মহানগর গোধূলি ট্রেনের খাবার গাড়িতে থাকা এক নারী যাত্রী ময়লার ঝুড়িতে দুটি জর্দার কৌটা ফেলে যান। কৌটাগুলো খালি মনে করে ওই নারী এগুলো ফেলে দেন। ওই দুই কৌটার একটিতে স্বর্ণের চেইন ও আরেকটি নগদ দুই হাজার টাকা ছিল। ট্রেনে চলাচলের সময় নিরাপত্তার স্বার্থে জর্দার কৌটায় স্বর্ণালংকার ও টাকা রাখা হলেও ওই নারী বিষয়টি ভুলে গিয়েছিলেন।

এদিকে ওই যাত্রী কিশোরগঞ্জের ভৈরব রেলওয়ে স্টেশনে নেমে যান। বাড়িতে যাওয়ার পর নিজের ভুল বুঝতে পারেন ওই নারী। এরই মধ্যে ট্রেনে জরিমানা গুনতে হওয়া টিকিটের গায়ে একটি ফোন নম্বর দেখতে পান। সেই নম্বরে কল করা হলে হারিয়ে যাওয়া জিনিসের সন্ধান পান তিনি।

মোশারফ হোসেন বলেন, ‘বুধবার রাতে আম খেয়ে খোসা ময়লার ঝুড়িতে ফেলতে গিয়ে দেখি জর্দার কৌটা পলিথিন মোড়ানো। আমার শাশুড়ি জর্দা পছন্দ করেন বিধায় ওনার জন্য এগুলো রেখে দিই। এরই মধ্যে আমার কাছে ফোন আসে স্বর্ণ ও টাকা হারিয়ে যাওয়ার বিষয়ে। তখন আমি জানাই যে এমন কিছুই পাইনি। এ সময় ওই প্রান্ত থেকে বলা হয় জর্দার কৌটায় এগুলো ছিল। কথা শুনেই আমি জানিয়ে দিই যে কৌটাগুলো আমার কাছে আছে। পরে খুলে দেখি এতে একটি স্বর্ণের চেইন ও দুই হাজার টাকা আছে। মহানগর ট্রেনটি রাতে নিশিথা এক্সপ্রেস হয়ে চট্টগ্রামের দিকে ফেরার পথে যাত্রীর স্বজনের কাছে এগুলো বুঝিয়ে দিই।’

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘অন্যের জিনিস আমি কেন রাখব! এটা ফিরিয়ে দিতে পেরে আমি অনেক আনন্দিত। আমার খুব ভালো লেগেছে। চাকরি জীবনের প্রায় ২০ বছর চলছে। ওই সময়ে আরো যাত্রীর কিছু জিনিসপত্র ফিরিয়ে দিয়েছি।’