মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে ধলাই নদীর পানি কমতে শুরু করেছে। তবে পানি নেমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রতিরক্ষা বাঁধের বিভিন্ন অংশে ভাঙন দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ধসে পড়ছে বাঁধের মাটি। বৃহস্পতিবার বিকেলে কমলগঞ্জ পৌর এলাকার কুমড়াকাপন এলাকায় যাতায়াতের সড়কসহ বাঁধের ৩০ ফুট অংশ নদীতে ধসে পড়ায় নদীতীরবর্তী পাঁচটি ঘর চরম ঝুঁকিপুর্ণ অবস্থায় রয়েছে। আতঙ্কিত পরিবারগুলো বাঁশের খুঁটি বসিয়ে ঘর রক্ষার চেষ্টা করছে। পানি বাড়লেই ঘরগুলো ধসে পড়বে বলে আশঙ্কা তাদের। এ নিয়ে ওই এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।
বাঁধটি দ্রুত মেরামতের জন্য উপজেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)-এর কাছে দাবি জানিয়েছে এলাকাবাসী।
শনিবার (১৮ জুলাই) সরেজমিন পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কুমড়াকাপন গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, ধলাই নদীর তীররক্ষা বাঁধের প্রায় ৩০ ফুট অংশ নদীতে ধসে পড়েছে। বিশাল এলাকা নদীতে চলে যাওয়ায় পাঁচটি পরিবার ঝুঁকিতে পড়েছে। পরিবারগুলো তাদের বসতঘর রক্ষায় বাঁশের খুঁটি দিয়ে ঘরের পেছনের অংশ রক্ষার চেষ্টা করছেন। গত সপ্তাহে বাঁধটি রক্ষার জন্য এলাকাবাসী মানববন্ধন করে বলে জানায় স্থানীয়রা।
গ্রামটির ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দা সানু মিয়া বলেন, ধলাই নদীর পানি বাড়ার কারণে কয়েক দিন ধরে বাঁধে ফাটল সৃষ্টি হয়। পানি কমতেই গত বৃহস্পতিবার বাঁধের বিশাল এলাকা নদীতে ধসে পড়ে। আমাদের চলাচলের সড়কসহ ২৫ থেকে ৩০ ফুট পানিতে বিলীন হয়েছে।
সানু মিয়া আরো বলেন, ‘আমার ঘরটি যেকোনো মুহূর্তেই ধসে যাবে। এ নিয়ে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছি। প্রশাসন থেকে বাঁধ রক্ষার উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দিলেও কেউ আর আসেননি। তাই আমরা নিজেরাই ঘর রক্ষার চেষ্টা করছি।’
আরেক বাসিন্দা রফিক মিয়া বলেন, ‘এখানে আমরা ৮-১০টি পরিবার বসবাস করছি। কিন্তু নদীভাঙনের আতঙ্কে এখন আমরা দিন কাটাচ্ছি। আমার ঘরটিও ঝুঁকিতে রয়েছে। আমাদের খবর কেউ নেয় না। দ্রুত বাঁধ মেরামত না করলে সবার ঘর নদীতে বিলীন হবে।’
একই দিন কমলগঞ্জ সদর ইউনিয়নের পূর্ব লঙ্গুরপার এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, আগের ভাঙন এলাকাটি পানি উন্নয়ন বোর্ড মেরামতের উদ্যোগ নিলেও কাজ বন্ধ রয়েছে। কিছু বালুর বস্তা দিয়ে বাঁধ রক্ষার চেষ্টা করা হয়েছে।
ওই এলাকার বাসিন্দা সৌরভ ভৌমিক বলেন, আগের ভাঙনের কারণে বাঁধটি নড়বড়ে রয়েছে। আবার নদীর পানি কমে যাওয়ার পর ভেজা মাটি ধসে পড়তে শুরু করেছে। নতুন করে ১০০ ফুট দূরে শুক্রবার (১৭ জুলাই) আবার নদীপারে বিশাল ফাটল দেখা দিয়েছে।
কমলগঞ্জ সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল হান্নান বলেন, ‘ধলাই নদীর পানি কমে যাওয়ার পর লংগুরপাড় গ্রামের প্রতিরক্ষা বাঁধে যে বড় ফাটল ও ভাঙন দেখা দিয়েছে, তা অত্যন্ত আতঙ্কের। দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে উপজেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)-এর কর্মকর্তাদের বিষয়টি জানিয়েছি।
কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও পৌর প্রশাসক মো. আসাদুজ্জামান কালের কণ্ঠকে বলেন, পৌরসভার কুমড়াকাপন এলাকার ভাঙনপ্রবণ অংশ দ্রুত মেরামত করতে পাউবোকে বলা হয়েছে। উপজেলার আরো ঝুঁকিপুর্ণ বাঁধ মেরামতের উদ্যোগ নেওয়ার জন্যও আলাপ হয়েছে। তারা খুব দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন বলে জানিয়েছেন।
মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের (বাপাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. খালেদ বিন অলীদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘পৌরসভা এলাকায় বাঁধটি পরিদর্শন করা হয়েছে দ্রুত মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হবে। তা ছাড়া অন্য এলাকার ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলো মেরামত ও প্রকল্প গ্রহণে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি পাঠিয়েছি। বরাদ্দ ও অনুমোদন পেলেই কাজ শুরু করতে পারব।’