• ই-পেপার

কুষ্টিয়া সীমান্তে ৮ জনকে পুশইনের চেষ্টা, ফেরত পাঠাল বিজিবি

মোল্লাহাটে বাস খাদে পড়ে আহত ৫০

মোল্লাহাট (বাগেরহাট) প্রতিনিধি
মোল্লাহাটে বাস খাদে পড়ে আহত ৫০
সংগৃহীত ছবি

বাগেরহাটের মোল্লাহাট উপজেলার সীমান্তবর্তী চর গোবরা গোপালগঞ্জ এলাকায় ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে চালকসহ অন্তত ৫০ জন যাত্রী আহত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টায় এ দুর্ঘটনাটি ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঢাকা থেকে খুলনার উদ্দেশ্যে প্রায়  ৫৪ জন যাত্রী নিয়ে ইমাদ পরিবহনের একটি বাস যাচ্ছিল। ভাটিয়াপাড়া এলাকায় পৌঁছালে হঠাৎ বাসটির ব্রেক বিকল হয়ে যায়। এরপর চালক নিয়ন্ত্রণ হারালে বাসটি সড়কের পাশের কয়েকটি সরকারি গাছে ধাক্কা মেরে খাড়ে পড়ে যায়। সংঘর্ষের তীব্রতায় বাসের ছাদের একটি অংশ ছিটকে যায়। এতে বাসটির চালকসহ অন্তত ৫০ জন যাত্রী আহত হন।

দুর্ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন, ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে মোল্লাহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ আশপাশের বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠায়। গুরুতর আহত কয়েকজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে।

ভাটিয়াপাড়া হাইওয়ে থানার ওসি রোকনুজ্জামান জানান, এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছে আট জন যাত্রী। বাকি যাত্রারী সামান্য আহত হয়েছে। দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত গাড়িটি থানায় আনা হয়েছে। যেহেত দুর্ঘটনায় কেউ মারা যায়নি। সেহেতু পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

গ্যাস সংকটে সিএনজি ফিলিং স্টেশনে দীর্ঘ লাইন, ভোগান্তি চরমে

অনলাইন ডেস্ক
গ্যাস সংকটে সিএনজি ফিলিং স্টেশনে দীর্ঘ লাইন, ভোগান্তি চরমে
সংগৃহীত ছবি

কক্সবাজারের মহেশখালীতে ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে কারিগরি ত্রুটির কারণে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়ায় রাজধানীজুড়ে তীব্র সিএনজি সংকট দেখা দিয়েছে। এই ত্রুটির ফলে দৈনিক প্রায় ৪৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ হ্রাস পেয়েছে বলে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ জানিয়েছে। 

ফলে ঢাকার সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতে ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে,  ফিলিং স্টেশনগুলোতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও গ্যাস মিলছে না। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সিএনজিচালিত যানবাহনের চালক, গণপরিবহন খাতের কর্মী ও যাত্রীরা। সংকটের প্রভাব পড়েছে চালকদের আয়-রোজগারেও।

রাজধানীর বিভিন্ন সিএনজি ফিলিং স্টেশনে গিয়ে দেখা গেছে, গ্যাস সংগ্রহের জন্য দিন-রাত দীর্ঘ সারিতে অপেক্ষা করছেন চালকেরা। অনেক পাম্পে রাত থেকেই গাড়ির লাইন শুরু হচ্ছে।

একাধিক সিএনজি চালিত গাড়ির চালক জানান, সকাল ৬টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত লাইনে দাঁড়িয়েও অনেক সময় গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে দিনের বড় একটি সময় পাম্পেই কাটছে, যা তাদের স্বাভাবিক আয় ব্যাহত করছে।

সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যম আয়ের চালকেরা। সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও রাইড-শেয়ারিং সেবার সঙ্গে যুক্ত অনেক চালক বলছেন, সময়মতো গ্যাস না পাওয়ায় তারা যাত্রী পরিবহন করতে পারছেন না। এতে দৈনিক আয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।

কিছু চালক অভিযোগ করেন, কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে গ্যাসের দাম বাড়ানোর পরিবেশ তৈরি করা হচ্ছে। তাদের দাবি, অতীতেও জ্বালানি তেলের ক্ষেত্রে সংকট দেখিয়ে মূল্য বৃদ্ধি করা হয়েছিল। এবারও একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি করা হচ্ছে বলে তাদের আশঙ্কা।

অন্যদিকে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক না থাকায় লোকসানের মুখে পড়েছেন সিএনজি ফিলিং স্টেশনের মালিকরাও। তারা দ্রুত এলএনজি সরবরাহ স্বাভাবিক করে সংকট নিরসনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ কামনা করেছেন।

জাল সনদে শিক্ষক নিয়োগের অভিযোগে মাদরাসা সুপার গ্রেপ্তার

ভূরুঙ্গামারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি
জাল সনদে শিক্ষক নিয়োগের অভিযোগে মাদরাসা সুপার গ্রেপ্তার
সংগৃহীত ছবি

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে জাল সনদে শিক্ষক নিয়োগের অভিযোগে কামাত আঙ্গারীয়া দাখিল মাদরাসার সুপারকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

গতকাল বৃহস্পতিবার তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার সুপারের নাম সাইদুর রহমান। 

মাদরাসা সূত্রে জানা যায়, মাদরাসার সুপার সাইদুর রহমান জাল সনদে কামাত আঙ্গারীয়া দাখিল মাদরাসায় একজন শিক্ষক নিয়োগ দিয়েছেন। এ ঘটনায় রফিকুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি বাদী হয়ে জনস্বার্থে কুড়িগ্রাম আদালতে মামলা করেন। আদালত বিষয়টি আমলে নিয়ে সিআইডিকে তদন্তের নির্দেশ দেন। 

সিআইডি তদন্ত শেষ প্রতিবেদন দাখিল করলে আদালত সাইদুর রহমানকে সশরীরে আদালতে হাজির হওয়ার সমন জারি করেন। সাইদুর রহমান আদালতে হাজির না হওয়ায় তার বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট জারি করেন আদালত। ওয়ারেন্টের ভিত্তিতে পুলিশ মাদরাসা সুপার সাইদুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে।

ভূরুঙ্গামারী সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মুনতাসির মামুন মুন বলেন, ‘আদালতে দায়ের করা মামলায় ওয়ারেন্ট জারি হওয়ায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’

প্রসঙ্গত, সাইদুর রহমান এর আগেও একবার নিয়োগ জালিয়াতির মামলায় পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। সাইদুর রহমান তার অপকর্ম ধামাচাপা দিতে নিজেকে ‘দৈনিক শিরোমণি’ নামক পত্রিকার সাংবাদিক দাবি করতেন।

সন্দ্বীপ থেকে নিখোঁজ স্কুলছাত্রী বুড়িচংয়ে উদ্ধার

সন্দ্বীপ (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
সন্দ্বীপ থেকে নিখোঁজ স্কুলছাত্রী বুড়িচংয়ে উদ্ধার

চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ থেকে নিখোঁজের প্রায় ১৬ ঘণ্টা পর ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী সানজিদা আক্তার আনিশাকে (১২) কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার কাবিলা বাজার এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। শুক্রবার (২৪ জুলাই) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করেন।

উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আনিশার বাবা শাহাদাত ও তার বাবার বন্ধু ব্যবসায়ী আমির হোসেন আজাদ।

এর আগে বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) দুপুর ১.৩০ মিনিটের দিকে সন্দ্বীপ আনন্দ পাঠশালা স্কুলের গেট থেকে আনিশা নিখোঁজ হয়। সে সন্দ্বীপ উপজেলার রহমতপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের তালতলী বাজার এলাকার ব্যবসায়ী শাহাদাতের মেয়ে এবং আনন্দ পাঠশালার ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী।

স্কুলের সিসিটিভি ফুটেজে আনিশাকে তাদের বাড়ির পাশের মুরগির খামারে কর্মরত এক যুবকের সঙ্গে স্কুলের গেট থেকে বের হতে দেখা যায়। ওই যুবকের বাড়ি রংপুরে। পারিবারিক পরিচয়ের কারণে অতীতেও জরুরি প্রয়োজনে তার মাধ্যমে আনিশাকে স্কুল থেকে আনা হয়েছে। ঘটনার দিন যুবকটি তার মায়ের অসুস্থতার কথা বলে আনিশাকে একটি অটোরিকশায় তুলে নিয়ে যান।

সিসিটিভি ফুটেজের সূত্র ধরে সন্দ্বীপ থানা পুলিশ অটোরিকশার চালককে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করে। পরে প্রযুক্তির সহায়তায় পুলিশ নিশ্চিত হয়, ওই যুবক আনিশাকে নিয়ে সেদিনই সন্দ্বীপ ত্যাগ করে চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা হন।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিখোঁজের খবর দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ফেসবুকে মুহাম্মদ সারোয়ার ঠাকুর নামে এক ব্যক্তি দাবি করেন, বিকেল ৩টার দিকে তিনি কুমিরা-গুপ্তছড়া নৌরুটের একটি সার্ভিস ট্রলারের কেবিনে স্কুলড্রেস পরা আনিশাকে দেখেছিলেন।

আনিশার বাবার বন্ধু আমির হোসেন আজাদ জানান, অপহরণকারী মেয়েটিকে কোনো ওষুধ প্রয়োগ করে অস্বাভাবিক অবস্থায় সীতাকুণ্ডের কুমিরা হয়ে কুমিল্লার বুড়িচংয়ের কাবিলা বাজার এলাকায় নিয়ে যায়। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে মেয়েটি স্বাভাবিক হলে কান্নাকাটি শুরু করে। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে অপহরণকারী পালিয়ে যান। পরে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে মেয়েটির পরিচয় জানতে পারেন এবং তার বাবার সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের ব্যবস্থা করে দেন।

খবর পেয়ে আনিশার বাবা ও আমির হোসেন আজাদ বুড়িচংয়ে ছুটে যান। শুক্রবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে তারা আনিশার সঙ্গে দেখা করেন এবং তাকে নিয়ে বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেন। এ ঘটনায় অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার ও ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান অব্যাহত রয়েছে।