• ই-পেপার

প্রতারণার মাধ্যমে নিয়োগ

১১ বছর ধরে বিনা বেতনে শিক্ষকতা করছেন নওগাঁর নার্গিস

‘তৌহিদী জনতা’র আপত্তির মুখে বিশ্বকাপ ফাইনাল আয়োজন ভণ্ডুল

যশোর অফিস
‘তৌহিদী জনতা’র আপত্তির মুখে বিশ্বকাপ ফাইনাল আয়োজন ভণ্ডুল

‘তৌহিদী জনতা’র আপত্তির মুখে যশোর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে বড় পর্দায় বিশ্বকাপ ফুটবল ফাইনাল ম্যাচ প্রদর্শনের আয়োজন ভণ্ডুল হয়ে গেছে।

রবিবার রাতে একদল মুসল্লি ঈদগাহ মাঠের পবিত্রতা রক্ষার দাবি জানিয়ে এ আয়োজনের বিরোধিতা করেন। পরে পুলিশ, জেলা প্রশাসন, আয়োজক ও প্রতিবাদকারীদের মধ্যে আলোচনার পর ঈদগাহ মাঠে খেলা প্রদর্শন না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

জানা গেছে, ফ্যাশন রিটেইল ব্র্যান্ড ‘সেইলর’ বিশ্বকাপের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলো যশোর টাউন হল মাঠে বড় পর্দায় দেখানোর আয়োজন করে আসছিল। তবে সেখানে বৃক্ষমেলা চলমান থাকায় ফাইনাল ম্যাচটি কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে প্রদর্শনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এ জন্য বড় পর্দাসহ প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতিও সম্পন্ন করা হয়েছিল। কিন্তু রবিবার রাত ৯টার দিকে ‘তৌহিদী জনতা’ পরিচয়ে একদল মুসল্লি ঈদগাহ মাঠে জড়ো হয়ে আয়োজনটির বিরোধিতা করেন।

তাদের দাবি, ঈদগাহ মাঠ ধর্মীয় ইবাদতের জন্য নির্ধারিত একটি পবিত্র স্থান। সেখানে বিনোদনমূলক কোনো আয়োজন করা সমীচীন নয়। একপর্যায়ে তারা মানববন্ধনেরও প্রস্তুতি নেন। পরিস্থিতির খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে উভয় পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে পরিস্থিতি বিবেচনায় ঈদগাহ মাঠে ফাইনাল ম্যাচ প্রদর্শনের আয়োজন বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এরপর আয়োজকরা মাঠ থেকে বড় পর্দাসহ অন্যান্য সরঞ্জাম সরিয়ে নেন।

মুসল্লিরা বলেন, ‘ঈদগাহ মাঠ মুসল্লিদের ইবাদতের স্থান। এখানে বিশ্বকাপ ফুটবলের মতো বিনোদনমূলক আয়োজন হওয়া উচিত নয়। মাঠের পবিত্রতা রক্ষার দাবিতেই আমরা প্রতিবাদ জানিয়েছি। প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ায় তাদের ধন্যবাদ জানাই।’

তারা  বলেন, ঈদগাহ মাঠের ধর্মীয় মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রাখা সবার দায়িত্ব। তাই এ ধরনের আয়োজন থেকে বিরত থাকার পাশাপাশি ধর্মীয় স্থানের মর্যাদা রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান তারা।

এ বিষয়ে যশোরের পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘শহরের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আয়োজক, জেলা প্রশাসন ও প্রতিবাদকারীদের সঙ্গে আলোচনা করে ঈদগাহ মাঠে খেলা প্রদর্শনের আয়োজন বন্ধ করা হয়েছে। খেলাকে কেন্দ্র করে যেন কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়ে পুলিশ সতর্ক।

ডাক্তারি পরীক্ষা ছাড়াই অস্ত্রোপচারে কলেজছাত্রীর মৃত্যু, তদন্ত কমিটি

সদরপুর-চরভদ্রাসন (ফরিদপুর) প্রতিনিধি
ডাক্তারি পরীক্ষা ছাড়াই অস্ত্রোপচারে কলেজছাত্রীর মৃত্যু, তদন্ত কমিটি
সংগৃহীত ছবি

ফরিদপুরে একটি বেসরকারি হাসপাতালে পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াই অ্যাপেন্ডিসাইটিসের অস্ত্রোপচার করার কারণে আয়েশা আফরিন (১৭) নামে এক কলেজছাত্রীর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ডেপুটি সিভিল সার্জন বদরুদ্দোজা টিটুকে প্রধান করে চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

নিহত আয়েশা আফরিন ফরিদপুর জেলা শহরের সরকারি ইয়াছিন কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্রী। সে সদরপুর উপজেলার আকোটেরচর ইউনিয়নের কালিখোলা গ্রামের সৌদিপ্রবাসী লিটু মাতুব্বরের বড় মেয়ে।

গত শুক্রবার রাতে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রধান ফটকের বিপরীত পাশে অবস্থিত ‘আলজারা স্পেশালাইজড হসপিটাল’ নামের বেসরকারি হাসপাতালে ওই ছাত্রীর অস্ত্রোপচার হয়। পরদিন তার মৃত্যু হয়।

ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত চিকিৎসক ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজের সার্জারি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. আতিকুল আহসান পলাতক রয়েছেন। এর আগেও অসাবধানভাবে চিকিৎসার জন্য একজনের মৃত্যু হয়েছিল বলে জানা গেছে।

পরিবারটির অভিযোগ, চিকিৎসকের অবহেলা এবং তড়িঘড়ি করে অস্বাভাবিকভাবে বুক থেকে নাভি পর্যন্ত পেট কেটে ফেলার কারণে তার মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছে পরিবারটির সদস্যরা। 

নিহতের মা আলেয়া বেগমের ভাষ্য মতে, গত বৃহস্পতিবার আয়েশার পেটে ব্যথা হলে শহরের ল্যাব এইড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করানো হয়। সেখানকার চিকিৎসক জানান, আয়েশার ছোট আকারের অ্যাপেন্ডিসাইটিস হয়েছে, চাইলে অস্ত্রোপচার করাতে পারেন। এরপর পরিচিত এক ব্যক্তির মাধ্যমে তারা আলজারা হাসপাতালে যান। সেখানে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার পর আসেন ডা. আতিকুল আহসান।

আলেয়া বেগম অভিযোগ করেন, ‘ডাক্তার এসেই বলেন, মেয়ের পেটের ভেতরে অ্যাপেন্ডিসাইটিস ছড়িয়ে পড়েছে। তখন হাসপাতাল থেকে নতুন করে আল্ট্রা করার কথা বলা হলেও টেকনিশিয়ান না থাকায় তা করা সম্ভব হয়নি। ডাক্তারকে বিষয়টি জানালে তিনি উত্তেজিত হয়ে বলেন, ‘আমি চলে যাব; আপনারা করলে করেন, না করলে না করেন। আমার অনেক রোগী আছে,  অ্যাপেন্ডিসাইটিস ফেটে যাওয়ার কথা শুনে আমরা ভয় পেয়ে যাই এবং অপারেশন করতে বলি।’

তিনি আরো জানান, অপারেশনের একপর্যায়ে ডাক্তার এসে জানান, নাড়িভুঁড়ি জড়িয়ে গেছে। পরে তারা গিয়ে দেখেন, মেয়ের নাভি থেকে বুক পর্যন্ত কেটে সেলাই দেওয়া হয়েছে এবং তার জ্ঞান নেই। অবস্থার অবনতি হলে তাকে শহরের রেজোয়ান মোল্যা হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং শনিবার সকালে সে মারা যায়।

এর আগে চলতি বছরের ১৯ এপ্রিল একই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে অস্ত্রোপচারের পর মিম (১৪) নামে এক কিশোরীর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছিল। পরিবারের অভিযোগ ছিল, অপারেশনের সময় অসাবধানতাবশত মিমের গলার একটি গুরুত্বপূর্ণ রক্তনালি কেটে ফেলায় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়। সে সময় তদন্ত কমিটি গঠন করা হলেও দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। জেলা সিভিল সার্জন ডা. মাহামুদুল হাসানের দাবি, সে সময় অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় ব্যবস্থা নেওয়া যায়নি। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত সহকারী অধ্যাপক ডা. আতিকুল আহসানের সঙ্গে সরাসরি ও মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

তবে আলজারা স্পেশালাইজড হসপিটালের চেয়ারম্যান শামীম আশরাফ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘ওই রোগীর নাড়ির ভেতরে ছিদ্র ছিল এবং তা দিয়ে ময়লা ছড়িয়ে পচন ধরেছিল। যার কারণে পেট ওপেন করে পরিষ্কার করা হয়। বিষয়টি পূর্বেই পরিবারকে জানানো হয়েছিল এবং মা ও ফুফাসহ তিনজন স্বজন অস্ত্রোপচারের সম্মতিপত্রে সই করেন। অস্ত্রোপচারের পর রোগী শকে চলে যাওয়ায় আইসিইউর প্রয়োজনে অন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়।’

ফরিদপুরের সিভিল সার্জন ডা. মাহামুদুল হাসান জানান, ‘কলেজছাত্রীর মৃত্যুর ঘটনায় এখনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। তবে বিভিন্ন মাধ্যমে বিষয়টি জেনে ডেপুটি সিভিল সার্জন বদরুদ্দোজা টিটুকে প্রধান করে চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। পূর্বেও ওই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ থাকায় এবার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে।’

ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে বিরোধ, ছুরিকাঘাতে প্রাণ গেল যুবকের

রায়গঞ্জ (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি
ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে বিরোধ, ছুরিকাঘাতে প্রাণ গেল যুবকের
প্রতীকী ছবি

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলায় ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধের জেরে ছুরিকাঘাতে মো. ইলিয়াস খান (২৬) নামের এক যুবক নিহত হয়েছেন।

রবিবার (১৯ জুলাই) রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার পাঙ্গাসী ইউনিয়নের কালিঞ্জা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। 

ইলিয়াস ওই গ্রামের সাত্তার খানের ছেলে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, রবিবার বিকেলে কালিঞ্জা গ্রামে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে ইলিয়াস খানের সঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দা রাসেলের কথা-কাটাকাটি হয়। পরে রাত সাড়ে ১০টার দিকে পূর্বের বিরোধের জেরে রাসেল ও তার কিশোর ছেলে সিয়াম আহমেদ ধারালো অস্ত্র দিয়ে ইলিয়াসকে ছুরিকাঘাত করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা উদ্ধার করে রায়গঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কালিঞ্জা এলাকার ইউপি সদস্য মো. জহুরুল ইসলাম বলেন, ইলিয়াস নামের এক যুবক মারা গেছেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসেছে। আমিও ঘটনাস্থলে রয়েছি। বিস্তারিত পরে জানাতে পারব।

রায়গঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আহসানুজ্জামান বলেন, খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে এসেছি। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটন ও জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত চলছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য সিরাজগঞ্জ শহীদ এম. মনসুর আলী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।

এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি। এলাকায় বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলেও অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়েছে।

পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধ, জামালপুরে যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ

জামালপুর প্রতিনিধি
পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধ, জামালপুরে যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ

জামালপুরে পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে আনোয়ার হোসেন আকাশ (২৭) নামে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। 

রবিবার (১৯ জুলাই) সকালে পৌর শহরের বেলটিয়া এলাকায় মারধরের শিকার হওয়ার পর সন্ধ্যায় ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

নিহত আকাশ জামালপুর শহরের জিগাতলা মুন্সীবাড়ি এলাকার মমিন মিয়ার ছেলে।

পুলিশ ও নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ‘অর্থ লেনদেন-সংক্রান্ত বিরোধ সমঝোতার উদ্দেশ্যে রবিবার সকালে আকাশ ও তার ভাই জামালপুর পৌর শহরের বেলটিয়া এলাকায় সোমা নামে এক নারীর বাড়িতে যান। সেখানে উভয় পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে অভিযুক্তের পরিবারের সদস্যরা আকাশকে বেধড়ক মারধর করেন। পরে আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সন্ধ্যায় তার মৃত্যু হয়।’

নিহতের বাবা মমিন মিয়া অভিযোগ করে বলেন, ‘আমরা তাদের কাছে টাকা পাই। সেই টাকা পরিশোধ না করে উল্টো আমার ছেলেকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।’

আকাশের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর অভিযুক্ত সোমা ও তার পরিবারের সদস্যরা বাড়ি ছেড়ে চলে গেছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

জামালপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুস সাকিব বলেন, ‘ঘটনাস্থল ও নিহতের বাড়িতে পুলিশ গেছে। মরদেহের সুরতহাল ও ময়নাতদন্তের জন্য প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া চলছে। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’