• ই-পেপার

বান্দরবান ও কক্সবাজারে পাহাড়ধসে ৭ জনের মৃত্যু

রাউজানে বৃষ্টির পানিতে ডুবে প্রাণ গেল শিশুর

রাউজান (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
রাউজানে বৃষ্টির পানিতে ডুবে প্রাণ গেল শিশুর
প্রতীকী ছবি

চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার পশ্চিম ডাবুয়া এলাকায় বৃষ্টির জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়া পানিতে ডুবে আড়াই বছর বয়সী এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (৮ জুলাই) দুপুর সোয়া ২টার দিকে উপজেলার পশ্চিম ডাবুয়া এলাকার আবু তালুকদার বাড়িতে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত শিশুর নাম মো. মোস্তাকিম। সে ওই এলাকার প্রবাসী মোহাম্মদ পারভেজ হোসেনের আড়াই বছর বয়সী আদরের সন্তান।

প্রতিবেশী মো. রহিম ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাড়ির পাশে খাল। খালের পাশে শিশুটি খেলতে গিয়ে ঘরের পাশের জমিতে জমে থাকা বৃষ্টির পানিতে পড়ে যায়। কিছুক্ষণ পর পরিবারের সদস্যরা তাকে খুঁজতে গিয়ে পানিতে ভাসমান অবস্থায় দেখতে পান। দ্রুত উদ্ধার করে রাউজান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

হাসপাতালের মেডিক্যাল অফিসার ডাক্তার মিনহাজ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘দুপুর আড়াইটার দিকে আড়াই বছর বয়সী মোস্তাকিম নামের এক পানিতে পড়া শিশু হাসপাতালে আনা হয়। তবে শিশুটি হাসপাতালে আনার পর আমরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখি সে মারা গেছে।’

ছাত্রীকে শাসন করায় শিক্ষিকাকে মারধরের অভিযোগ

অনলাইন ডেস্ক
ছাত্রীকে শাসন করায় শিক্ষিকাকে মারধরের অভিযোগ
সংগৃহীত ছবি

চুয়াডাঙ্গা শহরের ফার্মপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা কাবেরী করিমকে অফিসকক্ষে ঢুকে চড়-থাপ্পড় মারার অভিযোগ উঠেছে এক অভিভাবকের বিরুদ্ধে।

বুধবার (৮ জুলাই) দুপুরে ঘটে যাওয়া এ ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে শিক্ষক মহলে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, তৃতীয় শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে শাসন করে চড় দেওয়ার ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে তার বাবা সামসউর রহমান শুভ বিদ্যালয়ে এসে প্রধান শিক্ষিকাকে মারধর করেন। পরে উপস্থিত ব্যক্তিরা তাকে সরিয়ে দেন।

এ বিষয়ে অভিযুক্তের বক্তব্য জানতে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

প্রধান শিক্ষিকা কাবেরী করিম জানান, শিক্ষার্থীদের প্রয়োজন হলে শাসন করতেই হয়। তবে এ ঘটনায় তিনি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং আবারও হামলার আশঙ্কা করছেন।

চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ওসি মিজানুর রহমান বলেন, লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কোস্ট গার্ডের কাছে সুন্দবনের ৩ ‘ডাকাতে’র আত্মসমর্পণ

মোংলা প্রতিনিধি
কোস্ট গার্ডের কাছে সুন্দবনের ৩ ‘ডাকাতে’র আত্মসমর্পণ
সংগৃহীত ছবি

সুন্দরবনের সার্বিক নিরাপত্তা রক্ষা ও দস্যু দমনে আরো একটি বড় সাফল্য অর্জন করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। সুন্দরবনের ‘বড় জাহাঙ্গীর বাহিনী’র ৩ জন সক্রিয় সদস্য অস্ত্র, গোলাবারুদ ও জিম্মি জেলেকে নিয়ে কোস্ট গার্ডের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন।

​বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকালে কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

​তিনি জানান, সুন্দরবনে কোস্ট গার্ডের কঠোর নজরদারি, গোয়েন্দা তৎপরতা এবং ধারাবাহিক অভিযানের কারণে দস্যু বাহিনীগুলো বর্তমানে কোণঠাসা হয়ে পড়ে। এর ফলে ওই বাহিনীর ৩ সদস্য দল থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে বুধবার (৮ জুলাই) বিকেল ৫টায় বাগেরহাট এলাকায় কোস্ট গার্ডের কাছে আত্মসমর্পণ করেন। এ সময় ডাকাত সদস্যরা কোস্ট গার্ডের কাছে ২টি দেশীয় একনলা বন্দুক, ১টি দেশীয় পাইপগান, ৪০ রাউন্ড তাজা কার্তুজ ও ১টি ওয়াকিটকি জমা দেয়। এ ছাড়া জিম্মি জেলেকে ফিরিয়ে দেন।

আত্মসমর্পণকারী ডাকাতরা হলেন– মোংলা উপজেলার আলামিন হোসেন (৪০), সাতক্ষীরার তালা উপজেলার তৈবুর রহমান (২৪) ও খুলনার কয়রার মনিরুজ্জামান মামুন (২০)।

কোস্ট গার্ড সূত্রে জানা যায়, এই ডাকাতরা দীর্ঘদিন ধরে সুন্দরবনে ডাকাতিসহ সাধারণ জেলে ও বাওয়ালিদের জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায় করে আসছিল। বর্তমান সরকারের দিকনির্দেশনায় সুন্দরবন অঞ্চলকে দস্যুমুক্ত করতে কোস্ট গার্ডের নেতৃত্বে ‘অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন’ ও ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’ নামে দুটি বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। এ অভিযানে গত ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ থেকে এ পর্যন্ত ​৪৯টি দেশি-বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র,​ ১০ রাউন্ড তাজা গোলা, ৩১৬ রাউন্ড তাজা কার্তুজ, ১০৮ রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ এবং ১৯৪ রাউন্ড এয়ারগান গোলা জব্দ করা হয়েছে।

এ ছাড়া ৪২ জন বনদস্যুকে আটক এবং জিম্মি দশা থেকে ৪১ জনকে জীবিত উদ্ধার করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এর আগে গত ২১ মে কুখ্যাত 'ছোট সুমন বাহিনী'র প্রধানসহ সর্বমোট ৭ জন সদস্য অস্ত্রসহ আত্মসমর্পণ করেছিল।

বিমানবন্দরে যাওয়ার সময় গাড়িতে ডাকাতি, জাপান যাওয়া হলো না দম্পতির

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, নারায়ণগঞ্জ
বিমানবন্দরে যাওয়ার সময় গাড়িতে ডাকাতি, জাপান যাওয়া হলো না দম্পতির
সংগৃহীত ছবি

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে সংঘবদ্ধ ডাকাতির শিকার হয়েছেন জাপানপ্রবাসী এক দম্পতি। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ১৫ ভরি স্বর্ণসহ সঙ্গে থাকা মূল্যবান জিনিসপত্র নিয়ে গেছে ডাকাতদল।

বুধবার (৮ জুলাই) রাত সাড়ে ১০টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মেঘনা টোলপ্লাজা সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ডাকাতির শিকার আরমান (৪০) ফেনী জেলার আব্দুস সোবহানের ছেলে।

জানা গেছে, প্রবাসী আরমান তার স্ত্রী-সন্তানসহ পরিবারের সদস্যদের নিয়ে নিয়ে জাপান যাওয়ার উদ্দেশ্যে মাইক্রোবাসযোগে (হায়েচ) ফেনী থেকে ঢাকার দিকে আসছিলেন। পথিমধ্যে মহাসড়কের পিরোজপুর ইউনিয়নের মেঘনা টোলপ্লাজা সংলগ্নে পৌঁছালে অজ্ঞাত ৫/৬ জনের একটি সংঘবদ্ধ ডাকাত গ্রুপ দেশীয় অস্ত্র চাপাতি, ছুরি, লোহার রডসহ তাদের গাড়ির গতিরোধ করে। গাড়িটি থামানো মাত্রই প্রবাসী আরমান ও তার পরিবাবের সদস্যদের মারধর করে সঙ্গে থাকা ১৫ ভরি স্বর্ণালঙ্কার। আইফোন ১৬ প্রো ম্যাক্সসহ তিনটি মুঠোফোন ও নগদ ৩০ হাজার টাকা জোরপূর্বক ছিনিয়ে নিয়ে যায় তারা। স্বর্ণের দাম ৩০ লাখ টাকার ওপরে।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী এক মোটরসাইকেল আরোহী জানান, আমিও একই পথে যাওয়ার সময়ে ৫-৬ জনকে চাপাতি হাতে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখতে পেয়ে ভয়ে সামনে এগোইনি। আমি যখন মোটরসাইকেল থামিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলাম, এর মধ্যেই হায়েছ গাড়িটিতে ডাকাতি হয়।

কাঁচপুর হাইওয়ে থানার ওসি মো. শামীম শেখ বলেন, ‘ছিনতাইয়ের ঘটনাটি মেঘনা টোলপ্লাজায় অংশ পড়লেও মহাসড়কে হয়নি। এটি ঘটেছে মহাসড়কের পাশের নিচের একটি সড়কে।’

সোনারগাঁ থানার ওসি গোলাম সারোয়ার বলেন, ‘ছিনতাইয়ের এই ঘটনাটি নিয়ে আমরা কাজ করছি। এখনো কিছু সুস্পষ্ট জানতে পারিনি।’

থানা পুলিশের চেকপোস্টের সামনে ডাকাতি ঘটেছে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, চেকপোস্টের সামনেই ঘটেছে বলে শুনেছি, তবে বিস্তারিত কিছু এখনো বলা সম্ভব না।