• ই-পেপার

মৌলভীবাজার

অভিযানে ভেস্তে গেল ডাকাতির পরিকল্পনা, অতঃপর...

তেঁতুলিয়ায় তীব্র ভাঙন

বসতবাড়ি হারানোর শঙ্কা হাজারো পরিবারের

বালু তোলা বন্ধ ও বাঁধ দাবি

ইকরামুল আলম, ভোলা
বসতবাড়ি হারানোর শঙ্কা হাজারো পরিবারের
ভাঙন আতঙ্ক নিয়ে তেঁতুলিয়া নদীর দিকে তাকিয়ে আছেন আব্দুল হামিদ খাঁ। সম্প্রতি ভোলা সদর উপজেলার ভেলুমিয়া ইউনিয়নের চন্দ্রপ্রসাদ গ্রামে। ছবি: কালের কণ্ঠ

তেঁতুলিয়ার তীরে জীবনের দীর্ঘ সময় পার করেছেন হামিদ খাঁ। নদীর তীব্র ভাঙনে হারিয়ে যেতে দেখেছেন বহু ঘরবাড়ি। এবার বর্ষার শুরতেই নিজ বসতঘরের দিকে ধেয়ে আসছে প্রমত্তা তেঁতুলিয়া। আর মাত্র কয়েক হাত ভাঙলেই নদীতে হারিয়ে যাবে তার বসতঘর। 

ভোলা সদর উপজেলার ভেলুমিয়া ইউনিয়নের চন্দ্রপ্রসাদ গ্রামের বাসিন্দা ৮০ বছর বয়সী বৃদ্ধ হামিদ খাঁর চোখেমুখে অনিশ্চয়তার ছাপ। শেষ সম্বলটুকু হারালে পরিবার নিয়ে কোথায় দাঁড়াবেন সেই চিন্তায় দিন কাটছে তার।

শুধু আব্দুল হামিদ খাঁ নন। সদর উপজেলার ভেলুমিয়া এবং ভেদুরিয়া ইউনিয়নের তেঁতুলিয়াপারের হাজারো পরিবারের দিন কাটছে ভাঙন আতঙ্কে। অবৈধভাবে বালু তোলার ফলে নদীর তীব্র ভাঙনে নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে ফসলি জমি আর বসতভিটা। হুমকিতে রয়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, উপাসনালয় ও সরকারি স্থাপনা।

হামিদ খাঁ জানান, তার বসতভিটা আরো প্রায় এক কিলোমিটার দূরে ছিল। ভাঙনের কারণে বেশ কয়েকবার বসতঘর সরাতে হয়েছে। তিনি জানান, দুই দশক আগে ভাঙনের তেমন তীব্রতা না থাকলেও গত এক দশক ধরে ভাঙনের তীব্রতা বেড়েছে। অবৈধভাবে বালু তোলার কারণে নদীর তলদেশ গভীর হয়ে যাওয়ায় ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। বর্তমানে নদী তার বসতঘরের চার-পাঁচ গজের মধ্যে চলে এসেছে। 

একই এলাকার ষাটোর্ধ বাসিন্দা আইয়ুব খান জানান, আগে তেঁতুলিয়া নদীর গভীরতা অনেক কম ছিল, তখন ভাঙন ছিল  না। কিন্তু গত দুই দশক ধরে অবৈধভাবে বালু তোলার ফলে নদীর গভীরতা বেড়ে গেছে। ফলে দখা দিয়েছে তীব্র ভাঙন। ইতোমধ্যে ওই এলাকার তিন শতাধিক ঘরবাড়ি বিলীন হয়ে গেছে। 

আইয়ুক খান জানান, নদী তারও ঘরের কাছে চলে এসেছে। বর্ষা মৌসুমে প্রায়ই জোয়ারের পানিতে তাদের ঘরবাড়ি তলিয়ে যায়। তাই দ্রুত বালু তোলা বন্ধ ও ভাঙনরোধে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবি জানান তিনি।

স্থানীয় আব্দুল মালেকসহ কয়েকজন বাসিন্দা জানান, ইতোমধ্যে কয়েক কিলোমিটার এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। বসতবাড়ি, কৃষিজমি হারিয়ে অনেকে নিঃস্ব হয়েছে। এখনও হাজারো পরিবার ভাঙনের মুখে রয়েছে। হুমকির মধ্যে রয়েছে হাজার হাজার একর ফসলি জমি, ১০টির বেশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, অর্ধ শতাধিক মসজিদ মাদরাসা ও সরকারি স্থাপনা। এগুলো রক্ষায় দ্রুত বালু তোলা বন্ধের পাশাপাশি  প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তাদের। 

সম্প্রতি ভেদুরিয়া ও ভেলুমিয়া ইউনিয়নের ভাঙনকবলিত এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, সেখানকার বহু বসতবাড়ি ভাঙনের মুখে। এর মধেই নদী থেকে ড্রেজার দিয়ে অবৈধভাবে বালু তোলা হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসন মাঝেমধ্যে অভিযান চালালেও  দিন-রাত বালু তুলছে একটি চক্র। 

ভোলা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আরিফুজ্জামান কালের কণ্ঠকে বলেন, অবৈধভাবে বালু তোলা জনজীবনের জন্য হুমকি। সম্প্রতি চরপাতাবুনিয়া এলাকায়  অভিযান চালিয়ে একটি ড্রেজার ও তিনটি বাল্কহেড জব্দ করা হয়েছে। প্রশাসনের উপস্থিতি টের পেয়ে বালু উত্তোলনকারীরা ড্রেজার ও বাল্কহেড রেখে পালিয়ে যাওয়ায় তাদের আটক করা যায়নি। অবৈধভাবে বালু তোলা বন্ধে অভিযান চলছে বলেও জানান তিনি।

ভোলা পানি উন্নয় বোর্ড-১ এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জিয়া উদ্দিন আরিফ বলেন, ভোলা সদর ও বোরহানউদ্দিন উপজেলার তেঁতুলিয়া নদীতীরের ১৫কিলোমিটার এলাকায় তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। বর্তমানে ভাঙনকবলিত এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের একটি সমীক্ষা চলছে। সমীক্ষাটি শেষ হলে ওই এলাকায় স্থায়ী বাঁধ নির্মাণে প্রকল্প গ্রহন করা হবে। এর ফলে ভাঙন স্থায়ীভাবে বন্ধ হবে।

অবৈধভাবে বালু তোলার বিষয়ে এ কর্মকর্তা বলেন, যদি কেউ অবৈধভাবে বালু তোলে, তাহলে পানি উন্নয়ন বোর্ড ও জেলা প্রশাসনকে জানালে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

শিয়াল ঠেকাতে জিআই তারে বিদ্যুৎ সঞ্চালন, সেই ফাঁদেই প্রাণ গেল খামারির

লালপুর (নাটোর) প্রতিনিধি
শিয়াল ঠেকাতে জিআই তারে বিদ্যুৎ সঞ্চালন, সেই ফাঁদেই প্রাণ গেল খামারির
সংগৃহীত ছবি

নাটোরের লালপুরে শিয়ালের আক্রমণ থেকে মুরগির খামার রক্ষায় জিআই তারে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার পর সেই তারেই বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে জিয়ারুল ইসলাম (৩০) নামের এক খামারির মৃত্যু হয়েছে।

শনিবার (২৫ জুলাই) সকালে উপজেলার বিলমাড়িয়া ইউনিয়নের কয়লার ডহর এলাকায় পদ্মার চরের একটি মুরগির খামারে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত জিয়ারুল ইসলাম উপজেলার মোহরকয়া গ্রামের মো. আছান আলীর ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, জিয়ারুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে নিজস্ব মুরগির খামার পরিচালনা করছিলেন। সম্প্রতি খামারে শিয়ালের আক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় তিনি খামারের চারপাশে জিআই তারের বেড়া তৈরি করে তাতে বৈদ্যুতিক সংযোগ দেন, যাতে শিয়াল প্রবেশ করতে না পারে।

শনিবার সকালে বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ না করেই তিনি একা খামারে কাজ করতে যান। ধারণা করা হচ্ছে, কাজ করার সময় অসাবধানতাবশত বিদ্যুৎ-সংযুক্ত জিআই তারের সংস্পর্শে এসে গুরুতর বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। এতে ঘটনাস্থলেই তিনি খামারের ভেতরে লুটিয়ে পড়েন।

সকাল আনুমানিক ৮টার দিকে তার মা জাহানারা বেগম খামারে গিয়ে ছেলেকে মাটিতে পড়ে থাকতে দেখে চিৎকার শুরু করেন। পরে স্থানীয়রা ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করে লালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে দায়িত্বরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

জিয়ারুল ইসলামের আকস্মিক মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, তিনি পরিশ্রমী ও পরিবারমুখী মানুষ ছিলেন। তার মৃত্যুতে পরিবারটি দিশেহারা হয়ে পড়েছে।

লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম বলেন, ঘটনার পর প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে বৈদ্যুতিক সংযোগ ব্যবহারে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানান তিনি।

পাবনায় ফাঁদে আটকা পড়ল বিরল গন্ধগোকুল, পরে বনে অবমুক্ত

চাটমোহর (পাবনা) প্রতিনিধি
পাবনায় ফাঁদে আটকা পড়ল বিরল গন্ধগোকুল, পরে বনে অবমুক্ত
ছবি : কালের কণ্ঠ

পাবনার চাটমোহর উপজেলায় মাছ ধরার ফাঁদে আটকা পড়া একটি বিরল প্রজাতির গন্ধগোকুল উদ্ধার করে বন বিভাগের সহায়তায় অবমুক্ত করা হয়েছে।

রবিবার (২৬ জুলাই) সকালে উপজেলার বিলচলন ইউনিয়নের কুমারগাড়া গ্রামে স্থানীয়দের মাছ ধরার ফাঁদে প্রাণীটি আটকা পড়ে। পরে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সেটিকে উদ্ধার করে কাছাকাছি একটি জঙ্গলে ছেড়ে দেওয়া হয়।

স্থানীয় সূত্র জানায়, সকালে গ্রামের মিলন হোসেন মাছ ধরার ফাঁদে প্রাণীটিকে আটকা অবস্থায় দেখতে পান। প্রথমে প্রাণীটিকে শনাক্ত করতে না পারলেও ইউটিউবে অনুসন্ধান করে এটি গন্ধগোকুল বলে নিশ্চিত হন। এরপর তিনি বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুসা নাসের চৌধুরীকে জানান।

খবর পেয়ে ইউএনও ঘটনাস্থলে পৌঁছে বন বিভাগের সহায়তায় প্রাণীটিকে উদ্ধার করেন। পরে বিলচলন ইউনিয়ন পরিষদের পেছনের জঙ্গলে গন্ধগোকুলটি অবমুক্ত করা হয়। 

এদিকে বিরল এই প্রাণীটিকে এক নজর দেখতে ঘটনাস্থলে স্থানীয়দের ভিড় জমে।

চাটমোহর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুসা নাসের চৌধুরী বলেন, ‘গন্ধগোকুল একটি বিরল ও নিরীহ নিশাচর বন্য প্রাণী। খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রাণীটিকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করেছি। প্রাকৃতিক পরিবেশে বেঁচে থাকার স্বার্থে এটিকে ঘন জঙ্গলে অবমুক্ত করা হয়েছে।’

খুলনায় একা বসবাস করতেন মতি, ঘরে মিলল অর্ধগলিত মরদেহ

খুলনা অফিস
খুলনায় একা বসবাস করতেন মতি, ঘরে মিলল অর্ধগলিত মরদেহ
সংগৃহীত ছবি

খুলনায় একটি ভবন থেকে মো. মতি (৫৪) নামে এক ব্যক্তির অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রবিবার (২৬ জুলাই) দুপুরে নগরীর সোনাডাঙ্গা মডেল থানার শেখপাড়া এলাকা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

মৃত মতি নগরীর শেখপাড়ার হাবিবুল্লাহর ছেলে। তিনি গড়াই পরিবহনের টিকিট কালেকক্টর হিসেবে কাজ করতেন। 

পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, পরিবহনের টিকেট কালেকক্টর মতি দীর্ঘদিন শেখপাড়া খলিল চেম্বারের পার্শ্ববর্তী বাসিন্দা আনোয়ারের বাড়ির ভাড়াটিয়া হিসেবে একা বসবাস করতেন। শারীরিকভাবে কিছুটা অসুস্থ ছিলেন। তাকে সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার দেখা গেছে। রবিবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে একজন কাজ করার জন্য বাড়ির ছাদে উঠলে দুর্গন্ধ পান। পরে খবর পেয়ে পুলিশ দরজা ভেঙে ঘরের ভেতর থেকে মতির মরদেহ উদ্ধার করে।

সোনাডাঙ্গা থানার এসআই মো. ফরিদুল ইসলাম জানান, নিহত মতির মরদেহের ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হচ্ছে। এ ঘটনায় আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অভিযানে ভেস্তে গেল ডাকাতির পরিকল্পনা, অতঃপর... | কালের কণ্ঠ