• ই-পেপার

পাবনায় ফাঁদে আটকা পড়ল বিরল গন্ধগোকুল, পরে বনে অবমুক্ত

গাজীপুরে চুরির অভিযোগে যুবককে পিটিয়ে হত্যা

নিজস্ব প্রতিবেদক, গাজীপুর
গাজীপুরে চুরির অভিযোগে যুবককে পিটিয়ে হত্যা
ছবি: কালের কণ্ঠ

গাজীপুর মহানগরীর পূবাইলে চুরির অভিযোগে জুয়েল (২৫) নামের এক যুবককে গাছের সঙ্গে বেঁধে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। রবিবার (২৬ জুলাই) দুপুরে পূবাইল থানার খিলগাঁও এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। 

মৃত জুয়েল ওই এলাকার জুলমত আলীর ছেলে। দিনদুপুরে এমন হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। 

স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবারের লোকজন জানান, কয়েকদিন আগে একই এলাকার রুস্তম আলীর অটোরিকশা থেকে চারটি ব্যাটারি চুরির অভিযোগ ওঠে জুয়েলের বিরুদ্ধে। স্থানীয়ভাবে সালিশে তাকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। জরিমানার টাকা অটোরিকশার মালিক রুস্তম আলীকে বুঝিয়ে দিয়ে ঘটনাটি মীমাংসা করা হয়। রবিবার দুপুরে পূর্বের ওই ঘটনার জেরে ফের জুয়েলকে চোর আখ্যা দিয়ে অটোরিকশার মালিকসহ কয়েকজন গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখেন। পরে তাকে বেধড়ক মারধর করা হয়। একপর্যায়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

পূবাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আতিকুর রহমান জানান, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডে ট্রাকচাপায় পথচারী নিহত

নারায়ণগঞ্জ সিটি প্রতিনিধি
ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডে ট্রাকচাপায় পথচারী নিহত
সংগৃহীত ছবি

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডে রাস্তা পার হওয়ার সময় অজ্ঞাতপরিচয় একটি ট্রাকের চাপায় আবুল হোসেন (৫৫) নামের এক পথচারী নিহত হয়েছেন।

রবিবার (২৬ জুলাই) বিকেলে ফতুল্লা স্টেডিয়ামসংলগ্ন চাষাড়া-টু-সাইনবোর্ড সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

পুলিশ জানায়, আবুল হোসেন সড়ক পারাপারের সময় দ্রুতগতির একটি ট্রাক তাকে চাপা দিয়ে পালিয়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, তার বাড়ি নরসিংদী জেলায়। তবে নিহতের পূর্ণাঙ্গ পরিচয় নিশ্চিত করতে কাজ করছে পুলিশ।

খবর পেয়ে ফতুল্লা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে প্রথমে খানপুর ৩০০ শয্যা হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ ভিক্টোরিয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

ফতুল্লা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আব্দুল আজিজ জানান, নিহতের স্বজনদের খবর দেওয়া হয়েছে। তারা এলে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ হস্তান্তর করা হবে।

তিনি আরো জানান, দুর্ঘটনায় জড়িত ট্রাকটি শনাক্তে কাজ চলছে। পাশাপাশি ঘটনাস্থল ও আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনের জন্য তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

কুমিল্লায় আগুনে পুড়ল ইউএনওর বসতঘর

চৌদ্দগ্রাম (কুমিল্লা) প্রতিনিধি
কুমিল্লায় আগুনে পুড়ল ইউএনওর বসতঘর
ছবি : কালের কণ্ঠ

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে অগ্নিকাণ্ডে নোয়াখালীর রামগঞ্জ উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাজী আতিকুর রহমানের বসতঘর পুড়ে গেছে। 

রবিবার (২৬ জুলাই) দুপুরে উপজেলার চিওড়া ইউনিয়নের হান্ডা গ্রামে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। বিষয়টি বিকেলে নিশ্চিত করেন চৌদ্দগ্রাম ফায়ার সার্ভিসের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা মেহেদী হাসান।

স্থানীয় সূত্র জানায়, দুপুরে বাড়ির অন্য বাসিন্দারা কাজী আতিকুর রহমানের বসতঘর থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখে ফায়ার সার্ভিসে খবর দেন। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে ততক্ষণে ঘরের ভেতরে থাকা প্রায় সব মূল্যবান মালামাল পুড়ে যায়।

একই বাড়ির বাসিন্দা হাবিবুর রহমান বলেন, ‘আমরা দুপুরের খাবার খাওয়ার সময় হঠাৎ বসতঘরের সামনের কক্ষ থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখি। এ সময় ইউএনওর বৃদ্ধ মা ও পরিবারের সদস্যদের চিৎকারে স্থানীয়রা ছুটে এসে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। পরে ফায়ার সার্ভিস এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনলেও ঘরের সব মালামাল পুড়ে যায়।’ তার ধারণা, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত হতে পারে।

চৌদ্দগ্রাম ফায়ার সার্ভিসের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা মেহেদী হাসান বলেন, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তারা ঘটনাস্থলে রওনা দেন। তবে রাস্তা ভাঙা থাকায় পৌঁছাতে কিছুটা দেরি হওয়ায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বেড়েছে। স্থানীয়দের কাছ থেকে শর্ট সার্কিটের তথ্য পাওয়া গেলেও তদন্ত শেষে আগুন লাগার প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।

চৌদ্দগ্রাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফ হোসাইন বলেন, ‘খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেছে। প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হলেও বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।’

এ বিষয়ে ইউএনও কাজী আতিকুর রহমান বলেন, ‘আমি আমার কর্মস্থলে ছিলাম। বাড়ি থেকে আমার আত্মীয়রা মুঠোফোনে আমার টিন সেটের বসত ঘরটিতে আগুন লাগার খবর জানায়। বাড়িতে আমার বৃদ্ধ মা, ভাবী ও ছোট বাচ্চারা ছিল। সামনের রুমে হঠাৎ করে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। দ্রুত আগুন পুরো ঘরে ছড়িয়ে পড়ে। এতে ঘরের সব মালামাল পুড়ে যায়।’

উদ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে স্বামীর সঙ্গে ঢাকায় ফাহিমা, বাড়ি ফিরলেন লাশ হয়ে

শাহীন আলম, কুমিল্লা (উত্তর)
উদ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে স্বামীর সঙ্গে ঢাকায় ফাহিমা, বাড়ি ফিরলেন লাশ হয়ে
সংগৃহীত ছবি

উদ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্ন ছিল ফাহিমার। অনলাইনে নিজের হাতে তৈরি কেক, পোশাক বিক্রি করে একদিন বড় ব্যবসায়ী হবেন, সংসারে সচ্ছলতা ফেরাবেন, ছোট্ট পরিসরে শুরুও করেছিলেন। এমন স্বপ্ন বুকে নিয়ে গ্রামের মেয়ে ফাহিমা আক্তার মাত্র দেড় মাস আগে স্বামীর সঙ্গে রাজধানীর উত্তর বাড্ডার ভাটারা এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় উঠেছিলেন। কিন্তু সে স্বপ্ন থেমে গেল একটি মর্মান্তিক দুর্ঘটনায়। স্বামী, ছোট ভাগ্নিসহ গ্রামের বাড়িতে ফিরল সেই ফাহিমার মরদেহ।

গত ২১ জুলাই ভোর ৪টার দিকে রাজধানীর নতুন বাজারের ১০০ ফিট সড়কের একটি ৬ তলা ভবনের নিচতলায় গ্যাস লাইনের লিকেজ থেকে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে। এতে দগ্ধ হন ফাহিমা আক্তার (২১), তার স্বামী আনোয়ার হোসেন শাহীন (২৪) ও ভাগ্নি হাফসা (৮)। পরে তাদের উদ্ধার করে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসা দেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় আনোয়ার হোসেন শাহীন, শুক্রবার সকালে ভাগ্নি হাফসা এবং শনিবার সন্ধ্যায় ফাহিমা আক্তার মারা যায়।

মৃত ফাহিমা আক্তার কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলার গোমতী আবাসিক এলাকার গোলাম হোসেনের ছোট মেয়ে। সে উপজেলার জাফরগঞ্জ মীর আব্দুল গফুর ডিগ্রি কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করে অনার্সে ভর্তি হয়েছিলেন। পাশাপাশি অনলাইন ফেসবুকে একটি পেজ খুলে হাতের তৈরি কেক ও পোশাক বিক্রি করতেন। 

গত বছরের ১৯ সেপ্টেম্বর আনোয়ার হোসেন শাহীনের সঙ্গে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয় ফাহিমার। আনোয়ার হোসেন দেবীদ্বার উপজেলার গুনাইঘর উত্তর ইউনিয়নের বাঙ্গুরী গ্রামের মীর্জা আলী ব্যাপারীর ছেলে। তিনি ঢাকায় একটি পোশাকের শোরুমে সেলম্যান হিসেবে চাকরি করতেন। তাদের সঙ্গে ঢাকায় আসে ফাহিমার বড় বোনের আট বছরের মেয়ে হাফসা। হাফসা আক্তার উপজেলার ফতেহাবাদ ইউনিয়নের সুলতানপুর গ্রামের মো. বাবুল মিয়ার মেয়ে।

এদিকে একই পরিবারের তিনজনের এমন মর্মান্তিক মৃত্যুর খবরে দেবিদ্বারের গ্রামের বাড়ি বাঙ্গুরি এলাাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া, স্বজনদের আহাজারি আর কান্নায় ভারি হয়ে ওঠে বাতাস। পরে শুক্রবার সন্ধ্যায় মৃত আনোয়ার হোসেন শাহীন ও শিশু হাফসার মরদেহ একটি লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্সে করে গ্রামের বাড়ি বাঙ্গুরী এলাকায় নিয়ে আসা হয়। পরে রাত ৮টার দিকে জানাজা শেষে শাহীনকে বাঙ্গুরী গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে ও শিশু হাফসাকে নিজ বাড়ি সুলতানপুর গ্রামের কবরস্থানে দাফন করা হয়। 

অন্যদিকে শনিবার সন্ধ্যায় মারাও যাওয়া ফাহিমা আক্তারের মরদেহ রাতেই গ্রামের বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। পরে আজ রবিবার (২৬ জুলাই) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে দেবিদ্বার নিউ মার্কেট এলাকার চানমিয়া মার্কেট মাঠে জানাজা শেষে বাঙ্গুরী এলাকার একই কবরস্থানে স্বামী শাহীনের পাশে দাফন করা করা হয়।

মৃত ফাহিমার ভাবি মোসা. শামীমা আক্তার কালের কণ্ঠকে বলেন, এমন মৃত্যু আমরা মেনে নিতে পারছি না। এটি মৃত্যু নয়, এটি হত্যাকাণ্ড। বাড়ির মালিক অবহেলা না করলে আমার ননদ, তার স্বামী ও ভাগনি বেঁচে যেত। 

মৃত ফাহিমার বাবা গোলাম হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, ১১ মাস আগে পারিবারিকভাবে মেয়ের বিয়ে হয়। পড়ালেখার পাশাপাশি অনলাইনে টুকটাক বেচাবিক্রি করত। প্রায়ই বলত অনেক বড় উদ্যোক্তা হবে। কিন্তু অল্প বয়সে আমার মেয়ের জীবন চলে গেল। 

অভিযোগ করে তিনি বলেন, বাসা ভাড়ায় ওঠার পরই বাড়ির মালিককে গ্যাস লিকেজের কথা বলেছিল তারা। কিন্তু মালিক বিষয়টি গুরুত্ব দেননি। যার কারণে তিনজনের প্রাণ চলে গেল। এখানে বাড়ির মালিকের অবহেলা রয়েছে। তিনি সময়মতো ব্যবস্থা নিলে এমন দুর্ঘটনা ঘটতো না। আমি তার দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করছি।

মৃত আনোয়ার হোসেন শাহীনের বাবা মীর্জা আলী ব্যাপারী কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমার ছেলে বিয়ের কিছুদিন আগে ঢাকায় একটি কাপড়ের শো-রুমে চাকরি নিয়েছে। দেড় থেকে দুই মাস আগে ঢাকার ভাটারায় ওই বাড়িতে ভাড়ায় ওঠে তারা। আমার ছেলে আর নাই, তার মুখটা শেষবার দেখেছি, আমার ছেলে আমার আগেই দুনিয়া থেকে চলে গেছে বলেই তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন।

বাঙ্গুরী এলাকার স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. আবু হানিফ সরকার কালের কণ্ঠকে বলেন, আনোয়ার হোসেন শাহীন খুবই শান্ত প্রকৃতির ছিলেন। বিয়ের পর ঢাকায় একটি পোশাকের শো রুমে চাকরি নিয়েছিলেন তিনি। ফাহিমার সঙ্গে তার বিয়ে হয়েছে বেশিদিন হয়নি। তিনজনের এমন মর্মান্তিক মৃত্যু এলাকার কেউ মেনে নিতে পারছে না। শাহীন ও তার স্ত্রীকে গ্রামের একটি কবরস্থানে পাশাপাশি দাফন করা হয়েছে। আর শিশু হাফসাকে তার গ্রামের বাড়ি সুলতানপুরে দাফন করা হয়েছে। এ ঘটনায় যদি বাড়ির মালিকের কোনো অবহেলা থাকে তা তদন্ত করে বিচার দাবি করছি।