• ই-পেপার

২৫ কোটি টাকা আত্মসাৎ

জাবেদসহ ৩৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা, আরো ৪ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ

চট্টগ্রাম

‘চাঁদা না পেয়ে’ ব্যবসায়ীর নির্মীয়মাণ ভবনে দুর্বৃত্তের হামলা-ভাঙচুর

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
‘চাঁদা না পেয়ে’ ব্যবসায়ীর নির্মীয়মাণ ভবনে দুর্বৃত্তের হামলা-ভাঙচুর
ভিডিও থেকে নেওয়া ছবি

চট্টগ্রামে ২০ লাখ টাকা চাঁদা না পেয়ে মো. জসিম উদ্দিন নামের এক ব্যবসায়ীর নির্মীয়মাণ ১০ তলা ভবনে ভাঙচুর ও ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে দুর্বৃত্তরা। রবিবার (২৬ জুলাই) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ১ নম্বর দক্ষিণ পাহাড়তলী ওয়ার্ডের বড় দিঘিরপাড় ভাটিয়ারী লিংক রোড সংলগ্ন আবাসিক এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, বাড়িটির মালিক মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন নামের এক ব্যবসায়ী। তিনি চাল ও চিনির পাইকারি ব্যবসা করেন। সম্প্রতি চট্টগ্রামের বড় দিঘিরপাড় এলাকায় একটি ১০ তলা ভবনের নির্মাণকাজ শুরু করেছেন। রবিবার সকালে ১০-১২ জন ব্যক্তি একটি গাড়িতে করে এসে জসিমের বাড়ির সামনে নামেন। সবার মুখে মাস্ক পরা ছিল। তারা বাড়িটিতে প্রবেশ করে দরজা-জানালা ভাঙচুর করে। এ সময় ভবনটিতে কর্মরত শ্রমিকদের মারধর করেন। পরে যাওয়ার সময় তারা ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটিয়ে পালিয়ে যায়।

চট্টগ্রাম জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (হাটহাজারী সার্কেল) কাজী মো. তারেক আজিজ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘জসিম উদ্দিনের কাছে সন্ত্রাসীরা চাঁদা চেয়েছিল বলে তিনি আমাদের জানিয়েছেন। এরপর রবিবার সন্ত্রাসীরা এসে হামলা করে ভাঙচুর করেছে। কারা এ হামলার সঙ্গে জড়িত, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। সিসিটিভির ফুটেজে দেখা গেছে, তাদের মুখে মাস্ক পরা ছিল। এর মধ্যে দুজনকে শনাক্ত করা হয়েছে। জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।’

ঘটনার সঙ্গে শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ বাহিনীর লোকজন জড়িত আছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, বাড়ির মালিক আমাদের কারো নাম বলতে পারেননি। তবে আমরা তদন্ত করে দেখছি, সাজ্জাদ বাহিনীর সম্পৃক্ততা আছে কি না।

হামলার বিষয়ে বাড়ির মালিক জসিম উদ্দিন সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, গত এক সপ্তাহ ধরে বিদেশি নম্বর থেকে ফোন করে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হচ্ছে। হামলার ঘটনায় তিনি থানায় মামলা করবেন। তবে কারা চাঁদা চেয়ে হুমকি দিয়েছেন, তা তিনি জানেন না বলে জানিয়েছেন।

উল্লেখ্য, ২ কোটি টাকা চাঁদার দাবিতে চট্টগ্রাম নগরীর চকবাজার থানার ডিডিএন নামের একটি ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানে গত ১৩ জুলাই হামলা চালায় সন্ত্রাসীরা। এর আগে সাজ্জাদের সহযোগী ডেভিড ইমন ডিডিএনের মালিকের কাছে চাঁদা চেয়ে হুমকি দিয়েছিলেন। এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। এরপর পুলিশ ও র‌্যাব অভিযান চালিয়ে ২১ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। তবে ঘটনার মূল হোতা ডেভিড ইমনকে এখনো গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ বাহিনীর বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম নগরী ও জেলার বিভিন্ন স্থানে চাঁদার দাবিতে হুমকি, গুলি ও মারধরের অভিযোগ রয়েছে।

জঙ্গল সলিমপুরের যৌথ বাহিনীর ক্যাম্পের পানিতে বিষ

নিজস্ব প্রতিবেদক ও সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
জঙ্গল সলিমপুরের যৌথ বাহিনীর ক্যাম্পের পানিতে বিষ
সংগৃহীত ছবি

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার আলোচিত জঙ্গল সলিমপুরের যৌথবাহিনীর ক্যাম্পের পানিতে বিষ প্রয়োগের অভিযোগ উঠেছে। পানির নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়। যে স্থানে বিষ মেশানো হয়েছে সেখান থেকে বিষের একটি খালি কৌটাও উদ্ধার করেছে পুলিশ।

রবিবার (২৬ জুলাই) দুপুরে বিষয়টি কালের কণ্ঠকে নিশ্চিত করেন জেলা পুলিশ সুপার মাসুদ আলম। তিনি বলেন, আজ সকালে সকালে পানিতে ফেনা ও দুর্গন্ধ পাওয়া যায়। পানির দায়িত্বে যিনি রয়েছেন তিনি দুর্গন্ধ পেয়ে পানির ট্যাংও ঢাকনা খুলে দেখেন ফেনাও ভাসছে। তাৎক্ষণিক তিনি সব বাহিনীকে পানি ব্যবহার থেকে বিরতে থাকতে সতর্ক করেন। আমাদেরও টিম গিয়ে পানির নমুনা সংগ্রহ করেছে। টেনে নেওয়া পানির লাইনের একটা জায়গায় বিষের খালি কৌটা পাওয়া গেছে।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটি অন্তর্ঘাতমূলক অপরাধ। মামলা দায়ের হচ্ছে। তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

জানা গেছে, উপজেলার সলিমপুর ইউনিয়নের জঙ্গল সলিমপুর আলীনগর এলাকায় অবস্থিত পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা যে পানি পান করেন রবিবার সকালে সে পানি গ্লাসে নেওয়ার পর তাতে সাদা ফেনা এবং বিষাক্ত গন্ধ পাওয়া যায়। এতে উদ্বিগ্ন হয়ে পুলিশ সদস্যরা পানি পান না করায় কারো কোন বিপদ ঘটেনি। 

প্রসঙ্গত, সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্য খ্যাত সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরকে দখল মুক্ত করতে প্রশাসনের নানামুখী প্রচেষ্টা বাধাগ্রস্ত করতে বিভিন্ন ষড়যন্ত্র করে আসছে একটি মহল। ইতোমধ্যে জঙ্গল সলিমপুরের আলিনগর এলাকা পুলিশ, র‌্যাব ও বিজিবির সমন্বয়ে গঠিত যৌথ বাহিনীর একটি অস্থায়ী ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে। কিছুদিন আগে ক্যাম্পে গুলি চালিয়ে স্থাপনা ভেঙে দেয়া হয়।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সড়ক যোগাযোগ নিরবিচ্ছিন্ন করতে ছয়টি সড়ক নির্মাণের কাজ করছে। এতে প্রশাসনের যাতায়াত নির্বিঘ্ন হলে সন্ত্রাসীরা আস্তানায় ফিরতে পারবে না বলে সংশ্লিষ্টদের অভিমত। 

যৌথবাহিনীর পানিতে বিষ মেশানো জঙ্গল সলিমপুর থেকে প্রশাসনকে উচ্ছেদ চেষ্টার অংশ বলে জানায় পুলিশ।

সৌদিতে প্রতারিত

সর্বস্বান্ত হয়ে চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে ফিরলেন ৭০ প্রবাসী

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
সর্বস্বান্ত হয়ে চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে ফিরলেন ৭০ প্রবাসী
সংগৃহীত ছবি

সরকারি সব নিয়ম-কানুন মেনে বহির্গমন ছাড়পত্র নিয়ে সৌদি আরবে গিয়েও শেষ রক্ষা হয়নি ৭০ জন বাংলাদেশি প্রবাসী কর্মীর। রিক্রুটিং এজেন্সি ও কফিলের (মালিক) প্রতারণায় কাজ না পেয়ে অবৈধ হয়ে পড়ার পর সে দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর হাতে আটক হয়ে দীর্ঘদিন জেল খেটে অবশেষে নিঃস্ব অবস্থায় আউটপাস নিয়ে দেশে ফিরেছেন তারা।

রবিবার (২৬ জুলাই) সকাল ৮টা ১০ মিনিটে সালাম এয়ারের একটি বিশেষ ফ্লাইটে (ওভি ৪০১) প্রবাসীরা চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছান।

 

ফেরত আসা প্রবাসীরা জানান, তারা সবাই দালাল ও নিবন্ধিত এজেন্সির মাধ্যমে মোটা অঙ্কের টাকা ঋণ করে ৩ মাসের ভিসা নিয়ে সৌদি আরবে যান। দালাল ও এজেন্সির প্রতিশ্রুতি ছিল সৌদিতে পৌঁছানোর পর তিন মাসের মধ্যে কফিল বা কাজের নিয়োগকর্তা তাদের আকামা নবায়ন করে দেবেন। তবে সৌদিতে পা রাখার পর কোনো মালিকের দেখা মেলেনি, কিংবা চুক্তি অনুযায়ী কাজও পাননি তারা। ফলে তিন মাসের মেয়াদ শেষ হতেই সে দেশের আইনের দৃষ্টিতে অবৈধ হিসেবে গণ্য হন এই প্রবাসীরা।

ময়মনসিংহের আসাদ জানান, দেড় বছর আগে স্থানীয় দালালের কথায় বিশ্বাস করে খাবার হোটেলের কাজে তিনি সৌদি গিয়েছিলেন। কথা ছিল মালিক বিমানবন্দর থেকে নিয়ে যাবেন, কিন্তু বিমানবন্দর থেকে কেউ তাকে নিতে আসেনি। প্রথম দিন থেকেই তিনি সেখানে অবৈধ হয়ে পড়েন। লুকিয়ে কিছুদিন ভবন নির্মাণের কাজ করলেও মজুরি পাননি ঠিকমতো। ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে আজ শূন্য হাতে দেশে ফিরে দিশাহারা তিনি।

একইভাবে সাড়ে চার লাখ টাকা খরচ করে তিন মাসের কাজের অনুমতিপত্র নিয়ে সৌদি গিয়েছিলেন চট্টগ্রামের মো. রাকিব। বিএমইটির কার্ড ও বহির্গমন ছাড়পত্র থাকলেও চুক্তি অনুযায়ী কাজ পাননি তিনি। তিন মাস কর্মহীন থাকার পর আকামা নবায়ন করতে না পেরে ২০ দিন কারাবন্দি থাকতে হয় তাকে। দালাল ও এজেন্সির প্রতি অন্ধ বিশ্বাসের খেসারত দিয়ে আজ সর্বস্বান্ত হয়ে দেশে ফিরতে হয়েছে তাকে।

নরসিংদীর রাজিব মিয়ার গল্পটাও একই রকম। পরিচ্ছন্নতাকর্মীর কাজের কথা বলে তাকে পাঠানো হলেও সেখানে গিয়ে মালিক বা কাজ কোনোটারই দেখা পাননি। দেশ থেকে টাকা আনিয়ে কয়েক মাস চলার পর ১৫ দিন জেল খেটে অবশেষে ৫ মাসের মাথায় খালি হাতে ফিরতে হয়েছে তাকে। ভুক্তভোগীরা জানান, সৌদি কারাগারগুলোতে এমন হাজার হাজার নথিহীন বাঙালি কর্মী মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন।

চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বিশেষ পুলিশ সুপার (ইমিগ্রেশন) মো. মনিরুজ্জামান প্রবাসীদের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে জানান, বিমানবন্দর হয়ে অবৈধ অভিবাসন বন্ধে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী সর্বদাই কঠোর অবস্থানে রয়েছে। তবে নিয়মনীতি মেনে গিয়েও প্রতারিত হওয়া অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। তিনি প্রবাস গমনেচ্ছুদের যেকোনো এজেন্সির প্রতিশ্রুতি বা দালালের কথা বিশ্বাস করার আগে সরকারের স্বীকৃত উৎস ও শর্তাবলি যথাযথভাবে যাচাই-বাছাই করার পরামর্শ দেন।

চট্টগ্রাম বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ এবং ইমিগ্রেশন পুলিশের সহায়তায় ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম ক্ষতিগ্রস্ত প্রবাসীদের পাশে দাঁড়ায়। ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) এবং ব্র্যাকের যৌথ অর্থায়নে পরিচালিত ‘প্রত্যাশা-২’ প্রকল্পের আওতায় নিঃস্ব হয়ে ফেরা এই কর্মীদের তাৎক্ষণিক জরুরি খাবার এবং নিজ নিজ এলাকায় নিরাপদে পৌঁছানোর উদ্দেশে নগদ যাতায়াত খরচ হস্তান্তর করা হয়।

বিএমইটির তথ্যানুযায়ী, ২০২৫ সালে কাজের উদ্দেশ্যে ১১ লাখ ৩০ হাজার ৭৫৭ জন বাংলাদেশি বিদেশে গেছেন, যার মধ্যে কেবল সৌদি আরবেই গেছেন ৭ লাখ ৫০ হাজার ৯৬৭ জন। তবে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান ভূ-রাজনৈতিক সংকট ও অবৈধ অভিবাসনবিরোধী কঠোর নীতির কারণে বিশাল এই শ্রমবাজার এখন হুমকির মুখে পড়ছে।

উল্লেখ্য, ২০১৭ সাল থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত দেশের তিনটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ৪৫ হাজারেরও বেশি ক্ষতিগ্রস্ত বিদেশফেরত অভিবাসীকে জরুরি সহায়তা দিয়েছে ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম, যার মধ্যে কেবল চট্টগ্রামেই এই সহায়তা পেয়েছেন ৫ হাজারের বেশি প্রবাসী কর্মী।

সাবেক রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে অভিযোগ যাচাই-বাছাই করে সিদ্ধান্ত : আইনমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
সাবেক রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে অভিযোগ যাচাই-বাছাই করে সিদ্ধান্ত : আইনমন্ত্রী
সংগৃহীত ছবি

জনদাবিকে গুরুত্ব দেওয়ার পাশাপাশি কেউ অন্যায়ের শিকার হোক, সেটা সরকার চাইবে না বলে মন্তব্য করেছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেছেন, ‘সদ্যোবিদায়ি রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে অভিযোগ যাচাই-বাছাই করে সরকার সঠিক সিদ্ধান্ত নেবে। এতটুকু ভরসা সরকারপ্রধান ও আমাদের ওপর রাখতে হবে।’

রবিবার (২৬ জুলাই) দুপুরে চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির নবাগত আইনজীবীর ৫ দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।

আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান বলেন, ‘সরকার একদিকে যেমন জনদাবিকে গুরুত্ব দেবে, আবার কেউ অন্যায়ের শিকার হোক, তা-ও চাইবে না। সুতরাং বিষয়টি আমরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে কী করণীয় আছে, সেটা সরকার যথাসময়ে সিদ্ধান্ত নেবে।’

নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি নিয়োগ সংবিধানের ১২৩-এর ২ অনুচ্ছেদ অনুসারে পদত্যাগের দিন থেকে ৯০ দিনের মধ্যে হওয়ার কথা। সংবিধানের বিধান অনুযায়ীই পরবর্তী কার্যক্রম পরিচালিত হবে।’

পদত্যাগী রাষ্ট্রপতির চিকিৎসার জন্য বিদেশযাত্রায় কোনো নিষেধাজ্ঞা বা আইনগত বাধা আছে কি না, তা জানতে চান সাংবাদিকরা। এর জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘ওটা হোম মিনিস্ট্রি জানবে। এগুলো কনফিডেনশিয়াল বিষয়, এটা পাবলিকলি এভাবে আমরা বলতে পারব না। কার নিষেধাজ্ঞা আছে, সেটা রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার স্বার্থে যথাসময়ে প্রকাশ করা হবে।’

পিরোজপুরের একটি প্রকল্পের উদাহরণ টেনে আইনমন্ত্রী অভিযোগ করে বলেন, ‘সেখানে একজন এমপি ছিলেন, নাম ছিল মহারাজ। বিগত ফ্যাসিস্ট আমলে শুধু স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকার কাজ কাগজে-কলমে দেখানো হলেও বাস্তবে কোনো কাজ হয়নি। এক ইঞ্চি রাস্তা নির্মাণ হয়নি, এক বিন্দু বালু পড়েনি, এক ছটাক সিমেন্ট পড়েনি, এক কেজি রড পড়েনি। মহারাজসহ সেখানকার কর্মকর্তারা যোগসাজশ করে সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকার কাজ দেখিয়ে সেই অর্থ লুটপাট করেছেন।’ 

মন্ত্রী আরো বলেন, ‘আর কত কোটি টাকার কাজ যে বেগমপাড়ায় গেছে, তার কোনো হিসাব নেই। বিশ্ববিখ্যাত টাইম ম্যাগাজিন তাদের একটি প্রতিবেদনে বলেছে, গত ১৬ বছরে বাংলাদেশ থেকে ডকুমেন্টেড উপায়ে ২৩৪ বিলিয়ন ডলার অর্থ পাচার হয়েছে। এমন একটি চোরাবালির পথ পেরিয়ে আমরা এখন গণতন্ত্রের মহাসড়কের দিকে প্রবেশ করেছি।’

চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির আয়োজিত এ কর্মশালায় প্রায় এক হাজার ৫৪ জন নবীন আইনজীবী অংশ নেন। অনুষ্ঠানে আইনজীবীদের পেশাগত নৈতিকতা, দায়িত্ববোধ ও সামাজিক মর্যাদা রক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। 

চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি তারিক আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান প্রমুখ।