সিরাজগঞ্জ জেলায় নদীর পানি কিছুটা কমতে শুরু করলেও ভরা যমুনা নদী যেন আগ্রাসী হয়ে উঠেছে। এ কারণে সিরাজগঞ্জ সদর, কাজিপুর, বেলকুচি, চৌহালী ও শাহজাদপুরের ৫টি উপজেলার নদী তীরবর্তী এলাকায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। তবে কাজিপুর, চৌহালী ও শাহজাদপুর উপজেলার চরাঞ্চলগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এসব উপজেলার বেশকিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বসতবাড়ি-গাছপালা ও নদীতীরের চরাঞ্চল নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, শনিবার (২৫ জুলাই) রাতে চৌহালী উপজেলার খাষকাউলিয়া ইউনিয়নের পশ্চিম জোতপাড়া এলাকায় ভয়াবহ নদী ভাঙ্গন শুরু হয়। মুহূর্তের মধ্যে কে, কে পশ্চিম জোতপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সম্পূর্ণ ও জনতা উচ্চ বিদ্যালয়ের আংশিক এবং অন্তত ১০টি বসতভিটা নদীতে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। এছাড়াও একই উপজেলার বাঘুটিয়া ও খাসপুখুরিয়া ইউনিয়নের চরাঞ্চলে দীর্ঘদিন যাবত ভাঙন শুরু হয়েছে।
পশ্চিম জোতপাড়া এলাকায় ভাঙনের সংবাদ পেয়ে সিরাজগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য আমিরুল ইসলাম আলিম, চৌহালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার নুরুল আমিন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা রবিবার দুপুরে ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করেন। পাউবোর পক্ষ হতে ভাঙনরোধে ঘটনাস্থলে জিওব্যাগ ও জিওটিউব ফেলা হচ্ছে।
এদিকে, কাজিপুর উপজেলার চরগিরিশ ইউনিয়নের চরগিরিশ ও ভেটুয়া এলাকায় বেশ কিছুদিন নদীভাঙন শুরু হয়েছে। স্থানীয় ইউপি সদস্য আল আমিন বলেন, ভাঙনের কবলে পড়ে গত এক মাসে অন্তত: ২ শতাধিক বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ভাঙনের মুখে পড়ায় পশ্চিম চরগিরিশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নিলামে বিক্রি করা হয়েছে। আর কালিকা খ প্রকাশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্থাপনাগুলো অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। চরগিরিশ বাজার নদীতে বিলীন হয়েছে। ভাঙনের মুখে পড়েছে সরকারি ফ্লাট সেন্টার।
অপরদিকে, শাহজাদপুর উপজেলার সোনাতনী ইউনিয়নের ধীতপুর, কুরসী ও শ্রীপুর এলাকায় বেশকিছু দিন যাবত ভাঙন শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে এসব এলাকার বেশকিছু আবাদি জমি, বসতভিটা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বিলীন হয়েছে। অনেকে বসতবাড়ি হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছে।
সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোখলেছুর রহমান বলেন, গুরুত্বপূর্ণ কোন স্থানে ভাঙন দেখা দিলে সেখানে সংস্কার কাজ করা হচ্ছে। তবে বাজেট না থাকায় চরাঞ্চলের নদীতীরের ভাঙন স্থান সমূহে জরুরি সংস্কার কাজ করা সম্ভব হচ্ছে না।






