ফেসবুকে পরিচয় থেকে দুই বছরের প্রেম। বিয়ের আশ্বাস দিয়ে একই ছাদের নিচে বসবাস। এরপর মধ্যপ্রাচ্য পাড়ি দিয়েও বজায় রেখেছিলেন যোগাযোগ। কিন্তু সৌদি আরব থেকে দেশে ফিরেই বদলে গেলেন তরুণ—প্রেমিকাকে বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে বিচ্ছিন্ন করে দিলেন সব যোগাযোগ।
শেষ পর্যন্ত কোনো উপায় না পেয়ে বিয়ের দাবিতে সেই প্রেমিকের কুমিল্লা চৌদ্দগ্রামের বাড়িতে গিয়ে অনশনে বসেছেন রংপুরের পীরগঞ্জের এক তরুণী। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) রাত থেকে উপজেলার উজিরপুর ইউনিয়নের কোমারডোগা গ্রামে প্রেমিক রাকিবুল ইসলাম রাকিবের (২৫) বাড়িতে অবস্থান নিয়েছেন তিনি।
ঘটনা জানাজানি হলে এলাকাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। অভিযুক্ত রাকিব কোমারডোগা গ্রামের আবুল হাসেমের ছেলে। খবর পেয়ে প্রেমিকা ফেনসী আক্তার মিমকে (২২) একনজর দেখতে উৎসুক জনতার ভিড় জমেছে রাকিবদের বাড়িতে। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে অভিযুক্ত রাকিব বাড়ি থেকে পালিয়ে গেছেন।
জানা গেছে, প্রায় দুই বছর আগে ফেসবুকে রংপুর জেলার পীরগঞ্জ উপজেলার ইবরাহিমপুর গ্রামের মৃত জাহিদুল ইসলামের মেয়ে ফেনসী আক্তার মিমের পরিচয় হয় রাকিবের সঙ্গে। পরিচয় থেকে শুরু হয় প্রেম। একপর্যায়ে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে গাজীপুরের বাইপাস এলাকা এবং পরবর্তীতে কুমিল্লার পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে একসঙ্গে বসবাস শুরু করেন তারা।
বিয়ের জন্য ক্রমাগত চাপ দিলে রাকিব নানা অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করতে থাকেন। এর মধ্যেই প্রায় এক বছর আগে চাকরির উদ্দেশ্যে সৌদি আরব পাড়ি জমান তিনি। বিদেশে থাকা অবস্থাতেও নিয়মিত যোগাযোগের পাশাপাশি দেশে ফিরে মিমকে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘরে তোলার আশ্বাস দেন রাকিব।
গত ১৮ জুলাই ছুটিতে দেশে ফেরেন রাকিব। দেশে পৌঁছানোর দিনও মিমের সঙ্গে ফোনে দীর্ঘ সময় কথা বলেন তিনি। তবে বাড়িতে পৌঁছানোর পরই তার আচরণে পরিবর্তন আসে। মিমকে বিয়ে করা সম্ভব নয় জানিয়ে তার সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ বন্ধ করে দেন রাকিব।
নিরুপায় হয়ে মঙ্গলবার রাতে রংপুরের পীরগঞ্জ থেকে সোজা কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে রাকিবের বাড়িতে উপস্থিত হন মিম। উপস্থিতি টের পেয়ে কৌশলে বাড়ি ছেড়ে সটকে পড়েন রাকিব।
বুধবার (২২ জুলাই) সকালে সরেজমিন দেখা যায়, রাকিবের বসতঘরের সামনে চেয়ারে বসে অনশন করছেন ওই তরুণী। পাশে উৎসুক মানুষের ভিড়।
অনশনরত ফেনসী আক্তার মিম বলেন, ‘রাকিব বিয়ের আশ্বাস দিয়ে আমার সব কিছু শেষ করেছে। সে আমাকে গাজীপুর ও কুমিল্লায় বাসা ভাড়া নিয়ে রেখেছিল। তার পরিবারও আমাদের সম্পর্কের বিষয়ে জানত, তারা পদুয়ার বাজারের বাসায় আসা-যাওয়া করত। কিন্তু এখানে আসার পর তারা আমার সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করছে। রাকিব যদি আমাকে বিয়ে না করে, তবে আমার আত্মহত্যা করা ছাড়া কোনো পথ নেই।’
অভিযুক্ত রাকিবের বাবা আবুল হাসেম দাবি করেন, মেয়েটির আগমন পরিবারের জন্য বিব্রতকর। তিনি বলেন, ‘আমার ছেলের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক ছিল কি না বা ঘটনার সত্যতা কতটুকু, তা রাকিব না থাকা পর্যন্ত আমরা নিশ্চিত হতে পারছি না।’
এ বিষয়ে কথা বলতে রাকিবের ব্যক্তিগত মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে সাংবাদিক পরিচয় পাওয়ার পরপরই তিনি কলটি কেটে দিয়ে ফোন বন্ধ করে দেন।
স্থানীয় ইউপি সদস্য (মেম্বার) মো. মামুন বলেন, ‘খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে তরুণীর সঙ্গে কথা বলেছি। সৌদি ফেরত রাকিবের সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ও আশ্বাসের প্রমাণ পাওয়া গেছে। তবে অভিযুক্ত যুবক পালিয়ে যাওয়ায় এখনই আমরা কোনো সামাজিক সমাধানের দিকে যেতে পারছি না।’