kalerkantho

বুধবার । ৯ আষাঢ় ১৪২৮। ২৩ জুন ২০২১। ১১ জিলকদ ১৪৪২

লিচুতে রঙিন মঙলবাড়িয়া গ্রাম

অনলাইন ডেস্ক   

১৫ মে, ২০২১ ১৭:০৬ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



লিচুতে রঙিন মঙলবাড়িয়া গ্রাম

গোলাপি রঙয়ের লিচু থোকায় থোকায় ঝুলছে বাগানে। ছবিটি আজ শনিবার সকালে মঙলবাড়িয়া গ্রাম থেকে তোলা। ছবি-কালের কণ্ঠ

পরিবারের চাহিদা মেটাতে একসময় বাড়ির আঙিনায় চাষ হতো লিচু। আধুনিক প্রযুক্তির কল্যাণে এখন বাণিজ্যিক ভিত্তিতে লিচু চাষ করছেন চাষিরা। প্রত্যাশা অনুযায়ী সাফল্য পাওয়ায় গ্রামের শতভাগ মানুষই এখন লিচু চাষের সঙ্গে জড়িত। শুধু লিচু চাষ করেই ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটিয়েছে এ গ্রামের কয়েক শ মানুষ। গ্রামটি এখন লিচুর গ্রাম হিসেবে পরিচিত। লাল ও গোলাপি রঙের লিচুতে পুরো গ্রামটি এখন রঙিন। থোকায় থোকায় বাহারি লিচু সবার মন কাড়ছে। সেই সঙ্গে লিচুর ম ম গন্ধ আর ছোট ছোট পাখির কিচিরমিচির শব্দ এবং দর্শক-ক্রেতাদের পদচারণে গ্রামটি মুখরিত। কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার মঙলবাড়িয়া গ্রামের চিত্র এটি। উপজেলা সদর থেকে প্রায় দেড় কিলোমিটার পূর্ব দিকে এগোলেই এমন দৃশ্য নজরে পড়বে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, গ্রামজুড়েই বাড়ির আঙিনা ও বাড়ির সামনের কাঁচা-পাকা সড়কের দুই পাশে সারি সারি লিচুগাছ। সবুজ পাতার ফাঁকে ঝুলছে থোকা থোকা পাকা রঙিন লিচু। নয়নাভিরাম এ লিচু পাখি ও শিশু-কিশোররা যাতে নষ্ট করতে না পারে সে জন্য গাছের নিচে বসে পাহারা দিচ্ছেন চাষিরা। আবার সড়কের দুপাশে বসে লিচু বিক্রিও করছেন খুচরা বিক্রেতারা। এমন সৌন্দর্য একটু উপভোগ করতে বিভিন্ন এলাকা থেকে নানা বয়সী নারী-পুরুষরা ভিড় করছেন গ্রামটিতে।

উপজেলা কৃষি বিভাগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় দুই শ বছর ধরে এ গ্রামে লিচু চাষ হচ্ছে। প্রথমে স্বল্পসংখ্যক চাষি বাড়ির আঙিনায় লিচু চাষ করলেও এখন বাণিজ্যিক ভিত্তিতে লিচু চাষ করে ব্যাপক সফলতা পেয়েছেন তারা। বর্তমানে এ গ্রামটিতে চার হাজারেরও বেশি লিচুগাছ রয়েছে। যা থেকে প্রায় দুই মেট্রিক টন লিচু উৎপাদন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। প্রতিদিনই বিভিন্ন অঞ্চল থেকে শত শত পর্যটক এসে গ্রামটিতে ভিড় করছে। শুধু তাই নয়, বাগান থেকেই তারা লিচু কিনে নিয়ে যাচ্ছে। 

লিচুচাষি মো. মোখলেছুর রহমান দাদাভাই বলেন, প্রতিবছরই যথাসময়ে লিচুগাছ পরিচর্যা দিয়ে ভালো ফলনের উপযোগী করা হয়। মুকুলের সময় ঘন কুয়াশা আর হালকা বৃষ্টিতে মুকুল ঝরে পড়ায় এ বছর ফলন কিছুটা কম হয়েছে। তাই তার বাগানটি এবার এক লাখ টাকা দাম করছেন ব্যাপারীরা। 

লিচু চাষি শামীম শাহ জানান, লিচুর ফলন কম হওয়ায় তার বাড়ির আঙিনার ১৬টি লিচুগাছ এ বছর দুই লাখ ২০ হাজার টাকায় বিক্রি করেছেন তিনি। 

লিচুর ব্যাপারী মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, প্রতিকূল আবহাওয়ার পরও ফলন খুব একটা খারাপ হয়নি। লিচু এখনো পুরোপুরি পরিপক্ব না হলেও ঈদের কারণে লিচু বিক্রি পুরোপুরি শুরু হয়ে গেছে। বর্তমানে প্রতি ১০০ লিচু ৩৫০-৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে লিচুর দাম আরো বাড়বে বলে তিনি জানিয়েছেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সাইফুল হাসান আলামিন বলেন, মঙলবাড়িয়ার মাটি লিচু চাষের জন্য উপযোগী। এ গ্রামের উৎপাদিত লিচু অত্যন্ত সুস্বাদু। প্রতিটি লিচুই গোলাপি রঙের। শাঁস মোটা, রসে ভরপুর, গন্ধও অতুলনীয়। এ গ্রামের লিচু আগাম জাতের হওয়ায় এর চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। কৃষি বিভাগ থেকে লিচু উৎপাদনের ক্ষেত্রে চাষিদের যাবতীয় পরামর্শ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।



সাতদিনের সেরা