কুমিল্লার দেবীদ্বারে অষ্টম শ্রেণির এক মাদরাসাছাত্রীকে (১৫) প্রেমের প্রস্তাবে রাজী করাতে না পেরে সড়ক থেকে অটোরিকশাযোগে তুলে নিয়ে নিজ ঘরে পালাক্রমে ধর্ষণের অভিযোগে দুই যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
রবিবার (১৯ জুলাই) বিকেল ৫টায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এবং তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার ‘ডালপাড় বিলের’ মাঝ থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তাররা হলেন, দেবীদ্বার পৌরএলাকার বারেরা গ্রামের মো. রমিজ মিয়ার ছেলে মো. সবুজ মিয়া (২৪), ও একই গ্রামের আবুল হোসেনের ছেলে মো. ইসমাইল (২৯)। তারা সম্পর্কে একে অপরের খালাতো ভাই।
স্থানীয় সূত্র জানায়, গত ৪ জুলাই সকাল সাড়ে ৮টায় কুমিল্লা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কের দেবীদ্বার পৌর এলাকার বারেরা গ্রামের ফুলগাছতলা বাস স্টেশন থেকে ভুক্তভোগী কিশোরীকে তুলে নেয় অভিযুক্তরা।
ঘটনাটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে দালালের মাধ্যমে তিন লাখ টাকার বিনিময়ে ভুক্তভোগীর দাদীর সঙ্গে ঘটনাটি মীমাংসার উদ্যোগ নেয় অভিযুক্তরা।
এ দিকে বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হলে, ঘটনার চার দিন পর ৮ জুলাই পুলিশ ভুক্তভোগী ও ভুক্তভোগীর মা-বাবাকে থানায় ডেকে নেয়। পরে ওই দিন দুপুরে ভুক্তভোগী মা বাদী হয়ে যুবক সবুজ ও ইসমাইলকে অভিযুক্ত করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা করেন। পরে আজ অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
এ বিষয়ে অভিযানে নেতৃত্বদানকারী দেবীদ্বার থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ‘গোপন সংবাদ এবং তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় অভিযুক্তদের অবস্থান নিশ্চিত করে অভিযানে যাওয়া হয়। অভিযুক্তরা কসবার ডালটার বিলের মাঝখানে একেবারে নির্জন এলাকায় একটি খুপড়ি ভাড়া করে দিনের বেলায় অবস্থান করত এবং রাতের বেলায় অন্যত্র চলে যেত। আমাদের উপস্থিতি টের পেয়ে ওরা বিলে ঝাঁপ দিয়ে পালাবার চেষ্টা করে। ওই সময় আমরাও নৌকা থেকে ঝাপিয়ে পড়ে তাদের গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হই।’
দেবীদ্বার থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান (ওসি) বলেন, ‘মামলা দায়েরের পর থেকেই তাদের গ্রেপ্তার অভিযান অব্যাহত রাখি এবং মামলা দায়েরের ১১ দিনের মধ্যেই তাদের গ্রেপ্তারে সক্ষম হই। এরই মধ্যে ভিক্টিমের ডাক্তারি পরীক্ষা এবং আদালতের ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট ২২ ধারায় জবানবন্দি রেকর্ড করিয়ে নেওয়া হয়েছে। অভিযুক্তদের জিজ্ঞাসাবাদ অব্যাহত আছে।’





