kalerkantho

বুধবার । ২৮ বৈশাখ ১৪২৮। ১১ মে ২০২১। ২৮ রমজান ১৪৪২

যে বাজারে অসহায়দের মেলে ফ্রি সদাই

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, ময়মনসিংহ   

১৪ এপ্রিল, ২০২১ ১৬:৫৬ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



যে বাজারে অসহায়দের মেলে ফ্রি সদাই

বাজার মানেই খাদ্য সামগ্রীসহ নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র। এছাড়াও থাকে অনেক কিছু। আর সেই জিনিস বা সদাই ক্রয়-বিক্রয় করতে আসেন ক্রেতা-বিক্রেতারা। নগদেই সকল কিছু বিকিকিনি হয়। কিন্তু বাজারের চিরচেনা চিত্রের পুরো ব্যতিক্রম ঘটেছে ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার আঠারবাড়ি এলাকায় স্থাপিত একটি বাজারে, যেখানে চাহিদামতো কিছু জিনিস অসহায়দের মাঝে দেওয়া হচ্ছে বিনামূল্যে। যার নাম ‘ফ্রি হাট’। এইরকম বাজারটির উদ্যোক্তা স্থানীয় ‘মুক্তির বন্ধন ফউন্ডেশন’ নামে একটি সংগঠন। গতকাল বুধবার সকাল থেকেই এ বাজার চালু হয়েছে। এ হাট রমজান মাসজুড়েই সপ্তাহে একদিন খোলা রাখা হবে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, গতকাল বুধবার সাড়ে পাঁচশ পরিবারকে এই খাদ্যসামগ্রী দেওয়া হয়। বিনামূল্যে পণ্যের মধ্যে ছিল লাউ, মিষ্টি কুমড়া, আলু, ঢেঁড়শ, টমেটো, মাছ ও খেজুর। তাছাড়াও রয়েছে পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে শিশুদের জন্য বিভিন্ন ধরনের খেলনা। সকাল ১০টার দিকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে আঠারবাড়ি ইউনিয়নের ইরা গ্যাস স্টেশন চত্বরে বিনামূল্যের হাট বসানো হয়েছে। হাটে গিয়ে দেখা যায়, সুশৃঙ্খল পরিবেশ বিরাজ করছে। চত্বরের এক পাশে প্যান্ডেলের নিচে রাখা টেবিলে তাজা মাছ, থরে থরে সাজানো নানা প্রকার সবজি, বৈশাখি মেলার খেলনা ইত্যাদি রাখা হয়েছে। ওই হাটে আগত নারী-পুরুষ ও শিশুদের হাতে তাদের পছন্দমতো পণ্য তুলে দিচ্ছে ফাউন্ডেশনের স্বেচ্ছাসেবকরা। কিছু তরুণকে দেখা গেল, তাপমাত্রা মাপার পাশাপাশি স্বাস্থ্যবিধি পালন করার বিষয়ে হাটুরের নজরদারি করছেন।

আঠারবাড়ি ইউনিয়নের সরাতি গ্রাম থেকে বিনামূল্যের হাটে এসেছেন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী গাজিউর রহমান। তিনি চার-পাঁচ পদের সবজি, একটি তাজা মাছ ও নাতীর জন্য খেলনা নিয়েছেন। তিনি টাটকা মাছ পেয়ে চিৎকার দিয়ে বলেন, মাশাল্লাহ! বাজারে জিনিস যারা মাগনা দিছে তাঁরারে যেন আল্লায় ভালা করে। শারীরিক প্রতিবন্ধী নিঝুম (১৯) ফ্রি জিনিস পত্র পেয়ে বলেন, এই জিনিস দিয়া কয়েক দিন চলবো। আবুল হাসেম বলেন, সরকারি জিনিস কইদ্যা আয়ে কইদ্যা যায় টের পাই না। কিন্তু এই ভাইয়েরা (মুক্তির বন্ধন ফউন্ডেশন) গত বছরও দিছে, আমরা পাইছিলাম। এইবারও পাইলাম। সহিলহাটি গ্রামের লোকমান হোসেন (৫৫) জানান, গত সপ্তাহে এক মাত্র ভরসা বোরো ফসল নষ্ট হওয়ায় চোখে অন্ধকার দেখছেন। রোজা উপলক্ষে বাজার সদাই করেন নাই। এই অবস্থায় মুক্তির বন্ধন ফাউন্ডেশনের সদস্যরা তাকে খুজে বের করে বাজারে এনে প্রয়োজনীয় সবকিছু  ফ্রি দিয়েছে। 

মুক্তির ফাউন্ডেশনের কর্মসূচি সংগঠক অনিক কুমার নন্দী বলেন, করোনা সংক্রমণের সময়ে বিপাকে পড়া হতদরিদ্র মানুষকে রমজান উপলক্ষে সাহায্য করা হচ্ছে। প্রত্যেক জায়গায় এ ধরনের ফ্রি হাট বসিয়ে লোকজনকে সহায়তা করার জন্য ধনাঢ্য ব্যক্তিদের এগিয়ে আসা দরকার। কর্মসূচি সমন্বয়ক মো. আজহারুল ইসলাম পলাশ বলেন, হাটের কার্যক্রম রমজান মাসের পরবর্তী তিনটি বারে চলবে। চাহিদা ও অগ্রাধিকার ভিক্তিতে ফ্রি সামগ্রীতে নতুন নতুন পণ্য যুক্ত হতে পারে। 



সাতদিনের সেরা