• ই-পেপার

বিসিক শিল্পে রপ্তানি নেমেছে অর্ধেকে

  • বাড়ছে খালি প্লটের সংখ্যা

জুনে মূল্যস্ফীতি কমে ৯ দশমিক ১৬ শতাংশ

অনলাইন ডেস্ক
জুনে মূল্যস্ফীতি কমে ৯ দশমিক ১৬ শতাংশ

জুনে দেশের সার্বিক মূল্যস্ফীতি কমেছে। মূলত খাদ্যদ্রব্যের দামের নিম্নগতির কারণে এ কমতি এসেছে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, জুনে সার্বিক মূল্যস্ফীতির হার দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ১৬ শতাংশ, যা মে মাসে ছিল ৯ দশমিক ৪২ শতাংশ।

খাদ্য মূল্যস্ফীতি মে মাসের ৯ দশমিক ৬ শতাংশ থেকে কমে জুনে ৮ দশমিক ৬ শতাংশে নেমে এসেছে, যা ভোক্তাদের জন্য কিছুটা স্বস্তি বয়ে এনেছে।

অন্যদিকে খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতিও মে মাসের ৯ দশমিক ৭১ শতাংশ থেকে সামান্য কমে জুনে ৯ দশমিক ৬১ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। এতে বোঝা যায়, অর্থনীতির অন্যান্য খাতে মূল্যচাপ এখনো উচ্চ পর্যায়েই রয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক পদে পদোন্নতি নাহিদ রহমানের

অনলাইন ডেস্ক
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক পদে পদোন্নতি নাহিদ রহমানের

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক (ইডি) হিসেবে পদোন্নতি পেয়েছেন নাহিদ রহমান। সম্প্রতি তিনি এ পদে পদোন্নতি পান।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে তথ্য জানানো হয়েছে। পদোন্নতির আগে তিনি প্রেষণে দি সিকিউরিটি প্রিন্টিং করপোরেশন (বাংলাদেশ) লিমিটেডের মহাব্যবস্থাপক (ফাইন্যান্স অ্যান্ড অ্যাকাউন্টস) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

নাহিদ রহমান ১৯৯৯ সালে বাংলাদেশ ব্যাংকের জেনারেল সাইডে সহকারী পরিচালক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। এর আগে তিনি সাউথইস্ট ব্যাংকে প্রবেশনারি কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করেছিলেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকে দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ, ফরেক্স রিজার্ভ অ্যান্ড ট্রেজারি ম্যানেজমেন্ট বিভাগ, মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা বিভাগ, বাংলাদেশ ব্যাংক ট্রেনিং একাডেমি এবং ক্রেডিট গ্যারান্টি বিভাগসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিভাগে দায়িত্ব পালন করেছেন।

শিক্ষাজীবনে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফাইন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগ থেকে ফাইন্যান্সে এম.কম ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে প্রেষণে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্ট থেকে এমবিএম ডিগ্রি লাভ করেন। এছাড়া জাপান সরকারের জেডিএস স্কলারশিপের আওতায় রিৎসুমেইকান এশিয়া প্যাসিফিক ইউনিভার্সিটি থেকে ডেভেলপমেন্ট ইকোনমিক্সে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।

তিনি ইনস্টিটিউট অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের একজন ডিপ্লোমেইড অ্যাসোসিয়েট। এছাড়া ডিএফআই ও দ্য ফ্লেচার স্কুল, টাফটস ইউনিভার্সিটি-এর যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত সিডিএফপি বিষয়ে উচ্চতর পেশাগত সার্টিফিকেশন কোর্স সম্পন্ন করেছেন। ব্যাংকিং খাতে তার একাধিক গবেষণাপত্র ও প্রবন্ধ বিভিন্ন পেশাগত সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে।

খুলনার এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্ম নেওয়া নাহিদ রহমানের বাবা আতিকুর রহমান অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংকার এবং মা সেলিমা রহমান গৃহিণী। তার স্বামী মো. আলমগীর বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের একজন অধ্যাপক।

১৬৮ কনটেইনার পণ্য অনলাইন নিলামে তুলছে চট্টগ্রাম কাস্টমস

নিজস্ব প্রতিবেদক
১৬৮ কনটেইনার পণ্য অনলাইন নিলামে তুলছে চট্টগ্রাম কাস্টমস

বন্দরের কনটেইনার জট কমানো ও দীর্ঘদিন পড়ে থাকা অখালাস পণ্য দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে ১৬৮ কনটেইনার পণ্য অনলাইন নিলামে তুলছে চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউস। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) জানিয়েছে, জুলাইয়ে দুটি ই-অকশনের মাধ্যমে এসব পণ্য বিক্রি করা হবে।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) এনবিআরের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিশেষ ই-অকশন নং-০৮/২০২৬-এর আওতায় ৭৬টি লটে ৯৩ কনটেইনার এবং ই-অকশন নং-০৭/২০২৬-এর আওতায় ৫৫টি লটে ৭৫ কনটেইনার পণ্য বিক্রি হবে। এতে কেমিক্যাল, বিটুমিন, যন্ত্রপাতি, কাপড়, কাগজ, গৃহস্থালি সামগ্রীসহ বিভিন্ন শিল্প ও ভোগ্যপণ্য রয়েছে।

এনবিআর জানায়, নিলাম প্রক্রিয়া ডিজিটাল পদ্ধতিতে হবে। আগ্রহী বিডাররা পণ্য পরিদর্শন করতে পারবেন—ই-অকশন নং-০৭/২০২৬-এর পণ্য ১৩ থেকে ২০ জুলাই এবং বিশেষ ই-অকশন নং-০৮/২০২৬-এর পণ্য ১৬ থেকে ২৩ জুলাই পর্যন্ত দেখা যাবে।

অনলাইনে দরপত্র জমার শেষ সময় ই-অকশন নং-০৭/২০২৬-এর জন্য ২২ জুলাই বিকেল ৩টা এবং বিশেষ ই-অকশন নং-০৮/২০২৬-এর জন্য ২৬ জুলাই বিকেল ৩টা। দরপত্র ২২ জুলাই বিকেল সাড়ে ৩টায় এবং ২৭ জুলাই সকাল ১১টায় উন্মুক্ত করা হবে।

এনবিআরের মতে, এ উদ্যোগ চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা বাড়ানো, কনটেইনার জট কমানো এবং জাতীয় সম্পদের কার্যকর ব্যবস্থাপনায় সহায়ক হবে।

চামড়া খাত থেকে ১০ বিলিয়ন ডলারের বেশি আয়ের লক্ষ্য : মুক্তাদির

বাসস
চামড়া খাত থেকে ১০ বিলিয়ন ডলারের বেশি আয়ের লক্ষ্য : মুক্তাদির

বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, বাংলাদেশে উৎপাদিত কাঁচা চামড়া থেকে তৈরি চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য রপ্তানির মাধ্যমে বছরে ১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার পর্যন্ত আয় করা সম্ভব।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) জাতীয় সংসদে চট্টগ্রাম-১৫ আসনের বিরোধীদলীয় সদস্য শাহজাহান চৌধুরীর উত্থাপিত জরুরি জনগুরুত্বসম্পন্ন মনোযোগ আকর্ষণ নোটিশের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমানে বাংলাদেশ তার চামড়াশিল্পের সম্ভাবনার মাত্র ০ দশমিক ২৬ শতাংশ কাজে লাগাতে পারছে। দীর্ঘদিনের বিদ্যমান সমস্যাগুলোর সমাধান করা গেলে উৎপাদন ও রপ্তানি ১২ থেকে ১৪ গুণ পর্যন্ত বাড়ানো সম্ভব।’

তিনি বলেন, ‘প্রায় ২০ বছর আগে বিদেশি ক্রেতাদের কমপ্লায়েন্স বা পরিবেশগত ও মান-সংক্রান্ত শর্ত কঠোর না থাকায় দেশের নন-কমপ্লায়েন্ট ট্যানারিগুলোও কাঁচা চামড়া রপ্তানি করতে পারত। কিন্তু বর্তমানে কমপ্লায়েন্স একটি প্রধান শর্তে পরিণত হওয়ায় কাঁচা চামড়া রপ্তানি মারাত্মক সংকটে পড়েছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘সাভার চামড়া শিল্পনগরীর কেন্দ্রীয় বর্জ্য পরিশোধনাগার (সিইটিপি) দক্ষ পেশাদার প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পরিচালিত না হলে আন্তর্জাতিক বাজারে ক্রমবর্ধমান কমপ্লায়েন্স মানদণ্ডের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলা বাংলাদেশের চামড়াশিল্পের জন্য কঠিন হয়ে পড়বে। হাজারীবাগ থেকে সাভারে ট্যানারি স্থানান্তরের কাজ এখনো পুরোপুরি সম্পন্ন হয়নি, কারণ সেখানে গুরুত্বপূর্ণ পরিবেশগত অবকাঠামো এখনো কার্যকরভাবে পরিচালিত হচ্ছে না।’

মুক্তাদির বলেন, ‘এসব মানদণ্ড পূরণে সরকার সিইটিপিকে পুরোপুরি কার্যকর করার উদ্যোগ নিয়েছে।’ তিনি জানান, ২৫ হাজার ঘনফুট পানি পরিশোধনের সক্ষমতা নিয়ে সিইটিপি স্থাপন করা হলেও বর্তমানে এটি ১৪ হাজার ঘনফুটের বেশি পানি পরিশোধন করতে সক্ষম নয়।

মন্ত্রী বলেন, রপ্তানি আয়ের দিক থেকে বাংলাদেশের চামড়া শিল্প দ্বিতীয় বৃহত্তম খাত হলেও এলডব্লিউজি সনদের অভাবে সাভার চামড়া শিল্পনগরীর কারখানাগুলো যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) খ্যাতনামা আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডগুলোর কাছে চামড়াজাত পণ্য রপ্তানি করতে পারছে না।

তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের প্রধান আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডগুলোর কাছে চামড়া রপ্তানির জন্য এলডব্লিউজি সনদ একটি বাধ্যতামূলক শর্ত। এই নিরীক্ষায় পরিবেশগত মান প্রতিপালন, রাসায়নিক ব্যবস্থাপনা এবং পণ্যের উৎস শনাক্তযোগ্যতা মূল্যায়ন করা হয়। ফলে প্রিমিয়াম বাজারে প্রবেশের জন্য এ সনদ অর্জন বাংলাদেশের রপ্তানিকারকদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

মন্ত্রী বলেন, দেশের চামড়া রপ্তানি ধারাবাহিকভাবে নিম্নমুখী। ২০০৯-১০ অর্থবছরে চামড়া রপ্তানি থেকে আয় ছিল ২২ কোটি ৬০ লাখ মার্কিন ডলার, যা পাঁচ বছর পর বেড়ে ৪০ কোটি ডলারে পৌঁছায়। কিন্তু এরপর থেকে রপ্তানি দ্রুত কমতে শুরু করে। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে তা নেমে আসে ১৮ কোটি ৩০ লাখ ডলারে এবং ২০২৪-২৫ অর্থবছরে আরো কমে দাঁড়ায় ১২ কোটি ৮০ লাখ ডলারে। চলতি অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে চামড়া রপ্তানি হয়েছে মাত্র ৯ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলারের।