• ই-পেপার

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান নতুন উত্তেজনায় ঝুঁকিতে হরমুজ প্রণালি

পশ্চিমবঙ্গে গণধর্ষণের পর  কিশোরী হত্যায় প্রধান অভিযুক্ত পুলিশের গুলিতে নিহত

অনলাইন ডেস্ক
পশ্চিমবঙ্গে গণধর্ষণের পর  কিশোরী হত্যায় প্রধান অভিযুক্ত পুলিশের গুলিতে নিহত
সংগৃহীত ছবি

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বারুইপুরে এক কিশোরীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও হত্যার মামলার প্রধান অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডল পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাস্থলে নিয়ে গিয়ে তদন্তের অংশ হিসেবে ঘটনার পুনর্গঠন করার সময় তিনি পালানোর চেষ্টা করলে এ ঘটনা ঘটে। একই মামলায় আরো এক অভিযুক্ত কবীর মোল্লাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ নিয়ে এ ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তির সংখ্যা বেড়ে চারজনে দাঁড়িয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার গভীর রাতে প্রভাস মণ্ডলকে বারুইপুরের সূর্যপুর এলাকায় নেওয়া হয়। তদন্তকারীরা সেখানে ঘটনার বিভিন্ন দিক যাচাই ও পুনর্গঠন করছিলেন। তদন্তকারী কর্মকর্তাদের দাবি, এ সময় প্রভাস হঠাৎ পুলিশের কাছ থেকে একটি বন্দুক ছিনিয়ে নিয়ে পুলিশ সদস্যদের লক্ষ্য করে গুলি চালান। এরপর তিনি ঘটনাস্থল থেকে পালানোর চেষ্টা করলে আত্মরক্ষার্থে পুলিশ পাল্টা গুলি চালায়। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাকে দ্রুত বারুইপুর হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এর আগে মামলার তদন্তে একটি সিসিটিভি ফুটেজের সূত্র ধরে প্রভাস মণ্ডলকে শনাক্ত করে পুলিশ। ওই ফুটেজে তাকে নিহত কিশোরীর সঙ্গে হেঁটে যেতে দেখা যায় বলে জানিয়েছে তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র। পরে প্রভাসকে গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কিশোরীর বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করা হয় বলে দাবি পুলিশের। এদিকে একই মামলায় কবীর মোল্লা নামে আরও এক অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, মামলার সঙ্গে জড়িত অন্যদের খুঁজে বের করতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
 

খামেনির মরদেহ গ্রহণ অনুষ্ঠানে যোগ দিলেন পেজেশকিয়ান ও ইরাকি প্রধানমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক
খামেনির মরদেহ গ্রহণ অনুষ্ঠানে যোগ দিলেন পেজেশকিয়ান ও ইরাকি প্রধানমন্ত্রী
সংগৃহীত ছবি

ইরানের ইসলামী বিপ্লবের প্রয়াত নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনির শেষ বিদায় অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ইরাকে অবস্থান করছেন ইরানের রাষ্ট্রপতি মাসুদ পেজেশকিয়ান। এর আগে, খামেনির মরদেহ ইরাকের নাজাফ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছালে সেখানে তাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনা জানানো হয়। এ সময় বিমানবন্দরে ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জাইদি উপস্থিত ছিলেন।

বুধবার (৮ জুলাই) নাজাফ ও পবিত্র নগরী কারবালায় খামেনির জানাজার মিছিল অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে, যেখানে লাখ লাখ ইরাকি শিয়া মুসলমান অংশ নেবেন বলে আশা করা হচ্ছে। এই অনুষ্ঠান উপলক্ষে ইরাকে বুধবার সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।

রাষ্ট্রপতি পেজেশকিয়ান কেবল জানাজায় অংশ নিতেই ইরাকে যাননি, বরং ইরাকি সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক আলোচনাও করেছেন। বাগদাদে ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জাইদির সঙ্গে এক বিশেষ বৈঠকে পেজেশকিয়ান এই জানাজা ও অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানের চমৎকার আয়োজনের জন্য ইরাকি সরকার ও জনগণকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। বৈঠকে ইরানের রাষ্ট্রপতি ইরাকের এই আতিথেয়তাকে দুই দেশের মধ্যকার গভীর ঐতিহাসিক, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় সম্পর্কের প্রতিফলন এবং ইসলামী সংহতির প্রতীক হিসেবে বর্ণনা করেছেন। দুই দেশের কৌশলগত ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরো গভীর করতে পেজেশকিয়ান ইরাকের প্রধানমন্ত্রীকে তেহরান সফরের আমন্ত্রণ জানান। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই সফর রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক সহযোগিতায় একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে। সাম্প্রতিক আঞ্চলিক ঘটনাবলির পরিপ্রেক্ষিতে পেজেশকিয়ান মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা, নিরাপত্তা ও স্থায়ী শান্তি বজায় রাখার ওপর জোর দেন। আন্তর্জাতিক চুক্তি প্রসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের নাম উল্লেখ করে তিনি বলেন, অতীতে দেখা গেছে যুক্তরাষ্ট্র তার প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেনি। তবে ইরান কোনো চুক্তি লঙ্ঘন বা প্রতিষ্ঠিত সমঝোতা থেকে বিচ্যুত হবে না।

ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জাইদি বলেন, ইরাকি সরকার ও জনগণের খামেনির জানাজায় অংশগ্রহণ করা একটি নৈতিক ও ধর্মীয় কর্তব্য। তিনি প্রয়াত ইরানি নেতাকে ‘ইসলামী বিশ্বের একজন রূপান্তরকারী ব্যক্তিত্ব’ হিসেবে বর্ণনা করেন এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সুপ্রতিবেশীসুলভ সম্পর্কের ভিত্তিতে ইরানের সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।

মার্কিন আইসিই এজেন্টের গুলিতে মেক্সিকান অভিবাসী নিহত

অনলাইন ডেস্ক
মার্কিন আইসিই এজেন্টের গুলিতে মেক্সিকান অভিবাসী নিহত
ছবি : রয়টার্স

যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে চলমান দেশব্যাপী কঠোর অভিযানের মধ্যে মার্কিন অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থার (আইসিই) এক এজেন্টের গুলিতে লরেঞ্জো সালগাদো আরাউজো নামের এক মেক্সিকান নাগরিক নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকালে হিউস্টনের পূর্ব প্রান্তে আইসিই-এর একটি অভিযান চলাকালীন এই গুলির ঘটনা ঘটে। তবে নিহতের পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দারা এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন।

আইসিই এক বিবৃতিতে জানায়, লরেঞ্জো সালগাদোকে থামানোর চেষ্টা করা হলে তিনি কর্মকর্তাদের নির্দেশ অমান্য করেন এবং নিজের গাড়ি দিয়ে আইসিই-র একটি গাড়িতে ধাক্কা দেন। এরপর একজন কর্মকর্তাকে চাপা দেওয়ার চেষ্টায় গাড়িটিকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করলে আত্মরক্ষার্থে ওই কর্মকর্তা গুলি চালান। তবে নিহতের পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দারা এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। 

এই ঘটনার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর অভিবাসন নীতি এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, একটি সাদা ভ্যানের পাশে রাস্তায় শুয়ে থাকা সালগাদোর ওপর দুজন এজেন্ট ঝুঁকে আছেন এবং ভ্যানের অপর পাশে আরো দুজনকে হাতকড়া পরা অবস্থায় মাটিতে ফেলে রাখা হয়েছে।

স্থানীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, নিহত লরেঞ্জো সালগাদো দীর্ঘ ২৭ বছর ধরে হিউস্টনের বাসিন্দা ছিলেন এবং ১৯৯৩ সাল থেকে তার টেক্সাসের ড্রাইভিং লাইসেন্স ছিল। তার ছেলে রোনাল্ডো সালগাদো জানান, ঘটনার সময় তার বাবা ওই এলাকায় কর্মী (দিনমজুর) খুঁজছিলেন।

গত এক বছরে বেশ কয়েকটি ঘটনায় আইসিই-র ‘আক্রমণের শিকার হওয়ার’ প্রাথমিক দাবি পরবর্তী সময়ে ভিডিও ফুটেজের মাধ্যমে আদালতে মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা রন্ডা স্মিথ রয়টার্সকে বলেন, ‘লোকটি কঠোর পরিশ্রমী ছিল। খুনি-ধর্ষকদের পেছনে না লেগে একজন পরিশ্রমী মানুষের পেছনে কেন লাগা হলো?’ অন্য এক বাসিন্দা জিনা ড্যানিয়েলসেন সরাসরি ট্রাম্প প্রশাসনকে দায়ী করে বলেন, ‘শুধু কাগজপত্র না থাকার কারণে একজন মানুষকে মেরে ফেলা হলো, এটা অবশ্যই বন্ধ হতে হবে।’ ঘটনাস্থলে ফুল ও মোমবাতি জ্বালিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেছেন স্থানীয়রা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বুধবার (৮ জুলাই) রাতে আরো বড় ধরনের বিক্ষোভের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

এই ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ এবং এফবিআই মাঠে নেমেছে। টেক্সাসের ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি সিলভিয়া গার্সিয়া এবং ‘লীগ অব ইউনাইটেড ল্যাটিন আমেরিকান সিজেনস’-এর সভাপতি রোমান পালোমারেস একটি স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। হিউস্টন পুলিশ জানিয়েছে, এটি সম্পূর্ণ একটি ফেডারেল অপারেশন ছিল এবং এর সাথে স্থানীয় পুলিশের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।

ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পর দেশজুড়ে বড় আকারের নির্বাসন অভিযান শুরু হয়। বর্তমানে মার্কিন অভিবাসন কর্মকর্তারা প্রতিদিন প্রায় ২,০০০ অভিবাসীকে আটক করছেন। এই নতুন অভিযান শুরুর পর থেকে ফেডারেল অভিবাসন কর্মকর্তাদের গুলিতে এখন পর্যন্ত অন্তত ছয়জন নিহত হয়েছেন।

হরমুজে দুই জাহাজে হামলা, সমুদ্রপথে ঝুঁকি ‘গুরুতর’

অনলাইন ডেস্ক
হরমুজে দুই জাহাজে হামলা, সমুদ্রপথে ঝুঁকি ‘গুরুতর’
ছবি: রয়টার্স

হরমুজ প্রণালির কাছে মঙ্গলবার কাতারের একটি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) বহনকারী ট্যাংকার এবং একটি সৌদি অপরিশোধিত তেলবাহী সুপারট্যাংকার হামলার শিকার হয়েছে। এতে সমুদ্রপথে জাহাজ চলাচলের ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় সামুদ্রিক নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ ঝুঁকির মাত্রা ‘গুরুতর’ ঘোষণা করেছে। ঘটনার পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামও প্রায় ছয় শতাংশ বেড়েছে।

এ হামলার ফলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান নাজুক সমঝোতা নতুন করে চাপের মুখে পড়েছে। তিন মাসের যুদ্ধের পর দুই দেশ হরমুজ প্রণালি আবার চালু রাখতে সম্মত হলেও সর্বশেষ ঘটনায় সেই পরিস্থিতি আবারও অনিশ্চিত হয়ে উঠেছে। এই যুদ্ধ বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে বড় বাধা তৈরি করেছিল। তবে মঙ্গলবার হামলার পরপরই হোয়াইট হাউজ উত্তেজনা কমানোর উদ্দেশ্যে ইরানকে তেল বিক্রির যে বিশেষ অনুমতি দিয়েছিল, তা বাতিল করে দেয়। জুন মাসে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার চুক্তির অংশ হিসেবে বহু বছরের নিষেধাজ্ঞা শিথিল করে এই অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। অনুমতি বাতিলের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে সতর্ক করে বলেছে, হরমুজ প্রণালিতে তাদের কর্মকাণ্ড ‘কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়’। এর ‘পরিণতি’ হবে।

অবসিডিয়ান রিস্ক অ্যাডভাইজার্সের ব্যবস্থাপনা প্রধান ব্রেট এরিকসন বলেন, এটি যুক্তরাষ্ট্রের কোনো ছোট সিদ্ধান্ত নয়। তার ভাষায়, এই অনুমতিটি ছিল একটি গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা। কারণ এর মাধ্যমে ইরান যুক্তি দেখাতে পারত যে, হরমুজ প্রণালির ওপর থেকে অবরোধ তুলে নেওয়ার যথেষ্ট কারণ বা ভিত্তি তৈরি হয়েছে। হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর নেতৃত্বাধীন যৌথ সামুদ্রিক তথ্য কেন্দ্র সমুদ্রপথে নিরাপত্তা ঝুঁকির মাত্রা ‘উল্লেখযোগ্য’ থেকে বাড়িয়ে ‘গুরুতর’ করেছে। ১৫ জুনের পর এই প্রথম ঝুঁকির মাত্রা এতটা বাড়ানো হলো। সংস্থাটি জানিয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে ইচ্ছাকৃত শত্রুতামূলক হামলার আশঙ্কা রয়েছে। তাই সব জাহাজকে সর্বোচ্চ সতর্কতা নিয়ে চলাচল করতে হবে। সংস্থার মতে, নাবিকদের সমুদ্রে নৌবাহিনীর বাড়তি উপস্থিতি, চলাচলের পথে জট এবং ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) বাড়তি জিজ্ঞাসাবাদের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।

গত এক সপ্তাহে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল কিছুটা বাড়লেও পরিস্থিতি এখনো স্বাভাবিক হয়নি। যুদ্ধ শুরুর আগের তুলনায় বর্তমানে জাহাজ চলাচল মাত্র এক-তৃতীয়াংশ থেকে এক-পঞ্চমাংশ পর্যায়ে রয়েছে। জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান ক্লেপলারের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার হরমুজ প্রণালি দিয়ে মাত্র ১৬টি জাহাজ চলাচল করেছে। গত প্রায় তিন সপ্তাহের মধ্যে এটি সর্বনিম্ন। গত এক সপ্তাহে প্রতিদিন গড়ে ২৫ থেকে ৪০টি জাহাজ এই পথ ব্যবহার করেছে। অথচ সংঘাত শুরুর আগে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১২৫টি জাহাজ হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচল করত।

সাম্প্রতিক হামলার পর যুদ্ধবিরতি দীর্ঘস্থায়ী হবে- তেলের বাজারের এমন ধারণা দুর্বল হয়ে পড়েছে। লেনদেন শেষে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ছয় শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৭৬ ডলারে পৌঁছেছে। র‍্যাপিডান এনার্জি গ্রুপের সভাপতি বব ম্যাকন্যালি বলেন, ‘গতকাল থেকে তিনটি জাহাজে ইরানের হামলা এবং ইরানের তেল বিক্রির অনুমতি বাতিল হওয়া দেখাচ্ছে, যুদ্ধবিরতি তেলের বাজার যতটা শক্ত ও স্থায়ী ভেবেছিল, বাস্তবে তা ততটা নয়।’ একটি সূত্র জানায়, কাতারের এলএনজি বহনকারী 'আল রেকাইয়াত' ট্যাংকারটির বাম পাশে আঘাত লাগে। আরেকটি সূত্রের দাবি, হামলার পর ইঞ্জিন কক্ষে আগুন লাগায় জাহাজটি বিস্ফোরণের ঝুঁকিতে পড়ে। তবে জাহাজের নাবিকরা নিরাপদ ছিলেন এবং তাদের সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এ হামলার সম্পূর্ণ আইনি দায় ইরানের। ঘটনার প্রতিবাদ জানাতে দেশটি ইরানের উপ-রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে।

২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এই প্রথম কাতারের কোনো এলএনজি ট্যাংকার হামলার শিকার হলো। উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের আলোচনায় মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে কাতার। আল রেকাইয়াতের মালিক নাকিলাত, কাতারএনার্জি, কাতারের আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম কার্যালয় এবং যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। অন্যদিকে, সৌদি পতাকাবাহী সুপারট্যাংকার 'ওয়েদিয়ান' হরমুজ প্রণালি পার হওয়ার সময় ওমান উপকূলের কাছে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সৌদি আরবের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এ হামলার জন্য তারা পুরোপুরি ইরানকে দায়ী করছে। জাহাজটি সৌদি জাহাজ পরিবহন প্রতিষ্ঠান বাহরির মালিকানাধীন। তবে প্রতিষ্ঠানটি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, যেসব বাণিজ্যিক জাহাজ ইরানের সঙ্গে সমন্বয় করে চলাচল করছে না বা জাহাজের অবস্থান শনাক্তকারী ব্যবস্থায় কারসাজি করছে, তারা ঝুঁকিতে পড়ছে। তার দাবি, এসব কর্মকাণ্ড হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করার ইরানের প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করছে। তিনি আরো বলেন, নিজেদের দেওয়া অঙ্গীকার বাস্তবায়নে কাজ করছে ইরান। এ হামলার দায় এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ স্বীকার করেনি। তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তা জানান, প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী ইরান দুটি বাণিজ্যিক জাহাজে গুলি চালিয়েছে। এদিকে মঙ্গলবার পরে হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাওয়ার সময় আরেকটি ট্যাংকারে ড্রোন হামলা হয়। এতে জাহাজটি সামান্য ক্ষতিগ্রস্ত হলেও নির্ধারিত গন্তব্যের উদ্দেশে যাত্রা চালিয়ে যায় বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ নৌবাহিনী-সংশ্লিষ্ট সংস্থা ইউকেএমটিও।

উপসাগরীয় অঞ্চলে ট্যাংকারে পণ্য পরিবহনের গড় দৈনিক ভাড়া বেড়ে প্রায় তিন লাখ ডলারে পৌঁছেছে। গত সপ্তাহে এই ভাড়া ছিল দুই লাখ ডলারেরও কম। জাহাজ দালাল প্রতিষ্ঠান বিআরএস জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি বারবার খোলা ও বন্ধ হওয়ার কারণে মধ্যপ্রাচ্যের ট্যাংকার বাজারে অস্থিরতা বাড়ছে। এতে দুই দিকেই জাহাজ চলাচল অনিয়মিত হয়ে পড়ছে। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিয়ে এখনো যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনা চলছে। যুক্তরাষ্ট্র চায়, ইরান যেন পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে। গত সপ্তাহে দুই দেশের নতুন দফার আলোচনা শেষ হলেও কোনো স্থায়ী চুক্তি হয়নি। সোমবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র হয় ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তিতে পৌঁছাবে, না হলে "কাজ শেষ করবে"। তিনি আবারও সামরিক পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দেন। এর জবাবে মঙ্গলবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যুক্তরাষ্ট্র হুমকি অব্যাহত রাখলে কোনো চূড়ান্ত চুক্তির জন্য নতুন আলোচনা শুরু হবে না।