• ই-পেপার

লাইন তলিয়ে যাওয়ায় কক্সবাজার রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ

জুলাইযোদ্ধা হওয়ার আবেদনের ২০০টিই ভুয়া

অনলাইন ডেস্ক
জুলাইযোদ্ধা হওয়ার আবেদনের ২০০টিই ভুয়া

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহত দাবি করে নতুন করে তিন হাজারের বেশি আবেদন জমা পড়লেও যাচাই-বাছাইয়ে প্রায় ২০০টি আবেদন সম্পূর্ণ ভুয়া বলে শনাক্ত হয়েছে। একই সঙ্গে প্রায় ৬০০ আবেদনে তথ্যগত অসংগতি, একই ব্যক্তির একাধিক আবেদন এবং শহীদের নামে আহত হিসেবে পুনরায় আবেদনসহ নানা অনিয়ম ধরা পড়েছে। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

দৈনিক সমকালের প্রতিবেদনে বলা হয়, মোট ২,৩৮৮টি আবেদন পুলিশের বিশেষ শাখা (এসবি) ও পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) তদন্ত করে। তদন্ত শেষে ১,৫৯০ জনের তথ্য সঠিক পাওয়া গেছে এবং তাদের জুলাইযোদ্ধা হিসেবে গেজেটভুক্ত করার প্রক্রিয়া চলছে। বর্তমানে তিনটি ক্যাটেগরিতে গেজেটভুক্ত জুলাইযোদ্ধার সংখ্যা ১৪,৩৭০। নতুন ১,৫৯০ জন যুক্ত হলে এই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াবে ১৫,৯৬০।

তবে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় সূত্র বলছে, এখনও অনেকের আবেদন পাওয়া যাচ্ছে। যাচাই শেষে তথ্যের সত্যতা পাওয়া গেলে তারাও জুলাইযোদ্ধা হিসেবে নথিভুক্ত হবেন। এ ছাড়া কেউ অসত্য তথ্য দিয়ে গেজেটভুক্ত হয়েছেন– এমন তথ্য পাওয়া গেলে তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে।

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এর আগে গেজেট প্রকাশ হলে তালিকায় থাকা কিছু নাম নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়। ১৩ জন শহীদ ও ২১৯ জন আহত ‘জুলাইযোদ্ধা’র নাম গেজেট থেকে বাতিল করা হয়। নতুন করে এমন বিতর্ক এড়াতেই আবেদনকারীদের তথ্য গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে যাচাই-বাছাই করা হয়েছে।

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের শুরুর দিকে ‘জুলাই শহীদ ও আহত জুলাইযোদ্ধা’দের গেজেট প্রকাশের পর নতুন করে অনেকেই আহত ‘জুলাইযোদ্ধা’ দাবি করে আবেদন করেন। বিভিন্ন জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ও জুলাই গণঅভ্যুত্থান অধিদপ্তরে আবেদন জমা পড়ে। এর মধ্যে ২ হাজার ৩৮৮ জনের আবেদনের তথ্য মাঠ পর্যায়ে যাচাই করেছে এসবি ও পিবিআই। গত বছরের অক্টোবরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে জুলাইযোদ্ধাদের তথ্য যাচাই-বাছাইয়ের তদন্তের অনুরোধ জানায় মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়। নভেম্বরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গোয়েন্দা সংস্থা দুটিকে তদন্ত করে প্রতিবেদন পাঠাতে নির্দেশ দেয়। গত জুন মাসে এসব সংস্থার তদন্ত প্রতিবেদন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।

মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, গেজেট প্রকাশের পর আরো ৩ হাজার ৩১৬ জন আবেদন করেন। এর মধ্যে ২ হাজার ৩৮৮ জনের আবেদন তদন্তে পাঠানো হলে ১ হাজার ৫৯০ জনের তথ্যের সত্যতা পাওয়া গেছে। তাদের মধ্যে ৭৮৯ জনকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেমে (এমআইএস) অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আরো ২৭৬ জনের এমআইএসভুক্তির কাজ চলছে এবং ২১০ জনের যাচাই শেষ হয়েছে। সত্যতা পাওয়া বাকি আবেদনগুলোও যাচাই করা হচ্ছে। সত্যতা পাওয়া আবেদনগুলোর এমআইএস সম্পন্ন হওয়ার পর গেজেট প্রকাশ করা হবে।

তবে প্রায় ২০০ জনের আবেদন সরাসরি ভুয়া বলে তদন্তে উঠে এসেছে। বাকি প্রায় ছয়শ আবেদনের মধ্যে দুটি তদন্ত সংস্থার প্রতিবেদনে অমিল, একই ব্যক্তির একাধিক আবেদন, শহীদ হয়েও আহত হিসেবে আবেদন এবং বিভিন্ন তথ্যগত অসংগতি পাওয়া গেছে। এসব আবেদন থেকে আরো একশ’র মতো আবেদনের সত্যতা মিলতে পারে বলে জানিয়েছে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবার এবং জুলাইযোদ্ধাদের কল্যাণ ও পুনর্বাসন অধ্যাদেশ অনুযায়ী, গণঅভ্যুত্থান চলাকালে তৎকালীন সরকারের নিয়ন্ত্রণাধীন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বা ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের হামলায় নিহতদের ‘শহীদ’ এবং আহতদের ‘জুলাইযোদ্ধা’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। জালিয়াতির মাধ্যমে কাউকে শহীদ বা জুলাইযোদ্ধা হিসেবে তালিকাভুক্ত করলে সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড ও দুই লাখ টাকা বা তার বেশি অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে।

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের জুলাই গণঅভ্যুত্থান অধিশাখার যুগ্ম সচিব মোহাম্মদ ফারুক হোসেন বলেন, আবেদনকারীরা সত্যিই জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহত হয়েছেন কিনা, তা নিশ্চিত করতেই তদন্ত সংস্থার মাধ্যমে যাচাই-বাছাই করা হয়েছে। কোনো ‘ভুয়া জুলাইযোদ্ধা’ যেন গেজেটভুক্ত না হন, সেটি নিশ্চিত করার চেষ্টা করছে মন্ত্রণালয়।

যেসব কারণে অনেকের আবেদন আটকে গেল
জুলাইযোদ্ধা হিসেবে গেজেটভুক্ত হতে গত বছর ১৭ এপ্রিল আবেদন করেন মো. নাছির উদ্দিন (৩৮)। গত শুক্রবার তিনি বলেন, ২০২৪ সালের ২২ জুলাই উত্তরার ৯ নম্বর সেক্টরের হাউস বিল্ডিং এলাকায় বাঁ হাতের কনুইয়ে টিয়ারশেল ও লাঠির আঘাতে আহত হন। পরে উত্তরা আধুনিক হাসপাতালে চিকিৎসা নিলেও ভর্তি হননি এবং এ ঘটনায় কোনো মামলাও করেননি। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংযুক্ত করে আবেদন করেছেন। কেন এখনও গেজেটভুক্ত হননি, তা তিনি জানেন না।

তবে পুলিশের তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আন্দোলনে সম্পৃক্ততার কোনো ছবি বা ভিডিও নাছির দেখাতে পারেননি। শুধু ৫ আগস্ট জাতীয় পতাকা হাতে একটি ছবি দেখিয়েছেন। তিনি উত্তরা আধুনিক হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার ছবি ও ওষুধের প্রেসক্রিপশন জমা দেন। কিন্তু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নাছির ওই হাসপাতালের সহকারী প্লাম্বার হিসেবে কর্মরত। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে আহতদের চিকিৎসাসেবায় অন্যান্য কর্মচারীর মতো তিনিও সহযোগিতা করেন। কিন্তু আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়ে আহত হয়েছেন বলে কোনো তথ্য-প্রমাণ দিতে পারেননি। এ ছাড়া হাসপাতালে চিকিৎসা গ্রহণের সংরক্ষিত নথিপত্রেও তার কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। 

আহত জুলাইযোদ্ধা হিসেবে গেজেটভুক্তির জন্য মো. রিফাত ইসলাম নামে আরেকজন আবেদন করেন। পুলিশের তদন্ত প্রতিবেদনের তথ্যমতে, রিফাত আহত হওয়ার ঘটনায় কোনো মামলা হয়নি। তিনি বাঁ হাতে আঘাতপ্রাপ্ত হওয়ার যে ছবি দিয়েছেন, সেটিতে মুখাবয়ব স্পষ্ট নয়। কোনো দালিলিক প্রমাণও নেই। আহত হওয়ার পর তিনি কোনো হাসপাতালে চিকিৎসা নেননি। আঘাত পাওয়ার ৮ থেকে ৯ দিন পর একটি ফার্মেসি থেকে চিকিৎসা নেন। তবে সেই ফার্মেসিরও কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। এ ছাড়া প্রায় এক বছর পর একটি বেসরকারি হাসপাতাল থেকে কিছু অপ্রয়োজনীয় পরীক্ষা করান। রিফাতের বিরুদ্ধে একটি মামলায় সাজা ভোগের তথ্যও পেয়েছে পুলিশ।

তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, রিফাত ছাত্র আন্দোলনে আহত হয়েছেন– এমন কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তিনি অন্য কোনো সময় বা অন্য কোনো কারণে আহত হয়ে থাকতে পারেন।

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, জুলাই আন্দোলনে শহীদ হন মো. আরাফাত হুসাইন। গত বছর ১৫ জানুয়ারি মন্ত্রণালয় থেকে জুলাই শহীদদের তালিকার যে গেজেট প্রকাশিত হয় সেখানে ৮২৬ নম্বরে তার নাম অন্তর্ভুক্ত। তবে আরাফাতের নামে আবারও আহত জুলাইযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতির আবেদন করা হয়। তদন্তে এটা স্পষ্ট হওয়ায় আবেদনটি বাতিল হয়েছে।

এর আগে আবেদন যাচাই করতে গিয়ে রাজনৈতিক আবদার, সামাজিক চাপসহ নানা সমস্যার সম্মুখীন হন জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা। তাই এসবি ও পিবিআই দিয়ে তদন্তের সিদ্ধান্ত হয়। তদন্তে যুক্ত একটি গোয়েন্দা সংস্থা জানায়, নতুন আবেদনগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি হয়েছে ঢাকা বিভাগ থেকে। বিভাগের ৫৮২টি আবেদনের মধ্যে ঢাকা জেলা থেকে হয়েছে ৩৩৯টি। ময়মনসিংহ বিভাগ থেকে সবচেয়ে কম; পাঁচটি আবেদন করা হয়েছে।

তদন্ত-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা যাচাইয়ের ক্ষেত্রে আবেদনকারীর পরিচয়, ঠিকানা, পেশা, এনআইডি/জন্মনিবন্ধন, আগে গেজেটভুক্ত হওয়ার তথ্য, আহত বা শহীদ দাবির ক্ষেত্রে মামলা ও তার অবস্থা, সাক্ষী, ছবি-ভিডিও, সংবাদ ও অন্যান্য প্রমাণ সংগ্রহ করেছেন। পাশাপাশি হাসপাতালের চিকিৎসাকাল, চিকিৎসাপত্র, চিকিৎসকের বক্তব্য এবং ঘটনার ভিডিও, অডিও, ছবি বা সামাজিক মাধ্যমে আলোচনার তথ্য যাচাই করেছেন।

জানতে চাইলে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)-প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি মো. মোস্তফা কামাল বলেন, মন্ত্রণালয় থেকে যে তালিকা পাওয়া গেছে সেগুলো যাচাই-বাছাই করে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে। যাদের আবেদনপত্রের তথ্যে অসংগতি পাওয়া গেছে সেগুলো প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। মন্ত্রণালয় সেগুলো যাচাই করে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেবে।

শহীদের পরিবার ও জুলাইযোদ্ধার সুযোগ-সুবিধা
‎মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, গত সোমবার পর্যন্ত জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে ৮৪৩ জন শহীদ এবং অতি গুরুতর আহত (ক শ্রেণি) ৯৯০ জন, গুরুতর আহত (খ শ্রেণি) এক হাজার ৪১৭ ও আহত (গ শ্রেণি) ১১ হাজার ৯৬৩ জন জুলাইযোদ্ধাসহ মোট ১৪ হাজার ৩৭০ জনের গেজেট প্রকাশিত হয়েছে। স্বীকৃত আহতদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঢাকা বিভাগের এবং সবচেয়ে কম ময়মনসিংহ বিভাগের।

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিটি শহীদ পরিবারকে সঞ্চয়পত্রের মাধ্যমে এককালীন ৩০ লাখ টাকা দেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে ১০ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে; বাকি ২০ লাখ দেওয়ার প্রক্রিয়া শেষ পর্যায়ে। এ ছাড়া মাসিক ২০ হাজার টাকা ভাতাও পাচ্ছে পরিবারগুলো। ঢাকায় তাদের জন্য ফ্ল্যাট দেওয়ার একটি প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। আহতদের ক্ষেত্রে ক শ্রেণিভুক্তদের এককালীন পাঁচ লাখ ও মাসিক ২০ হাজার, খ শ্রেণিভুক্তদের এককালীন তিন লাখ ও মাসিক ১৫ হাজার এবং গ শ্রেণিভুক্তদের এক লাখ টাকা এককালীন সহায়তা ও মাসিক ১০ হাজার টাকা দেওয়া হয়। তাদের জন্য প্রশিক্ষণ সুবিধাও রয়েছে।

নানা সুযোগ-সুবিধা চালুর পর জুলাইযোদ্ধার তালিকা নিয়ে বিতর্কও উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, ৫ আগস্টের আগে সড়ক দুর্ঘটনা বা পরে মারা যাওয়া ব্যক্তিদের নামও তালিকায় এসেছে। নতুন আবেদনকারীদের চাপের কারণে সব আবেদন সরাসরি মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়।

সংশ্লিষ্টদের মতে, সুবিধা পাওয়ার আশায় অনেকেই অন্য কারণে আহত হয়েও তালিকায় নাম তুলতে চেষ্টা করেছেন। তবে এখনও অনেক প্রকৃত জুলাইযোদ্ধা তালিকার বাইরে রয়েছেন। তদন্তে ভুয়া আবেদনকারীদের পাশাপাশি প্রকৃত জুলাইযোদ্ধাদের শনাক্তও সহজ হয়েছে।

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন বলেন, নতুন আবেদনকারীদের তথ্য যাচাই-বাছাই করে গেজেটভুক্ত করা হবে। গেজেট প্রকাশের পর যেন কোনো বিতর্ক না ওঠে; প্রকৃত জুলাইযোদ্ধারাই যেন গেজেটভুক্ত হতে পারেন, সে ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

৬ বিভাগে ভারি বর্ষণের আভাস, ১৯ জেলার জন্য সতর্কবার্তা

অনলাইন ডেস্ক
৬ বিভাগে ভারি বর্ষণের আভাস, ১৯ জেলার জন্য সতর্কবার্তা

দেশের ৬ বিভাগে ভারি বৃষ্টির আভাস দিয়েছে আবহাওয়া অফিস। এ ছাড়া রাজধানী ঢাকাসহ ১৯ জেলায় ঝড়ের পূর্ভাবাস দিয়েছে সংস্থাটি। পৃথক দুই বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। 

গতকাল মঙ্গলবার দেওয়া এক বিজ্ঞপ্তি আবহাওয়া অফিস জানায়, দুপুর ৩টা থেকে পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টায় খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম, রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও ভারি (৪৪-৮৮ মি.মি. /২৪ ঘণ্টা) থেকে অতি ভারি (>৮৮ মি.মি./৪ ঘণ্টা) বর্ষণ হতে পারে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ভারি থেকে অতি ভারি বর্ষণের কারণে চট্টগ্রাম মহানগরীর কোথাও কোথাও অস্থায়ীভাবে জলাবদ্ধতাসহ চট্টগ্রাম বিভাগের পাহাড়ি এলাকার কোথাও কোথাও ভূমিধ্স হতে পারে।

এ ছাড়া, আজ বুধবার (৮ জুলাই) ভোর ৫টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরসমূহের জন্য আবহাওয়া অফিসের দেওয়া অপর এক বিজ্ঞপ্তিতে জানা যায়, রাজধানী ঢাকাসহ দেশের ১৯টি জেলার ওপর দিয়ে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে ঝোড়ো হাওয়া ও বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।

পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, রংপুর, রাজশাহী, দিনাজপুর, পাবনা, বগুড়া, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, যশোর, কুষ্টিয়া, ঢাকা, ফরিদপুর, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং সিলেট অঞ্চলসমূহের ওপর দিয়ে দক্ষিণ বা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।

এসব এলাকার নদীবন্দরসমূহকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। 

বায়ুদূষণে শীর্ষে কিনশাসা, ঢাকার বাতাস মাঝারিমানের

অনলাইন ডেস্ক
বায়ুদূষণে শীর্ষে কিনশাসা, ঢাকার বাতাস মাঝারিমানের

বিশ্বে জলবায়ু পরিবর্তন ও বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড চলায় দিন দিন বাড়ছে বায়ুদূষণ। বিশ্বের অনেক শহরের মতো রাজধানী ঢাকাও দীর্ঘদিন ধরে বায়ুদূষণের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করছে। তবে সবশেষ বায়ুর মান সূচক অনুযায়ী, শহরটির বাতাসের মান জনস্বাস্থ্যের জন্য মাঝারিমানের পর্যায়ে রয়েছে।

বুধবার (৮ জুলাই) সকালে বায়ুর মান পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্সের (আইকিউএয়ার) সূচক থেকে জানা গেছে এসব তথ্য।

আইকিউএয়ারের তথ্য থেকে জানা গেছে, সকালে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার স্কোর ৭২। এই স্কোর অনুযায়ী, বায়ুর মান মাঝারি পর্যায়ে রয়েছে। এ সময় বিশ্বের দূষিত শহরগুলোর তালিকায় ঢাকার অবস্থান ২৫তম।

একই সময়ে দূষিত শহরের তালিকায় ১৮২ স্কোর নিয়ে শীর্ষে রয়েছে ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোর রাজধানী কিনশাসা। এ ছাড়া ১৫৬ স্কোর নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে কুয়েতের কুয়েত সিটি, ১৫২ স্কোর নিয়ে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গ, ১২৯ স্কোর নিয়ে চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে পাকিস্তানের লাহোর এবং একই স্কোর নিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই রয়েছে পঞ্চম অবস্থানে।

আইকিউএয়ারের স্কোর শূন্য থেকে ৫০ ভালো হিসেবে বিবেচিত। ৫১ থেকে ১০০ মাঝারি হিসেবে গণ্য করা হয়, আর সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর বিবেচিত হয় ১০১ থেকে ১৫০ স্কোর। স্কোর ১৫১ থেকে ২০০ হলে তাকে ‘অস্বাস্থ্যকর’ বায়ু বলে মনে করা হয়।

এ ছাড়া, ২০১ থেকে ৩০০-এর মধ্যে থাকা স্কোরকে ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ বলা হয়। এ অবস্থায় শিশু, প্রবীণ এবং অসুস্থ রোগীদের বাড়ির ভেতরে এবং অন্যদের বাড়ির বাইরের কার্যক্রম সীমাবদ্ধ রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়ে থাকে। ৩০১ থেকে ৪০০-এর মধ্যে থাকা স্কোর ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ বলে বিবেচিত, যা নগরের বাসিন্দাদের জন্য গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে।

২০২৫ সালে দক্ষিণ এশিয়ায় সর্বোচ্চ এফডিআই প্রবৃদ্ধি বাংলাদেশের : আঙ্কটাড

বাসস
২০২৫ সালে দক্ষিণ এশিয়ায় সর্বোচ্চ এফডিআই প্রবৃদ্ধি বাংলাদেশের : আঙ্কটাড

২০২৫ সালে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে প্রত্যক্ষ বৈদেশিক বিনিয়োগ (এফডিআই) প্রবৃদ্ধিতে শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। এ সময় দেশে এফডিআই প্রবাহ আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৪৫ শতাংশ বেড়ে ১৭৮ কোটি মার্কিন ডলারে (১ দশমিক ৭৮ বিলিয়ন) পৌঁছেছে।

জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়ন বিষয়ক সংস্থা আঙ্কটাড-এর ‘ওয়ার্ল্ড ইনভেস্টমেন্ট রিপোর্ট ২০২৬’-এ এ তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালে বাংলাদেশে এফডিআই প্রবাহ ছিল ১২৩ কোটি মার্কিন ডলার (১ দশমিক ২৩ বিলিয়ন), যা ২০২৫ সালে বেড়ে দাঁড়ায় ১৭৮ কোটি মার্কিন ডলারে (১ দশমিক ৭৮ বিলিয়ন)। বৈশ্বিক বিনিয়োগ পরিস্থিতি চ্যালেঞ্জপূর্ণ থাকা সত্ত্বেও এ প্রবৃদ্ধি বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রতি আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের ক্রমবর্ধমান আস্থার প্রতিফলন।

প্রতিবেদনটি এমন এক সময় প্রকাশিত হয়েছে, যখন ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, বাণিজ্য অনিশ্চয়তা এবং উচ্চ অর্থ ব্যয়ের কারণে বৈশ্বিক বিনিয়োগ প্রবাহ অসম অবস্থায় রয়েছে।

এ প্রেক্ষাপটে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের শক্তিশালী এফডিআই প্রবৃদ্ধি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

যদিও মোট স্থায়ী মূলধন গঠনে এফডিআইয়ের অংশ তুলনামূলকভাবে কম, তবে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির মডেলের অন্যতম প্রধান শক্তি হিসেবে দেশীয় বিনিয়োগ এখনো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

আঙ্কটাড জানিয়েছে, উন্নয়নশীল অঞ্চলগুলোর মধ্যে ২০২৫ সালেও উন্নয়নশীল এশিয়া বিশ্বের প্রধান বিনিয়োগ গন্তব্য হিসেবে অবস্থান ধরে রেখেছে। এ অঞ্চলে এ সময় মোট ৬৪৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার এফডিআই এসেছে।

বাংলাদেশের এ সাফল্য এশিয়ার অর্থনীতিগুলোর প্রতি বিনিয়োগকারীদের ধারাবাহিক আগ্রহের বৃহত্তর আঞ্চলিক প্রবণতারই প্রতিফলন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, টানা দুই বছর পতনের পর ২০২৫ সালে বৈশ্বিক এফডিআই ৬ শতাংশ বেড়ে ১ দশমিক ৬ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে।

এ পুনরুদ্ধারের পেছনে ডিজিটাল অবকাঠামো, উৎপাদন শিল্প, জ্বালানি রূপান্তর প্রযুক্তি এবং অন্যান্য কৌশলগত খাতে বিনিয়োগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উৎপাদনশিল্প, সেবা, অবকাঠামো এবং প্রযুক্তিনির্ভর শিল্পে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের আরও ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, দেশের বৃহৎ অভ্যন্তরীণ বাজার, প্রতিযোগিতামূলক কর্মশক্তি, কৌশলগত ভৌগোলিক অবস্থান এবং চলমান অর্থনৈতিক সংস্কার ভবিষ্যতে এফডিআই প্রবৃদ্ধির জন্য শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি করেছে।

অর্ধ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি জিডিপি, শিল্পায়ন ও সংযোগ ব্যবস্থায় ধারাবাহিক অগ্রগতির ফলে বাংলাদেশ ক্রমেই দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের একটি সম্ভাবনাময় গন্তব্য হিসেবে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গুরুত্ব পাচ্ছে।