• ই-পেপার

চরম সংকটে আবাসন খাত

  • বিক্রি কমেছে ৭০ থেকে ৭৫ শতাংশ
  • পুঁজি হারাচ্ছেন নির্মাণ উপকরণ ব্যবসায়ীরা
  • টিকে থাকতে চান নীতিসহায়তা
  • মন্দা কাটাতে যুক্তরাষ্ট্র ঋণের সুদ ১ শতাংশে নামিয়েছিল

ব্যবসায় বড় বাধা আমলাতন্ত্র

নিবন্ধন, ছাড়পত্রের নামে ঘাটে ঘাটে হয়রানি আয়কর-ভ্যাট নোটিসে আতঙ্কে থাকেন ব্যবসায়ীরা

অনলাইন ডেস্ক
ব্যবসায় বড় বাধা আমলাতন্ত্র

বাংলাদেশে নতুন ব্যবসা শুরু করার ক্ষেত্রে খাতভেদে ২৩টি বা তার বেশি দপ্তর থেকে ১৫০টির মতো অনাপত্তি, লাইসেন্স বা ছাড়পত্র নিতে হয়। ট্রেড লাইসেন্স নিতে হয় সিটি করপোরেশন, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ থেকে। দিতে হয় ভূমি কর ও হোল্ডিং ট্যাক্স। সেই ট্যাক্স আবার নির্ধারণ করে জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে কমিটি।

এরপর আছে কোম্পানি নিবন্ধন, আয়কর ও ভ্যাট নিবন্ধন জটিলতা। এসবের পাশাপাশি পরিবেশ ছাড়পত্র, পরিবেশ সনদ, ফায়ার লাইসেন্স, ফায়ার লে আউট প্ল্যান, নির্মাণ অনুমোদন ও শিল্প আইআরসি-সংক্রান্ত নানা ইস্যু।

এসব ঝামেলা মোকাবিলা করে বাংলাদেশে ব্যবসা-বিনিয়োগে এখন আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন উদ্যোক্তারা। অনেকে কারখানা বন্ধ করে ব্যবসা-বাণিজ্য গুটিয়ে ফেলছেন। অনেকে কর্মসংস্থানের চিন্তা করে সামাজিক দায়বদ্ধ থেকে লোকসান দিয়েও পুরোনো ব্যবসা কোনো রকমে ধরে রেখেছেন।

বিকেএমইএর প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ হাতেম বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, সরকার নানা ধরনের নীতিসহায়তার কথা বললেও বাস্তবে ব্যবসা-বাণিজ্য অনেক কঠিন হয়ে গেছে। ব্যবসার প্রধান বাধা আমলাতন্ত্র। একটি পরিবেশ ছাড়পত্রের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে নানারকম কাগজপত্র জমা দেওয়ার পরও মাসের পর মাস ঘুরতে হয়। আর ট্রেড লাইসেন্স পাওয়ার ক্ষেত্রে হয়রানি আরও বেশি।  

তৈরি পোশাক খাতের এই ব্যবসায়ী নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, ‘আমার নিজের কারখানা স্থাপনে নারায়ণগঞ্জের একটি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ট্রেড লাইসেন্সের আবেদন পাঁচ বছর আটক রেখেছিলেন।’

বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির সভাপতি হেলাল উদ্দিন বলেন, ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের সবচেয়ে বড় হয়রানি হয় আয়কর ও ভ্যাট আদায়ে। প্রতি বছর নিয়মিত আয়কর-ভ্যাট পরিশোধ করা হলেও হঠাৎ করে পাঁচ থেকে ছয় বছর পর ব্যবসায়ীর কাছে ৫ থেকে ৬ কোটি টাকার ভ্যাট প্রাপ্তির নোটিস পাঠানো হয়। এটা দেখে অনেক ব্যবসায়ীর প্রেসার (রক্তচাপ) বেড়ে যায়। শেষে হিসাব করে দেখা যায়, প্রাপ্তির পরিমাণ হয়তো ৫ থেকে ৬ লাখ টাকা অথবা কোনো প্রাপ্তি নেই। অথচ নোটিস আসে কোটি টাকার। এ হয়রানির জন্য সরকারি কর্মকর্তাদের কোনো জবাবদিহি নেই।

দোকান মালিক সমিতির এই ব্যবসায়ী নেতা জানান, আয়করের ক্ষেত্রেও আচমকা এ ধরনের নোটিস চলে আসে-যেটি দেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের জন্য বড় আতঙ্কের বিষয়। আমাদের আবেদন- প্রতি বছরের ট্যাক্সের হিসাব সেই বছরেই নিষ্পন্ন করা হোক। পরে যেন হয়রানি করা না হয়। ব্যবসায়ীদের কাছে বাংলাদেশে ব্যবসার চিত্রটি এমনই হতাশাজনক ও আতঙ্কের। আর এ আতঙ্কজনক পরিস্থিতির জন্য সরকারি ও সেবাদানকারী সংস্থাগুলোকেই দায়ী করছেন ব্যবসায়ীরা। তারা বলছেন, ব্যবসা শুরুর পরিকল্পনায় উদ্যোক্তাদের নানা দপ্তরে ঘুরতে হয়। নানা সংস্থার হয়রানিও নানা রকম। এসব হয়রানি কমাতে হলে ঘাটে ঘাটে দিতে হয় টাকা।

জানা যায়, বিভিন্ন দপ্তরের ট্রেড লাইসেন্স প্রাপ্তির খরচ বিভিন্ন রকম। এর মধ্যে রয়েছে আয়কর ও ভ্যাট নিবন্ধন, সাইনবোর্ড খরচ, লাইসেন্স ফি ইত্যাদি। কোনো কোনো ক্ষেত্রে আবার স্থানীয় কর অর্থাৎ যে জায়গায় লাইসেন্স নেওয়া হয়, সে জায়গায় ফ্যাক্টরি বা দোকান অথবা কোনো স্থাপনা করতে চাইলে সে স্থানের অনুমোদন বাবদ খরচ। আছে ভূমি কর ও হোল্ডিং ট্যাক্স। অর্থাৎ ব্যবসা মানেই খরচের বোঝা।

ব্যবসা শুরুর এই জটিল ও দীর্ঘ প্রক্রিয়ার কারণে ‘ইজ অব ডুয়িং বিজনেস’ সূচকে বাংলাদেশের পিছিয়ে থাকার অন্যতম প্রধান কারণ। বিশ্বব্যাংকের সর্বশেষ মূল্যায়নে (২০২০) ১৯০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ১৬৮তম। যদিও বিশ্বব্যাংক এ মূল্যায়ন বন্ধ রেখেছে। তবে অবস্থার কোনো উন্নতি হয়নি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। ফলে ব্যবসা সম্প্রসারণ হচ্ছে না, বিনিয়োগও বাড়ছে না।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী- চলতি অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে (জুলাই-মার্চ) বাংলাদেশে নিট বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) কমেছে ২৩ দশমিক ৫৬ শতাংশ। আলোচ্য সময়ে বিদেশি বিনিয়োগ কমে ১ দশমিক ০৬ বিলিয়ন ডলারে নেমেছে, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ১ দশমিক ৩১ বিলিয়ন ডলার।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, যদিও সরকার ই-গভর্ন্যান্স বা ডিজিটালাইজেশনের মাধ্যমে প্রক্রিয়াগুলো সহজ করার উদ্যোগ নিয়েছে, তবু বাস্তব ক্ষেত্রে উদ্যোক্তারা এখনো নানা জটিলতার সম্মুখীন হচ্ছেন। প্রায় ৪০টি মতো সেবা দিচ্ছে বিডা। তার পরও রয়েছে নানা বাধা। কাগজপত্র অনলাইনে জমা দিলেও এগুলো পরীক্ষানিরীক্ষা ও পরিদর্শন কার্যক্রম পরিচালিত হয় ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে। আবার অনলাইন পোর্টালের কারিগরি ত্রুটির কারণে ফি প্রদান বা নথিপত্র আপলোডে উদ্যোক্তাদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়।

বর্তমানে দেশে ব্যবসার নিবন্ধন প্রক্রিয়া অনলাইনে করা গেলেও নাম ছাড়পত্র নিবন্ধন এবং লাইসেন্স পেতে সাধারণত গড়ে ১৫ থেকে ৩০ কার্যদিবস বা তার বেশি সময় লেগে যায়। ট্রেড লাইসেন্স, ট্যাক্স আইডেন্টিফিকেশন নম্বর, ভ্যাট সনদ এবং পরিবেশ ছাড়পত্রের মতো নানা অনুমোদন পেতে বিভিন্ন দপ্তরে যেতে হয়, যা সময় বাড়িয়ে দেয়। এরপর রয়েছে জমি বা সম্পত্তি নিবন্ধন এবং বিরোধ নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রতা। বিদ্যুৎ সংযোগ পাওয়া এবং কর প্রদানের ক্ষেত্রেও অনেক ধাপ পার হতে হয়। পরিবেশ ছাড়পত্র, নির্মাণ অনুমোদন, শিল্প আইআরসি এবং ফায়ার লে আউট প্ল্যান প্রাপ্তির ক্ষেত্রে বিদ্যমান আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও দীর্ঘসূত্রতা বাংলাদেশে ব্যবসা পরিচালনা এবং নতুন বিনিয়োগের ক্ষেত্রে মারাত্মক প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে।

ব্যবসায়ীরা জানান, পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে সবুজ, কমলা বা লাল ক্যাটাগরির ছাড়পত্র পেতে নির্ধারিত সময়ের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি সময় লাগে। ছাড়পত্র না পাওয়া পর্যন্ত প্রকল্পের মূল নির্মাণ কাজ বা ইউটিলিটি (গ্যাস-বিদ্যুৎ) সংযোগ নেওয়া আইনগতভাবে অসম্ভব হয়ে পড়ে। এরপর আছে নির্মাণ অনুমোদনের বিষয়। রাজউক, সিডিএ বা স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে নকশা এবং নির্মাণ অনুমোদন পেতে মাসের পর মাস, এমনকি বছরও পার হয়ে যায়। এই দীর্ঘ সময়ে জমির দাম, নির্মাণসামগ্রীর মূল্য বেড়ে যায়। ব্যাংক ঋণের সুদ বাড়তে থাকায় প্রকল্পের শুরুতেই ব্যয় বেড়ে যায় ১০ থেকে ১৫ শতাংশ। এসব কিছুর পর যখন উৎপাদনে যাবে তখন আরেক বাধা শিল্প আইআরসি (ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইমপোর্ট রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট)। আইআরসি ছাড়া শুল্কমুক্ত বা রেয়াতি হারে কাঁচামাল ও ভারী যন্ত্রপাতি আমদানি করা যায় না।

ফলে নতুন কারখানা চালুর পরও বাণিজ্যিক উৎপাদনে যেতে পারে না। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স থেকে ফায়ার সেফটি প্ল্যান বা লে আউট অনুমোদন করানোও অত্যন্ত জটিল। বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের শতভাগ কমপ্লায়েন্স নিশ্চিতকরণের নামে পরিদর্শনের দীর্ঘ প্রক্রিয়া ব্যবসাকে ঝুলিয়ে রাখে। ফায়ার লে আউট প্ল্যান এবং সেফটি নো-অবজেকশন সার্টিফিকেট ছাড়া কোনো শিল্প প্রকল্পে ঋণ ছাড় করে না।

বিকেএমইএ প্রেসিডেন্ট বলেন, সরকার বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)-এর মাধ্যমে এসব নিবন্ধন ও ছাড়পত্র দেওয়ার কার্যক্রম এক ছাতার নিচে (ওয়ান স্টপ সার্ভিস) নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েও পুরোপুরি বাস্তবায়ন করতে পারেনি। কথা ছিল, আমাদের তৈরি পোশাক খাতের এ ধরনের ক্লিয়ারেন্স নিতে পোশাক কর্র্তৃপক্ষ হিসেবে বস্ত্র অধিদপ্তর কাজ করবে, যাতে বিভিন্ন দপ্তরে দৌড়াতে না হয়। বাস্তবতা হচ্ছে, ব্যবসায়ীদের এখনো ঘাটে ঘাটে হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে, এক দপ্তর থেকে আরেক দপ্তরে দৌড়াতে হচ্ছে।

ব্যবসায় বাধা কমাতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে আজ বৈঠক : বাংলাদেশে ব্যবসা ও বিনিয়োগ সহজীকরণের লক্ষ্যে আজ রবিবার বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদিরের সভাপতিত্বে একটি সভা হওয়ার কথা রয়েছে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে। সভায় কোম্পানি নিবন্ধন, আয়কর ও ভ্যাট নিবন্ধন, ট্রেড লাইসেন্স, শিল্প নিবন্ধন, পরিবেশ সনদ, পরিবেশ ছাড়পত্র, শিল্প আইআরসিসহ বিভিন্ন সেবা সহজীকরণ ও অনুমোদন প্রক্রিয়ার সময় কমানো নিয়ে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবনা চাওয়া হয়েছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে। বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন সভায় অংশ নেবেন বলে জানা গেছে।

সূত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন

ফিনএক্সেল আয়োজিত ‘রিটেইল ব্যাংকিং ওয়েলথ ম্যানেজমেন্ট এক্সিলেন্স’ কর্মশালা

অনলাইন ডেস্ক
ফিনএক্সেল আয়োজিত ‘রিটেইল ব্যাংকিং ওয়েলথ ম্যানেজমেন্ট এক্সিলেন্স’ কর্মশালা
সংগৃহীত ছবি

‘রিটেইল ব্যাংকিং ওয়েলথ ম্যানেজমেন্ট এক্সিলেন্স’ শীর্ষক একটি প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন করেছে দেশের আর্থিক খাতের কনসালটেন্সি প্রতিষ্ঠান ফিন্যান্সিয়াল এক্সিলেন্স লিমিটেড (ফিনএক্সেল)।

শনিবার (১৬ মে) রাজধানীর একটি হোটেলে দুই দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন এবিবির চেয়ারম্যান ও সিটি ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মাসরুর আরেফিন। প্রশিক্ষণে বিভিন্ন ব্যাংক থেকে ৩০ জন ব্যাংকার অংশ নিয়েছেন।

অর্থনীতির প্রচলিত সূচকে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া কঠিন

অনলাইন ডেস্ক
অর্থনীতির প্রচলিত সূচকে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া কঠিন

দেশের অর্থনীতি বর্তমানে উচ্চ মূল্যস্ফীতি, জ্বালানি সংকট, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের চাপ ও বিনিয়োগ মন্থরতার মতো বহুমুখী চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। প্রচলিত সূচকগুলো অর্থনীতির এই তাৎক্ষণিক পরিবর্তনগুলো ধরতে ব্যর্থ হওয়ায় নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে।

শনিবার (১৬ মে) রাজধানীর ডিসিসিআই অডিটরিয়ামে ‘অর্থনৈতিক অবস্থান সূচক (ইপিআই) : ঢাকার সামষ্টিক অর্থনীতির ত্রৈমাসিক মূল্যায়ন’ শীর্ষক প্রকাশনা অনুষ্ঠানে বক্তারা এমন মন্তব্য করেন।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে ডিসিসিআই সভাপতি তাসকীন আহমেদ বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি এখন একটি কঠিন সময় পার করছে। বিশেষ করে উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে চাপ, বিনিয়োগ মন্থরতা, জ্বালানির অনিশ্চিয়তা, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ হ্রাস—সব মিলিয়ে সামষ্টিক অর্থনীতিতে এক ধরনের চাপ বিরাজ করছে।

তিনি বলেন, আমাদের প্রচলিত সামষ্টিক অর্থনৈতিক সূচক ও পরিমাপক ব্যবস্থা স্বল্পমেয়াদে অর্থনীতির প্রকৃত অবস্থা ও তাৎক্ষণিক পরিবর্তনের প্রতিফলন ঘটাতে পারছে না। ফলে পরিস্থিতি মোকাবেলায় কার্যকর সুপারিশ প্রণয়নও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এ প্রেক্ষাপটে ডিসিসিআই প্রণীত ‘ইপিআই’ একটি সময়োপযোগী উদ্যোগ, যা নীতিনির্ধারক, উদ্যোক্তা ও গবেষকদের বাস্তব অবস্থার নিরিখে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণে সহায়তা করবে।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ডিসিসিআইয়ের মহাসচিব (ভারপ্রাপ্ত) ড. এ কে এম আসাদুজ্জামান পাটোয়ারী। তিনি জানান, শিল্প খাতের ঘনত্বের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ঢাকায় এই গবেষণা পরিচালিত হয়েছে।

২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিক (জুলাই-সেপ্টেম্বর) এবং দ্বিতীয় প্রান্তিকের (অক্টোবর-ডিসেম্বর, ২০২৫) সংগৃহীত তথ্যের ওপর ভিত্তি করে ৭৬২ জন ব্যবসায়ীর মতামতের ভিত্তিতে গবেষণাটি সম্পন্ন হয়। এর মধ্যে উৎপাদন খাতের ৩৩০ জন এবং সেবা খাতের ৪৩২ জন প্রতিনিধি ছিলেন।

গবেষণার প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষন করে ড. পাটোয়ারী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে কৃষি খাতে বিশেষ করে খাদ্যপণ্য উৎপাদন কমে যাচ্ছে। অন্যদিকে জ্বালানি সংকটের কারণে শিল্প খাতের উৎপাদনে স্থবিরতা নেমে এসেছে এবং মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়ায় সেবাখাতের অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

বিদ্যমান এই সংকট উত্তরণে তিনি কয়েকটি সুপারিশ তুলে ধরেন। এর মধ্যে রয়েছে—কৃষকদের স্বার্থ সুরক্ষায় বাজারমূল্য স্থিতিশীলকরণ ও সাপ্লাই চেইন প্রক্রিয়ার উন্নয়ন, এসএমই উদ্যোক্তাদের স্বল্প সুদে ও সহজ শর্তে ঋণ সুবিধা প্রদান, শিল্পখাতে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি নিশ্চিতকরণ, অবকাঠামো উন্নয়ন, সরকারি লাইসেন্সিং সেবায় হয়রানি হ্রাস, বিদ্যমান ভ্যাট হার কমানো এবং বন্দরগুলোতে পণ্য পরীক্ষা ও খালাস প্রক্রিয়া দ্রুততর করা।

সোনার দাম আরো কমল

অনলাইন ডেস্ক
সোনার দাম আরো কমল

এক দিনের ব্যবধানে দেশের বাজারে আরো কমেছে সোনার দাম। ভরিপ্রতি ৪ হাজার ৩৭৪ টাকা কমিয়ে সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৩৮ হাজার ১২১ টাকা, যা আজ শনিবার সকাল ১০টা থেকেই কার্যকর হয়েছে। 

বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) জানায়, স্থানীয় বাজারে তেজাবী সোনার (পাকা সোনা) দাম কমার পরিপ্রেক্ষিতে এই দাম কমানো হয়েছে। 

এর আগে গতকাল শুক্রবার এক দফা কমানো হয় সোনার দাম। এ দিন ২ হাজার ২১৫ টাকা কমিয়ে ভালো মানের এক ভরি সোনার দাম ২ লাখ ৪২ হাজার ৪৯৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়। 

আরো পড়ুন
এসএসসি পরীক্ষা দেওয়া হলো না তানভিরের

এসএসসি পরীক্ষা দেওয়া হলো না তানভিরের

 

বাজুস জানায়, নতুন দাম অনুযায়ী, এখন সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনায় ৪ হাজার ৩৭৪ টাকা কমিয়ে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৩৮ হাজার ১২১ টাকা। ২১ ক্যারেটের এক ভরি সোনায় ৪ হাজার ১৪১ টাকা কমিয়ে ২ লাখ ২৭ হাজার ৩৩১ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া ১৮ ক্যারেটের এক ভরি সোনায় ৩ হাজার ৫৫৮ টাকা কমিয়ে নতুন দাম ১ লাখ ৯৪ হাজার ৮৪৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। আর সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনায় ২ হাজার ৯১৬ টাকা কমিয়ে দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৫৮ হাজার ৬৮৯ টাকা।

এর আগে গতকাল সকাল ১০টা থেকে সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনায় ২ হাজার ২১৫ টাকা কমিয়ে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয় ২ লাখ ৪২ হাজার ৪৯৫ টাকা। ২১ ক্যারেটের এক ভরি সোনায় ২ হাজার ১০০ টাকা কমিয়ে ২ লাখ ৩১ হাজার ৪৭২ টাকা নির্ধারণ করা হয়।

আরো পড়ুন
ওয়াশিংটন সংলাপে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ল ৪৫ দিন

ওয়াশিংটন সংলাপে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ল ৪৫ দিন

 

এছাড়া ১৮ ক্যারেটের এক ভরি সোনায় ১ হাজার ৮০৮ টাকা কমিয়ে দাম ১ লাখ ৯৮ হাজার ৪০৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়। আর সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনায় ১ হাজার ৪৫৮ টাকা কমিয়ে দাম নির্ধারণ করা হয় ১ লাখ ৬১ হাজার ৬০৫ টাকা। আজ সকাল ৯টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত এই দামেই সোনা বিক্রি হয়েছে।

সোনার দাম কমানোর পাশাপাশি রুপার দামও কমানো হয়েছে। ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ১১৭ টাকা কমিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ হাজার ৬৫৭ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ১৭৫ টাকা কমিয়ে ৫ হাজার ৩৬৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ১১৭ টাকা কমিয়ে ৪ হাজার ৬০৭ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির এক ভরি রুপার দাম ১১৭ টাকা কমিয়ে ৩ হাজার ৪৪১ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।