ঘুষের বিনিময়ে প্রাথমিক বা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হলে শিক্ষার মান উন্নত হতে পারে না বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী।
তিনি বলেছেন, ‘৫ থেকে ১০ লাখ টাকা ঘুষ দিয়ে কেউ যদি শিক্ষক হন, তবে তিনি শিক্ষার্থীদের কী শেখাবেন এবং তার নিজের নৈতিকতাই-বা কোথায় থাকবে? এই ঘাটতির কারণে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রতিযোগিতা করার মতো নতুন প্রজন্ম গড়ে উঠছে না।’
শনিবার (১১ জুলাই) দুপুরে রাজধানীর মিরপুরের মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের বার্ষিক প্রশিক্ষণ কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে রুহুল কবীর রিজভী এসব কথা বলেন।
অতীতের শিক্ষকদের উৎসর্গ ও নৈতিকতার কথা স্মরণ করে বিএনপির এই শীর্ষ নেতা বলেন, ‘আজ থেকে ৫০, ৬০ বা ৭০ বছর আগে শিক্ষকদের মধ্যে একধরনের প্রাণ উৎসর্গকারী প্রেরণা ছিল যে ছাত্রকে মানুষ করতে হবে। শিক্ষকরা পাড়া-মহল্লায় ঘুরে খোঁজ নিতেন ছাত্ররা ঠিকমতো পড়াশোনা করছে কি না। আর এখন রাতারাতি ধনী হওয়ার প্রতিযোগিতায় মানুষ নীতি-নৈতিকতা ও সত্যকে বিসর্জন দিয়েছে। এই সত্য বিসর্জনের কারণে আজ আদর্শ বা প্রশিক্ষিত শিক্ষক পাওয়া যাচ্ছে না।’
সমাজে মাদকের বিস্তারের পেছনেও নৈতিকতার এই অবক্ষয়কে দায়ী করেন রুহুল কবীর রিজভী। তিনি বলেন, ‘সমাজে আজ নানা ধরনের অধঃপতন, মোরাল ব্রেকডাউন (নৈতিক স্খলন) এবং চারিদিকে মাদকের ছড়াছড়ি দেখা যাচ্ছে, যা অতীতে ভাবা যেত না। আজকে যদি নৈতিকতার উৎকর্ষ থাকত, তবে চক্রান্তকারীরা চেষ্টা করেও সমাজে মাদক, ফেনসিডিল বা ইয়াবার প্রসার ঘটাতে পারত না।’
মাঠ পর্যায়ে শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতির চিত্র তুলে ধরে রিজভী বলেন, ‘খবরের কাগজেও দেখা যায়, তৃণমূল বা মাঠ পর্যায়ে একটি প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষক হতে ৫ থেকে ১০ লাখ টাকা এবং মাধ্যমিক স্কুলের শিক্ষক হতে ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকা ঘুষ দিতে হচ্ছে। ঘুষের বিনিময়ে স্কুলের শিক্ষক হওয়া আজ থেকে ৩০ বা ৫০ বছর আগেও ভাবা যেত না।’
শিক্ষার মানোন্নয়নে শিক্ষকদের যোগ্যতার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, ‘শিক্ষক যদি প্রকৃত অর্থে শিক্ষিত, প্রাজ্ঞ ও অভিজ্ঞ না হন এবং আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে তার পরিচয় না ঘটে, তবে শিক্ষার্থীরা কখনোই আলোকিত হবে না।’
তিনি মন্তব্য করেন, ‘কাগজের নৌকা দিয়ে কখনো নদী পার হওয়া যায় না।’




