• ই-পেপার

জনপ্রিয়তার কারণেই হয়তো সরিয়ে দেওয়া হয়েছে হাদিকে : জামায়াত আমির

রাজনীতিবিদদের জন্য একটি সতর্কবার্তা

অনলাইন ডেস্ক
রাজনীতিবিদদের জন্য একটি সতর্কবার্তা

বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে জামায়াতে ইসলামী সম্পর্কে সাধারণ মানুষের ভিন্ন রকমের ধারণা ছিল। একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা, পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর দোসর হিসেবে বিভিন্ন মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ থাকার পরও জামায়াত বাংলাদেশের রাজনীতিতে পুনর্বাসিত হয়েছে সাধারণ মানুষের কিছু ধারণার ভিত্তিতে।

জামায়াত নেতাদের মানুষ অপেক্ষাকৃত সৎ মনে করে, তারা ধর্মকর্মে মনোযোগী এটাও ধর্মপ্রাণ অনেক মুসলিম পছন্দ করেন। কিন্তু জামায়াত সম্পর্কে সাধারণ মানুষের এ পারসেপশন একটা বড় ধাক্কা খেল সাতক্ষীরা-৪ (শ্যামনগর-কালীগঞ্জ) থেকে নির্বাচিত জামায়াতের এমপি গাজী নজরুল ইসলামের অন্তরঙ্গ ভিডিও ফাঁস হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে।

দুই দিন গাজী নজরুলের এ ভিডিও সমাজমাধ্যম থেকে রাজনীতির মাঠে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে। জামায়াত প্রথম দিকে বিষয়টি নিয়ে ধীরে চলো নীতি অনুসরণ করতে চাইলেও গতকাল সঠিক সিদ্ধান্ত নেয়। নৈতিক স্খলন প্রমাণিত হওয়ায় গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

গতকাল বিকাল ৪টায় রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের জরুরি বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান এমপি।

নির্বাহী পরিষদের সদস্যরা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। জামায়াতের এ সিদ্ধান্তের ফলে গাজী নজরুলের সংসদ সদস্য পদ বাতিল হয়ে যাবে। বৈঠকে বহিষ্কারের বিষয়টি অবিলম্বে নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) অবহিত করারও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর ফলে নারীঘটিত কেলেঙ্কারিতে একজন রাজনীতিবিদের ক্যারিয়ার শেষ হয়ে গেল। কিন্তু এ ঘটনা ঘটনার পর জামায়াত যতই তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিক না কেন, দলটির সৎ লোক আর সৎ মানুষের শাসনের স্লোগান বড় হোঁচট খেয়েছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন-শেষ পর্যন্ত জামায়াতও? এ ঘটনা আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু সামনে এনেছে। তা হলো ক্ষমতার কাছাকাছি থাকলে সবারই অবক্ষয় হয়, এমনকি ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দলের মধ্যেও পচন ধরে।

জামায়াত তাদের যে আদর্শিক অবস্থান নিয়ে এতদিন গর্ব করত, সেই গর্বে কিছুটা হলেও কালিমা লেগেছে। শুধু জামায়াত নয়, বাংলাদেশের সব রাজনৈতিক নেতা-কর্মীর জন্যই এটা একটি সতর্কবার্তা। রাজনীতিবিদরা পাবলিক ফিগার। তারা সব সময় জনগণের সঙ্গে মেশেন।

ভারতের বরেণ্য রাজনীতিবিদ, সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জি তার আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থে লিখেছেন, ‘রাজনীতিবিদদের একান্ত ব্যক্তিগত জীবন বলে কিছু নেই, তাদের জীবন খোলা বইয়ের মতো।’

বিএনপির সাবেক মহাসচিব প্রয়াত খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন লিখেছেন, ‘আমরা যারা রাজনীতিবিদ তারা সব সময় জনগণের নজরদারির মধ্যে থাকি।’ কোটি মানুষের চোখ থাকে রাজনীতিবিদদের চলাফেরা, কথাবার্তা এবং প্রতিটি কাজে। সারা বিশ্বের রাজনৈতিক নেতাদের জন্যই এটা প্রযোজ্য। এ কারণেই মনিকা লিউনস্কির সঙ্গে বিল ক্লিনটনের অন্তরঙ্গতা হোয়াইট হাউসের নিরাপত্তাবেষ্টনী ভেঙে জন আলোচনার কেন্দ্রে পরিণত হয়। এজন্য তাকে ইমপিচমেন্টের মুখোমুখি হতে হয়।

কানাডার সাবেক প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো মার্কিন গায়িকা কেটি পেরির সঙ্গে প্রেম করার জন্য রাজনীতিকে বিদায় জানান।

পরকীয়া, রোমাঞ্চ কিংবা নৈতিক স্খলন আর রাজনীতি একসঙ্গে চলতে পারে না। জনগণ যেমন দুর্নীতিবাজ, দুর্বৃত্ত রাজনীতিবিদদের প্রত্যাখান করে, তেমনই রাজনীতিবিদদের অনৈতিক কাজ ঘৃণা করে। সদ্য সাবেক জামায়াত নেতা যে কাজটি করেছেন তা শুধু অনৈতিক নয়, অন্যায়ও বটে।

এর আগেও ২০২০ সালে তৎকালীন আওয়ামী লীগের প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ এক চলচ্চিত্র নায়িকাকে অশালীন, কুরুচিপূর্ণ ভাষায় গালিগালাজ করে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন। সেজন্য তাকে মন্ত্রিত্ব হারাতে হয়েছিল। এসব ঘটনা রাজনীতি এবং রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা সৃষ্টি করে। বাংলাদেশের বেশির ভাগ রাজনীতিবিদ সুস্থ পারিবারিক সম্পর্ক বজায় রাখেন। অধিকাংশ রাজনীতিবিদের ব্যক্তিগত জীবন পরিচ্ছন্ন। কিন্তু মুরাদ, গাজী নজরুলদের মতো কিছু বেসামাল নেতার জন্য বদনাম হয় গোটা রাজনীতির। এ ঘটনা রাজনৈতিক দল এবং নেতা-কর্মীদের জন্য ওয়েক আপ কল। জামায়াতের মতো ক্যাডারভিত্তিক শৃঙ্খলাবদ্ধ একটি দলের সংসদ সদস্যের এ অনৈতিক কর্মকাণ্ড গোটা রাজনৈতিক অঙ্গন সম্পর্কে যেন নেতিবাচক মনোভাব তৈরি না করে সেজন্য সব রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীদের নৈতিকতা ও মূল্যবোধের চর্চাকে গুরুত্ব দিতে হবে। দলগুলোর আদর্শিক চর্চা এবং চেতনার মান বাড়াতে হবে। জনপ্রিয় নেতা হওয়ার চেয়ে আদর্শবান মানুষ হওয়া বেশি দরকার।

সূত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন

নজরুলকে দল থেকে ‘শাস্তি’, এমপি পদের কী হবে?

নিজস্ব প্রতিবেদক
নজরুলকে দল থেকে ‘শাস্তি’, এমপি পদের কী হবে?
সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম।

ভিডিওকাণ্ডে সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। বহিষ্কারের তথ্য দল থেকে নির্বাচন কমিশনে জানানো হবে।

আজ বুধবার দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের এক জরুরি বৈঠকে তাকে বহিষ্কার করা হয়। কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি এহসানুল মাহবুব জুবায়ের এক বার্তায় এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এবার প্রশ্ন উঠেছে দলের হয়ে নির্বাচিত সংসদ সদস্য দল থেকে বহিষ্কার হলে তার এমপি পদের কী হবে। তার সংসদ সদস্য পদ বাতিল হবে কি না, তা নিয়েও চলছে আলোচনা।

সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদে সংসদে আসন শূন্য হওয়ার প্রসঙ্গে বলা হয়েছে। ওই অনুচ্ছেদ বলা হয়েছে, কোনো দল থেকে মনোনীত কেউ নির্বাচিত হওয়ার পর ওই দল থেকে পদত্যাগ বা সংসদে উক্ত দলের বিপক্ষে ভোট দিলে তার আসন শূন্য হবে।

তবে দল থেকে বহিষ্কার হলে আসন শূন্য বা সংসদ সদস্য পদ বাতিলের কথা উল্লেখ নেই।

আইন বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, দলীয় বহিষ্কার বা সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হলে ৭০ অনুচ্ছেদের অধীনে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংসদ সদস্য পদ বাতিল হওয়ার সুযোগ নেই। তবে ফৌজদারি মামলায় তিনি যদি এমনভাবে দণ্ডিত হন, যাতে সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদ ও প্রাসঙ্গিক আইনের অধীনে তিনি সংসদ সদস্য থাকার অযোগ্য হয়ে পড়েন, তখন বিষয়টি সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় নিষ্পত্তি হবে।

সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদে কোন ব্যক্তি সংসদের সদস্য নির্বাচিত হওয়ার এবং সংসদ সদস্য থাকার যোগ্য হবেন না—সে বিষয়ে বলা হয়েছে। এর একাংশে উল্লেখ আছে, নৈতিক স্খলনজনিত কোনো ফৌজদারি অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়ে কমপক্ষে দুই বছর কারাদণ্ডে দণ্ডিত হলে এবং মুক্তিলাভের পাঁচ বছর অতিবাহিত না হলে ওই ব্যক্তি সংসদ সদস্য থাকার যোগ্যতা হারাবেন।  

এদিকে জামায়াত বহিষ্কার বার্তায় বলেছে, সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের নৈতিক স্খলন প্রমাণিত হয়েছে। তবে তার বিরুদ্ধে এ বিষয়ে কোনো পক্ষ থেকে মামলা হয়নি।

দলের বহিষ্কারাদেশে বলা হয়েছে, সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে নিয়ে বিভিন্ন মিডিয়ায় প্রকাশিত বিষয়ে সাংগঠনিক তদন্তে তার নৈতিক স্খলন প্রমাণিত হয়েছে। তাকে গঠনতন্ত্রের ৬২ নম্বর ধারা অনুযায়ী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

তাদের এই সিদ্ধান্ত নির্বাচন কমিশনেও দলের পক্ষ থেকে জানানো হবে। তিনি যদি অপরাধী হয়ে থাকেন, তাহলে আদালত সেটি দেখবে। এরপর ব্যবস্থা নেবে নির্বাচন কমিশন।

ভিডিওকাণ্ড

সোমবার রাত থেকে সংসদ সদস্য (এমপি) গাজী নজরুল ইসলামের ‘ব্যক্তিগত মুহূর্তের’ একাধিক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। যা নিয়ে দেশজুড়ে ব্যাপক তোলপাড় ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়। ‘প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর’ নামের একটি ফেসবুক আইডিতে প্রথম একটি ভিডিও প্রকাশিত হয়। 

ছড়িয়ে পড়া ভিডিওর কয়েকটি অংশে দেখা যায়, ‘ওই তরুণীর সঙ্গে নজরুল ইসলাম একটি কক্ষে অবস্থান করছেন। সেখানে তাদের অন্তরঙ্গ অবস্থায় বসে থাকতে দেখা যায়।’

নজরুলের দাবি, দ্বিতীয় স্ত্রী

ওই তরুণীকে দ্বিতীয় স্ত্রী বলে দাবি করেছেন সংসদ সদস্য গাজী নজরুল। তার প্রথম পক্ষের স্ত্রী মাকসুদা ইসলামের দাবি—ওই তরুণীর সঙ্গে এমপির বৈবাহিক সম্পর্ক রয়েছে। মেয়েটির বাবাও বিষয়টি স্বীকার করেছেন।

ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর গাজী নজরুল ইসলামের দলীয় মিডিয়া সেলের পক্ষ থেকে প্রথমে জানানো হয়, ‘ভিডিওতে থাকা নারী তার দ্বিতীয় স্ত্রী।’ এরপর গতকাল মঙ্গলবার এক লিখিত বক্তব্যে নজরুল ইসলাম দাবি করেন, পারিবারিকভাবে চলতি বছরের ১৭ জুন  প্রথম স্ত্রীর সম্মতিতে মরিয়ম খাতুনের সঙ্গে তার বিয়ে হয়।

মগবাজারে যা হয়েছে

গাজী নজরুল ইসলাম দাবি করেন, গত ১৩ জুলাই তিনি তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা বেগম, দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুন এবং দ্বিতীয় স্ত্রীর বাবা মাছুম বিল্লাহকে নিয়ে রাজধানীর মগবাজারে শ্বশুরের ব্যাবসায়িক কার্যালয়ে যান।

সেখানে অবস্থানকালে তার গাড়িচালক এবং দ্বিতীয় স্ত্রীর মামা ওবায়দুল্লাহ কয়েকজন অপরিচিত ব্যক্তিকে নিয়ে কক্ষে প্রবেশ করে তাদের জিম্মি করেন। এ সময় তাদের কাছ থেকে এক লাখ টাকা আদায় করা হয়। পরে আরো কয়েক লাখ টাকা দাবি করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তার দাবি, দ্বিতীয় স্ত্রীর বাবা মাছুম বিল্লাহর সঙ্গে ওবায়দুল্লাহর পূর্বশত্রুতার জের ধরে এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে। একই সঙ্গে তাদের স্বামী-স্ত্রীর ব্যক্তিগত ও ঘনিষ্ঠ মুহূর্ত গোপনে ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। ওই ভিডিওকে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের ঘটনা হিসেবে প্রচার করা হচ্ছে, যা সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

পাঁচ দিন পরের বায়োডাটায় ‘অবিবাহিত’

তবে বিয়ের দাবির মধ্যেই নতুন প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে মরিয়ম খাতুনের একটি বায়োডাটা। ওই বায়োডাটায় দেখা যায়, চলতি বছরের ২২ জুন সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের সই রয়েছে। সইয়ের ওপরে সবুজ কালিতে হাতে লেখা রয়েছে ‘জোর সুপারিশ করছি’। কিন্তু একই বায়োডাটার ব্যক্তিগত তথ্য অংশে Marital Status-এ লেখা রয়েছে ‘Unmarried’ (অবিবাহিত)।

গাজী নজরুল ইসলাম, তার প্রথম স্ত্রী, মরিয়ম খাতুন এবং মরিয়মের বাবার বক্তব্য অনুযায়ী, তাদের বিয়ে হয়েছে ১৭ জুন। কিন্তু বিয়ের দাবি করা তারিখের পাঁচ দিন পর এমপির সই করা বায়োডাটায় কেন মরিয়মকে অবিবাহিত উল্লেখ করা হয়েছে, তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। এ বিষয়ে গাজী নজরুল ইসলাম কিংবা তার পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।

সাতক্ষীরা-৪ আসনের এমপি

গাজী নজরুল ইসলাম কেন্দ্রীয় জামায়াতে ইসলামীর শূরা সদস্য। ত্রয়োদশ সংসদ সদস্য নির্বাচনে সাতক্ষীরা-৪ আসনে তাকে মনোনয়ন দেয় জামায়াত। ১৩ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে তিনি ১ লাখ ৬ হাজার ৯১৩ ভোট পেয়ে জয়লাভ করেছেন। এর আগে তিনি ১৯৯১ ও ২০০১ সালে একই আসন থেকে জামায়াতের টিকিটে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।

অবাঞ্ছিত ঘোষণা

সংসদ সদস্যের ‘ব্যক্তিগত মুহূর্তের’ ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় আজ বুধবার গাজী নজরুলের নির্বাচিত এলাকায় (শ্যামনগর) মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ হয়েছে। ‘শ্যামনগরের সচেতন নাগরিক সমাজ’–এর ব্যানারে অনুষ্ঠিত এই কর্মসূচি থেকে গাজী নজরুল ইসলামকে উপজেলায় অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়েছে। একই সঙ্গে তার সংসদ সদস্য পদ বাতিল ও তাকে আইনের আওতায় এনে বিচারের দাবি জানানো হয়।

মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল শেষে অনুষ্ঠিত সমাবেশে উপজেলা বিএনপির সদস্য আশেক-ই-এলাহী বলেন, ‘এ ঘটনায় শ্যামনগরের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে। আমরা সরকারের কাছে দাবি জানাই, অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত করে সত্যতা প্রমাণিত হলে তাকে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হোক।’

এ ছাড়া দেশের বিভিন্ন জেলায় সংসদ সদস্যের এই ভিডিওকাণ্ডে প্রতিবাদ, বিক্ষোভ, কুশপুত্তলিকা দাহ করা হয়। এসব কর্মসূচি থেকেও গাজী নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।

ভিডিওকাণ্ডে জামায়াত থেকে গাজী নজরুল ইসলাম বহিষ্কার

নিজস্ব প্রতিবেদক
ভিডিওকাণ্ডে জামায়াত থেকে গাজী নজরুল ইসলাম বহিষ্কার
গাজী নজরুল ইসলাম।

তরুণীর সঙ্গে ভিডিও ভাইরালের পর সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে বহিষ্কার করা হয়েছে। আজ বুধবার কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের এক জরুরি বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সভায় সভাপতিত্ব করেন জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান। বৈঠকে কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠক শেষে কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বহিষ্কারের সিদ্ধান্তের কথা জানান।

তিনি এক বার্তায় জানান, সম্প্রতি সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে নিয়ে বিভিন্ন মিডিয়ায় প্রকাশিত বিষয়ে সাংগঠনিক তদন্তে তার নৈতিক স্খলন প্রমাণিত হয়েছে। তাকে গঠনতন্ত্রের ৬২ নম্বর ধারা অনুযায়ী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। 

একই সঙ্গে তাকে সংগঠন থেকে বহিষ্কারের বিষয়টি বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনকে অবিলম্বে অবহিত করার সিদ্ধান্ত হয়।

নেতাদের একের পর এক বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে বিব্রত জামায়াত

অনলাইন ডেস্ক
নেতাদের একের পর এক বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে বিব্রত জামায়াত
ফাইল ছবি

জামায়াতে ইসলামীর নেতাদের একের পর এক বিতর্কিত ঘটনা দলটিকে নতুন করে অস্বস্তিতে ফেলেছে। সর্বশেষ মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সাতক্ষীরা-৪ (শ্যামনগর) আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াত নেতা গাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে এক নারীর অন্তরঙ্গ মুহূর্তের একাধিক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।

এর মধ্যে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে ঘটনার প্রকৃত তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে সাংগঠনিক নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ঘটনার পাশাপাশি সাম্প্রতিক সময়ে দলটির ভেতরে শৃঙ্খলাভঙ্গ, বিদ্রোহী প্রার্থী, সাংবাদিকের ওপর হামলা, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ এবং স্থানীয় পর্যায়ে প্রভাব বিস্তারের মতো একাধিক ঘটনায় দীর্ঘদিনের ‘সুশৃঙ্খল দল’ হিসেবে জামায়াতের ভাবমূর্তি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

সোমবার (২০ জুলাই) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে একটি কক্ষে গাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে এক নারীকে ঘনিষ্ঠ অবস্থায় দেখা যায়। 

ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান মাওলানা আজিজুর রহমান বলেন, ভিডিওটি তাদের নজরে এসেছে।

গাজী নজরুল ইসলাম তাদের জানিয়েছেন, ভিডিওতে থাকা নারী তার দ্বিতীয় স্ত্রী। প্রথম স্ত্রীর সম্মতিতেই এ বিয়ে হয়েছে। তবে ভিডিওটি কীভাবে প্রকাশ্যে এলো, সেটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এরপর মঙ্গলবার (২১ জুলাই) জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের এক বিবৃতিতে জানান, বিষয়টি নিয়ে আরও খোঁজখবর নেওয়া হবে এবং প্রকৃত ঘটনার তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহের পর সাংগঠনিক নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

সাম্প্রতিক সময়ে দলটির বেশ কয়েকজন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ উঠেছে। অনেকের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে। 

দলীয় নীতিনির্ধারকদের মতে, গত ১৭ বছর রাজনৈতিক সীমাবদ্ধতার কারণে নিয়মিত সাংগঠনিক প্রশিক্ষণ কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে। একইসঙ্গে দলটির সাংগঠনিক বিস্তার আগের তুলনায় অনেক বেড়ে যাওয়ায় তৃণমূল পর্যায়ে সবাইকে নিয়ন্ত্রণ করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।

সম্প্রতি নড়াইল-২ আসনের সংসদ সদস্য আতাউর রহমান বাচ্চুর ঐচ্ছিক তহবিলের অনুদান বিতরণকে ঘিরে একটি ঘটনা ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। অনুদানপ্রাপ্তদের তালিকায় তার মেয়ের নাম রয়েছে— এমন অভিযোগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সমালোচনা শুরু হয়। পরে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে তার ব্যক্তিগত সহকারীকে বরখাস্ত করা হয়। ঘটনাটি দলীয়ভাবে শৃঙ্খলা ও জবাবদিহির বিষয়টিকে নতুন করে সামনে নিয়ে আসে।

গত ২৩ জুন রাজধানীর ধানমন্ডিতে স্থানীয় জামায়াতের বিক্ষোভ মিছিলের পর তর্ক-বিতর্ক থেকে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় চার নেতাকর্মীকে বহিষ্কার করে জামায়াত। পাশাপাশি আনুষ্ঠানিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করে তদন্তসাপেক্ষে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দেয়।

তার আগে গত ২৭ মার্চ কুষ্টিয়া সদর উপজেলার হাটশ হরিপুর বড় মসজিদে জুমার খুতবার আগে এক আলোচনায় কুষ্টিয়া-৩ আসনের জামায়াত ইসলামীর সংসদ সদস্য আমির হামজা বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী এবং বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকে নিয়ে বক্তব্য দেন। ওই বক্তব্যে টুকুকে তিনি ‘নাস্তিক’ ও ‘ইসলামবিদ্বেষী’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। পরে বক্তব্যটির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচারিত হয়।

এ ঘটনায় গত ২ এপ্রিল সিরাজগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক হুমায়ূন কবির কর্নেল একটি মানহানির মামলা দায়ের করেন। একই অভিযোগে পৃথক আরেকটি মামলা করেন সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ভিপি শামীম খান।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, ওই বক্তব্যের মাধ্যমে ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর ব্যক্তিগত, সামাজিক ও রাজনৈতিক সুনাম ক্ষুণ্ন করা হয়েছে। এ অভিযোগে দণ্ডবিধির ২৯৬, ৫০০ ও ৫০৪ ধারায় মামলা দুটি দায়ের করা হয়।

নির্ধারিত তারিখে আদালতে হাজির না হওয়ায় গত ২১ এপ্রিল আমির হামজার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। পরে আদালত তার বিরুদ্ধে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশেরও নির্দেশ দেন। পরবর্তীতে হাইকোর্ট থেকে আগাম জামিন নিয়ে নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করলে ১৪ জুন শুনানি শেষে আদালত দুটি মামলাতেই তার স্থায়ী জামিন মঞ্জুর করেন।

বাজেট অধিবেশনের প্রথম দিন গত ৭ জুন সংসদের বাইরে থাকা মাল্টিমিডিয়ার রিপোর্টারদের সঙ্গে আমির হামজা বাজেট নিয়ে কথা বলেন। সেখানে তিনি বলেন, বাজেট ২০০ কোটি টাকা হওয়া উচিত। আরেকবার বলেন, বাজেট ছয় হাজার কোটি টাকা হওয়া উচিত। এবারের বাজেটের আকার ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার। আমির হামজা পরে জানান, তিনি বলতে চেয়েছিলেন, ছয় লাখ কোটি টাকার বাজেট হওয়া উচিত। মুখ ফসকে ছয় হাজার কোটি বলে ফেলেছেন। আমির হামজার বক্তব্যেও অস্বস্তিতে পড়েছিলেন জামায়াত নেতৃত্ব। 

বাজেট অধিবেশনে গত ১৭ জুন সংসদে দেওয়া বক্তৃতায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনের জামায়াত ইসলামীর সংসদ সদস্য মু. মিজানুর রহমান এমপিদের সরকারি ফ্ল্যাটে ওয়াশিং মেশিন, মাইক্রোওভেন ও জানালার পর্দা চেয়ে বলেছিলেন, ‘আমরা বাজেটের ওপর কথা বলছি। সম্পূরক বাজেটও পাস হয়েছে। কিন্তু সংসদ সদস্যদের আবাসিক ফ্ল্যাটগুলোতে জানালা-দরজার পর্দাগুলো এখনও ঝোলানো হয়নি। আমরা শুনেছিলাম, আমাদের এই ফ্ল্যাটগুলোতে একটি করে ওয়াশিং মেশিন ও মাইক্রোওভেন দেওয়া হবে। এই পর্দা, ওয়াশিং মেশিন, মাইক্রোওভেন পাওয়ার জোর দাবি জানাচ্ছি।’

এই বক্তব্যের কারণে প্রথমে সামাজিক মাধ্যম, পরে সরকারি দলের সমালোচনার মুখে পড়ে জামায়াত। বিএনপির জোট শরিক বিজেপি চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থ টিপ্পনী কেটে বলেন, তিনি জামায়াত এমপিকে ওভেন দিতে চান। প্রধানমন্ত্রীর তরফ থেকে ওয়াশিং মেশিন দেওয়া হলে সংসার সাজিয়ে দেওয়া হবে।

গত ১৪ জুন নীলফামারী-৪ আসনের জামায়াত ইসলামীর এমপি আব্দুল মুনতাকিম বাজেট আলোচনায় দাবি করেন, মুক্তিযুদ্ধে তার পরিবারের গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা আছে। তিনি বলেন, ‘আমার বাবা, আমার দাদা মুক্তিযুদ্ধে শহীদ। আমার আব্বারা (বাবা-চাচা) সাত ভাই; চারজনই মুক্তিযোদ্ধা। আমার দাদারা ১৯ জন; ১১ জনই মুক্তিযোদ্ধা। আমার পরিবারে ৪৭ জন মুক্তিযোদ্ধা। আমার মা মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক। আমি জুলাইযোদ্ধা।’

পরে জানা যায়, এমপি মুনতাকিমের জন্ম ১৯৮১ সালে। তার বাবা জীবিত। এ বক্তব্যের কারণে সংসদের ভেতরে ও বাইরে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে জামায়াত। সামাজিক মাধ্যমে ট্রল হয়। এমপি পরে ভুল স্বীকার করে বক্তব্য সংশোধনের জন্য স্পিকারকে চিঠি দেন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে প্রার্থী হওয়ায় কয়েকজনকে বহিষ্কার করা হয়। একইসঙ্গে সুনামগঞ্জ ও নরসিংদী জেলা কমিটি বিলুপ্ত করে সংশ্লিষ্ট নেতাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হয়। তবে এরপরও স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে বিভিন্ন এলাকায় দলীয় সমর্থন পাওয়ার জন্য তদবির ও প্রচারণা চালানোর অভিযোগ রয়েছে। এতে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার পরও দলীয় শৃঙ্খলা পুরোপুরি নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না বলে সংশ্লিষ্টদের অনেকে মনে করছেন।

গত জুনের মাঝামাঝি সময়ে ‘লোহাগাড়ার এমপি আরমান সাহেব, শাহজাহান চৌধুরী এখানে আসলে পায়ে গুলি করব’— এমন একটি অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছিল। চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) আসনের জামায়াতের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীকে লক্ষ্য করে এই হামলার পরিকল্পনার অডিও ফাঁস হওয়ার পর স্থানীয় রাজনীতি ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছিল।

ফাঁস হওয়া ওই অডিওতে সংসদ সদস্যের দীর্ঘদিনের ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) হিসেবে পরিচিত আরমান উদ্দিনের কণ্ঠ রয়েছে বলে স্থানীয়ভাবে দাবি করা হয়েছিল। এতে একজন নির্বাচিত সংসদ সদস্যের ওপর সহিংস হামলার পরিকল্পনার ইঙ্গিত থাকায় এলাকা জুড়ে উদ্বেগ দেখা দেয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অডিওতে কথোপকথন চালানো দুই ব্যক্তির মধ্যে একজন হলেন আরমান উদ্দিন। অপর প্রান্তে থাকা ব্যক্তি হলেন বিএনপির যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত মো. তারেকুল হক। তিনি লোহাগাড়া সদর ইউনিয়নের রশিদার পাড়া এলাকার বাসিন্দা এবং অবৈধ বালু ব্যবসার সঙ্গে জড়িত বলে জানা গেছে।

ফাঁস হওয়া অডিওতে তারেকুলকে আরও বলতে শোনা যায়, ‘লোহাগাড়ায় এমপি কেন আসবে? আসলে পায়ে গুলি করে জিজ্ঞেস করব কেন এসেছে। এখানে আরমান সাহেবের কথাই চলবে।’ জবাবে আরমান উদ্দিনকে বলতে শোনা যায়, ‘এমপিকে তো লোহাগাড়ায় না আসতে বলি। তারপরেও লোকজনের জ্বালায় আসে।’

কথোপকথনের এক পর্যায়ে তারেকুল নামের ওই যুবদল নেতা আরও বলেন, ‘বাদশা খালেদের মতো অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে থাকব।’ জবাবে আরমান উদ্দিন বলেন, ‘এসব করলে পুলিশ আসবে, আর্মি আসবে, এমপি আসবে।’

স্থানীয় বিভিন্ন সূত্রের দাবি, অডিওতে কথা বলা তারেকুল হক লোহাগাড়া এলাকায় অবৈধ বালু উত্তোলন ও পাহাড়ের মাটি কাটার সঙ্গে জড়িত একটি প্রভাবশালী চক্রের ঘনিষ্ঠ হতে পারেন।

এই পরিস্থিতি নিয়ে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমানও প্রকাশ্যে বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, কেউ যদি মনে করেন যে তাকেই জনপ্রতিনিধি হতে হবে, তাহলে তিনি ইসলামী আন্দোলনের কর্মী হওয়ার যোগ্যতা হারাবেন। তার বক্তব্যের মাধ্যমে দলীয় আদর্শ ও ব্যক্তিগত পদলাভের আকাঙ্ক্ষার মধ্যে পার্থক্য স্পষ্ট করার চেষ্টা করা হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জামায়াতের কয়েকজন শীর্ষ নেতা জানিয়েছেন, অনেকেই এখন আদর্শের কারণে নয়, সম্ভাব্য ক্ষমতার অংশীদার হওয়ার আশায় দলে যোগ দিতে চাইছেন। স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে চেয়ারম্যানসহ বিভিন্ন পদে প্রার্থী হওয়ার আগ্রহও বেড়েছে। এতে নতুন যোগদানকারীদের উদ্দেশ্য ও দলীয় আদর্শের মধ্যে ব্যবধান তৈরি হচ্ছে বলে তারা মনে করেন।

দলের নীতিমালা অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি সরাসরি সদস্য হতে পারেন না। প্রথমে সহযোগী সদস্য, পরে কর্মী এবং নির্ধারিত ধর্মীয় ও সাংগঠনিক শর্ত পূরণ করে রুকন হওয়ার সুযোগ রয়েছে। নেতৃত্বের বিভিন্ন স্তরেও গোপন ভোটে নির্বাচন হয় এবং কেউ নিজেকে প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করতে পারেন না। 

তবে সাম্প্রতিক সময়ে দল সম্প্রসারণের প্রয়োজনে এ প্রক্রিয়া অনেক ক্ষেত্রে শিথিল হয়েছে বলে একাধিক নেতা মন্তব্য করেছেন। তাদের দাবি, জাতীয় নির্বাচনের আগে তুলনামূলক দ্রুত সহযোগী সদস্য গ্রহণ করা হয়েছে। ফলে অতীতে দলের সঙ্গে নিয়মিত সম্পৃক্ত না থাকা অনেকেই এখন স্থানীয় নির্বাচনে দলীয় সমর্থন চাইছেন এবং কোথাও কোথাও অনুমতি ছাড়াই প্রচারণাও চালাচ্ছেন।

নির্বাচনের সময় নতুন সমর্থকদের সম্পৃক্ত করার বিষয়টিও এখন আলোচনায়। একটি সংসদীয় আসনে নির্বাচন পরিচালনার জন্য বিপুলসংখ্যক কর্মী প্রয়োজন হওয়ায় অনেক অদলীয় ব্যক্তিকেও প্রচারণায় যুক্ত করা হয়েছিল। নির্বাচনের পর তাদের একটি অংশ স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী বলয় গড়ে তুলছেন, যা পুরনো সাংগঠনিক কাঠামোর সঙ্গে দ্বন্দ্ব তৈরি করছে বলে সংশ্লিষ্টদের অভিমত।

জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও কয়েকটি আসনে বিদ্রোহী প্রার্থীর ঘটনা সামনে আসে। সুনামগঞ্জ, নরসিংদী ও চট্টগ্রামের কয়েকটি আসনে কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে প্রার্থিতা প্রত্যাহার না করায় সংশ্লিষ্ট নেতাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। কারও সদস্যপদ বাতিল, কারও বহিষ্কার এবং কোথাও পুরো জেলা কমিটি বিলুপ্ত করা হয়। ময়মনসিংহের একটি আসনে দলটির ইতিহাসে প্রথম বিদ্রোহী প্রার্থীর ঘটনাও ঘটে। আবার কুমিল্লার একটি আসনে সম্ভাব্য দুই প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের কারণে আসনটি জোটের শরিককে ছেড়ে দিতে হয়েছিল।

জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতারা বলছেন, দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষার প্রশ্নে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। ব্যক্তিগত পদ-পদবির আকাঙ্ক্ষা থাকতেই পারে, তবে সেটি যদি সাংগঠনিক নীতি ও আদর্শের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হয়, তাহলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজন হলে দল বড় হওয়ার চেয়ে আদর্শ ও সাংগঠনিক শৃঙ্খলা বজায় রাখাকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হবে।

তথ্য সূত্র— ঢাকা মেইল

জনপ্রিয়তার কারণেই হয়তো সরিয়ে দেওয়া হয়েছে হাদিকে : জামায়াত আমির | কালের কণ্ঠ