• ই-পেপার

রাষ্ট্রীয় গোপনীয়তা রক্ষায় ইসলামের নির্দেশনা

জুমার দিনের কল্যাণ লাভে যে ৮ আমল করবেন

ইসলামী জীবন ডেস্ক
জুমার দিনের কল্যাণ লাভে যে ৮ আমল করবেন
সংগৃহীত ছবি

ইসলামে জুমার দিনটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। পবিত্র কোরআনে জুমার দিন দ্রুত মসজিদে গমনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তা ছাড়া হাদিসে গুরুত্বপূর্ণ আমলের কথা বর্ণিত হয়েছে। ইরশাদ হয়েছে, ‘হে মুমিনরা! জুমার দিন নামাজের আজান হলে তোমরা আল্লাহর স্মরণে ধাবিত হও এবং বেচাবিক্রি বন্ধ কর, তা তোমাদের জন্য উত্তম, যদি তোমরা বুঝ। এরপর নামাজ শেষ হলে ভূপৃষ্ঠে ছড়িয়ে পড় এবং আল্লাহর অনুগ্রহ (জীবিকা) অনুসন্ধান কর এবং আল্লাহকে অধিক স্মরণ কর, যাতে তোমরা সফলকাম হও।’ (সুরা : জুমা, আয়াত : ৯-১০)

জুমার দিনের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আমল সম্পর্কে নিম্নে আলোচনা করা হলো—

১. জুমার দিনের বিশেষ মর্যাদা : আবু লুবাবা বিন আবদুল মুনজির (রা.) থেকে বর্ণিত, হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) জুমার দিনের পাঁচটি বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করেছেন। সেগুলো হলো—এক. আল্লাহ তাআলা এই দিনে আদম (আ.)-কে সৃষ্টি করেছেন। দুই. আল্লাহ তাআলা এই দিনে আদম (আ.)-কে জমিনে অবতরণ করিয়েছেন। তিন. এই দিনে আদম (আ.)-কে মৃত্যু দিয়েছেন। চার. এই দিনে এমন একটি সময় আছে, যখন বান্দা আল্লাহর কাছে যা কিছুই প্রার্থনা করবে তিনি তা দেবেন। যতক্ষণ সে হারাম কিছু প্রার্থনা করবে না। পাঁচ. এই দিনে কিয়ামত সংঘটিত হবে।’ (ইবনে মাজাহ, হাদিস : ৮৯৫)

২. জুমার নামাজ আদায় : সালমান ফারসি থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি জুমার দিন গোসল করল, সাধ্যমতো পবিত্র হলো, তেল ব্যবহার করল, ঘর থেকে সুগন্ধি ব্যবহার করল, অতঃপর মসজিদে এল, সেখানে দুজন মুসল্লির মধ্যে ফাঁক করে সামনে এগিয়ে যায় না, নির্দিষ্ট পরিমাণ নামাজ পড়ল, অতঃপর ইমাম কথা শুরু করলে চুপ থাকল; তাহলে আল্লাহ তাআলা তার দুই জুমার মধ্যবর্তী সময়ের গুনাহ মাফ করবেন।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৮৮৩)

অন্য হাদিসে এসেছে, আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ, এক জুমা থেকে পরবর্তী জুমা, এক রমজান থেকে পরবর্তী রমজান মধ্যবর্তী সময়ের পাপ মোচন করে; যদি সেই ব্যক্তি সব ধরনের কবিরা গুনাহ থেকে বিরত থাকে।’ (মুসলিম, হাদিস : ২৩৩)

৩. জুমার দিন গোসল করা : জুমার দিন গোসল করা ও আগে আগে মসজিদে যাওয়া অত্যন্ত সওয়াবের কাজ। আউস বিন আউস সাকাফি (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি জুমার দিন ভালো করে গোসল করল, দ্রুততর সময়ে মসজিদে গেল ও (ইমামের) কাছাকাছি বসে মনোযোগসহ (খুতবা) শুনল, তার জন্য প্রতি কদমের বদলে এক বছরের রোজা ও নামাজের সওয়াব থাকবে।’ (আবু দাউদ, হাদিস : ৩৪৫)

৪. মসজিদে প্রথমে প্রবেশ করা : জুমার দিন মসজিদে আগে প্রবেশ করা ও মনোযোগ দিয়ে খুতবা শোনার বিশেষ গুরুত্ব আছে। রাসুল (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি জুমার দিন গোসল করল, অতঃপর প্রথমে মসজিদে গেল সে যেন একটি উট কোরবানি করল। যে এরপর মসজিদে গেল, সে যেন একটি গরু কোরবানি করল। আর যে এরপর ঢুকল, সে যেন ছাগল কোরবানি করল, এরপর যে ঢুকল সে যেন মুরগি কোরবানি করল, আর যে এরপর ঢুকল সে ডিম সদকা করল। অতঃপর ইমাম খুতবার জন্য এলে ফেরেশতারা আলোচনা শোনা শুরু করে।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৮৪১)

৫. দোয়া কবুলের বিশেষ মুহূর্ত : জুমার দিন একটি সময় আছে, যখন মানুষ আল্লাহর কাছে কোনো দোয়া করলে আল্লাহ তা কবুল করেন। জাবের (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেন, ‘জুমার দিন কোনো মুসলিম আল্লাহর কাছে ভালো কিছুর দোয়া করলে আল্লাহ তাকে তা দেন। তোমরা সময়টি আসরের পর অনুসন্ধান কর।’ (আবু দাউদ, হাদিস নম্বর : ১০৪৮)

জাবের ইবনে আবদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘জুমার দিনের ১২ ঘণ্টার মধ্যে এমন একটি মুহূর্ত রয়েছে যদি কোনো মুসলিম এ সময় আল্লাহর কাছে কিছু প্রার্থনা করে, তাহলে মহান ও সর্বশক্তিমান আল্লাহ তাকে দান করেন। এই মুহূর্তটি তোমরা আসরের শেষ সময়ে অনুসন্ধান কর। (আবু দাউদ, হাদিস : ১০৪৮)

৬. সুরা কাহাফ পাঠ : জুমার অন্যতম আমল সুরা কাহাফ পাঠ করা। আবু সাইদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি জুমার দিন সুরা কাহাফ পড়বে তা দুই জুমার মধ্যবর্তী সময়ে তার জন্য আলোকিত হয়ে থাকবে। আর যে ব্যক্তি এই সুরার শেষ ১০ আয়াত পাঠ করবে অতঃপর দাজ্জাল বের হলে তার কোনো ক্ষতি করতে পারবে না।’ (সহিহ তারগিব, হাদিস : ১৪৭৩, আল মুসতাদরাক : ২/৩৯৯)

৭. গুনাহ মাফ হয় : সালমান ফারসি থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি জুমার দিন গোসল করল, সাধ্যমতো পবিত্র হলো, তেল ব্যবহার করল, ঘর থেকে সুগন্ধি ব্যবহার করল, অতঃপর মসজিদে এলো, সেখানে দুজন মুসল্লির মধ্যে ফাঁক করে সামনে এগিয়ে যায় না, নির্দিষ্ট পরিমাণ নামাজ পড়ল, অতঃপর ইমাম কথা শুরু করলে চুপ থাকল; তাহলে আল্লাহ তাআলা তার দুই জুমার মধ্যবর্তী সময়ের গুনাহ মাফ করেন।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৮৮৩)

৮. দরুদ পাঠ : জুমার দিন নবীজি (সা.)-এর ওপর বেশি বেশি দরুদ পাঠ করা কর্তব্য। আউস বিন আবি আউস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘তোমাদের দিনগুলোর মধ্যে জুমার দিন সর্বোত্তম। এই দিনে আদম (আ.)-কে সৃষ্টি করা হয়েছে। এই দিনে তিনি ইন্তেকাল করেছেন। এই দিনে শিঙায় ফুঁ দেওয়া হবে এবং এই দিনে সবাইকে বেহুঁশ করা হবে। অতএব, তোমরা এই দিনে আমার ওপর বেশি পরিমাণ দরুদ পড়। কারণ জুমার দিনে তোমাদের দরুদ আমার কাছে পেশ করা হয়।’ সাহাবারা বললেন, আমাদের দরুদ আপনার কাছে কিভাবে পেশ করা হবে, অথচ আপনার দেহ এক সময় নিঃশেষ হয়ে যাবে? তিনি বলেন, ‘আল্লাহ জমিনের জন্য আমার দেহের ভক্ষণ নিষিদ্ধ করেছেন।’ (আবু দাউদ, হাদিস : ১০৪৭)

বৃষ্টির সময় মুমিনের পঠিতব্য দোয়া ও করণীয়

মুফতি ওমর বিন নাছির
বৃষ্টির সময় মুমিনের পঠিতব্য দোয়া ও করণীয়
সংগৃহীত ছবি

বৃষ্টি শুধু প্রকৃতির সৌন্দর্য নয়; এটি মহান আল্লাহ তাআলার অসীম রহমত, করুণা ও অনুগ্রহের এক জীবন্ত নিদর্শন। আকাশ থেকে ঝরে পড়া প্রতিটি বৃষ্টিবিন্দু মানুষের হৃদয়ে নতুন আশা জাগায়, মৃত ভূমিকে পুনর্জীবিত করে এবং সৃষ্টিজগতের জন্য নিয়ে আসে কল্যাণের বার্তা। তাই ইসলামে বৃষ্টিকে শুধু একটি প্রাকৃতিক ঘটনা হিসেবে নয়, বরং আল্লাহর রহমতের প্রকাশ হিসেবে দেখা হয়। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তিনিই সেই সত্তা, যিনি মানুষের নিরাশ হওয়ার পর বৃষ্টি বর্ষণ করেন এবং তাঁর রহমত ছড়িয়ে দেন। তিনিই অভিভাবক, সর্বপ্রশংসিত।’ (সুরা : শুরা, আয়াত : ২৮)

রাসুলুল্লাহ (সা.) বৃষ্টি দেখলে বিশেষ দোয়া পড়তেন, বৃষ্টির সময় আল্লাহর কাছে বেশি বেশি প্রার্থনা করতেন এবং উম্মতকে শিখিয়েছেন—এ সময় দোয়া কবুল হওয়ার বিশেষ আশা থাকে। তাই একজন মুমিনের উচিত বৃষ্টিকে কৃতজ্ঞতার সঙ্গে গ্রহণ করা, আল্লাহকে স্মরণ করা এবং এ সময়কে ইবাদত ও দোয়ার মাধ্যমে মূল্যবান করে তোলা।

বৃষ্টি দেখলে যে দোয়া পড়া সুন্নত
রহমতের বৃষ্টি শুরু হলে রাসুলুল্লাহ (সা.) এই সংক্ষিপ্ত অথচ অর্থবহ দোয়াটি পড়তেন : 

اللَّهُمَّ صَيِّبًا نَافِعًا

উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা সাইয়্যিবান নাফিআ।

অর্থ : ‘হে আল্লাহ! এই বর্ষণকে আমাদের জন্য কল্যাণকর ও উপকারী করে দিন।’

হাদিস : আয়েশা (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) যখন বৃষ্টি হতে দেখতেন, তখন এ দোয়া পাঠ করতেন। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ১০৩২)
এ দোয়ার মাধ্যমে একজন মুমিন আল্লাহর কাছে শুধু বৃষ্টি নয়; বরং কল্যাণকর, উপকারী ও বরকতময় বৃষ্টি কামনা করেন।

বৃষ্টির সময় দোয়া কবুলের বিশেষ সুযোগ
ইসলামে কিছু সময়কে দোয়া কবুলের বিশেষ মুহূর্ত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। বৃষ্টির সময় তার অন্যতম। সাহল ইবন সাদ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘দুই সময়ের দোয়া প্রত্যাখ্যান করা হয় না, অথবা খুব কমই প্রত্যাখ্যান করা হয়—আজানের সময়ের দোয়া এবং যুদ্ধক্ষেত্রে শত্রুর মুখোমুখি হওয়ার সময়ের দোয়া।’ অন্য বর্ণনায় এসেছে—‘বৃষ্টির সময়ের দোয়া।’ (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস : ২৫৪০)

এ হাদিস আমাদের শিক্ষা দেয় যে, বৃষ্টি শুরু হলে শুধু তা উপভোগ করাই নয়; বরং হাত তুলে নিজের, পরিবারের, দেশ ও সমগ্র মুসলিম উম্মাহর জন্য আন্তরিকভাবে দোয়া করা উচিত।

বৃষ্টিকে আল্লাহর রহমত হিসেবে বিশ্বাষ করা
অনেক মানুষ বৃষ্টির প্রকৃত উৎস ভুলে বিভিন্ন জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক বা কুসংস্কারপূর্ণ ব্যাখ্যার ওপর নির্ভর করে। অথচ ইসলাম শিক্ষা দেয়—বৃষ্টি একমাত্র আল্লাহর পক্ষ থেকেই আসে। জায়েদ ইবন খালিদ জুহানী (রা.) বর্ণনা করেন, হুদাইবিয়ায় এক রাতে বৃষ্টি হওয়ার পর রাসুলুল্লাহ (সা.) সাহাবিদের উদ্দেশে বললেন—‘আমার বান্দাদের কেউ আমার প্রতি ঈমানদার হয়েছে, আবার কেউ আমার প্রতি কুফরি করেছে। যে বলেছে, ‘আল্লাহর অনুগ্রহ ও রহমতে আমরা বৃষ্টি পেয়েছি’, সে আমার প্রতি ঈমান এনেছে এবং তারকার প্রতি কুফরি করেছে। আর যে বলেছে, ‘অমুক তারকার কারণে বৃষ্টি হয়েছে’, সে আমার প্রতি কুফরি করেছে এবং তারকার প্রতি ঈমান এনেছে।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৮৪৬, সহিহ মুসলিম, হাদিস : ৭১)

অতএব একজন মুমিনের মুখে থাকা উচিত—‘আল্লাহর অনুগ্রহ ও রহমতেই আমরা বৃষ্টিপ্রাপ্ত হয়েছি।’

অতিরিক্ত বৃষ্টি হলে পঠিতব্য দোয়া
কখনো কখনো অতিবৃষ্টির কারণে মানুষের জীবন-জীবিকা বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। এমন পরিস্থিতিতে রাসুলুল্লাহ (সা.) আমাদের একটি সুন্দর দোয়া শিখিয়েছেন। আনাস (রা.) বর্ণনা করেন, এক জুমার দিনে এক সাহাবি এসে অতিবৃষ্টির কারণে মানুষের দুর্ভোগের কথা জানালে রাসুলুল্লাহ (সা.) আল্লাহর কাছে এভাবে দোয়া করেন,

اللَّهُمَّ حَوَالَيْنَا وَلَا عَلَيْنَا، اللَّهُمَّ عَلَى الْآكَامِ وَالْجِبَالِ وَالْآجَامِ وَالظِّرَابِ وَالْأَوْدِيَةِ وَمَنَابِتِ الشَّجَرِ

উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা হাওয়ালাইনা ওয়া লা আলাইনা; আল্লাহুম্মা আলাল আকামি ওয়াল জিবালি ওয়াল আজামি ওয়াজ জিরাবি ওয়াল আওদিয়াতি ওয়া মানাবিতিশ শাজার।

অর্থ : ‘হে আল্লাহ! আমাদের ওপর নয়, আমাদের আশপাশে বর্ষণ করুন। হে আল্লাহ! টিলা, পাহাড়, বনভূমি, উপত্যকা এবং বৃক্ষরাজির স্থানে বৃষ্টি বর্ষণ করুন।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৯৩৩)
এ দোয়া আমাদের শেখায়, আল্লাহর কাছে এমন বৃষ্টি চাইতে হবে যা রহমত হয়ে আসে, কষ্টের কারণ না হয়।

বৃষ্টি আল্লাহর মহান নিদর্শন
আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আমি আকাশ থেকে বরকতময় পানি বর্ষণ করেছি। অতঃপর তা দ্বারা উদ্যান ও শস্য উৎপন্ন করেছি।’ (সুরা : কাফ, আয়াত : ৯)

আল্লাহ তাআলা আরো বলেন, ‘তিনিই আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করেন, অতঃপর তা দ্বারা মৃত ভূমিকে জীবিত করেন। নিশ্চয়ই এতে চিন্তাশীলদের জন্য নিদর্শন রয়েছে।’ (সুরা : নাহল, আয়াত : ৬৫)
এসব আয়াত আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়—বৃষ্টি কেবল পানির ফোঁটা নয়; এটি আল্লাহর কুদরত, রহমত এবং পুনরুত্থানেরও একটি জীবন্ত নিদর্শন।

বৃষ্টির সময় আমাদের ছয়টি করণীয়
১. বৃষ্টি শুরু হলে আল্লাহর প্রশংসা করা।
২. রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর শেখানো দোয়া পড়া।
৩. বৃষ্টির সময় বেশি বেশি দোয়া ও ইস্তিগফার করা।
৪. বৃষ্টিকে আল্লাহর রহমত হিসেবে বিশ্বাস করা।
৫. অতিবৃষ্টি বা দুর্যোগ দেখা দিলে নববী দোয়া পাঠ করা।
৬. আল্লাহর নেয়ামতের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা এবং গুনাহ থেকে তওবা করা।

অতএব, বৃষ্টির প্রতিটি মুহূর্ত আমাদের জন্য দোয়া, ইস্তিগফার ও আল্লাহর নৈকট্য লাভের সুবর্ণ সুযোগ। তাই বৃষ্টি নামলেই শুধু প্রকৃতির সৌন্দর্যে মুগ্ধ না হয়ে, নবী করিম (সা.)-এর সুন্নত অনুসরণ করে দোয়া পাঠ করা, আল্লাহর রহমতের শুকরিয়া আদায় করা এবং নিজের ও সমগ্র মুসলিম উম্মাহর কল্যাণ কামনায় হাত তুলে প্রার্থনা করাই একজন সচেতন মুমিনের পরিচয়। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে বৃষ্টির রহমত থেকে উপকৃত হওয়ার এবং এ সময়ের দোয়া কবুল হওয়ার সৌভাগ্য দান করুন। আমিন।

আপনজন ক্ষতি করলে যা করবেন

মুফতি মুহাম্মদ মর্তুজা
আপনজন ক্ষতি করলে যা করবেন
সংগৃহীত ছবি

আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা ইসলামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৈতিক শিক্ষা। পবিত্র কোরআনের বিভিন্ন আয়াতে আত্মীয়-স্বজনের প্রতি সদাচরণের নির্দেশ এসেছে। ইরশাদ হয়েছে, ‘তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো, কিছুকে তাঁর সঙ্গে শরিক কোরো না এবং মা-বাবা, আত্মীয়-স্বজন, এতিম, অভাবগ্রস্ত, নিকট প্রতিবেশী, দূর প্রতিবেশী, সাথি, মুসাফির এবং তোমাদের আয়ত্তাধীন দাস-দাসীদের সঙ্গে সদ্ব্যবহার করো, নিশ্চয়ই আল্লাহ ওই লোককে ভালোবাসেন না, যে অহংকারী, দাম্ভিক।’(সুরা :  নিসা, আয়াত : ৩৬)

কিন্তু বাস্তব জীবনের প্রশ্ন হলো, যদি সেই নিকটাত্মীয়রাই একজন মানুষের ঈমান ও জীবনের জন্য হুমকি হয়ে পড়ে, কিংবা জীবনের জন্য হুমকি না হলেও সবচেয়ে বড় মানসিক কষ্টের কারণ হয়ে ওঠেন? যদি প্রতিদিন নতুন অভিযোগ, অপমান, আবেগ দিয়ে নিয়ন্ত্রণ, অযথা দোষারোপ, পারিবারিক অশান্তি ও মানসিক চাপ সৃষ্টি করে বা কালো জাদুর আশ্রয় নিয়ে তিলে তিলে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেন, তাহলে একজন মুমিন কী করবেন?

আল্লাহকে হাজির নাজির রেখে চিন্তার পর যদি ফলাফল এই যে ব্যক্তিগত বিদ্বেষ বা কোনো স্বার্থ নয়, বরং ব্যক্তি আসলেই নিকটাত্মীয়দের মানসিক শোষণে মৃত্যুর মুখে পতিত হচ্ছে, অতিরিক্ত মানসিক অস্থিরতা থেকে ঈমান হারানোর আশঙ্কায় পড়েছে (নাউজুবিল্লাহ), তবে এ ক্ষেত্রে তাকে মনে রাখতে হবে, ইসলাম আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করতে বলে, কিন্তু আত্মবিনাশের নির্দেশ দেয় না। শারীরিক আঘাতের মতো মানসিক শোষণও মানুষের জন্য ক্ষতিকর। দীর্ঘদিনের অপমান, অবমূল্যায়ন, কটূক্তি ও মানসিক নির্যাতন একজন মানুষের ঈমান, ব্যক্তিত্ব, দাম্পত্য জীবন এবং সন্তানদের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

এ ক্ষেত্রে পবিত্র কোরআনের এই আয়াতের ওপর আমল করা যেতে পারে, ‘আল্লাহ কোনো ব্যক্তির ওপর তার সাধ্যের বাইরে কিছু চাপিয়ে দেন না।’ (সুরা : বাকারা, আয়াত : ২৮৬)


রক্তের সম্পর্ক অটুট রাখা প্রতিটি মুমিনের জন্য আবশ্যক। এটা বজায় রাখার জন্য ইখলাসের সহিত সর্বোচ্চ চেষ্টা করতে হবে। কিন্তু যদি তা বড় ক্ষতির কারণ হয়ে বসে, তখন বিকল্প উপায়ে সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার পাশাপাশি নিজেকে রক্ষা করতে হবে। কারণ পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেছেন, ‘আর তোমরা আল্লাহর রাস্তায় ব্যয় করো এবং নিজ হাতে নিজেদের ধ্বংসে নিক্ষেপ করো না। আর সুকর্ম করো। নিশ্চয়ই আল্লাহ সুকর্মশীলদের ভালোবাসেন।’ (সুরা : বাকারা, আয়াত : ১৯৫)

তবে কেউ যদি এই অসহনীয় কষ্টেও ধৈর্য ধারণ করতে সক্ষম হয়, তবে সে এর জন্য বিশেষ পুরস্কার পাবে। আর আত্মীয়রাও তাদের কৃতকর্মের ফল ভোগ করবে। আবু হুরায়রা‌ (রা.) থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে এসেছে, এক ব্যক্তি রাসুল (সা.)-এর কাছে বলেন, ‘হে আল্লাহর রাসুল (সা.)! আমার আত্মীয়-স্বজন আছেন। আমি তাদের সঙ্গে সদাচরণ করি; কিন্তু তারা আমাকে বিচ্ছিন্ন করে রাখে। আমি তাদের উপকার করে থাকি; কিন্তু তারা আমার অপকার করে। আমি তাদের সহনশীলতা প্রদর্শন করি আর তারা আমার সঙ্গে মূর্খসুলভ আচরণ করে।’ তখন তিনি বললেন, ‘তুমি যা বললে, তাহলে যদি প্রকৃত অবস্থা তা-ই হয়, তুমি যেন তাদের ওপর জ্বলন্ত অঙ্গার নিক্ষেপ করছ। আর সর্বদা তোমার সঙ্গে আল্লাহর তরফ থেকে তাদের বিপক্ষে একজন সাহায্যকারী (ফেরেশতা) থাকবে, যতক্ষণ তুমি এ অবস্থায় বহাল থাকবে।’ (মুসলিম, হাদিস : ৬৪১৯)

তবে কেউ যদি অসহনীয় নির্যাতন থেকে বাঁচার জন্য নিজেকে দূরে সরিয়ে নিয়ে দূর থেকে আত্মীয়তা বজায় রাখে, তা দোষনীয় নয়। কারণ ইসলামের একটি সর্বজনস্বীকৃত নীতি হলো, ক্ষতি করাও যাবে না, ক্ষতি সওয়াও যাবে না। (ইবনে মাজাহ, হাদিস : ২৩৪১)

যদি কোনো আত্মীয়ের সঙ্গে অতিরিক্ত ঘনিষ্ঠতা নিয়মিত মানসিক অশান্তি, অপমান ও পারিবারিক ক্ষতির কারণ হয়, তাহলে যোগাযোগ সীমিত করা, অপ্রয়োজনীয় বিতর্ক এড়িয়ে চলা এবং প্রয়োজনভিত্তিক সম্পর্ক বজায় রাখা আত্মীয়তা ছিন্ন করার শামিল নয়। এ বিষয়ে ইবরাহিম (আ.)-এর জীবন থেকেও গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা পাওয়া যায়। কোরআনে এসেছে, ‘ইবরাহিম বলল, আপনার প্রতি সালাম, আমি আমার প্রতিপালকের কাছে আপনার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করব, তিনি আমার প্রতি বড়ই মেহেরবান।  আমি পরিত্যাগ করছি আপনাদের আর আপনারা আল্লাহকে বাদ দিয়ে যাদের ডাকেন তাদের।’ (সুরা : মারিয়াম, আয়াত : ৪৭-৪৮)

এ থেকে বোঝা যায়, আত্মীয়তা বজায় রাখার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করতে হবে। তা যদি জীবন ও ঈমানকে হুমকির মুখে ফেলে দেয়, প্রয়োজন শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে দূর থেকে সাধ্যমতো সহযোগিতা ও দোয়ার মাধ্যমে আত্মীয়তা রক্ষা করার অবকাশ আছে।

আজকের নামাজের সময়সূচি, ১০ ‍জুলাই, ২০২৬

ইসলামী জীবন ডেস্ক
আজকের নামাজের সময়সূচি, ১০ ‍জুলাই, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি

আজ শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬, ২৬ আষাঢ় ১৪৩৩, ২৪ মহররম, ১৪৪৮।
ঢাকা ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি নিম্নরূপ—


জুমার সময় শুরু ১২টা ০৭ মিনিটে।
আসরের সময় শুরু ৪টা ৪৩ মিনিটে।
মাগরিব ৬টা ৫৩ মিনিটে।
এশার সময় শুরু ৮টা ১৯ মিনিটে।
আগামীকাল ফজর শুরু ৩টা ৫৪ মিনিটে 
আজ ঢাকায় সূর্যাস্ত ৬টা ৫০ মিনিটে এবং আগামীকাল সূর্যোদয় ৫টা ১৪ মিনিটে।
সূত্র : ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার বসুন্ধরা, ঢাকা।