• ই-পেপার

জাদুবিদ্যার ইতিহাস, বাস্তবতা ও একজন মুমিনের করণীয়

ইসলামী অর্থব্যবস্থায় রাজস্বনীতি

ড. ইকবাল কবীর মোহন
ইসলামী অর্থব্যবস্থায় রাজস্বনীতি
সংগৃহীত ছবি

ইসলামী রাজস্বনীতির কতগুলো মৌলিক উদ্দেশ্য আছে। এক. জনগণের মৌলিক প্রয়োজনসমূহ তথা অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের নিশ্চয়তা প্রদান করা। দুই. সম্পদ জমিয়ে না রেখে তা ন্যায়পূর্ণ বণ্টনের মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা। তিন. অর্থনৈতিক উন্নয়নের লক্ষ্যে বিনিয়োগ সম্প্রসারিত করা। চার. বেকারত্ব ও দারিদ্র্য হ্রাস করা। পাঁচ. আয় ও সম্পদের বণ্টন সুনিশ্চিত করা। (সূত্র : ড. আবদুল মান্নান চৌধুরী, ইসলামী অর্থনীতির রূপরেখা : তত্ত্ব ও প্রয়োগ)

ইসলামী রাজস্বব্যবস্থার উৎস
ইসলামী রাজস্বের উৎসগুলো কোরআন, হাদিস ও খোলাফায়ে রাশেদার নীতিমালার আলোকে নির্ধারিত হয়েছে। এ আয়ের উৎসসমূহের পরিমাণের ওপর ভিত্তি করে ইসলামী রাজস্বব্যবস্থাকে চার ভাগে বিভক্ত করা হয়েছে। যথা—ভূমি রাজস্ব, খুমুস জাকাত, সাদাকা ও জিজিয়া

মালিকানা বা উত্তরাধিকারহীন ধন-সম্পদ
১. ভূমি রাজস্ব :
রাষ্ট্রের সব ভূমি ব্যবহার করার নিমিত্তে জনগণের কাছ থেকে যে কর আদায় করা হয়, তাকে ভূমি রাজস্ব বলে। দেশের জনগণের ধর্মীয় বিশ্বাসের ওপর ভিত্তি করে এটিকে আবার দুই ভাগে বিভক্ত করা হয়েছে। যথা—ক. ওশর ও খ. খারাজ। এই দুুটিই ভূমি রাজস্ব আদায়ের উৎস হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।
ক. ওশর : আরবি ‘আশারাতুন’ শব্দ থেকে ওশর শব্দটি এসেছে। এর শাব্দিক অর্থ এক-দশমাংশ। যে জমির মালিক মুসলমান অথবা যে জমি মুসলমানই সর্বপ্রথম চাষের উপযোগী করে তুলেছে, সে জমি ওশরি জমি হিসেবে অভিহিত।

ওশর সম্পর্কে পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, ‘হে মুমিনরা! তোমরা যা উপার্জন করো এবং যা আমরা তোমাদের জন্য জমিতে উৎপন্ন করো, সেখান থেকে উত্কৃষ্ট বস্তু ব্যয় করো। আর সেখান থেকে নিকৃষ্ট বস্তু ব্যয় করার সংকল্প কোরো না, যা তোমরা নিজেরা গ্রহণ করো না চোখ বন্ধ করা ছাড়া। জেনে রেখো, আল্লাহ অভাবমুক্ত ও চির প্রশংসিত।’ (সুরা : বাকারা, আয়াত : ২৬৭)

ওশর প্রসঙ্গে আল্লাহর রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন, ‘বৃষ্টি ও প্রবাহিত পানি দ্বারা সিক্ত ভূমিতে উৎপাদিত ফসল বা সেচ ব্যতীত উর্বরতার ফলে উৎপন্ন ফসলের ওপর (এক-দশমাংশ) ওশর ওয়াজিব হয়। আর সেচ দ্বারা উৎপাদিত ফসলের ওপর অর্থ (বিশ ভাগের এক ভাগ) ওশর।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ১৪৮৩)

খ. খারাজ : সাধারণত ভূমির ওপর ধার্যকৃত করকে খারাজ বলে। তবে ইসলামী রাষ্ট্রে অমুসলিমদের মালিকানা বা ভোগকৃত জমি থেকে যে রাজস্ব আদায় করা হয়, তাকে খারাজ বলা হয়। জমির জরিপ ও গুণাগুণ নির্ণয় করে ইসলামী রাষ্ট্র খারাজের পরিমাণ নির্ধারণ করে থাকে। খোলাফায়ে রাশেদার শাসনামলে দ্বিতীয় খলিফা ওমর (রা) সর্বপ্রথম ইরাক, সিরিয়া ও মিসরের বিস্তৃত উর্বর জমির ওপর জরিপ পরিচালনা করেছিলেন। এ জন্য ভূমি রাজস্ব বিষয়ে পারদর্শী হজরত উসমান বিন হানিফ (রা) জরিপের কাজ পরিচালনা করেন। খারাজ রাষ্ট্রের সব নাগরিকের সম্পদ। তাই এটি নির্ধারণের ক্ষেত্রে জমির গুণাগুণ, উর্বরতা, সেচ ইত্যাদি বিষয়ের প্রতি খেয়াল রাখতে হবে। এ ক্ষেত্রে যেকোনো অবহেলার কারণে ভূমির মালিকের প্রতি অবিচার বা জুলুম হওয়ার আশঙ্কা থাকে। আর এ অবিচার হলো কঠিন গুনাহের কাজ। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আমি জালিমদের (যারা জুলুম ও অবিচার করে) জন্য জাহান্নাম প্রস্তুত রেখেছি।’ (সুরা : কাহফ : ২৯)

অবিচার বা জুলুম সম্পর্কে আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেন, ‘হে আমার বান্দারা! আমি আমার নিজের ওপর জুলুম হারাম করে দিয়েছি এবং তোমাদের মধ্যেও তা হারাম করেছি। অতএব, তোমরা একে অপরের ওপর জুলুম কোরো না।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ২৫৭৭) 

২. খুমুস : আরবি শব্দ ‘খুমুস’, অর্থ এক-পঞ্চমাংশ। ইসলামী শরিয়তে এটি একটি বাধ্যতামূলক বিধান হিসেবে আর্থিক ব্যবস্থার অংশ। এটি এমন একটি কর, যা নির্দিষ্ট কিছু সম্পদের ওপর প্রযোজ্য। ইসলামী আইন মতে, সাধারণত যুদ্ধলব্ধ সম্পদের (গনিমতের মাল) এক-পঞ্চমাংশ খুমুস হিসেবে গণ্য করা হয়। যা ইসলামী রাষ্ট্রের বায়তুলমাল তহবিলে জমা করতে হয়। গনিমত সম্পর্কে পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহর নির্দেশনা হচ্ছে, ‘আর তোমরা জেনে নাও যে যুদ্ধে তোমরা যেসব বস্তু গনিমত হিসেবে লাভ করেছ, তার এক-পঞ্চমাংশ হলো আল্লাহ, তাঁর রাসুল, তাঁর নিকটাত্মীয়, এতিম, মিসকিন ও মুসাফিরের জন্য। যদি তোমরা ঈমান এনে থাকো আল্লাহর ওপর এবং যা কিছু (বণ্টননীতি) আমরা নাজিল করেছি আমাদের বান্দার ওপর সত্য-মিথ্যার ফায়সালার দিন এবং দুই দলের জমা হওয়ার দিন (অর্থাৎ বদরের যুদ্ধের দিন)। আর নিশ্চয়ই আল্লাহ সব বিষয়ে সর্বশক্তিমান।’ (সুরা : আনফাল : ৪১)।

এ ছাড়া খনিজ সম্পদ, সমুদ্র থেকে প্রাপ্ত সম্পদ ও গুপ্তধনের ওপরও খুমুস প্রযোজ্য। এসব অর্থের প্রতিটি থেকে এক-পঞ্চমাংশ ইসলামী রাষ্ট্রের বায়তুলমালে জমা করার বিধানকে খুমুস বলা হয়।

৩. জাকাত ও সাদাকা : ইসলামে জাকাতের বিধানকে ফরজ করা হয়েছে। জাকাত কোনো কর বা ট্যাক্স নয়, বরং এটি আর্থিক ইবাদত। এটি সম্পদের পবিত্রকারী। জাকাত ইসলামী অর্থব্যবস্থার হৃৎপিণ্ড হিসেবে বিবেচিত। এটি ইসলামী রাষ্ট্রের অর্থব্যবস্থায় মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করে। ইসলামী সমাজে আয় ও সম্পদের বণ্টনব্যবস্থায় বিরাজমান বৈষম্য দূর করে জাকাত।

জাকাত রাষ্ট্রের দরিদ্র, অভাবগ্রস্ত এবং অবহেলিত বিশেষ শ্রেণির মানুষের জন্য আল্লাহ প্রদত্ত একটি সুরক্ষাবলয়। তাই পবিত্র কোরআনের প্রায় ৩০টি আয়াতে জাকাতের কথা বলা হয়েছে। ইসলামী শরিয়াহ অনুযায়ী নির্ধারিত নিসাব পরিমাণ মাল বা সম্পদের ওপর নির্দিষ্ট অংশ নির্দিষ্ট খাতে ব্যয় করার নাম জাকাত। জাকাত সমাজের দারিদ্র্য বিমোচনের একটি শক্তিশালী হাতিয়ার। আল্লাহ তাআলা জাকাত বণ্টনের খাত ও নীতি ঘোষণা করেছেন। আল্লাহ বলেন, ‘জাকাত (সাদাকাসমূহ) আট শ্রেণির লোকের জন্য। ফকির, অভাবগ্রস্ত, জাকাত আদায়কারী কর্মচারী, ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট ব্যক্তি, দাসমুক্তি, ঋণগ্রস্ত, আল্লাহর রাস্তায় এবং মুসাফিরের জন্য। এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত। আর আল্লাহ সর্বজ্ঞ ও প্রজ্ঞাময়।’ (সুরা : তাওবা, আয়াত : ৬০)

৪. জিজিয়া : জিজিয়া অর্থ হচ্ছে মাথাপিছু ধার্যকৃত কর। এটি ইসলামী রাষ্ট্রে অমুসলিম নাগরিকের ওপর ধার্যকৃত নিরাপত্তা কর। ইসলামী রাষ্ট্রে যুদ্ধ করতে সক্ষম অমুসলিম নাগরিকদের কাছ থেকে দেশ রক্ষার দায়িত্ব থেকে মুক্তি দেওয়ার বিনিময়ে প্রতিবছর যে অর্থ আদায় করা হয়, তাকে জিজিয়া বলা হয়। জিজিয়া সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তোমরা যুদ্ধ করো আহলে কিতাবদের মধ্যকার সেসব লোকের বিরুদ্ধে, যারা আল্লাহ ও বিচার দিবসের ওপর বিশ্বাস রাখে না এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসুল যা হারাম করেছেন তা হারাম করে না ও সত্য দ্বিন (ইসলাম) কবুল করে না, যতক্ষণ পর্যন্ত না তারা বিনীত হয়ে করজোড়ে জিজিয়া প্রদান করে।’ (সুরা : তাওবা, আয়াত : ২৯)

৪. মালিকানাবিহীন সম্পদ : দুনিয়ার সম্পদের মালিক এক আল্লাহ। মানুষ দুনিয়াতে তাঁর খলিফা হিসেবে সাময়িকভাবে তাঁর সে সম্পদ ভোগ করে। সমাজে অনেক সময় দেখা যায় অনেক সম্পদ এমন আছে তার কোনো মালিক বা উত্তরাধিকার নেই। এসব মালিকানাবিহীন সম্পদের মালিক হবে ইসলামী রাষ্ট্র। এসব সম্পদ রাষ্ট্র দেশের জনগণের কল্যাণে ব্যয় করবে।

ইসলামী রাষ্ট্র পরিচালনায় অর্থনীতি পরিচালনায় আল্লাহ ও তাঁর রাসুল যে নীতি ও বিধান দিয়েছেন তা সঠিকভাবে প্রয়োগ করা গেলে দেশের মানুষ যেমন সুখ-সমৃদ্ধি ও উন্নয়ন লাভ করবে, তেমনি একটি বৈষম্যহীন সমাজ লাভ করবে, যেখানে জুলুম, অবিচার ও নীতিহীনতার লেশমাত্র থাকবে না।

ডাক্তারদের জন্য ওষুধ কম্পানির উপঢৌকন গ্রহণ কি জায়েজ?

মুফতি দিদার হুসাইন
ডাক্তারদের জন্য ওষুধ কম্পানির উপঢৌকন গ্রহণ কি জায়েজ?
সংগৃহীত ছবি

আধুনিক চিকিৎসাব্যবস্থার একটি উদ্বেগজনক অনৈতিক দিক হলো, ডায়াগনস্টিক সেন্টার, ল্যাব কিংবা ওষুধ কম্পানির পক্ষ থেকে ডাক্তারদের কমিশন, উপঢৌকন ও বিভিন্ন আর্থিক সুবিধা প্রদান করা। শরিয়তের দৃষ্টিতে বিষয়টি অত্যন্ত স্পর্শকাতর।

কারণ এখানে রোগীর আস্থা, চিকিৎসকের পেশাগত আমানতদারিতা এবং মানুষের সম্পদের হক জড়িত, যা মানুষের সম্পদ অন্যায়ভাবে আত্মসাৎ করার পথকে সুগম করে। অথচ পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা একে অপরের সম্পদ অন্যায়ভাবে ভক্ষণ করো না।’ (সুরা : বাকারা, আয়াত : ১৮৮)

শরিয়তের পরিভাষায় ডাক্তার ও রোগীর সম্পর্ককে আকদুল ইজারা তথা সেবাভিত্তিক চুক্তি বলে। রোগী নির্ধারিত ফি প্রদান করে চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করে।

এ অবস্থায় রোগী হলো সেবাগ্রহীতা। আর ডাক্তার হলেন সেবাদাতা। রোগীর দায়িত্ব হলো, নিজের শারীরিক অবস্থা সঠিকভাবে জানানো এবং নির্ধারিত ফি প্রদান করা। পক্ষান্তরে ডাক্তারের দায়িত্ব হলো, রোগ নির্ণয় করে যথাযথ চিকিৎসা ও ব্যবস্থাপত্র প্রদান করা। আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানে প্রয়োজনভেদে বিভিন্ন টেস্ট, স্ক্যান বা ল্যাব পরীক্ষার সাহায্য নেওয়া এ দায়িত্বেরই অংশ।

অতএব রোগীর কল্যাণ বিবেচনা করে কোন টেস্ট দিতে হবে, কোথায় করালে নির্ভরযোগ্য ফল পাওয়া যাবে—এসব নির্ধারণ করা ডাক্তারের পেশাগত দায়িত্বের অন্তর্ভুক্ত। যেহেতু এ কাজের বিনিময় রোগী আগেই ভিজিট ফি প্রদান করেছে, তাই এই দায়িত্ব পালনের জন্য অতিরিক্ত আর্থিক সুবিধা গ্রহণ বৈধ হতে পারে না। কারণ এ ক্ষেত্রে কমিশন গ্রহণের অর্থ হলো, ডাক্তার নিজ দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় কাজের জন্যই অন্যদের থেকে অর্থ গ্রহণ করছেন। আর এটা শরিয়ত নিষিদ্ধঘোষিত উেকাচের অন্তর্ভুক্ত।

হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘আমি কিয়ামতের দিন তিন ব্যক্তির প্রতিপক্ষ থাকব। তারা হলো : ১. যে ব্যক্তি আমার নামে অঙ্গীকার করার পর গাদ্দারি করে (অঙ্গীকার ভেঙে ফেলে)। ২. যেকোনো স্বাধীন মানুষকে (দাস বানিয়ে) বিক্রি করে তার অর্থ ভক্ষণ করে। ৩. আরেকজন হলো, সে ব্যক্তি যে কাউকে কর্মচারী বা শ্রমিক হিসেবে নিয়োগ করার পর তার থেকে যথাযথভাবে কাজ বুঝে নিয়েছে অথচ তাকে তার পারিশ্রমিক দেয়নি। (বুখারি, হাদিস : ২২২৭)

অন্য হাদিসে এসেছে , রাসুল (সা.) ঘুসদাতা ও ঘুসগ্রহীতা উভয়ের ওপর লানত করেছেন। (আবু দাউদ, হাদিস : ৩৫৮০)

অন্য এক হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, রাসুল (সা.) বলেছেন, তোমাদের কী হয়েছে! আমরা যাকে কোনো দায়িত্ব দিয়ে পাঠাই, সে বলে, এটা সরকারি সম্পদ, আর এটা আমাকে উপহার দেওয়া হয়েছে! সে যদি তার পিতার ঘরে বা মাতার ঘরে বসে থাকত, তাহলে কি তাকে কেউ উপহার দিত? যার হাতে মুহাম্মদের প্রাণ, তার কসম! যে কেউ এমন অবৈধ উপহার গ্রহণ করবে, কিয়ামতের দিন সে তা নিজের ঘাড়ে বহন করে আসবে। (বুখারি, হাদিস : ৭১৭৪)

আজকাল বহু ওষুধ কম্পানি তাদের ব্র্যান্ডের ওষুধ প্রেসক্রাইব করানোর জন্য ডাক্তারদের নগদ অর্থ, বিদেশভ্রমণ, দামি উপহার, মোবাইল রিচার্জ কার্ড, ইলেকট্রনিক ডিভাইস কিংবা অন্যান্য সুবিধা দেয়। শরিয়তের দৃষ্টিতে এসবও জায়েজ নয়। এটিও শরিয়তের দৃষ্টিতে বিনিময়হীন উপঢৌকনের শামিল। কেননা চিকিৎসকের দায়িত্ব হলো, রোগীর জন্য যে ওষুধ সবচেয়ে কার্যকর ও উপযোগী সেটিই নিরপেক্ষভাবে নির্ধারণ করা। কোনো কম্পানির আর্থিক সুবিধা গ্রহণ করলে এ নিরপেক্ষতা ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

তবে অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড অডিটিং অরগানাইজেশন ফর ইসলামিক ফিন্যানশিয়াল ইনস্টিটিউশনস (এ-এ-ও-আই-এফ-আই)-এর সিদ্ধান্ত মতে, কলম, প্যাড, খাতা, স্টাপলার, প্রেসক্রিপশন স্লিপবক্সের মতো স্বল্পমূল্যের স্টেশনারি সামগ্রী গ্রহণের সুযোগ আছে। এগুলোতে ওষুধ কম্পানির ট্রেডমার্ক, উৎপাদিত পণ্যের ট্রেডনেম ছাপানো থাকে। মূলত এগুলো কম্পানির বিজ্ঞাপন হিসেবে দেওয়া হয়। কিন্তু সেগুলো বিক্রি করে অর্থ উপার্জন করা বৈধ নয়।

এই কমিশন সংস্কৃতি শুধু ব্যক্তি পর্যায়ে সীমাবদ্ধ নয়; বরং পুরো স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে গভীরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে। এর ফলে চিকিৎসাক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও নৈতিকতা নষ্ট হয়, নিম্নমানের ডায়াগনস্টিক সেন্টার টিকে থাকে এবং অপ্রয়োজনীয় টেস্টের কারণে চিকিৎসা ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। এতে চিকিৎসকের স্বাধীন ও নিরপেক্ষ সিদ্ধান্ত ব্যাহত হয়, রোগী-ডাক্তারের আস্থা ভেঙে পড়ে এবং চিকিৎসাসেবা ধীরে ধীরে ব্যবসায়িক মুনাফাকেন্দ্রিক ব্যবস্থায় রূপ নেয়। এর সবচেয়ে বেশি ক্ষতির শিকার হয় দরিদ্র ও অসহায় রোগীরা।
 হাদিসে এসেছে, কারো ক্ষতি করা বা একে অন্যকে ক্ষতির মুখোমুখি করা ইসলামে নিষিদ্ধ। (ইবনে মাজাহ : ২৩৪০)

আল্লাহ তাআলা আমাদের হালাল পদ্ধতিতে ইনকাম করার তাওফিক দান করুন—আমীন।

আজকের নামাজের সময়সূচি, ৫ ‍জুলাই ২০২৬

অনলাইন ডেস্ক
আজকের নামাজের সময়সূচি, ৫ ‍জুলাই ২০২৬

আজ রবিবার, ৫ জুলাই ২০২৬, ২১ আষাঢ় ১৪৩৩, ১৯ মহররম, ১৪৪৮।

ঢাকা ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি নিম্নরূপ—

জোহরের সময় শুরু ১২টা ০৭ মিনিটে।

আসরের সময় শুরু ৪টা ৪২ মিনিটে।

মাগরিব ৬টা ৫৪ মিনিটে।

এশার সময় শুরু ৮টা ২০ মিনিটে।

আগামীকাল ফজর শুরু ৩টা ৫২ মিনিটে 

আজ ঢাকায় সূর্যাস্ত ৬টা ৫০ মিনিটে এবং আগামীকাল সূর্যোদয় ৫টা ১৪ মিনিটে।

সূত্র : ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার বসুন্ধরা, ঢাকা।

সন্তানের আকিকা না দিলে ক্ষতি হয়? কী বলে ইসলাম?

অনলাইন ডেস্ক
সন্তানের আকিকা না দিলে ক্ষতি হয়? কী বলে ইসলাম?
সংগৃহীত ছবি

মা-বাবার জন্য মহান রবের দেওয়া শ্রেষ্ঠ উপহার সন্তান। এ জন্য শিশুর জন্মের পর আকিকা করতে হয়। সেই সঙ্গে পশু জবাই করে আল্লাহ তা’আলার শুকরিয়া আদায় করতে হয়। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘ধন-সম্পদ আর সন্তানাদি পার্থিব জীবনের শোভা-সৌন্দর্য’ (সুরা কাহাফ, আয়াত : ৪৬)।

অন্যদিকে হাদিসে সন্তান জন্মের পর আকিকা করার ব্যাপারে উৎসাহিত করা হয়েছে। সালমান ইবনু আমির (রা.) থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে এসেছে, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, সন্তানের সঙ্গে আকিকা সম্পর্কিত। তার পক্ষ থেকে রক্ত প্রবাহিত (অর্থাৎ আকিকার পশু জবেহ) কর এবং তার (সন্তান) অশুচি (চুল, নখ ইত্যাদি) দূর করে দাও। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫০৭৬)

আরেকটি হাদিসে এসেছে, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ার সপ্তম দিনে তার নাম রাখতে, মাথা মুণ্ডন করতে এবং আকিকা দিতে নির্দেশ দিয়েছেন। (সুনান আত তিরমিজি, হাদিস : ২৮৩২)

এ ক্ষেত্রে ছেলে সন্তান হলে দু’টি ও মেয়ে সন্তান হলে একটি পশু কুরবানি দিতে হয়। ইসলামিক স্কলার মিজানুর রহমান আজহারীর মতে, আকিকা সম্পর্কে রাসুল (সা.) বলেছেন- ছেলে হলে দু’টি ছাগল দিয়ে আকিকা করো। আর যদি মেয়ে হয় তাহলে একটি ছাগল দিয়ে আকিকা করো। আর আকিকার ক্ষেত্রে সুন্নত হলো- সন্তান ভূমিষ্ঠের ৭ দিন পর আকিকা করা। সপ্তম দিনে সন্তানের মাথার চুল ফেলে দিতে হয় এবং তার একটি সুন্দর নাম রাখতে হয়।

তবে অনেকেই বলে থাকেন আকিকার পশু শুধু নর হতে হবে। কিন্তু হাদিসে নির্দিষ্টভাবে এমন নির্দেশনা আসেনি। উম্মু কুরয রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে এসেছে, তিনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আকিকা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন। তখন তিনি (নবীজি সা.) বলেন, ছেলের জন্য দুটো ছাগল আর মেয়ের জন্য একটি ছাগল আকিকা দিতে হবে। আকিকার পশু নর হোক বা মাদী হোক তোমাদের কোনো ক্ষতি (গুনাহ) হবে না। (সুনাত আত তিরমিজি, হাদিস: ১৫২২)

কিন্তু আকিকার ক্ষেত্রে অনেকেই প্রায় সময় বলে থাকেন, কেউ যদি সন্তানের আকিকা না দেন তাহলে সন্তানের ক্ষতি হয়। বিশেষ করে সন্তানের ওপর বিপদ-আপদ লেগেই থাকে। আসলেই কী ইসলামে এমন কিছু আছে?

ইসলামিক স্কলার শায়খ আহমাদুল্লাহর মতে, ছেলে-মেয়েদের আকিকা করা অনেকটা লাইফ ইনস্যুরেন্সের মতো। সেই জায়গা থেকে সন্তানের নিরাপত্তার জন্য এটা করা উচিত। কিন্তু আকিকা না দিলে সন্তান ক্ষতিগ্রস্ত হবে, এমন কোনো কথা হাদিসে আসেনি। তবে নিরাপত্তার জন্য সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে সাধ্য অনুযায়ী আকিকা করা উচিত।