• ই-পেপার

ইসলামী অর্থব্যবস্থায় রাজস্বনীতি

জাদুবিদ্যার ইতিহাস, বাস্তবতা ও একজন মুমিনের করণীয়

মুফতি ওমর বিন নাছির
জাদুবিদ্যার ইতিহাস, বাস্তবতা ও একজন মুমিনের করণীয়
সংগৃহীত ছবি

মানবসভ্যতার ইতিহাস যত পুরনো, জাদুবিদ্যা বা কালো জাদুর ইতিহাসও প্রায় ততটাই প্রাচীন। যুগে যুগে মানুষ অলৌকিক শক্তির প্রতি আকৃষ্ট হয়েছে। কেউ জাদুবিদ্যার মাধ্যমে মানুষের ওপর প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেছে, আবার কেউ এ ধরনের রহস্যময় শক্তির ভয় দেখিয়ে সাধারণ মানুষকে প্রতারণার ফাঁদে ফেলেছে। প্রাচীন মিসর, বাবেল, ভারত, গ্রিস কিংবা রোম—প্রায় সব সভ্যতার ইতিহাসেই জাদুবিদ্যার নানা চর্চার উল্লেখ পাওয়া যায়।
ইসলাম এ বিষয়ে একদিকে যেমন বাস্তবতাকে অস্বীকার করেনি, অন্যদিকে জাদুবিদ্যাকে কখনোই গ্রহণযোগ্য বা বৈধ বলে স্বীকৃতি দেয়নি। বরং ইসলাম জাদুবিদ্যার ভয়াবহ পরিণতি সম্পর্কে মুসলমানদের সতর্ক করেছে এবং আল্লাহর ওপর পূর্ণ তাওয়াক্কুল, দোয়া, জিকির ও কোরআনের মাধ্যমে নিরাপত্তা লাভের শিক্ষা দিয়েছে।

বনি ইসরাইলের জামানায় জাদুবিদ্যা
জাদুবিদ্যা সম্পর্কে কোরআনে সবচেয়ে বিস্তারিত যে ঘটনার উল্লেখ এসেছে, তা হলো বনি ইসরাইলের একাংশের বিপথগামিতার ঘটনা। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তারা সেই বিষয়ের অনুসরণ করল, যা সুলাইমানের রাজত্বকালে শয়তানরা পাঠ করত। সুলাইমান কুফরি করেননি; বরং শয়তানরাই কুফরি করেছিল। তারা মানুষকে জাদুবিদ্যা শিক্ষা দিত...।’ (সুরা : বাকারা, আয়াত : ১০২)

এই আয়াত থেকে জানা যায়, বনি ইসরাইলের একদল মানুষ আল্লাহর নাজিলকৃত হিদায়াত পরিত্যাগ করে শয়তানদের প্রচারিত জাদুবিদ্যা ও বিভ্রান্তির পথ অনুসরণ করেছিল। তারা মনে করেছিল, জাদুবিদ্যার মাধ্যমে অসাধারণ ক্ষমতা অর্জন করা সম্ভব। অথচ এ পথ ছিল ঈমানের জন্য ভয়াবহ ধ্বংসাত্মক। একই আয়াতে বাবেল নগরীতে প্রেরিত দুই ফেরেশতা হারুত ও মারুতের কথাও এসেছে। আল্লাহ তাদের মাধ্যমে মানুষকে পরীক্ষা করেছিলেন। তারা কাউকে কিছু শেখানোর আগে স্পষ্টভাবে সতর্ক করতেন, ‘আমরা তো শুধু পরীক্ষা স্বরূপ; অতএব তুমি কুফরি কোরো না।’ (সুরা : আল-বাকারা, আয়াত : ১০২)
কিন্তু সতর্কবার্তা সত্ত্বেও বহু মানুষ জাদুবিদ্যার প্রতি আকৃষ্ট হয় এবং শয়তানের প্ররোচনায় বিভ্রান্তির পথে পা বাড়ায়। 

স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটানোর অপচেষ্টা
জাদুবিদ্যার অন্যতম ভয়ংকর ব্যবহার সম্পর্কে কোরআনে বলা হয়েছে, ‘তারা এমন বিষয় শিখত, যার মাধ্যমে স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে বিচ্ছেদ সৃষ্টি করা যায়।’ (সুরা : বাকারা, আয়াত : ১০২)
কিন্তু একই আয়াতে আল্লাহ তাআলা একটি গুরুত্বপূর্ণ আকিদাগত সত্যও ঘোষণা করেছেন, ‘আল্লাহর অনুমতি ছাড়া তারা এর দ্বারা কারও কোনো ক্ষতি করতে পারে না।’ (সুরা : বাকারা, আয়াত : ১০২)

অতএব, একজন মুসলমানের উচিত, এই বিশ্বাস করা যে, জাদুর কোনো শক্তি নেই। কেননা আল্লাহর ইচ্ছা ছাড়া পৃথিবীতে কোনো কিছুই কার্যকর হতে পারে না।

সুলাইমান (আ.)-এর বিরুদ্ধে অপপ্রচার
ইতিহাসে কিছু লোক দাবি করেছিল যে, হজরত সুলাইমান (আ.) তাঁর রাজত্ব জাদুবিদ্যার মাধ্যমে পরিচালনা করতেন। কোরআন এ অপবাদ সম্পূর্ণরূপে প্রত্যাখ্যান করেছে। আল্লাহ বলেন, ‘সুলাইমান কুফরি করেননি; বরং শয়তানরাই কুফরি করেছিল।’ (সুরা : বাকারা, আয়াত : ১০২)

এ আয়াত স্পষ্ট করে দেয় যে, নবীদের মুজিজা কখনোই জাদুবিদ্যা নয়। মুজিজা আল্লাহপ্রদত্ত সত্যের নিদর্শন, আর জাদু শয়তানি বিভ্রান্তি।

ফেরাউনের জাদুকরদের পরাজয়
জাদুবিদ্যার আরেকটি ঐতিহাসিক ঘটনা হলো ফেরাউনের জাদুকরদের কাহিনি। আল্লাহ বলেন, ‘তারা মানুষের চোখে ধাঁধা লাগিয়ে দিল এবং তাদের ভীতসন্ত্রস্ত করল; তারা এক বিরাট জাদু প্রদর্শন করল।’ (সুরা : আরাফ, আয়াত : ১১৬)
অতঃপর আল্লাহ মুসা (আ.)-কে মুজিজা দান করেন। তাঁর লাঠি আল্লাহর আদেশে বাস্তব সাপে পরিণত হয়ে জাদুকরদের সব ভেলকি গ্রাস করে নেয়। সত্য প্রত্যক্ষ করার পর জাদুকররা সঙ্গে সঙ্গে সিজদায় লুটিয়ে পড়ে ঘোষণা করলেন, ‘আমরা হারুন ও মুসার রবের প্রতি ঈমান আনলাম।’ (সুরা : ত্বহা, আয়াত : ৭০)

রাসুলুল্লাহ (স.)-এর ওপর জাদুর ঘটনা
সহিহ হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, লাবিদ ইবনুল আসাম নামক এক ইহুদি ব্যক্তি রাসুলুল্লাহ (স.)-এর ওপর জাদু করেছিল। এ ঘটনা সহিহ বুখারি (হাদিস : ৫৭৬৫)-এ বর্ণিত হয়েছে। তবে এ জাদু তাঁর নবুয়ত বা ওহির ওপর কোনো প্রভাব ফেলেনি। বরং কিছু সময় তিনি শারীরিকভাবে এর প্রভাব অনুভব করেছিলেন। পরে আল্লাহ তাআলা তাঁকে বিষয়টি অবহিত করেন এবং তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে ওঠেন।

জাদুকরদের সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কঠোর সতর্কতা
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি গণকের কাছে গেল এবং তার কথাকে সত্য বলে বিশ্বাস করল, সে মুহাম্মদ (সা.)-এর ওপর যা নাজিল হয়েছে, তা অস্বীকার করল।’ (মুসনাদ আহমাদ : ৯৫৩২; সুনানে আবু দাউদ : ৩৯০৪)
আরেক হাদিসে তিনি বলেন, ‘ধ্বংসাত্মক সাতটি মহাপাপ থেকে বেঁচে থাকো।’ সাহাবিগণ জিজ্ঞাসা করলেন, সেগুলো কী? তিনি বললেন, ‘আল্লাহর সঙ্গে শিরক করা এবং জাদুবিদ্যা করা...।’ (সহিহ বুখারি, ২৭৬৬)

আধুনিক যুগে কালো জাদুর নামে প্রতারণা
আজকের যুগেও সমাজে কালো জাদুর নামে ভয়াবহ প্রতারণা চলছে। প্রেম ফেরানো, স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক ঠিক করা, ব্যবসায় উন্নতি, শত্রু ধ্বংস, চাকরি নিশ্চিত করা কিংবা সন্তান লাভের আশ্বাস দিয়ে অসংখ্য ভণ্ড কবিরাজ, তান্ত্রিক ও গণক মানুষের ঈমান, অর্থ ও মানসিক শান্তি নিয়ে খেলছে। ইসলাম এসব প্রতারণা থেকে দূরে থাকার নির্দেশ দিয়েছে। একজন মুসলমান কখনো ভাগ্যবক্তা, গণক কিংবা জাদুকরের শরণাপন্ন হবে না। বরং কোরআন-সুন্নাহসম্মত চিকিৎসা, দোয়া, বৈধ রুকইয়াহ এবং আল্লাহর ওপর নির্ভরশীলতাই হবে তার একমাত্র আশ্রয়।

জাদু থেকে বাঁচতে মুমিনের করণীয়

১. পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায় করা,
২. সকাল-সন্ধ্যার মাসনুন জিকির করা,
৩. আয়াতুল কুরসি পাঠ করা,
৪. সুরা ইখলাস, ফালাক ও নাস নিয়মিত তিলাওয়াত করে শরীরে ফুঁ দেওয়া,
৫. কোরআনের দোয়া ও সহিহ সুন্নাহভিত্তিক রুকইয়াহ অনুসরণ করা,
৬. ভণ্ড কবিরাজ, তান্ত্রিক, জাদুকর ও গণকদের থেকে সম্পূর্ণ দূরে থাকা উচিত।

শেষকথা, আজকের যুগে কালো জাদুর ভয় দেখিয়ে মানুষকে প্রতারণা করা, কুসংস্কার ছড়ানো কিংবা মানুষের দুর্বল বিশ্বাসকে পুঁজি করে অর্থ উপার্জন করা একটি বড় সামাজিক ব্যাধিতে পরিণত হয়েছে। তাই প্রত্যেক মুসলমানের দায়িত্ব হলো আকিদা বিশুদ্ধ রাখা, কোরআন-সুন্নাহর শিক্ষা অনুসরণ করা এবং আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো ওপর অতিপ্রাকৃত ক্ষমতার বিশ্বাস না রাখা।

মনে রাখতে হবে, প্রকৃত শক্তি কোনো তাবিজ, তন্ত্র বা কালো জাদুর মধ্যে নয়; প্রকৃত শক্তি নিহিত রয়েছে আল্লাহর প্রতি অটল ঈমান, আন্তরিক ইবাদত, নিয়মিত জিকির, কোরআনের তিলাওয়াত এবং দৃঢ় তাওয়াক্কুলের মধ্যে। একজন মুমিনের সর্বশ্রেষ্ঠ আশ্রয় একমাত্র মহান আল্লাহ। তিনি চাইলে সব অনিষ্ট দূর করতে পারেন, আর তিনি ছাড়া কেউ কোনো উপকার বা অপকারের স্বাধীন ক্ষমতা রাখে না।

ডাক্তারদের জন্য ওষুধ কম্পানির উপঢৌকন গ্রহণ কি জায়েজ?

মুফতি দিদার হুসাইন
ডাক্তারদের জন্য ওষুধ কম্পানির উপঢৌকন গ্রহণ কি জায়েজ?
সংগৃহীত ছবি

আধুনিক চিকিৎসাব্যবস্থার একটি উদ্বেগজনক অনৈতিক দিক হলো, ডায়াগনস্টিক সেন্টার, ল্যাব কিংবা ওষুধ কম্পানির পক্ষ থেকে ডাক্তারদের কমিশন, উপঢৌকন ও বিভিন্ন আর্থিক সুবিধা প্রদান করা। শরিয়তের দৃষ্টিতে বিষয়টি অত্যন্ত স্পর্শকাতর।

কারণ এখানে রোগীর আস্থা, চিকিৎসকের পেশাগত আমানতদারিতা এবং মানুষের সম্পদের হক জড়িত, যা মানুষের সম্পদ অন্যায়ভাবে আত্মসাৎ করার পথকে সুগম করে। অথচ পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা একে অপরের সম্পদ অন্যায়ভাবে ভক্ষণ করো না।’ (সুরা : বাকারা, আয়াত : ১৮৮)

শরিয়তের পরিভাষায় ডাক্তার ও রোগীর সম্পর্ককে আকদুল ইজারা তথা সেবাভিত্তিক চুক্তি বলে। রোগী নির্ধারিত ফি প্রদান করে চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করে।

এ অবস্থায় রোগী হলো সেবাগ্রহীতা। আর ডাক্তার হলেন সেবাদাতা। রোগীর দায়িত্ব হলো, নিজের শারীরিক অবস্থা সঠিকভাবে জানানো এবং নির্ধারিত ফি প্রদান করা। পক্ষান্তরে ডাক্তারের দায়িত্ব হলো, রোগ নির্ণয় করে যথাযথ চিকিৎসা ও ব্যবস্থাপত্র প্রদান করা। আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানে প্রয়োজনভেদে বিভিন্ন টেস্ট, স্ক্যান বা ল্যাব পরীক্ষার সাহায্য নেওয়া এ দায়িত্বেরই অংশ।

অতএব রোগীর কল্যাণ বিবেচনা করে কোন টেস্ট দিতে হবে, কোথায় করালে নির্ভরযোগ্য ফল পাওয়া যাবে—এসব নির্ধারণ করা ডাক্তারের পেশাগত দায়িত্বের অন্তর্ভুক্ত। যেহেতু এ কাজের বিনিময় রোগী আগেই ভিজিট ফি প্রদান করেছে, তাই এই দায়িত্ব পালনের জন্য অতিরিক্ত আর্থিক সুবিধা গ্রহণ বৈধ হতে পারে না। কারণ এ ক্ষেত্রে কমিশন গ্রহণের অর্থ হলো, ডাক্তার নিজ দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় কাজের জন্যই অন্যদের থেকে অর্থ গ্রহণ করছেন। আর এটা শরিয়ত নিষিদ্ধঘোষিত উেকাচের অন্তর্ভুক্ত।

হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘আমি কিয়ামতের দিন তিন ব্যক্তির প্রতিপক্ষ থাকব। তারা হলো : ১. যে ব্যক্তি আমার নামে অঙ্গীকার করার পর গাদ্দারি করে (অঙ্গীকার ভেঙে ফেলে)। ২. যেকোনো স্বাধীন মানুষকে (দাস বানিয়ে) বিক্রি করে তার অর্থ ভক্ষণ করে। ৩. আরেকজন হলো, সে ব্যক্তি যে কাউকে কর্মচারী বা শ্রমিক হিসেবে নিয়োগ করার পর তার থেকে যথাযথভাবে কাজ বুঝে নিয়েছে অথচ তাকে তার পারিশ্রমিক দেয়নি। (বুখারি, হাদিস : ২২২৭)

অন্য হাদিসে এসেছে , রাসুল (সা.) ঘুসদাতা ও ঘুসগ্রহীতা উভয়ের ওপর লানত করেছেন। (আবু দাউদ, হাদিস : ৩৫৮০)

অন্য এক হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, রাসুল (সা.) বলেছেন, তোমাদের কী হয়েছে! আমরা যাকে কোনো দায়িত্ব দিয়ে পাঠাই, সে বলে, এটা সরকারি সম্পদ, আর এটা আমাকে উপহার দেওয়া হয়েছে! সে যদি তার পিতার ঘরে বা মাতার ঘরে বসে থাকত, তাহলে কি তাকে কেউ উপহার দিত? যার হাতে মুহাম্মদের প্রাণ, তার কসম! যে কেউ এমন অবৈধ উপহার গ্রহণ করবে, কিয়ামতের দিন সে তা নিজের ঘাড়ে বহন করে আসবে। (বুখারি, হাদিস : ৭১৭৪)

আজকাল বহু ওষুধ কম্পানি তাদের ব্র্যান্ডের ওষুধ প্রেসক্রাইব করানোর জন্য ডাক্তারদের নগদ অর্থ, বিদেশভ্রমণ, দামি উপহার, মোবাইল রিচার্জ কার্ড, ইলেকট্রনিক ডিভাইস কিংবা অন্যান্য সুবিধা দেয়। শরিয়তের দৃষ্টিতে এসবও জায়েজ নয়। এটিও শরিয়তের দৃষ্টিতে বিনিময়হীন উপঢৌকনের শামিল। কেননা চিকিৎসকের দায়িত্ব হলো, রোগীর জন্য যে ওষুধ সবচেয়ে কার্যকর ও উপযোগী সেটিই নিরপেক্ষভাবে নির্ধারণ করা। কোনো কম্পানির আর্থিক সুবিধা গ্রহণ করলে এ নিরপেক্ষতা ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

তবে অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড অডিটিং অরগানাইজেশন ফর ইসলামিক ফিন্যানশিয়াল ইনস্টিটিউশনস (এ-এ-ও-আই-এফ-আই)-এর সিদ্ধান্ত মতে, কলম, প্যাড, খাতা, স্টাপলার, প্রেসক্রিপশন স্লিপবক্সের মতো স্বল্পমূল্যের স্টেশনারি সামগ্রী গ্রহণের সুযোগ আছে। এগুলোতে ওষুধ কম্পানির ট্রেডমার্ক, উৎপাদিত পণ্যের ট্রেডনেম ছাপানো থাকে। মূলত এগুলো কম্পানির বিজ্ঞাপন হিসেবে দেওয়া হয়। কিন্তু সেগুলো বিক্রি করে অর্থ উপার্জন করা বৈধ নয়।

এই কমিশন সংস্কৃতি শুধু ব্যক্তি পর্যায়ে সীমাবদ্ধ নয়; বরং পুরো স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে গভীরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে। এর ফলে চিকিৎসাক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও নৈতিকতা নষ্ট হয়, নিম্নমানের ডায়াগনস্টিক সেন্টার টিকে থাকে এবং অপ্রয়োজনীয় টেস্টের কারণে চিকিৎসা ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। এতে চিকিৎসকের স্বাধীন ও নিরপেক্ষ সিদ্ধান্ত ব্যাহত হয়, রোগী-ডাক্তারের আস্থা ভেঙে পড়ে এবং চিকিৎসাসেবা ধীরে ধীরে ব্যবসায়িক মুনাফাকেন্দ্রিক ব্যবস্থায় রূপ নেয়। এর সবচেয়ে বেশি ক্ষতির শিকার হয় দরিদ্র ও অসহায় রোগীরা।
 হাদিসে এসেছে, কারো ক্ষতি করা বা একে অন্যকে ক্ষতির মুখোমুখি করা ইসলামে নিষিদ্ধ। (ইবনে মাজাহ : ২৩৪০)

আল্লাহ তাআলা আমাদের হালাল পদ্ধতিতে ইনকাম করার তাওফিক দান করুন—আমীন।

আজকের নামাজের সময়সূচি, ৫ ‍জুলাই ২০২৬

অনলাইন ডেস্ক
আজকের নামাজের সময়সূচি, ৫ ‍জুলাই ২০২৬

আজ রবিবার, ৫ জুলাই ২০২৬, ২১ আষাঢ় ১৪৩৩, ১৯ মহররম, ১৪৪৮।

ঢাকা ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি নিম্নরূপ—

জোহরের সময় শুরু ১২টা ০৭ মিনিটে।

আসরের সময় শুরু ৪টা ৪২ মিনিটে।

মাগরিব ৬টা ৫৪ মিনিটে।

এশার সময় শুরু ৮টা ২০ মিনিটে।

আগামীকাল ফজর শুরু ৩টা ৫২ মিনিটে 

আজ ঢাকায় সূর্যাস্ত ৬টা ৫০ মিনিটে এবং আগামীকাল সূর্যোদয় ৫টা ১৪ মিনিটে।

সূত্র : ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার বসুন্ধরা, ঢাকা।

সন্তানের আকিকা না দিলে ক্ষতি হয়? কী বলে ইসলাম?

অনলাইন ডেস্ক
সন্তানের আকিকা না দিলে ক্ষতি হয়? কী বলে ইসলাম?
সংগৃহীত ছবি

মা-বাবার জন্য মহান রবের দেওয়া শ্রেষ্ঠ উপহার সন্তান। এ জন্য শিশুর জন্মের পর আকিকা করতে হয়। সেই সঙ্গে পশু জবাই করে আল্লাহ তা’আলার শুকরিয়া আদায় করতে হয়। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘ধন-সম্পদ আর সন্তানাদি পার্থিব জীবনের শোভা-সৌন্দর্য’ (সুরা কাহাফ, আয়াত : ৪৬)।

অন্যদিকে হাদিসে সন্তান জন্মের পর আকিকা করার ব্যাপারে উৎসাহিত করা হয়েছে। সালমান ইবনু আমির (রা.) থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে এসেছে, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, সন্তানের সঙ্গে আকিকা সম্পর্কিত। তার পক্ষ থেকে রক্ত প্রবাহিত (অর্থাৎ আকিকার পশু জবেহ) কর এবং তার (সন্তান) অশুচি (চুল, নখ ইত্যাদি) দূর করে দাও। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫০৭৬)

আরেকটি হাদিসে এসেছে, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ার সপ্তম দিনে তার নাম রাখতে, মাথা মুণ্ডন করতে এবং আকিকা দিতে নির্দেশ দিয়েছেন। (সুনান আত তিরমিজি, হাদিস : ২৮৩২)

এ ক্ষেত্রে ছেলে সন্তান হলে দু’টি ও মেয়ে সন্তান হলে একটি পশু কুরবানি দিতে হয়। ইসলামিক স্কলার মিজানুর রহমান আজহারীর মতে, আকিকা সম্পর্কে রাসুল (সা.) বলেছেন- ছেলে হলে দু’টি ছাগল দিয়ে আকিকা করো। আর যদি মেয়ে হয় তাহলে একটি ছাগল দিয়ে আকিকা করো। আর আকিকার ক্ষেত্রে সুন্নত হলো- সন্তান ভূমিষ্ঠের ৭ দিন পর আকিকা করা। সপ্তম দিনে সন্তানের মাথার চুল ফেলে দিতে হয় এবং তার একটি সুন্দর নাম রাখতে হয়।

তবে অনেকেই বলে থাকেন আকিকার পশু শুধু নর হতে হবে। কিন্তু হাদিসে নির্দিষ্টভাবে এমন নির্দেশনা আসেনি। উম্মু কুরয রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে এসেছে, তিনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আকিকা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন। তখন তিনি (নবীজি সা.) বলেন, ছেলের জন্য দুটো ছাগল আর মেয়ের জন্য একটি ছাগল আকিকা দিতে হবে। আকিকার পশু নর হোক বা মাদী হোক তোমাদের কোনো ক্ষতি (গুনাহ) হবে না। (সুনাত আত তিরমিজি, হাদিস: ১৫২২)

কিন্তু আকিকার ক্ষেত্রে অনেকেই প্রায় সময় বলে থাকেন, কেউ যদি সন্তানের আকিকা না দেন তাহলে সন্তানের ক্ষতি হয়। বিশেষ করে সন্তানের ওপর বিপদ-আপদ লেগেই থাকে। আসলেই কী ইসলামে এমন কিছু আছে?

ইসলামিক স্কলার শায়খ আহমাদুল্লাহর মতে, ছেলে-মেয়েদের আকিকা করা অনেকটা লাইফ ইনস্যুরেন্সের মতো। সেই জায়গা থেকে সন্তানের নিরাপত্তার জন্য এটা করা উচিত। কিন্তু আকিকা না দিলে সন্তান ক্ষতিগ্রস্ত হবে, এমন কোনো কথা হাদিসে আসেনি। তবে নিরাপত্তার জন্য সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে সাধ্য অনুযায়ী আকিকা করা উচিত।