• ই-পেপার

ইসরায়েলি মন্ত্রীর নিউ ইয়র্ক সফর বাতিল, মানবাধিকার সংস্থার সন্তোষ প্রকাশ

পেরুর নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলেন কেইকো ফুজিমোরি

অনলাইন ডেস্ক
পেরুর নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলেন কেইকো ফুজিমোরি
ছবি : রয়টার্স

কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা তীব্র বিক্ষোভ, ভোট জালিয়াতির অভিযোগ ও হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পর অবশেষে পেরুর প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে। সব বিতর্ক ও ব্যালট পর্যালোচনা শেষে দেশটির রক্ষণশীল দলের প্রার্থী কেইকো ফুজিমোরিকে আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন রাষ্ট্রপতি হিসেবে বিজয়ী ঘোষণা করেছে নির্বাচন দপ্তর।

গত ৭ জুনের রানঅফ (দ্বিতীয় দফা) নির্বাচনে ৫১ বছর বয়সী ফুজিমোরি ৫০.১৩৫% ভোট পেয়ে দেশের সর্বোচ্চ পদে জয়ী হন। এটি ছিল রাষ্ট্রপতি পদে তার চতুর্থবারের মতো প্রতিদ্বন্দ্বিতা। তিনি তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী, বামপন্থী কংগ্রেসম্যান রবার্তো সানচেজকে মাত্র প্রায় ৫০,০০০ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেছেন, যেখানে মোট ভোট পড়েছিল ১ কোটি ৮০ লক্ষ। দলের সদর দপ্তরে কর্মীদের উদ্দেশে ফুজিমোরি বলেন, ‘আজ পেরুর জন্য এক নতুন যুগের সূচনা হলো—আমাদের প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি আস্থা পুনরুদ্ধারের জন্য দায়িত্ববোধ, সংলাপ ও ফলাফলের এক যুগ।’

আগামী ২৮ জুলাই ক্ষমতা গ্রহণের পর কেইকো ফুজিমোরি হবেন ২০১৬ সালের পর থেকে পেরুর ১০ম রাষ্ট্রপতি। তিনি অন্তর্বর্তীকালীন রাষ্ট্রপতি হোসে বালকাজারের স্থলাভিষিক্ত হবেন। কেইকো ফুজিমোরি হলেন পেরুর সাবেক প্রয়াত বিতর্কিত প্রেসিডেন্ট আলবার্তো ফুজিমোরির কন্যা, যিনি ১৯৯০ থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত কঠোর হস্তে দেশ শাসন করেছিলেন। কেইকো নিজেও অতীতে নির্বাচনী প্রচারণার অর্থায়নের অভিযোগে দীর্ঘ তদন্তের মুখে পড়েছিলেন এবং কয়েক দফায় প্রায় দেড় বছর জেল খেটেছেন, যদিও গত বছর তার সেই অভিযোগ প্রত্যাহার করা হয়। তীব্র রাজনৈতিক বিভাজনে খণ্ডিত পেরুকে ঐক্যবদ্ধ করা এবং গ্রামীণ ও শহরের মধ্যকার বিশাল অর্থনৈতিক বৈষম্য দূর করাই এখন নতুন রাষ্ট্রপতি কেইকো ফুজিমোরির জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

তেহরানে খামেনির প্রথম জানাজা সম্পন্ন

অনলাইন ডেস্ক
তেহরানে খামেনির প্রথম জানাজা সম্পন্ন
সংগৃহীত ছবি

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনি নিহত হওয়ার চার মাসেরও বেশি সময় পর অবশেষে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার (৫ জুলাই) স্থানীয় সময় সকাল ৮টায় (বাংলাদেশ সময় সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে) তেহরানের কেন্দ্রীয় মসজিদে এই জানাজা সম্পন্ন হয়।

জানাজা নামাজে ইমামতি করেন প্রখ্যাত শিয়া ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ জাফর সোবহানি তাবরিজি। এর আগে শনিবার (৪ জুলাই) আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল যে, খামেনির ছেলে মোজতবা খামেনি তার পিতার জানাজা পড়াবেন না। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, এই জানাজা অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে শুক্রবার (৩ জুলাই) থেকেই তেহরান মসজিদ ও এর আশপাশের এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার মাধ্যমে যুদ্ধ শুরু হয়। যুদ্ধের প্রথম দিনেই নিহত হয়েছিলেন দেশটির এই শীর্ষ নেতা। দীর্ঘ চার মাস পর তার মরদেহ দাফনের প্রক্রিয়া শুরু করে ইরান সরকার। এই উপলক্ষে দেশটিতে নয় দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে এবং শেষ বিদায়ের জন্য বিশাল শোভাযাত্রার আয়োজন করা হয়েছে।

এর আগে, শুক্রবার থেকে তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লায় সর্বসাধারণের শেষ শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য সাবেক এই আয়াতুল্লাহর মরদেহ রাখা হয়েছিল, যেখানে হাজার হাজার মানুষ অংশ নেন।

ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পের ধ্বংসস্তূপ থেকে বেঁচে ফেরার অভিজ্ঞতা জানালেন জাপাতা

অনলাইন ডেস্ক
ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পের ধ্বংসস্তূপ থেকে বেঁচে ফেরার অভিজ্ঞতা জানালেন জাপাতা
ছবি : রয়টার্স

ভেনেজুয়েলার উপকূলে আঘাত হানা শক্তিশালী জোড়া ভূমিকম্পের ১০ দিন পর লা গুয়াইরা রাজ্যে অলৌকিকভাবে বেঁচে ফিরেছেন জুয়ান জাপাতা নামের এক ব্যক্তি। ভবন ধসে পড়ার পর দীর্ঘ দুই দিন সাত ঘণ্টা (৫৫ ঘণ্টা) ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে ছিলেন তিনি। অবশেষে বেসামরিক উদ্ধারকারীরা তাকে জীবিত উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছেন।

পঞ্চম তলার বাসিন্দা জাপাতা জানান, ভূমিকম্পের সময় তিনি ঘরের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ছিটকে পড়েন এবং দুইটি রডের টুকরোর মাঝে আটকে যান। উদ্ধারের পর তিনি যখন জানতে পারেন যে তিনি আর পঞ্চম তলায় নেই, বরং একেবারে বেসমেন্টে (ভূগর্ভস্থ তলা) নেমে গেছেন, তখন তিনি নিজের চোখকেও বিশ্বাস করতে পারছিলেন না। মার্কিন সাহায্য সংস্থা ‘সামারিটানস পার্স’ পরিচালিত একটি ফিল্ড হাসপাতালে ভাঙা পাঁজর ও গুরুতর আঘাত নিয়ে বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন আছেন। ভূমিকম্পে ফোন ও পরিচয়পত্র হারিয়ে যাওয়ায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় থাকা তার পরিবারের সঙ্গে তিনি এখনো যোগাযোগ করতে পারেননি।

গত ২৪ জুন ভেনেজুয়েলায় ৭.২ ও ৭.৫ মাত্রার দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। শনিবার (৪ জুলাই) দেশটির সরকার নিহতের সংখ্যা  ২৯৫৪ জন বলে ঘোষণা করেছে। এ ছাড়া সরকারি হিসেবে ১৬০০০ মানুষ গৃহহীন হলেও একটি বেসরকারি হিসাব মতে, নিখোঁজের সংখ্যা ৪১০০০ ছাড়িয়ে গেছে। দুর্যোগ মোকাবেলায় প্রায় ৩০,০০০ সরকারি কর্মকর্তা এবং ৩,০০০-এর বেশি আন্তর্জাতিক উদ্ধারকর্মী কাজ করছেন বলে অন্তর্বর্তীকালীন রাষ্ট্রপতি দেলসি রদ্রিগেজ দাবি করলেও, সাধারণ মানুষ ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো সরকারের এই ভূমিকাকে ধীর ও অকার্যকর বলে সমালোচনা করেছে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, খাদ্য ও চিকিৎসার মতো জরুরি সাহায্য পৌঁছাতে অনেক দেরি হয়েছে এবং ধ্বংসস্তূপ সরানোর জন্য ভারী যন্ত্রপাতির তীব্র অভাব রয়েছে।

এমন পরিস্থিতিতে সরকারি বাহিনীর ওপর ভরসা না করে সাধারণ মেকানিক, শিক্ষক ও স্বেচ্ছাসেবীরা নিজেরাই সুড়ঙ্গ খুঁড়ে নিখোঁজদের উদ্ধারে কাজ করে যাচ্ছেন। স্বজনহারা মানুষেরা জানিয়েছেন, সেনাবাহিনী বা পুলিশের উপস্থিতি থাকলেও তারা উদ্ধারকাজের চেয়ে অস্ত্র হাতে টহল দেওয়াতেই বেশি ব্যস্ত। তবে নিখোঁজদের জীবিত অথবা মৃতাবস্থায় উদ্ধার না করা পর্যন্ত এই বেসামরিক উদ্ধারকারীরা মাঠ ছাড়বেন না বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।

ট্রাম্পকে ইরানি দূতাবাস

‘মানুষকে হত্যা করা যায়, কিন্তু আদর্শকে নয়’

অনলাইন ডেস্ক
‘মানুষকে হত্যা করা যায়, কিন্তু আদর্শকে নয়’
সংগৃহীত ছবি

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি বিতর্কিত মন্তব্যের জবাব দিয়েছে আর্মেনিয়ায় অবস্থিত ইরান দূতাবাস। ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনির জানাজায় অংশ নেওয়া সবাইকে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ার হুমকি এবং ইরানিদের আবেগ নিয়ে ট্রাম্পের করা মন্তব্যের পর এই প্রতিক্রিয়া এলো।

সম্প্রতি মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘অ্যাক্সিওস’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, খামেনির শেষকৃত্য অনুষ্ঠান চলাকালীন কোনো গুলি চালানো হবে না। তবে তিনি যোগ করেন, তিনি চাইলে ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত সবাইকে ‘নিশ্চিহ্ন’ করে দিতে পারেন, কিন্তু তা করলে ‘আলোচনা করার মতো আর কেউ থাকবে না।’ সাক্ষাৎকারে জানাজায় ইরানিদের কান্না দেখে বিস্ময় প্রকাশ করে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি ভেবেছিলাম মানুষ খামেনিকে ঘৃণা করে।’

ট্রাম্পের এই মন্তব্যের জবাবে আর্মেনিয়ার রাজধানী ইয়েরেভানে অবস্থিত ইরান দূতাবাস সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) একটি কড়া বার্তা পোস্ট করেছে। বার্তায় ইরান দূতাবাস লিখেছে, ‘মানুষকে হত্যা করা যায়, কিন্তু আদর্শকে নয়। তোমরা আয়াতুল্লাহ খামেনিকে হত্যা করেছ, কিন্তু প্রকৃতপক্ষে তোমরা একটি সুগন্ধির বোতল ভেঙেছ—যার সুবাস এখন চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছে। তোমরা এসব বুঝবে না, কারণ তোমাদের সভ্যতা, ইতিহাস বা সম্মা—কোনোটাই নেই।’

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন ও ইসরায়েলি যৌথ হামলায় খামেনি নিহত হওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে। এর মধ্যে ট্রাম্পের এই নতুন মন্তব্য এবং ইরানের পাল্টা জবাব দুই দেশের মধ্যকার কূটনৈতিক ও সামরিক উত্তেজনাকে আরো বাড়িয়ে দিল।