• ই-পেপার

খবরটি প্রথম বাবাকে জানিয়েছিলেন সূর্যবংশী

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

মিশরের সাফল্যের গল্প লিখছেন যমজ ভাই হোসাম হাসান ও ইব্রাহিম হাসান

ক্রীড়া প্রতিবেদক
মিশরের সাফল্যের গল্প লিখছেন যমজ ভাই হোসাম হাসান ও ইব্রাহিম হাসান
মিশরের প্রধান কোচ হোসাম হাসান (বাঁয়ে) ও সহকারী কোচ ইব্রাহিম হাসান। ছবি: এক্স

মাঠে একজন দাঁড়িয়ে থাকেন টাচলাইনের একদম সামনে। কখনো হাত নেড়ে খেলোয়াড়দের নির্দেশনা দেন, কখনো রেফারির সিদ্ধান্তে ক্ষোভ ঝাড়েন, আবার গোল হলে মুষ্টিবদ্ধ হাতে উদযাপন করেন।

তার ঠিক পাশেই আরেকজন। তিনি কখনো খেলোয়াড়দের ডেকে বার্তা দেন, কখনো বেঞ্চে বসা ফুটবলারদের প্রস্তুত করেন। একজন প্রধান কোচ, অন্যজন সহকারী। তবে সম্পর্কটা শুধু সহকর্মীর নয়, তারা দুজন যমজ ভাই—হোসাম হাসান ও ইব্রাহিম হাসান।

হোসাম মিসরের প্রধান কোচ, আর ইব্রাহিম তার সহকারী। এবারের বিশ্বকাপে মিশরের সাফল্যের অন্যতম কারিগরও তারাই।

বিশ্ব ফুটবলে ভাইদের একসঙ্গে খেলার উদাহরণ অনেক। তবে খেলোয়াড়ি জীবন শেষে একসঙ্গে জাতীয় দলের কোচিং স্টাফে থাকার ঘটনা খুবই বিরল।

Egypt
খেলোয়াড়ি জীবনে যমজ দুই ভাই দেশের হয়ে একসঙ্গে ট্রফি জিতেছেন। ছবি: সংগৃহীত

১৯৬৬ সালের ১০ আগস্ট কায়রোর হেলওয়ান এলাকায় জন্ম তাদের। ছোটবেলায় আর্থিকভাবে খুব সচ্ছল ছিলেন না। ফুটবলই জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিল। ১৩ বছর বয়সে দুজনই যোগ দেন আল আহলি এসসি একাডেমিতে। সেখান থেকেই শুরু।

খেলোয়াড়ি জীবনেও তারা ছিলেন একজন আরেকজনের ছায়া। হোসাম ছিলেন স্ট্রাইকার, ইব্রাহিম ডিফেন্ডার। একসঙ্গে খেলেছেন আল আহলি, গ্রিসের পিএওকে এফসি, সুইজারল্যান্ডের নিউশাতেল জ্যামাক্স এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল আইন এফসিতে।

১৯৯০ বিশ্বকাপে মিশরের জার্সিতে পাশাপাশি খেলেছিলেন এই যমজ ভাই। ৬৮ গোল করা হোসাম এখনো মিশরের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা।

খেলোয়াড়ি জীবন শেষ হওয়ার পরও দুজন আলাদা হননি। মিশরের বিভিন্ন ক্লাব, এমনকি একসঙ্গে ছিলেন জর্ডান জাতীয় দলের দায়িত্বেও।

২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে মিশর জাতীয় দলের দায়িত্ব দেওয়া হয় দুই ভাইকে। এর পর থেকেই বদলে যেতে শুরু করে পিরামিডের দেশটির ফুটবল। দুজনের ছোঁয়ায় বিশ্বকাপের বাছাই পর্বের বাধা সহজেই উতরে যায় গত বিশ্বকাপ খেলতে না পারা দলটি।

আর এখন তো তাদের দল বিশ্বকাপের মূল পর্বের শেষ ষোলোতেই উঠে গেছে। আগামী মঙ্গলবার (৭ জুলাই) রাতে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে মিশরের প্রতিপক্ষ বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। 

স্কালোনির ১০০ ম্যাচ

যেভাবে অখ্যাত এক কোচ বদলে দিয়েছেন আর্জেন্টিনার ভাগ্য

সাহিদ রহমান অরিন
যেভাবে অখ্যাত এক কোচ বদলে দিয়েছেন আর্জেন্টিনার ভাগ্য
আর্জেন্টিনার প্রধান কোচ লিওনেল স্কালোনি। ছবি: ইন্সটাগ্রাম

২০১৮ রাশিয়া বিশ্বকাপের শেষ ষোলো পর্ব থেকে ছিটকে পড়ে আর্জেন্টিনা। ব্যর্থতার দায় নিয়ে দায়িত্ব ছাড়েন দলটির প্রধান কোচ হোর্হে সাম্পাওলি।

আগের তিন বড় টুর্নামেন্টে (২০১৪ বিশ্বকাপ, ২০১৫ ও ২০১৬ কোপা আমেরিকা) রানার্সআপ হলেও ২০১৮ বিশ্বকাপে তেমন পারফরম্যান্সের ছিটেফোঁটাও দেখা যায়নি। তাই আর্জেন্টাইন ফুটবল অঙ্গন একরকম বিমর্ষ হয়ে পড়ে। হতাশায় মুষড়ে পড়া লিওনেল মেসিও অনির্দিষ্টকালের জন্য আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে বিরতিতে যান।

কিন্তু থেমে থাকলে তো চলবে না। যারা আছেন, তাদের নিয়েই এগোতে হবে। সবকিছু নতুন করে শুরু করতে হবে। খেলোয়াড়ের তো আর অভাব নেই। কিন্তু সাম্পাওলির জায়গা কে নেবেন? কে হবেন আলবিসেলেস্তেদের নতুন প্রধান কোচ?

২০১৮ বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেওয়ার পর যেহেতু দুই মাস আর্জেন্টিনার কোনো ম্যাচ ছিল না, তাই একটু ভেবেচিন্তে কোচ নিয়োগ দিতে চাইছিল দেশটির ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ)। 

এমন দুঃসময়েও সুসংবাদ আসছিল স্পেনের বালেয়ারিক দ্বীপপুঞ্জ থেকে। সেখানে চলতে থাকা লা আলকুদিয়া আন্তর্জাতিক ফুটবল টুর্নামেন্টে (কোটিফ টুর্নামেন্ট নামে পরিচিত) দারুণ খেলছিল আর্জেন্টিনা অনূর্ধ্ব-২০ দল। সেই দলের প্রধান কোচ লিওনেল স্কালোনিকে ওই বছরের ২ আগস্ট জাতীয় দলের অন্তর্বর্তী কোচ হিসেবে নিয়োগ দেয় এএফএ।

ফেডারেশনের সিদ্ধান্ত যে ভুল ছিল না, তা ৮ আগস্ট আর্জেন্টিনা অনূর্ধ্ব-২০ দলকে শিরোপা জিতিয়ে বুঝিয়ে দেন স্কালোনি। এটিকে এখন আর্জেন্টিনার ফুটবল ইতিহাসের ‘যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত’ বলা যেতেই পারে। 

আপৎকালীন কোচ হিসেবে নিয়োগ পাওয়া স্কালোনিই পরে স্থায়ী কোচ হয়ে আর্জেন্টিনার ২৮ বছরের শিরোপাখরা ঘুচিয়েছেন, ৩৬ বছর পর দেশকে বিশ্বকাপ এনে দিয়েছেন, একের পর এক ম্যাচ জিতিয়ে দলকে নিয়ে গেছেন ফিফা র‌্যাংকিংয়ের চূড়ায়। এখন তার দল বিশ্বকাপ শিরোপা ধরে রাখার অভিযানে। 

Scaloni Debut
২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে আর্জেন্টিনার প্রধান কোচ হিসেবে অভিষেক হয় স্কালোনির। ছবি: এক্স

২০১৮ সালের ২ আগস্ট নিয়োগ পাওয়া স্কালোনির অধীন আর্জেন্টিনা প্রথম ম্যাচ খেলে ৭ সেপ্টেম্বর, গুয়াতেমালার বিপক্ষে। বাংলাদেশ সময় গতকাল ৪ জুলাই কেপ ভার্দের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে আর্জেন্টিনার প্রধান কোচ হিসেবে তার ১০০ বার ডাগআউটে দাঁড়ানোর মাইলফলক ছোঁয়া হয়ে গেছে। 

৪৮ বছর বয়সী স্কালোনির অধীন ১০০ ম্যাচ খেলে ৭৭টিতেই জিতেছে আলবিসেলেস্তেরা, ড্র করেছে ১৪ ম্যাচ, হার মাত্র ৯টি। মাঝে টানা ৩৫ ম্যাচ অপরাজিত (২৪ জয়, ১১ ড্র) থাকার রেকর্ডও গড়ে তাঁর দল। এখন বিশ্বকাপে অপরাজিত টানা ১০ ম্যাচ। 

স্কালোনির কোচিংয়ে প্রথমবারের মতো খেলতে নেমে গুয়াতেমালাকে ৩-০ গোলে হারায় আর্জেন্টিনা। প্রীতি ম্যাচটা হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসের মেমোরিয়াল কোলিসিয়াম স্টেডিয়ামে। সেই দলের বেশির ভাগ সদস্যই বর্তমান স্কোয়াডে নেই।

স্কালোনির ১০০তম ম্যাচেও আর্জেন্টিনা দিয়েছে ৩ গোল; যদিও এবার হজম করেছে ২টি। তবে বিশ্বকাপের রাউন্ড অব ৩২-এর এই ম্যাচও হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে; মেসির বর্তমান ঠিকানা মায়ামিতে।

অথচ ২০১৮ বিশ্বকাপের শেষ ষোলো থেকে আর্জেন্টিনার বিদায়ের পর মেসির আরেকটি বিশ্বকাপ খেলা দূরে থাক; দেশের হয়ে খেলা চালিয়ে যাবেন, সেই নিশ্চয়তাও ছিল না। ওই বছর আর্জেন্টিনা আরো ছয় ম্যাচ খেললেও মেসি ছিলেন না কোনোটিতেও। পরে স্কালোনিই মেসিকে বুঝিয়ে-সুঝিয়ে আবারো জাতীয় দলের হয়ে খেলতে উদ্বুদ্ধ করেন।

Messi-Scaloni
কোচ-অধিনায়কের সম্পর্ক যে এত মধুর ও বন্ধুত্বপূর্ণ হতে পারে, সেটির নতুন উদাহরণ সৃষ্টি করেছেন স্কালোনি ও মেসি। ছবি: এএফপি

পরের ইতিহাস না বললেও চলছে। দুজন মিলে গড়ে তোলেন এক ভয়ডরহীন শক্তিশালী দল, যারা বিশ্বের যেকোনো দলকে যেকোনো ভেন্যুতে চ্যালেঞ্জ জানাতে পারে। কোচ-অধিনায়কের সম্পর্কও যে এত মধুর ও বন্ধুত্বপূর্ণ হতে পারে, সেটিরও নতুন উদাহরণ সৃষ্টি করেছেন ‘দুই লিওনেল’ স্কালোনি আর মেসি। গত পাঁচ বছরে আর্জেন্টিনার সব বড় সাফল্যই এসেছে তাঁদের হাত ধরে।

এই সাফল্য পেতে স্কালোনিকে ধাপে ধাপে এগোতে হয়েছে। দলটাকে গুছিয়ে তুলতেই কয়েক বছর লেগে গেছে। কিন্তু প্রক্রিয়া ঠিক রাখায় এএফএ তার ওপরই আস্থা রেখেছে। লম্বা সময়ের ট্রফিখরা ঘোচাতে, কয়েকবার তীরে এসেও তরি ডোবার যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেতে আর্জেন্টিনার একজন সৌভাগ্যের দূত দরকার ছিল। স্কালোনিকে হয়তো সেই দূত মনে হয়েছে ফেডারেশনের।

শেষ পর্যন্ত ২০১৯ সালের আগস্টে স্কালোনিকে স্থায়ীভাবে প্রধান কোচের দায়িত্ব দেওয়া হয়। এরপর তিনি দুই দফা চুক্তি নবায়ন করেছেন। শোনা যাচ্ছে, ২০৩১ সাল পর্যন্ত আর্জেন্টিনার দায়িত্বে থাকবেন স্কালোনি। এএফএর সঙ্গে নাকি ‘মৌখিক চুক্তি’ সেরে ফেলেছেন। 

আর্জেন্টিনার ফুটবলপ্রেমীদের সব দুঃখ ঘোচানোর পরও স্কালোনি অগোচরের নায়ক হয়ে থাকতেই পছন্দ করেন। ইএসপিএনের মতে, বিশ্বকাপজয়ী সবচেয়ে অবমূল্যায়িত কোচের তালিকা করলে স্কালোনিই সবার ওপরে থাকবেন।

স্কালোনি নিজেও আসলে অগোচরের নায়ক হয়ে থাকতে চান। এক সাক্ষাৎকারে আর্জেন্টিনার কোচ হিসেবে নিজের অভিজ্ঞতা পর্যালোচনা করতে বলা হলে তিনি সব কৃতিত্ব দেন খেলোয়াড়দের, ‘আমি খুবই ভাগ্যবান যে আমার সময়ে এসব খেলোয়াড়ের আবির্ভাব ঘটেছে। ওদের ছাড়া এটা সম্ভব হতো না।’

মেসি ২০২৬ বিশ্বকাপে খেলবেন কি না, তা আসর শুরুর মাসখানেক আগেও নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছিল না। এ দফায়ও স্কালোনিই নাকি ‘লাস্ট ড্যান্স’-এর জন্য মেসিকে রাজি করান।

দক্ষিণ আমেরিকান অঞ্চলের (কনমেবল) বাছাইয়েও এবার শীর্ষ দল হিসেবে বিশ্বকাপের মূল পর্বে উঠেছে আর্জেন্টিনা। এখন তার চ্যালেঞ্জ একটাই—বিশ্বকাপ ট্রফি ধরে রাখা। 

বলা হয়ে থাকে, স্বাধীনতা অর্জনের চেয়ে রক্ষা করা কঠিন। ট্রফি জয়ের চেয়ে ধরে রাখা নাকি এর চেয়েও কঠিন! স্কালোনি পারবেন কি না, তা সময়ই বলে দেবে।

আর্জেন্টিনার কোচ হিসেবে স্কালোনির ১০০ ম্যাচ

ম্যাচ ১০০ জয় ৭৭ ড্র ১৪ হার

দলীয় অর্জন

》২০২১ ও ২০২৪ কোপা আমেরিকা চ্যাম্পিয়ন
》২০২২ ফিনালিসিমা চ্যাম্পিয়ন
》২০২২ বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন

ব্যক্তিগত অর্জন

》২০২২ ও ২০২৩ আইএফএফএইচএস বর্ষসেরা জাতীয় দলের কোচ
》২০২২ ফিফা বর্ষসেরা পুরুষ কোচ
》২০২২ দক্ষিণ আমেরিকার বর্ষসেরা কোচ
》২০২৩ গ্লোব সকার ক্যারিয়ার কোচ পুরস্কার
》২০২৩ পাঞ্চিনা ডি’অরো (বিশেষ পুরস্কার)

আর্জেন্টিনার প্রধান কোচ হিসেবে স্কালোনির প্রথম ম্যাচে শুরুর একাদশ

হেরোনিমো রুয়ি, রেনজো সারাভিয়া, হেরমান পেজ্জেলা, রামিরো ফুনেস মোরি, নিকোলাস তালিয়াফিকো, জিওভানি লো সেলসো, লিয়ান্দ্রো পারেদেস, এজেকিয়েল পালাসিওস, ক্রিস্তিয়ান পাভন, জিওভানি সিমিওনে ও গঞ্জালো মার্তিনেজ।

আর্জেন্টিনার প্রধান কোচ হিসেবে স্কালোনির ১০০তম ম্যাচে শুরুর একাদশ

এমিলিয়ানো মার্তিনেজ, নাহুয়েল মোলিনা, ক্রিস্তিয়ান রোমেরো, লিসান্দ্রো মার্তিনেজ, ফাকুন্দো মেদিনা, অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার, এনজো ফার্নান্দেজ, রদ্রিগো দি পল, লাউতারো মার্তিনেজ, থিয়াগো আলমাদা ও লিওনেল মেসি। 

বয়স যেখানে স্বপ্নের ‘ফুলস্টপ’ নয়

নাজমুস সায়াদাত
বয়স যেখানে স্বপ্নের ‘ফুলস্টপ’ নয়
কেপ ভার্দের গোলকিপার ভোজিনিয়া। ছবি: ফিফা

একজন গোল করে কর্নার ফ্ল্যাগের পাশে নেচে মুগ্ধ করেছিলেন বিশ্বকে, অন্যজন একের পর এক অবিশ্বাস্য সেভ করে জায়গা করে নিয়েছেন কোটি দর্শকের হৃদয়ে। তবে দুজনের গল্পের সুর একই; বয়স যেখানে স্বপ্নের ‘ফুলস্টপ’ নয়।

১৯৯০ সালের বিশ্ব আসরে সেই গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র ছিলেন রজার মিলা, আর ২০২৬ বিশ্বকাপে একই চিত্রনাট্যে গোটা পৃথিবীকে মাতিয়েছেন নতুন মুখ ভোজিনিয়া। পার্থক্য বলতে রজার মিলার গল্প ছিল গোলের, আর ভোজিনিয়ার প্রতিরোধের। বিশ্বমঞ্চে আফ্রিকার দুই ‘বুড়ো যোদ্ধা’র নাম তাই আজ উচ্চারিত হচ্ছে একসঙ্গেই।

১৯৯০ বিশ্বকাপ শুরুর আগে ক্যামেরুনকে নিয়ে খুব আশা দেখেনি কেউ। বরং ৩৮ বছর বয়সী মিলাকে দলে ফেরানো নিয়ে ছিল বিস্তর সমালোচনা। অনেকেই বলেছিলেন, তার সময় তো শেষ। কিন্তু সেই ‘শেষ’ই হয়ে উঠেছিল দিক বদলানো এক নতুন শুরুর গল্প। আসরে চার গোল করে ক্যামেরুনকে নিয়ে যান কোয়ার্টার ফাইনালে। রোমানিয়ার বিপক্ষে জোড়া গোল, কলম্বিয়ার বিপক্ষে অতিরিক্ত সময়ের দুই গোল আজও বিশ্বকাপের স্মরণীয় মুহূর্তগুলোর একটি। প্রতিটি গোলের পর কর্নার ফ্ল্যাগের পাশে তার নাচ যেন আমুদে উদযাপনের এক চিরন্তন ছবিই হয়ে আছে এখনো। চার বছর পর যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বকাপেও দেখা মেলে ৪২ বছর বয়সী মিলার। রাশিয়ার বিপক্ষে গোল করে নিজের গড়া রেকর্ড নিজেই ভেঙে দেন তিনি, হয়ে যান বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে বেশি বয়সী গোলদাতা। আজও অটুট সেই রেকর্ড।

ছত্রিশ বছর পর সেই আমেরিকার মাটি, গল্প একই। ভোজিনিয়া নাচেননি, তবে তিনি উড়েছেন এবং ঝাঁপিয়েছেন। একবার ডান দিকে, আরেকবার বাম দিকে। ফুটবলের অভিধানে গোলদাতা আর গোলরক্ষকের কাজ আলাদা। একজন উল্লাস সৃষ্টি করেন, অন্যজন থামিয়ে দেন প্রতিপক্ষের উৎসব।

কিন্তু রজার মিলা আর ভোজিনিয়ার গল্পে সেই পার্থক্য মুছে যায় ইচ্ছাশক্তির কাছে। মিলা বিশ্বকাপে এসেছিলেন অভিজ্ঞ যোদ্ধা হিসেবে। ১৯৮২ বিশ্বকাপও খেলেছিলেন তিনি। তবে বিশ্বকাপে এটাই ভোজিনিয়ার প্রথম উপস্থিতি। ৪০ বছর বয়সে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ খেলতে নেমেছেন তিনি।

বেশির ভাগ ফুটবলারের ক্যারিয়ার যখন শেষ হয়ে যায়, তখনই ‘ব্লু-শার্ক’দের এই অভিভাবক নিজেকে পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন জীবনের সবচেয়ে বড় মঞ্চে। আর্জেন্টিনার বিপক্ষে শেষ ষোলোর ম্যাচে স্কোরলাইন যদিও কেপ ভার্দের হারের কথাই বলেছে, কিন্তু বিশ্বকাপ বলেছে ভোজিনিয়ার গল্প।

বিশ্ব মানচিত্রে ছোট্ট দ্বীপরাষ্ট্র কেপ ভার্দে। জনসংখ্যাও সামান্য। ফুটবলের মহাশক্তি হওয়ার মতো অবকাঠামোও নেই তাদের। কিন্তু গোলবারের নিচে দাঁড়িয়ে থাকা ৪০ বছরের মানুষটিই যেন পুরো দেশের প্রতিশব্দ হয়ে উঠেছিলেন। যার প্রতিটি সেভ কেপ ভার্দের প্রতিটি শিশুকে নতুন করে স্বপ্ন দেখতে শেখায়।

ফুটবলে একদিন যে খেলোয়াড়কে অপরিহার্য মনে হয়, কয়েক দিন পরে তারই গলায় ঝুলিয়ে দেওয়া হয় ‘বুড়ো’র তকমা। কিন্তু রজার মিলা আর ভোজিনিয়া সেই ধারণাকেই চ্যালেঞ্জ করেছেন। তারা দেখিয়েছেন, শরীরের বয়স বাড়তে পারে, কিন্তু স্বপ্নের বয়স নয়।

চার বছর পর পর বিশ্বকাপে নতুন নায়কের জন্ম হয়। কখনো সে ১৮ বছরের বিস্ময়বালক, আবার কখনো ৪০ বছরের এক গোলরক্ষক। এই বৈচিত্র্যই বিশ্বকাপকে আলাদা করেছে অন্য সব টুর্নামেন্ট থেকে। কারণ এখানে শুধু ট্রফির লড়াই হয় না, লেখা হয় মানুষের গল্প।

রজার মিলা আর ভোজিনিয়া সেই একই গল্পের বইয়ের ভিন্ন দুটি অধ্যায়; যেখানে আছে বয়সকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে বৈশ্বিক তারকা বনে যাওয়ার সগৌরব ঘোষণা!

বিসিবির ছাড়পত্র

দ্য হান্ড্রেডে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত খেলবেন মুস্তাফিজ

ক্রীড়া ডেস্ক
দ্য হান্ড্রেডে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত খেলবেন মুস্তাফিজ
বাংলাদেশি পেসার মুস্তাফিজুর রহমান। ছবি : মীর ফরিদ

ইংল্যান্ডের ঘরোয়া ক্রিকেটে ১০ বছর আগেই অভিষেক হয়েছে মুস্তাফিজুর রহমানের। ২০১৬ সালে সাসেক্সের হয়ে টি-টোয়েন্টি ব্লাস্টে খেলেছেন বাংলাদেশের এই পেসার। 

এবার দ্য হান্ড্রেডেও অভিষেক হতে যাচ্ছে মুস্তাফিজের। ১০০ বলের এই টুর্নামেন্টের পুরো মৌসুম খেলতে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) অনাপত্তিপত্র পেয়েছেন তিনি।

ক্রিকেট বিষয়ক ওয়েবসাইট ক্রিকবাজকে বিসিবির এক কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘হ্যাঁ, আমরা ওকে ২০ জুলাই থেকে ২০ আগস্ট পর্যন্ত অনাপত্তিপত্র দিয়েছি।’ ফলে ২১ জুলাই শুরু হতে চলা দ্য হান্ড্রেডের ষষ্ঠ আসরে মুস্তাফিজের খেলতে কোনো বাধা নেই। 

দ্য হান্ড্রেডের এবারের ড্রাফটে ১ লাখ পাউন্ড ভিত্তিমূল্যে মুস্তাফিজকে দলে ভেড়ায় বার্মিংহাম ফিনিক্স। এর মাধ্যমে তিনিই হতে যাচ্ছেন এই টুর্নামেন্টে খেলা প্রথম বাংলাদেশি ক্রিকেটার।

বর্তমানে বাংলাদেশ দলের সঙ্গে জিম্বাবুয়ে সফরে আছেন মুস্তাফিজ। ১৯ জুলাই বুলাওয়েতে টি-টোয়েন্টি সিরিজ শেষে সেখান থেকেই ইংল্যান্ডে যাবেন ‘কাটার মাস্টার’।

বিসিবির ওই কর্মকর্তা আরো জানিয়েছেন, ব্যাটার পারভেজ হোসেন ইমনকে গ্লোবাল সুপার লিগ (জিএসএল) খেলতে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি সিরিজ শেষে তিনি লাহোর কালান্দার্সের হয়ে জিএসএলে খেলবেন।

এদিকে হাসান মাহমুদ ইংলিশ কাউন্টি ক্লাব কেন্ট স্পিটফায়ার্সের হয়ে টি-টোয়েন্টি ব্লাস্টের গ্রুপ পর্বের শেষ তিনটি ম্যাচ খেলবেন। এর আগে কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপে কেন্টের হয়ে ২ ম্যাচে ১২ উইকেট নিয়ে নজর কেড়েছেন বাংলাদেশের এই ডানহাতি পেসার।