ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার গোপালপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বাবু চিত্তরঞ্জন পালের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ তুলে মানববন্ধন করেছেন শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসী।
রবিবার (৫ জুলাই) সকালে বিদ্যালয়ের সামনে আয়োজিত এ মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে চলমান বিভিন্ন অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। মানববন্ধনে বক্তব্য দেন অভিভাবক ইসাহাক আলী বিশ্বাস, গোলাম মোস্তফাসহ বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী।
বক্তারা অভিযোগ করেন, বিদ্যালয়ে বিভিন্ন খাতে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হচ্ছে। সেশন ফি, উন্নয়ন ফি, বিদ্যুৎ বিলসহ বিভিন্ন অজুহাতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা নেওয়া হচ্ছে বলে তারা দাবি করেন। এছাড়া সরকারি অনুদানের অর্থ ব্যয় এবং বিদ্যালয় পরিচালনায়ও অনিয়মের অভিযোগ তোলেন তারা।
লিখিত অভিযোগে বলা হয়, বাবু চিত্তরঞ্জন পাল প্রথমে সহকারী শিক্ষক হিসেবে গোপালপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে যোগদান করেন এবং ২০০৯ সালে প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ পান। এরপর থেকে তিনি বিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মচারী, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অসদাচরণ এবং ক্ষমতার অপব্যবহার করে আসছেন বলে অভিযোগকারীরা দাবি করেন।
আরো পড়ুন
খামেনির শেষ বিদায় ঘিরে তেহরান মেট্রোতে রেকর্ড ৭০ লাখ যাত্রীর যাতায়াত
অভিযোগে আরো বলা হয়, ২০১৫ সালে ৪ লাখ ৪৪ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে তিনি সাময়িকভাবে বরখাস্ত হলেও পরবর্তীতে পুনরায় দায়িত্বে ফিরে আসেন। পরে ২০১৭ সালে রেজুলেশন ও চেক জালিয়াতির মাধ্যমে আরও ৯১ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ ওঠে। সে সময় তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি তাকে বরখাস্তের নির্দেশ দেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এছাড়া, ২০২৫ সালে বিদ্যালয়ের উন্নয়ন ও শিক্ষার্থীদের কল্যাণে প্রাপ্ত ৫ লাখ টাকার সরকারি অনুদান আত্মসাতের অভিযোগও আনা হয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, ওই অর্থ যথাযথভাবে ব্যয় না করে ব্যক্তিস্বার্থে ব্যবহার করা হয়েছে।
লিখিত অভিযোগে আরো বলা হয়, বিদ্যালয়ে কর্মরত তিনজন নারী শিক্ষকের জন্য সমমর্যাদার বসার ব্যবস্থা না করে প্রধান শিক্ষক নিজ কক্ষে পৃথক ব্যবস্থা করেছেন, যা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিধিমালার পরিপন্থী বলে তারা দাবি করেন।
আরো পড়ুন
হামে মেয়ের মৃত্যু, ড. ইউনূসসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন
চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষার সময় সেশন ফি, পরীক্ষা ফি, বিদ্যুৎ বিল ও উন্নয়ন ফির নামে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এরই প্রতিবাদে তারা মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন।
এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষক বাবু চিত্তরঞ্জন পাল বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগই মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। নিয়ম অনুযায়ী পরীক্ষার ফি নেওয়া হয়েছে। একটি মহল অসত্য ও ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলে আমার মানহানি করার চেষ্টা করছে।