• ই-পেপার

ইসলামে শিল্পায়নের অনুপ্রেরণা

সমাজে ভারসাম্য বজায় রাখার ৮ নীতিমালা

ইসলামী জীবন ডেস্ক
সমাজে ভারসাম্য বজায় রাখার ৮ নীতিমালা
সংগৃহীত ছবি

পৃথিবীতে মানুষ পরস্পরের প্রতি নির্ভরশীল। পারস্পরিক স্নেহ, মমতা ও সহযোগিতা ছাড়া মানুষ চলতে পারে না। তাই মানুষের সঙ্গে মানুষের বহুমাত্রিক সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। ভারসাম্যপূর্ণ জীবন ও আচরণই পারস্পরিক এই সম্পর্ক ও তার সৌন্দর্য রক্ষা করে। ইসলাম মানুষকে সম্পর্কের ভারসাম্য রক্ষায় যে নির্দেশনা দিয়েছে তার কয়েকটি তুলে ধরা হলো—

১. নিজের মূল্য ও সীমা জানুন : মুমিন সম্পর্কের ক্ষেত্রে নিজেকে মূল্যায়ন করবে এবং নিজের সীমা সম্পর্কেও সচেতন থাকবে। সে অন্যকে খুশি করতে নিজের অসম্মান করবে না। আবার নিজের মূল্য রক্ষা করতে গিয়ে অন্যের অসম্মানও করবে না। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, কোনো মুমিনের উচিত নয় নিজেকে অসম্মান করা। (সুনানে তিরমিজি, হাদিস : ২২৫৪)
অন্য হাদিসে নবীজি (সা.) বলেছেন, মানুষকে তার মর্যাদা অনুযায়ী স্থান দাও। (রিয়াজুস সালিহিন, হাদিস : ৩৫৬)

২. বিনয়ী হোন, দুর্বল নয় : সম্পর্কের ক্ষেত্রে মুমিন পরস্পরের প্রতি বিনয়ী আচরণ করবে। এটাই ইসলামের শিক্ষা। আল্লাহ বলেছেন, ‘রহমানের বান্দা তারাই, যারা পৃথিবীতে নম্রভাবে চলাফেরা করে।’
(সুরা : ফুরকান, আয়াত : ৬৩)
তবে নিজের ক্ষতি ও অসম্মান মেনে নেওয়া বিনয়ের অন্তর্ভুক্ত নয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ক্ষতি কোরো না নিজের বা অন্যের। (বায়হাকি, হাদিস : ১১৭১৭)

৩. প্রয়োজনে ‘না’ বলুন : যে কাজে আপনি সক্ষম নন, যে কাজ আপনার জন্য শোভন নয়, তাতে ‘না’ বলতে শিখুন। যেখানে আল্লাহ আপনাকে সাধ্যাতীত কাজের নির্দেশ দেননি, সেখানে কেন আপনি অন্যের কথায় সাধ্যাতীত বোঝা নিজের ওপর চাপিয়ে নেবেন? ইরশাদ হয়েছে, ‘আল্লাহ কারো ওপর এমন কোনো কষ্টদায়ক দায়িত্ব অর্পণ করেন না, যা তার সাধ্যাতীত। সে ভালো যা উপার্জন করে তার প্রতিফল তারই এবং সে মন্দ যা উপার্জন করে তার প্রতিফল তারই।’
(সুরা : বাকারাহ, আয়াত : ২৮৬)

বিশেষত যখন মানুষের সন্তুষ্টি আল্লাহর অসন্তুষ্টির কারণ হয়, তখন কোনো সংকোচ ছাড়াই ‘না’ করা উচিত। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টির আকাঙ্ক্ষা করে তা মানুষের অসন্তুষ্টি হলেও, মানুষের দুঃখ-কষ্ট থেকে বাঁচানোর জন্য আল্লাহ তাআলাই তার জন্য যথেষ্ট হয়ে যান। আর যে ব্যক্তি মানুষের সন্তুষ্টি আশা করে আল্লাহ তাআলাকে অসন্তুষ্ট করে হলেও, আল্লাহ তাআলা তাকে মানুষের দায়িত্বে ছেড়ে দেন। (জামে তিরমিজি, হাদিস : ২৪১৪)

৪. সবাইকে খুশি করা সম্ভব নয় : মুমিনকে অবশ্যই একটি বাস্তবতা মনে রাখতে হবে যে সব মানুষকে খুশি করা সম্ভব নয়। বরং সবাইকে খুশি করার মনোভাব মানুষকে বিভ্রান্ত করে। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘যদি তুমি দুনিয়ার বেশির ভাগ মানুষের কথামতো চলো তাহলে তারা তোমাকে আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত করবে। তারা শুধু অনুমানের অনুসরণ করে, আর তারা শুধু অনুমানভিত্তিক কথা বলে।’ (সুরা : আনআম, আয়াত : ১১৬)

৫. অপছন্দ হলেই বিরোধিতা নয় : সম্পর্কের ক্ষেত্রে জ্ঞান, প্রজ্ঞা ও বুদ্ধিমত্তার ব্যবহারও জরুরি। তাই কোনো কিছু অপছন্দ হলে তার বিরোধিতা করা কিংবা কেউ কষ্ট দিলেই প্রতিশোধপরায়ণ হয়ে ওঠা বুদ্ধিমানের কাজ নয়; বরং কখনো কখনো ধৈর্য, সহনশীলতা ও ক্ষমা সম্পর্কের ধরন পাল্টে দেয় এবং সুফল বয়ে আনে। মহান আল্লাহ বলেন, ‘ভালো ও মন্দ সমান হতে পারে না। মন্দ প্রতিহত করো উত্কৃষ্ট দ্বারা; ফলে তোমার সঙ্গে যার শত্রুতা আছে, সে হয়ে যাবে অন্তরঙ্গ বন্ধুর মতো।’ (সুরা : হা-মিম-সাজদা, আয়াত : ৩৪)

৬. সুধারণা রাখুন, অন্ধবিশ্বাস নয় : ইসলাম মানুষের প্রতি সুধারণা রাখতে বলে এবং অহেতুক মন্দ ধারণা পোষণ করতে নিষেধ করে। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘হে মুমিনরা! তোমরা অধিক পরিমাণ ধারণা পোষণ থেকে দূরে থাকো। কেননা ধারণা কোনো কোনো ক্ষেত্রে পাপ।’ (সুরা : হুজুরাত, আয়াত : ১২)

তবে সুধারণার কারণে মুমিন কারো প্রতি অন্ধবিশ্বাস পোষণ করবে না; বিশেষত কারো থেকে মন্দ প্রবণতা প্রকাশের পর। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, মুমিন একই গর্তে দুইবার দংশিত হয় না। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৬১৩৩)

৭. সম্পর্ক অনিবার্য নয় : আল্লাহ যে সম্পর্ক রক্ষা করা আবশ্যক করেননি, এমন কোনো সম্পর্ক অনিবার্য নয়। তাই যখন কোনো সঙ্গী থেকে মন্দ কথা, কাজ ও প্রবণতা প্রকাশ পাবে, তখন তাকে পরিহার করতে বিলম্ব করা উচিত নয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, মানুষ তার বন্ধুর আদর্শে পরিচালিত হয়, সুতরাং তোমাদের প্রত্যেকে যেন ভেবে দেখে কাকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করছে।
(সুনানে আবু দাউদ, হাদিস : ৪৮৩৩)

৮. সম্পর্কে মধ্যপন্থা অবলম্বন : সম্পর্ক ও ব্যক্তিত্বের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ উপায় হলো সবকিছুতে মধ্যপন্থা অবলম্বন করা। সম্পর্ক, সম্মান, আবেগ, প্রত্যাশা, হতাশা, এমনকি বিরোধিতার ক্ষেত্রেও মধ্যপন্থা অবলম্বন করা, যেন প্রয়োজনে সম্পর্কের ডানে বা বাঁয়ে মোড় নেওয়া যায়। মহান আল্লাহ বলেন, ‘তুমি চলাফেরায় মধ্যপন্থা অবলম্বন করো এবং তোমার কণ্ঠস্বর নিচু করো। নিশ্চয়ই সুরের মধ্যে গাধার সুরই সবচেয়ে অপ্রীতিকর।’
(সুরা : লুকমান, আয়াত : ১৯)

আল্লাহ সবাইকে দ্বিনের সঠিক বুঝ দান করুন। আমিন।

যাকে আপন করলে কখনো পর হয় না

মাওলানা আল আমিন সরকার
যাকে আপন করলে কখনো পর হয় না

পৃথিবীতে মানুষ অনেক সম্পর্ক গড়ে তোলে। বাবা-মা, ভাই-বোন, আত্মীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধব, সহকর্মী-প্রত্যেকেই জীবনের কোনো না কোনো সময় আমাদের সঙ্গে জুড়ে থাকেন। কিন্তু সময়ের পরিবর্তনে মানুষ বদলায়, বদলায় সম্পর্কের রংও। সুসময়ে যারা চারপাশে ভিড় করে, দুঃখের দিনে তাদের অনেককেই আর খুঁজে পাওয়া যায় না। অর্থ, ক্ষমতা, খ্যাতি কিংবা প্রভাব এসবও একদিন মানুষকে ছেড়ে চলে যায়। এমনকি নিজের শরীরও একসময় নিজের কথা শোনে না। তবু একজন আছেন, যিনি কখনো তার বান্দাকে একা ছাড়েন না। তিনি জন্মের আগেও ছিলেন, জন্মের পরও আছেন, মৃত্যুর পরও থাকবেন। বান্দা তাকে ভুলে যেতে পারে, কিন্তু তিনি কখনো বান্দাকে ভুলে যান না। অসংখ্য সৃষ্টির মধ্যে আল্লাহ মানুষকে দিয়েছেন বিশেষ মর্যাদা।

আদম (আ.) থেকে যত মানুষ পৃথিবীতে এসেছে এবং কিয়ামত পর্যন্ত আসবে, প্রত্যেকের স্রষ্টাও একমাত্র তিনিই। কোটি কোটি মানুষের মধ্যে দুজনের চেহারা, কণ্ঠস্বর, আঙুলের ছাপ কিংবা স্বভাব একেবারে অভিন্ন না বানানোর অসীম কুদরতও তাঁরই। মানুষ যখন মায়ের গর্ভে থাকে, তখন পৃথিবীর আলো-বাতাসের কোনো স্পর্শই সে পায় না। সেই অন্ধকার গর্ভেই আল্লাহ ধাপে ধাপে তাকে সৃষ্টি করেন। এক ফোঁটা তুচ্ছ বীর্য থেকে পূর্ণাঙ্গ মানুষে পরিণত হওয়ার প্রতিটি স্তর তারই অসীম কুদরতের নিদর্শন।

মায়ের গর্ভ থেকে পৃথিবীতে আগমনের পরও আল্লাহর অনুগ্রহের ধারা থেমে যায় না। মায়ের অন্তরে সন্তানের জন্য সীমাহীন মমতা সৃষ্টি করেন তিনি। শিশুর উপযোগী করে মায়ের দুধে সব ধরনের পুষ্টি দান করেন। বাবা-মায়ের স্নেহ, ত্যাগ ও ভালোবাসার মাধ্যমে সন্তানকে ধীরে ধীরে বড় করে তোলেন। শৈশব, কৈশোর, যৌবন ও বার্ধক্য- জীবনের প্রতিটি ধাপে তার অগণিত নিয়ামত মানুষকে ঘিরে রাখে। তবু মানুষ অনেক সময় এ নিয়ামতগুলোর মূল্য উপলব্ধি করতে পারে না। তাই কখনো কখনো আল্লাহ বান্দাকে বিপদ, রোগ কিংবা দুঃখের মাধ্যমে স্মরণ করিয়ে দেন ‘প্রকৃত আশ্রয় একমাত্র তিনিই। যখন শরীরের একটি ছোট্ট অঙ্গও অসুস্থ হয়ে পড়ে, তখন মানুষ উপলব্ধি করে সুস্থতা কত বড় নিয়ামত। আবার যখন আপনজনের কাছ থেকেও কষ্ট, অবহেলা বা প্রতারণা আসে তখন সে বুঝতে পারে সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয় আল্লাহর দরবার ছাড়া আর কোথাও নেই।

বান্দা যখনই একনিষ্ঠভাবে আল্লাহর ওপর ভরসা করেছে, আল্লাহ তাকে এমনভাবে সাহায্য করেছেন, যা মানুষের কল্পনাকেও হার মানায়। বদরের ময়দানে মাত্র ৩১৩ জন ইমানদারকে হাজারো সুসজ্জিত বাহিনীর বিরুদ্ধে বিজয় দান করেছিলেন তিনিই। মুসা (আ.)-এর জন্য সমুদ্র দ্বিখণ্ডিত করেছিলেন তিনিই। ইউনুস (আ.)-কে মাছের পেটের অন্ধকার থেকে মুক্তি দিয়েছিলেন তিনিই। নুহু (আ.)-কে মহাপ্লাবন থেকে, ইবরাহিম (আ.)-কে আগুন থেকে, ইউসুফ (আ.)-কে কূপ থেকে সম্মানের আসনে এবং আইয়ুব (আ.)-কে দীর্ঘ রোগভোগ থেকে মুক্তি দিয়েছিলেন সেই এক ও অদ্বিতীয় আল্লাহ।  বাবা-মা, ভাই-বোন, আত্মীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধব, সহকর্মীতিনি চিরঞ্জীব, চিরস্থায়ী, অনাদি ও অনন্ত। তাঁর রহমত ও করুণার দ্বার সর্বদা উন্মুক্ত। তিনি ধনী-গরিব, শক্তিশালী-দুর্বল, রাজা-প্রজা সবার রব। যে-ই আন্তরিক হৃদয়ে তাঁর দিকে ফিরে আসে, তিনি তাকে নিরাশ করেন না।

মহান আল্লাহ বলেন, ‘আমার বান্দারা যখন আমার সম্পর্কে তোমাকে জিজ্ঞাসা করে, তখন বলে দাও আমি তো খুবই নিকটে। আহ্বানকারী যখন আমাকে ডাকে, আমি তার ডাকে সাড়া দিই।’ (সুরা আল বাকারা, আয়াত ১৮৬) আল্লাহ আরও বলেন, ‘যে আল্লাহর ওপর ভরসা করে, তাঁর জন্য আল্লাহই যথেষ্ট।’ (সুরা আত-তালাক, আয়াত ৩)

দীনের নবী (সা.) বলেছেন, আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘আমার বান্দা যদি আমার দিকে এক বিঘত অগ্রসর হয়, আমি তার দিকে এক হাত অগ্রসর হই। আর সে যদি হেঁটে আসে, আমি তার দিকে দৌড়ে যাই।’ (সহি বুখারি, হাদিস ৭৪০৫, সহি মুসলিম, হাদিস ২৬৭৫) সুতরাং জীবনের প্রকৃত বন্ধু, সর্বশ্রেষ্ঠ সহায়ক এবং নির্ভরতার একমাত্র আশ্রয় মহান আল্লাহ। তার বন্ধুত্ব লাভ করতে পারাই মানুষের জীবনের সর্বশ্রেষ্ঠ অর্জন। যে হৃদয় আল্লাহকে আপন করে নিতে পারে, তার কাছে দুঃখও ইবাদত হয়ে যায়, বিপদও শিক্ষা হয়ে যায় এবং জীবন হয়ে ওঠে প্রশান্তির এক সুন্দর সফর।

লেখক : পরিচালক, চরপাথালিয়া সালমান ফারসী রা. মাদরাসা, মুন্সিগঞ্জ

আজকের নামাজের সময়সূচি, ২৩ ‍জুলাই, ২০২৬

ইসলামী জীবন ডেস্ক
আজকের নামাজের সময়সূচি, ২৩ ‍জুলাই, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি

আজ বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ৮ শ্রাবণ, ১৪৩৩, ৮ সফর, ১৪৪৮।
ঢাকা ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি নিম্নরূপ—

জোহরের সময় শুরু ১২টা ৮ মিনিটে।
আসরের সময় শুরু ৪টা ৪৩ মিনিটে।
মাগরিব ৬টা ৫০ মিনিটে।
এশার সময় শুরু ৮টা ১২ মিনিটে।
আগামীকাল ফজর শুরু ৪টা ০৩ মিনিটে 
আজ ঢাকায় সূর্যাস্ত ৬টা ৪৮ মিনিটে এবং আগামীকাল সূর্যোদয় ৫টা ২২ মিনিটে।
সূত্র : ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার বসুন্ধরা, ঢাকা।

রাতে গাছ কাটা বা পাতা ছেঁড়া নিয়ে ইসলাম কী বলে?

মুফতি ওমর বিন নাছির
রাতে গাছ কাটা বা পাতা ছেঁড়া নিয়ে ইসলাম কী বলে?
সংগৃহীত ছবি

আমাদের সমাজে একটি বহুল প্রচলিত ধারণা হলো—রাতে গাছ কাটা, গাছের ডাল ভাঙা বা পাতা ছেঁড়া নাকি অশুভ, এতে জিনের ক্ষতি হয়, অমঙ্গল নেমে আসে বা বিপদ ঘটে। কেউ কেউ আবার মনে করেন, ইসলামও নাকি রাতে গাছপালা স্পর্শ করতে নিষেধ করেছে। ফলে অনেক মানুষ শরিয়তের প্রকৃত শিক্ষা না জেনে লোকমুখে প্রচলিত এসব বিশ্বাসকেই ধর্মীয় বিধান মনে করেন। ইসলামে কোনো কাজকে হারাম বা নিষিদ্ধ বলার জন্য কোরআন, সহিহ হাদিস বা শরিয়তের গ্রহণযোগ্য দলিল থাকা আবশ্যক। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তোমরা এমন কথা বলো না যে, ‘এটি হালাল এবং এটি হারাম’, নিজেদের মুখের মিথ্যা বর্ণনার ভিত্তিতে আল্লাহর নামে মিথ্যা আরোপ করার জন্য।’ (সুরা : নাহল, আয়াত : ১১৬)
অতএব, কোরআন-হাদিসে নিষেধাজ্ঞা না থাকলে শুধুমাত্র লোকবিশ্বাসের কারণে কোনো কাজকে হারাম বলা বৈধ নয়।

অযথা গাছ ধ্বংস করা ইসলামে নিন্দনীয়
ইসলাম পরিবেশ সংরক্ষণে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়েছে। বিনা প্রয়োজনে গাছ কেটে ফেলা বা বৃক্ষ ধ্বংস করা ইসলামের শিক্ষার পরিপন্থী। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি অন্যায়ভাবে একটি বরই (সিদর) গাছ কাটবে, আল্লাহ তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করবেন।’ (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস : ৫২৩৯)

হাদিসের ব্যাখ্যায় আলেমগণ বলেছেন, এটি মানুষের উপকারে আসে এমন গাছ অন্যায়ভাবে ধ্বংস করার ব্যাপারে কঠোর সতর্কতা। তাই এ হাদিসের উদ্দেশ্য হলো অন্যায়ভাবে পরিবেশ ও মানুষের উপকারী সম্পদ ধ্বংস করা থেকে বিরত থাকা, রাত বা দিনের সময় নির্ধারণ করা নয়।

গাছ লাগানোকে সওয়াবের কাজ
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘কোনো মুসলিম যদি একটি গাছ রোপণ করে, এরপর তা থেকে মানুষ, পাখি বা কোনো প্রাণী খায়, তবে তা তার জন্য সদকাহ হিসেবে গণ্য হয়।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ২৩২০; সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১৫৫২)

রাতে গাছ কাটলে ক্ষতি হয়—এ ধারণার ভিত্তি কী?
অনেকের ধারণা, রাতে গাছ কাটলে জিনের আবাসস্থল নষ্ট হয় বা জিন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কিন্তু এ দাবির পক্ষে কোরআন বা সহিহ হাদিসে কোনো প্রমাণ নেই। জিনের অস্তিত্ব সত্য, কারণ কোরআনে তা উল্লেখ রয়েছে। কিন্তু পৃথিবীর প্রতিটি গাছে জিন বাস করে বা রাতে গাছ কাটলে জিনের ক্ষতি হয়—এমন বিশ্বাস শরিয়তসম্মত নয়। কোনো বিষয়কে আকিদার অংশ বা ধর্মীয় বিধান হিসেবে মানতে হলে তার নির্ভরযোগ্য দলিল থাকা অপরিহার্য। 

যেসব কারণে সাধারণত নিষেধ করা হয়
১. অন্ধকারে দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকে।
২. সাপ, বিচ্ছু বা বিষাক্ত প্রাণীর আক্রমণের ঝুঁকি থাকতে পারে।
৩. আলো কম থাকায় গাছের ক্ষতি বা নিজের আঘাত পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
এসব কারণে রাতে গাছ না কাটার পরামর্শ দেওয়া হলে তা নিরাপত্তার স্বার্থে, ধর্মীয় নিষেধাজ্ঞা হিসেবে নয়।

কুসংস্কার থেকে সতর্ক থাকা জরুরি
ইসলাম কুসংস্কার ও অমূলক বিশ্বাস পরিত্যাগ করতে শিক্ষা দেয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘সংক্রামক রোগ (স্বয়ংক্রিয়ভাবে ছড়ায়—এমন স্বাধীন ক্ষমতা), অশুভ লক্ষণ (তিয়ারাহ) ইত্যাদির কোনো বাস্তব প্রভাব নেই (আল্লাহর ইচ্ছার বাইরে)।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫৭৫৭; সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২২২০)
অর্থাৎ, অমূলক অশুভ ধারণা বা কুসংস্কারের ওপর বিশ্বাস করা একজন মুসলিমের জন্য সমীচীন নয়।

রাতে গাছ কাটা বা পাতা ছেঁড়া ইসলামে হারাম বা নিষিদ্ধ—এমন কোনো সহিহ দলিল নেই। তাই এটিকে ধর্মীয় বিধান হিসেবে প্রচার করা সঠিক নয়। তবে অযথা গাছ ধ্বংস করা, পরিবেশের ক্ষতি করা বা মানুষের উপকারী বৃক্ষ নষ্ট করা ইসলামে নিন্দনীয়। আবার নিরাপত্তার স্বার্থে রাতে গাছ না কাটার পরামর্শ যুক্তিসংগত হতে পারে, কিন্তু সেটিকে শরিয়তের বিধান বলা যাবে না।

ইসলামে শিল্পায়নের অনুপ্রেরণা | কালের কণ্ঠ