• ই-পেপার

মিটফোর্ডের সোহাগ হত্যা : ২১ আসামির বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ পেছাল

স্বাক্ষর-সিল জাল

ম্যাজিস্ট্রেটের নামে মামলার চেষ্টা : ফাঁসলেন আইনজীবীসহ ৩ জন

নিজস্ব প্রতিবেদক
ম্যাজিস্ট্রেটের নামে মামলার চেষ্টা : ফাঁসলেন আইনজীবীসহ ৩ জন

ঢাকার এক মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের স্বাক্ষর ও সিল জাল করে বিয়ের হলফনামা তৈরি করে ম্যাজিস্ট্রেটকে আসামি করে মামলা দায়েরের চেষ্টা করার অভিযোগে বরগুনার এক আইনজীবীসহ ৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

রবিবার (১৯ জুলাই) রাতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলামের অফিস সহকারী (কাম-কম্পিউটার অপারেটর) খালিদ হোসেন কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করে খালিদ হোসেন বলেন, মামলায় বরগুনা আইনজীবী সমিতির সদস্য তরিকুল ইসলাম (তরু) ফরাজী, মো. নয়ন ও ফাহিমা ইসলাম রিয়াকে আসামি করা হয়েছে।

মামলায় অভিযোগ করা হয়, রবিবার বিকেল ৩টার দিকে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলামের আদালত নয়ন ও রিয়ার বিবাহের হলফনামা যাচাই করার জন্য হলফনামার ফটোকপি খালিদ হোসেনকে পাঠান। খালিদ হলফনামার স্মারক নম্বর মেলানোর জন্য রেজিস্টার খাতায় দেখতে পান, স্মারকটি জাফরুল ইসলাম নামে এন্ট্রি। খালিদ বুঝতে পারেন, মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলামের ছদ্মনাম ধারণ করে স্বাক্ষর জাল করে প্রতারণামূলকভাবে নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে সম্পাদিত বিবাদিত বিবাহের হলফনামায় স্বাক্ষর ও সিল জালিয়াতি করে কাউন্টার সাইনের কলামে স্বাক্ষর ও সিল অন্তর্ভুক্ত করেছে।

মুসলিম বিবাহের ক্ষেত্রে বিবাহ ও তালাক কাজীর দ্বারা নিবন্ধন করতে হয়। অথচ আইন বহির্ভূত কোনো নোটারি পাবলিকের হলফনামা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলাম কাউন্টার সই করবে না জেনেও কোনো রকমের প্রাথমিক সত্যতা যাচাই না করে নয়ন ও অ্যাড. তরিকুল ইসলাম জালিয়াতির মাধ্যমে তৈরি নোটারি হলফনামা আরিফুল ইসলামের স্বাক্ষর ও সিল জাল দেখিয়ে অন্যান্য আসামিরা মিলে ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলামের নামে বরগুনার চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়েরের চেষ্টা করে। তবে বরগুনার ম্যাজিস্ট্রেট আরিফ হোসাইন মামলা গ্রহণ করার উপাদান না থাকায় তা খারিজ করে দেন।

আসামিরা একটি জালিয়াত চক্রের সদস্য। তারা জালিয়াতির মাধ্যমে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলামের স্বাক্ষর ও সিল জাল করে নোটারি হলফনামা তৈরি করে। পরবর্তীতে বিভিন্ন মামলাসহ অফিসিয়াল কাজে ব্যবহার করে। ফলে এ আসামিরাসহ অজ্ঞাতনামা আসামিরা প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে পরস্পর যোগসাজশে জাল জালিয়াতি চক্রের মাধ্যমে এ হলফনামায় কাউন্টার সাইনের কলামে স্বাক্ষর ও সিল অন্তর্ভুক্ত করে তৈরি করেছেন। এতে স্পষ্ট হয়, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে আদালতের সিল ব্যবহার করে ম্যাজিস্ট্রেটের স্বাক্ষর জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে তৈরি করে তা খাঁটি হিসেবে ব্যবহার করে এরূপ অপরাধ সংঘটন করেছে।

‘চকরিয়া সুন্দরবনের’ বনভূমি রক্ষা ও পুনরুদ্ধারে হাইকোর্টর রুল

নিজস্ব প্রতিবেদক
‘চকরিয়া সুন্দরবনের’ বনভূমি রক্ষা ও পুনরুদ্ধারে হাইকোর্টর রুল
সংগৃহীত ছবি

কক্সবাজারের ‘চকরিয়া সুন্দরবনকে’ সংরক্ষিত বনের তালিকা থেকে বাদি দিয়ে জারি করা প্রজ্ঞাপন এবং সুন্দরবনের সংরক্ষিত ও রক্ষিত বনভূমি পুনরুদ্ধারে ব্যর্থতা কেন বেআইনি ও জনস্বার্থবিরোধী ঘোষণা করা হবে না, জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।

আজ রবিবার এক রিটে প্রাথমিক শুনানির পর বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এই রুল দেন। এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছেন বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) আইনজীবী এস. হাসানুল বান্না।  

বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) পক্ষে জনস্বার্থে ওই রিট করা হয়। আদালতে বেলার পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মো. আশরাফ আলী। তাঁকে সহায়তা করেন আইনজীবী রুমানা শারমিন।

কক্সবাজারের দক্ষিণ চট্টগ্রাম উপকূলীয় এলাকায় বিস্তৃত সংরক্ষিত ও রক্ষিত (প্রায় ২১ হাজার একর) ‘চকরিয়া সুন্দরবন’ বনভূমি থেকে সব ধরনের অবৈধ ইজারা বরাদ্দ বাতিল এবং অননুমোদিত দখলদার উচ্ছেদ করে ওই বনভূমি সুরক্ষা, সংরক্ষণ ও পুনরুদ্ধারের নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না, সে প্রশ্নেও রুল জারি করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে।

ভূমিসচিব, পরিবেশসচিব, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদসচিব, কৃষিসচিব, প্রধান বন সংরক্ষক, মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ও কক্সবাজারের জেলা প্রশাসকসহ বিবাদীদের রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

বেলার বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ একাধিকবার এ বনভূমি পুনরুদ্ধারের নির্দেশনা জারি করলেও এখনো তার বাস্তবায়ন হয়নি, যা ১৯২৭ সালের বন আইন ও সংবিধানের পরিবেশ সংরক্ষণ সংক্রান্ত ১৮ক অনুচ্ছেদের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।

আইনি কাঠামোর মধ্যেই শেখ হাসিনার ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে : আইনমন্ত্রী

মাগুরা প্রতিনিধি
আইনি কাঠামোর মধ্যেই শেখ হাসিনার ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে : আইনমন্ত্রী
মাগুরা জেলা আইনজীবী সমিতি আয়োজিত মতবিনিময় ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দিচ্ছেন আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট মো. আসাদুজ্জামান।

আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী অ্যাডভোকেট মো. আসাদুজ্জামান এমপি বলেছেন, ‘শেখ হাসিনা বলেছেন বাংলাদেশে যেকোনো সময় তিনি ঢুকতে পারেন। দিন-তারিখ দিচ্ছেন ডিসেম্বর। ভালো কথা, আমরা অপেক্ষায় আছি উনি আসবেন। কিন্তু আপনার আপিলের ডিলে কন্ডিশনের বিষয় খণ্ডাবেন কী করে একটু চিন্তা করেন।’

তিনি বলেন, ‘তার অন্যান্য মামলা আমরা বিচারের মুখোমুখি করেছি এবং তাকে আনার চেষ্টা করছি। এই বিচারকে ডিফেন্ট করার নির্দোষ প্রমাণ করার একটা অভলিগেশন তার রয়েছে আদালতের সামনে এসে। তাকে নিশ্চয়ই আইনি কাঠামোর মধ্যে যেভাবে আইনসংগতভাবে তার ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা যায় আমরা সেটাই করব। আমরা প্রতিহিংসার রাজনীতি করি না।’

আজ রবিবার বিকেলে মাগুরা জেলা আইনজীবী সমিতি আয়োজিত মতবিনিময় ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী আরো বলেন, ‘ন্যায়বিচারের জায়গা, আমরা ন্যায়বিচার শুধু দেখানোর জন্য করছি না। আমরা ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে আমরা কোনো শর্টকাট পথে যাইনি। আমরা তার কণ্ঠের ফরেনসিক করিয়েছি। আমরা চাই শেখ হাসিনা ফিরুক। আইনসংগতভাবে তাকে দণ্ড কার্যকর করার জন্য যে বিধান আছে আমরা সে বিধানের পথ ধরে হেঁটে যেতে চাই। এর বাইরে কোনো পথ আমাদের জানা নেই।’

তিনি বিচার বিভাগের উদ্দেশে বলেন, ‘আমার দেশের গণতন্ত্র, মানবাধিকার, ন্যায়বিচার, আইনের শাসন, মানুষের মুখে হাসি ধরে রাখা উন্নয়ন—সব কিছুর কেন্দ্র বিন্দুতে যাদের সব থেকে বেশি ভূমিকা রাখা দরকার, তাদের মধ্যে অন্যতম হলো বিচার বিভাগ। আপনারা যারা বিচার বিভাগে আছেন তারা ডিভাইন পাওয়ার এক্সাসাইজ করেন। আপনাদের ডিভাইন পাওয়ার দিয়ে বাংলাদেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবেন।’

মাগুরার শিশু আছিয়া ধর্ষণ মামলা সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, ‘মাগুরা আমাদের সারা বাংলাদেশের শিশু নির্যাতনের বিরুদ্ধে একটি প্রতিবাদী মাইলফলক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলা। তার পথ ধরে রামিসার বিচার হয়েছে। আরো কিছু শিশু নির্যাতনের বিচার হয়েছে সংক্ষিপ্ত সময়ে।’ আছিয়ার মামলা খুব দ্রুত হাইকোর্টে বিচার নিষ্পত্তি হবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন। 

তিনি বলেন, ‘অন্যান্য মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য শিশুর প্রতি সহিংসতা ট্রাইব্যুনাল দমনের জন্য যে ট্রাইব্যুনাল করা হয়েছে, সেই ট্রাইব্যুনালে বিচারপ্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করার জন্য বিশেষ জজ ও পিপি নিয়োগ প্রক্রিয়ার মধ্যে আছি।’

জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন মাগুরা-১ আসনের সংসদ সদস্য মনোয়ার হোসেন খান, জেলা ও দায়রা জজ মিজানুর রহমান, জেলা প্রশাসক মোতাকাব্বির আহমেদ, চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাইফুল ইসলাম, পুলশ সুপার মোল্যা মহাম্মদ আজাদ হোসেন, জেলা পরিষদ প্রশাসক আলী আহমেদ, জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আহম্মদ হোসেন, জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শাহেদ হাসান টগর।

এর আগে জেলা আইনজীবী সমিতির পক্ষ থেকে আইনমন্ত্রীকে ফুল ও ক্রেস্ট দিয়ে সংবর্ধনা দেওয়া হয়।

রাজধানীতে ছিনতাইয়ের পর কুপিয়ে হত্যা : ২১ বছর পর দুজনের মৃত্যুদণ্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক
রাজধানীতে ছিনতাইয়ের পর কুপিয়ে হত্যা : ২১ বছর পর দুজনের মৃত্যুদণ্ড

২১ বছর আগে রাজধানীর কল্যাণপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ছিনতাইয়ের সময় ধারালো অস্ত্র দিয়ে শফিকুল আলম ওরফে শফিক নামের এক যুবককে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় দুই ছিনতাইকারীর মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

রবিবার (১৯ জুলাই) ঢাকার অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ ৪র্থ আদালতের বিচারক মোসাদ্দেক মিনহাজ এ রায় ঘোষণা করেন। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন মো. সোহেল রানা ওরফে কালু ও মো. নাজিম উদ্দিন ওরফে নজু। পাশাপাশি প্রত্যেকের ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে।

রাষ্ট্রপক্ষের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর মো. খলিলুর রহমান (খলিল) এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, রায় ঘোষণার সময় আসামিরা পলাতক থাকায় তাদের বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানাসহ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।

বিচারক রায়ে উল্লেখ করেন, আসামিরা পেশাদার অপরাধী। তাদের বিরুদ্ধে অস্ত্র, বিস্ফোরক ও মাদকের একাধিক মামলা রয়েছে। ছিনতাই করতে গিয়ে একজন সম্ভাবনাময় শিক্ষিত যুবককে ধারালো অস্ত্র দিয়ে উপর্যুপরি আঘাতের মাধ্যমে নির্মমভাবে খুন করা হয়েছে। তাই আসামিরা সর্বোচ্চ শাস্তি পাওয়ার হকদার।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০০৫ সালের ২২ জুন ভোর সোয়া ৪টার দিকে ভুক্তভোগী শফিক বগুড়া থেকে এসআর পরিবহনে ঢাকার কল্যাণপুর বাসস্ট্যান্ডে নেমে তার বন্ধুর বাসায় যাওয়ার জন্য রওনা হন। এশিয়া সিনেমা হলের সম্মুখে পৌঁছলে ৩ জন আসামি ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে তার পথরোধ করে দাঁড়ায়। এরপর তারা তাদের ধারালো অস্ত্র দিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে সঙ্গে থাকা নগদ অর্থ, মোবাইল জোরপূর্বক ছিনিয়ে নেওয়ার সময় ভিকটিমের শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করে। পরবর্তীতে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ভিকটিমের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় নিহতের বাবা মো. আকবর আলী বাদী হয়ে মিরপুর মডেল থানায় মামলাটি করেন।

মামলা দায়েরের পর আসামি সোহেল রানা ওরফে কালুকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরবর্তীতে সে হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দেয়। এরপর জামিন নিয়ে পালিয়ে যায়।

২০০৬ সালের ৫ এপ্রিল তদন্ত কর্মকর্তা মিরপুর মডেল থানার পরিদর্শক মো. রেজাউল করিম আসামিদের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। পরবর্তীতে আদালত একই বছরের ২৩ সেপ্টেম্বর আসামিদের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন। বিচারকালে ১৪ জন সাক্ষীর মধ্যে ৯ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করেন আদালত।