বিশ্বের কয়েক শ কোটি মানুষের চোখ এখন যুক্তরাষ্ট্রের নিউজার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে নিবদ্ধ। আমাদের সময় অনুযায়ী আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা পর রোমাঞ্চ, উত্তেজনা, অনিশ্চয়তা আর উৎকণ্ঠায় ভরপুর ২৩তম বিশ্বকাপ ফুটবলের শিরোপা দখলের জন্য নামবে লাতিন আমেরিকার আর্জেন্টিনা এবং ইউরোপীয় দেশ স্পেন। দুটি দেশই বিশ্ব ফুটবলে পরাশক্তি। স্পেন ইউরো চ্যাম্পিয়ন বিজয়ী, আর আর্জেন্টিনা কোপা আমেরিকা চ্যাম্পিয়ন। বিশ্বকাপের ৯৬ বছরের ইতিহাসে এটি একটি বিরল ঘটনা। এবারই প্রথম ফাইনালে পরস্পর পরস্পরের মুখোমুখি হবে ফুটবলে রোমাঞ্চ ছড়ানোর জন্য। ১৯৭০, ১৯৮৬ ও ১৯৯৪ সালে উত্তর আমেরিকায় যখন বিশ্বকাপের আসর বসেছে, তখন লাতিন দেশ ছাড়া কেউ জিততে পারেনি। এবার আবার উত্তর আমেরিকায় খেলা। লাতিন দেশ আর্জেন্টিনা আছে ফাইনালে, তাহলে কি আবার লাতিন দেশকে ট্রফি হাতে দেখা যাবে?
মাঠের লড়াই দর্শন এবং ফুটবল ক্যারেক্টার প্রদর্শনের ক্ষেত্রে আছে উভয় দেশের মধ্যে বেশ পার্থক্য। স্পেন তার খোলস ছেড়ে বের হয়ে আসার পর সত্যি ভয়ংকর হয়ে উঠতে পারে। তাদের মাথা আর ফুটবলের কৌশলে অন্য পরাশক্তিগুলোর চেয়ে অন্য রকম। এটি তারা প্রমাণ দিয়েছে আবার এই বিশ্বকাপে। অন্যদিকে আর্জেন্টিনার মানসিক শক্তি ভীষণ। তারা ভেঙে পড়তে জানে না। আর তাই পেছনে পড়েও এগিয়ে আসার লড়াই ওদের বড় বেশি। ভীষণভাবে আত্মবিশ্বাসী। স্পেন জিততে চায়, তবে তারা ব্যাকরণের বাইরে আসতে দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভোগে। এই দুটি দেশের ফুটবল নিয়ে যত গল্প আর সাহিত্য সৃষ্টি হয়েছে, অন্য কোনো দেশের ফুটবল নিয়ে তেমনটি হয়নি। কেননা তাদের ফুটবলে গল্পের উপাদান যে সবচেয়ে বেশি। তারা ফুটবলকে দেখে অন্য চোখে। তাই বলা মুশকিল নিউজার্সিতে কে জিতবে? কে ট্রফির সঙ্গে জিতে নিয়ে যাবে বাংলাদেশের টাকায় ৬১৫ কোটি টাকা।
আর্জেন্টিনার দখলে আছে ফিফা ওয়ার্ল্ড কাপ ট্রফি। এটি তারা জয় করেছে ২০২২ বিশ্বকাপে। ৩৬ বছর পর। তারা চাইছে কাপটি ‘রিটেইন’ করতে। অনেক বড় চ্যালেঞ্জ। তাদের অবশ্য সেই সামর্থ্য আছে। যদি তারা এবার দ্বিতীয়বারের মতো শিরোপা ধরে রাখতে পারে, তাহলে তারা ব্রাজিলের পাশে তাদের নাম লেখাতে পারবে। ব্রাজিল ১৯৫৮ ও ১৯৬২ সালে পর পর দুইবার বিশ্বকাপ জয়ের গৌরব অর্জন করেছে। আর্জেন্টিনাও তো লাতিন আমেরিকার দেশ।
স্পেন তাদের প্রথম গ্রুপ ম্যাচে প্রথম খেলায় নবাগত এবং দুর্বল কেপ ভার্দের বিপক্ষে ড্র করেছে। ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা সৌদি আরবের কাছে প্রথম খেলায় পরাজিত হওয়ার পর শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। ফুটবল এমন একটি খেলা, যেখানে আগাম কিছু বলা যাবে না। ফুটবল তার নিজস্ব মতে চলে। স্পেন যদি প্রথমে ধাক্কা খেয়ে শেষ পর্যন্ত বিজয়ী হয়, তাহলে ফুটবল ইতিহাস বলবে সময়মতো জ্বলে ওঠার বিকল্প নেই। ফুটবল চলে সব সময় এমন সব আশা-নিরাশার মধ্য দিয়ে।
এবার আমরা দেখলাম, যে চারটি দেশ বিগত বছরগুলোতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে, তারাই আবার সেমিফাইনালে একে অপরের প্রতিদ্বন্দ্বী। এতে ফুটবল আকর্ষণীয় হয়েছে। পাশাপাশি ভুগতে হয়েছে অনিশ্চয়তায়। সবাই দেখেছে ফ্রান্স ও ইংল্যান্ড কিভাবে সেমিফাইনালে বিদায় নিয়েছে যথাক্রমে স্পেন আর আর্জেন্টিনার কাছে হেরে। ফ্রান্স ও ইংল্যান্ড কিন্তু কেউই দৃঢ়চেতা আক্রমণাত্মক এবং গোছানো ফুটবল খেলতে পারেনি। তারা চেষ্টা করেছে, তবে এটি যথেষ্ট নয়। সবচেয়ে বড় কথা হলো, নিয়তি তাদের সঙ্গে ছিল না। ইংল্যান্ড সেই ১৯৬৬ সালে জয়ের পর আর এই শতাব্দীতে ফাইনাল খেলতে পারেনি। শক্তিশালী এবং ভারসাম্যপূর্ণ দল নিয়েও ফ্রান্স বিদায় নিয়েছে সেমিফাইনালে। ইংল্যান্ড ও ফ্রান্সকে ঘিরে অনেক আলোচনা, প্রত্যাশা আর স্বপ্ন দেখা হয়েছে—সব চুরমার করে দিয়েছে আর্জেন্টিনা ও স্পেন। ফুটবল বিশেষজ্ঞ এবং সাবেক গ্রেটরা অনেক কথাই বলেছেন—তবে বাস্তবতা হলো, ফ্রান্সের তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন স্বপ্নই থেকে গেল। আর ইংল্যান্ড তো এই শতাব্দীতে এসে আর জয়ের মুখ দেখেনি, যেটি আগেই উল্লেখ করেছি। ফ্রান্সের অর্থনীতিবিদ এবং অন্যরা এখন কী বলবেন?
বিশ্বকাপের ইতিহাসটিকে নাড়িয়ে দিতে চাচ্ছে আর্জেন্টিনা। তারা বিগত বছরগুলোতে তিনবার চ্যাম্পিয়ন আর তিনবার রানার্স আপ। যদি আর্জেন্টিনা এবার মেসির নেতৃত্বে শিরোপা জিততে পারে, তাহলে তারা জার্মানি ও ইতালির চারবার বিজয়ের পাশে তাদের নাম লেখাতে পারবে। জার্মানি এ পর্যন্ত বিশ্বকাপের ফাইনালে খেলেছে মোট আটবার। আর আর্জেন্টিনার এবার নিয়ে বিশ্বকাপের ফাইনালে খেলা হবে সাতবার। আর্জেন্টিনা শুধু এবার নয়, এর আগে ১৯৮৬ ও ১৯৯০ সালে ফাইনালে খেলেছে। অর্থাৎ এবার নিয়ে পর পর ফাইনাল খেলা (২০২২ ও ২০২৬) হবে তাদের দ্বিতীয়বার। ১৯৮৬ সালে ম্যারাডোনার আর্জেন্টিনা জিতলেও ১৯৯০ সালে জিতেছে জার্মানি। স্পেনের বিশ্বকাপ জয় ২০১০ সালে। এই ২০১৯ সালের পর আর কোনো নতুন দেশ বিশ্বকাপ জিততে পারেনি। স্পেনের সামনে এখন সুযোগ এসেছে। এবার যদি তারা জিততে পারে, তাহলে এটি হবে তাদের দ্বিতীয়বারের মতো শিরোপা বিজয়, যেটি জেতার সামর্থ্য তাদের আছে।
বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার আগে ফুটবল পণ্ডিতরা ছিলেন ভীষণ সতর্ক। তাঁরা বলেছেন, কাউকে ফেভারিট বলা মুশকিল। তবে তাঁদের বেশির ভাগের মতামত কিন্তু ফ্রান্স ও স্পেনের দিকেই ঝুঁকে ছিল। আর্জেন্টিনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে অনেক পরে, সতর্কতার সঙ্গে। তাঁরা স্পষ্টভাবে বলেছেন, বিগত বছরগুলোতে যে আটটি দেশ বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছে, তারা ছাড়া ২০২৬ বিশ্বকাপে অন্য কোনো দেশকে কাপ উঁচু করে ওপরে তুলে ধরতে দেখা যাবে না। অর্থাৎ ২০১০ সালে স্পেনের পর আর এবার কোনো নতুন দেশকে দেখার সম্ভাবনা নেই। এটি সঠিক হয়েছে। তবে তাঁদের কারো কারো সেমিফাইনালের ‘প্রেডিকশন’ সঠিক হয়নি। ফুটবলের ভবিষ্যৎ বলা হয় অনেক তথ্য এবং বিভিন্ন বিষয় ঘাঁটাঘাঁটি করে। ফ্রান্সের অর্থনীতিবিদরা তো সোজাসুজি বলেছেন, ফ্রান্স এবার তৃতীয়বারের চ্যাম্পিয়ন হবে। সেই ফ্রান্স তো তাদের ‘জার্নি’ শেষ করেছে সেমিফাইনালেই। ঘটনাবহুল এবং বহু আলোচিত বিশ্বকাপে যেটি দেখলাম, সেটি হলো সেমিফাইনালে যে চারটি দেশ কোয়ালিফাই করেছে, এই চারটি দেশ ফিফার র্যাংকিংয়ের ওপরে আছে—এই ধরনের অবস্থা কিন্তু বিশ্বকাপে আগে কখনো হয়নি। এতে সেমিফাইনাল দুটি ছিল টান টান উত্তেজনায় ভরপুর।
৪৮টি দেশ নিয়ে এবারের প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়েছে, কিন্তু কোনো স্তরেই মাঠের খেলা ঝুলে যায়নি। আর তাই পুরো বিশ্বকাপ ঘিরে ফুটবলের আকর্ষণ ছিল অনেক বেশি। একে একে বিদায় নিয়েছে উরুগুয়ে, জার্মানি ও ব্রাজিলের মতো বিশ্বকাপ বিজয়ী দল। এটির কারণ হলো প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং দিনের খেলা। নক আউটে তো সাধ্যমতো যুদ্ধ করা ছাড়া উপায় ছিল না। দিনের খেলায় দুর্বলতা মানেই বিদায়। নেদারল্যান্ডস, বেলজিয়াম, নরওয়ে ও মরক্কো কেন এগিয়ে আসতে পারেনি, এটি তো দেখা গেল।
বিশ্ব ফুটবল ডমিনেট করছে ইউরোপ। পরিসংখ্যানের এখন যে অবস্থা, এবার যদি লাতিন আমেরিকার আর্জেন্টিনা কাপ জেতে, এর পরও পিছিয়ে থাকতে হবে। সেমিফাইনালে চারটি দেশের মধ্যে একমাত্র আর্জেন্টিনা ছিল লাতিন আমেরিকার দেশ। কোয়ার্টার ফাইনালে আফ্রিকান দেশ মরক্কো ছিল।
সবচেয়ে বেশি মানবসম্পদ নিয়ে এশিয়া মহাদেশের ৯টি দেশ বিশ্বকাপ থেকে অনেক আগেই বিদায় নিয়েছে। এবারের বিশ্বকাপে এশিয়ার দেশগুলোর পারফরম্যান্স হতাশাজনক। ৪৭টি দেশ নিয়ে এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন। বিশ্বকাপে দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপান এবার চোখে পড়ার মতো ভূমিকা রাখতে ব্যর্থ হয়েছে। বিশ্ব ফুটবলে এএফসি দেশগুলোর গুরুত্ব কিন্তু অন্য জায়গায়। সেটি হলো ভোট। আফ্রিকান দেশগুলোর মেধা চলে যাচ্ছে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে। এটি এবার লক্ষ করা গেছে মাঠে প্রকটভাবে। আফ্রিকা মহাদেশ কী ভাবছে? ২০৩০ সালের বিশ্বকাপ তো হবে মরক্কো, স্পেন ও পর্তুগালে। আর ২০৩৪ সালের বিশ্বকাপের স্বাগতিক দেশ সৌদি আরব। আরববিশ্বে তো লক্ষণীয় হচ্ছে ফুটবলের ক্ষেত্রে অনেক বড় বিনিয়োগ, বিশেষ করে ক্লাবগুলোতে। তবে তাদের বিনিয়োগ হতে হবে পরিকল্পনামাফিক।
ফুটবল অর্থই সব। স্পন্সর ছাড়া উপায় নেই। বিভিন্ন প্রসিদ্ধ ব্র্যান্ড তো বছরের পর বছর ধরে বিভিন্ন দেশের জাতীয় দলকে পৃষ্ঠপোষকতা করছে। এবার ফাইনালে দুটি দেশ আর্জেন্টিনা ও স্পেন লড়বে। এই দুটি দেশের ফুটবল স্পন্সর তো অ্যাডিডাস। তারা পরাজিত করেছে সেমিফাইনালে নাইকির স্পন্সর করা ফ্রান্স ও ইংল্যান্ডকে। তৃতীয় ও চতুর্থ স্থান নির্ধারণী খেলায় আবার নাইকির স্পন্সর করা দুটি দেশ (ফ্রান্স ও ইংল্যান্ড) লড়বে। ফুটবল চত্বরে অ্যাডিডাসের দলের জয় মানে তাদের ব্র্যান্ড ভ্যালু অনেকাংশে বেড়ে যাওয়া। ব্র্যান্ডের এই যুদ্ধে আবার লক্ষ করতে হচ্ছে গোল্ডেন বুট, গোল্ডেন বল, সর্বোচ্চ গোলদাতা এবং ‘সেরা তরুণ খেলোয়াড়’ কোন ব্র্যান্ডের এনডোর্সমেন্টের আওতায় খেলোয়াড়রা পেতে যাচ্ছেন।
ফুটবল শুধু খেলা নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে পদে পদে ব্যবসা, আন্তর্জাতিক রাজনীতি, বর্ণবৈষম্য, পক্ষপাতিত্ব আর ফিফার প্রচণ্ড ভণ্ডামি। ফিফা কখনো নিরপেক্ষ ছিল না, এখনো নয়। ইরানের বিষয় ফিফা কিছুই করতে পারেনি। কারণ হলো যুক্তরাষ্ট্রকে তারা চটাতে চায়নি নিজ স্বার্থের কথা ভেবে। বাজে রেফারিং এবং পক্ষপাতিত্ব নিয়ে কথা উঠেছে। ফিফা তাদের সুন্দর সুন্দর বয়ান শুনিয়েছে লিখিতভাবে। দুর্বল এবং পিছিয়ে পড়া দেশগুলো ফুটবল বিশ্বকাপে বিভিন্নভাবে অবহেলিত হয়েছে। তাদের প্রতি যথাযথ সম্মান দেখানো হয়নি। বড় কথা হলো, খেলার চেয়ে ব্যবসাকে এখন বড় করে দেখা হয়েছে। চড়া মূল্যে টিকিট কেটে খেলা দেখেছে মানুষ, কিন্তু এটি তো ফিফার দর্শন নয়। বিশ্বজুড়ে ফুটবল কাদের খেলা? এবার বিশ্বকাপে এই প্রশ্ন উঠেছে। ফিফা ভীষণ ব্যস্ত ব্যবসা নিয়ে। উত্তর দেওয়ার সময় কোথায়? তাদের তো বাংলাদেশের টাকায় প্রায় এক লাখ ১০ হাজার কোটি টাকার ‘বিজনেস এস্টিমেট’। এটি তো অ্যাচিভ করতেই হবে, যেভাবেই হোক। শেষে এসে সান্ত্বনা একটিই, শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপ ফুটবল সাঙ্গ হতে যাচ্ছে। কয়েক শ কোটি মানুষ খেলা উপভোগ করেছে ফুটবলকে ভালোবেসে। একটি মিথ আবার সত্য হলো, বিদেশি পেশাদার কোচ কখনো দেশকে জেতাতে পারেন না।
লেখক : কলামিস্ট ও বিশ্লেষক। সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি, এআইপিএস এশিয়া। আজীবন সদস্য, বাংলাদেশ স্পোর্টস প্রেস অ্যাসোসিয়েশন প্যানেল রাইটার, ফুটবল এশিয়া



একই দিনের আরেকটি খবর, রাজধানীর উত্তর মুগদাপাড়ার একটি ভাড়া বাসা থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালক তানভীর হোসেন শুভর (৪৫) অর্ধগলিত ঝুলন্ত লাশ উদ্ধারের। কোনো কোনো পত্রিকা এই খবরটিকে নূরজাহান বেগমের খবরকে পাশাপাশি রেখেছে—নূরজাহান বেগমের খবরকে বড় করে দিয়ে, তানভীর হোসেন শুভর খবরটি কিছুটা ছোট আকারে সাজিয়ে। শুভর তো বস্তুগত কোনো কিছুর অভাব ছিল না। ব্যাংকে উচ্চপদে চাকরি করতেন, রাজধানীর সেগুনবাগিচায় পৈতৃক গৃহে থাকার কথা নিরাপদ আশ্রয়ে, কিন্তু তিনি একাকী থাকতেন একটি ভাড়া বাসায়। বিয়ে করেছিলেন, কিন্তু স্ত্রীর সঙ্গে বিচ্ছেদ ঘটে গিয়েছিল বছর দশেক আগে। মরণের সাধ তো মানুষের এমনি এমনি হয় না, নিশ্চয়ই অত্যন্ত নিঃসঙ্গ হয়ে পড়েছিলেন এবং আক্রান্ত হয়েছিলেন হতাশায়। হতাশাও একটি রোগ বটে; জীবনের ওপর সে ছায়া ফেলে এবং মৃত্যুকে সুযোগ করে দেয় ওত পেতে থাকতে, সুযোগের অপেক্ষায়। 
