• ই-পেপার

পলিথিন ও জলাবদ্ধতা

বাঁশখালীর বন্যাদুর্গতদের পাশে দাঁড়ান

বাঁশখালীর বন্যাদুর্গতদের পাশে দাঁড়ান

চট্টগ্রামের বাঁশখালী আজ এক কঠিন মানবিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। টানা বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল ও জলোচ্ছ্বাসে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন প্লাবিত হয়েছে। হাজারো পরিবার ঘরবাড়ি হারিয়েছে, ফসল নষ্ট হয়েছে, গবাদি পশু ভেসে গেছে। অনেক মানুষ এখনো আশ্রয়কেন্দ্র কিংবা উঁচু স্থানে মানবেতর জীবনযাপন করছে। এরই মধ্যে বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন, স্বেচ্ছাসেবী দল, শিক্ষার্থী, প্রবাসী ও ব্যক্তিগত উদ্যোগে ত্রাণ বিতরণ করা হচ্ছে। তবে বাস্তবতা হলো, ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা এত বেশি যে এখনো অনেক পরিবার কোনো ধরনের সহায়তা পায়নি। দুর্গম এলাকা, বিচ্ছিন্ন গ্রাম ও পাহাড়ি অঞ্চলের অসংখ্য মানুষ এখনো সাহায্যের অপেক্ষায় দিন কাটাচ্ছেন

বিশেষ করে সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, শিল্পপতি, ব্যবসায়ী, জনপ্রতিনিধি, প্রবাসী এবং বিভিন্ন দাতব্য প্রতিষ্ঠানের প্রতি আহবান, আপনাদের সহযোগিতা আজ অসংখ্য অসহায় পরিবারের মুখে হাসি ফিরিয়ে দিতে পারে। মানবিক দায়িত্ববোধ থেকেই এই দুর্যোগে এগিয়ে আসুন।

আমরা সবাই মিলে বাঁশখালীর বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়াই। একটি পরিবারও যেন ক্ষুধার্ত না থাকে, একটি শিশুও যেন বিশুদ্ধ পানির অভাবে কষ্ট না পায়।

তৌহিদ-উল বারী

বাঁশখালী, চট্টগ্রাম

বন্যায় পথপ্রাণীদের দিকেও নজর দিন

বন্যায় পথপ্রাণীদের দিকেও নজর দিন

বন্যার সময় ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাটসবই পানিতে ডুবে যায়। মানুষ সহায়-সম্বল হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়ে। সরকার তাদের পুনর্বাসনের জন্য বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্র গড়ে তোলে এবং মৌলিক চাহিদা পূরণ করতে চেষ্টা করে। কিন্তু এই দুর্যোগে কুকুর-বিড়ালের কষ্ট কম না। পথপ্রাণীরা ফুটপাতে শুয়ে থাকে, উচ্ছিষ্ট ও ময়লা আবর্জনার স্তূপ থেকে খাবার খেয়ে বাঁচে। কিন্তু বন্যায় যখন রাস্তাঘাট ডুবে যায়, তখন তারা অস্তিত্ব সংকটে পড়ে। বোবা প্রাণী বলে তারা তাদের দুঃখ, কষ্ট, ক্ষুধার ব্যাপারে কাউকে কিছু মুখ ফুটে বলতে পারে না। একটু খাবার আর আশ্রয়ের জন্য তারা ছুটে বেড়ায়। আমাদের মনে রাখা দরকার, যেকোনো প্রাণী আমাদের জীববৈচিত্র্যের অংশ। বন্যায় শুধু মানুষ নয়, গোটা জীববৈচিত্র্যই হুমকির মুখে পড়ে। তাই অসহায় মানুষকে পুনর্বাসনের পাশাপাশি প্রশাসন এবং সাধারণ মানুষের উচিত পথপ্রাণীদের দিকে দৃষ্টি দেওয়া। কারণ তারা দিনশেষে আমাদের নীরবে বিভিন্ন সাহায্য করে থাকে। তাই আমাদের সবার উচিত তাদের বিপদে  খাবার, আশ্রয় এবং প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে সাহায্য করা। তবেই একটি মানবিক ও সুন্দর সমাজ গড়ে উঠবে।

শেখ সুলতানা মীম

শিক্ষার্থী, ইডেন মহিলা কলেজ

সিন্ডিকেটমুক্ত হাসপাতাল চাই

সিন্ডিকেটমুক্ত হাসপাতাল চাই

হাসপাতাল হলো এমন একটি স্থান, যেখানে মানবিকতা প্রয়োজন। এখানে মানুষের ভিড় শুধু অসুস্থতা কিংবা দুর্ঘটনার কারণে। আজকাল মানুষের আয়ের বড় অংশ চলে যায় চিকিৎসা খরচ মেটাতে। তাই হাসপাতালে সেবা নিশ্চিত করা জরুরি। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি ঠিক তার উল্টো। প্রায় প্রতিটি হাসপাতাল একটি নির্দিষ্ট সিন্ডিকেটের দখলে। একজন রোগীকে অহেতুক পরীক্ষা দেওয়া এবং মৃত্যুর পরও লাশ রেখে কেবিন ও চিকিৎসা বিল বৃদ্ধি করার মতো গুরুতর অনিয়ম ঘটে হাসপাতালে। সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে একটি লাশকে চিকিৎসার নামে তিন দিন পর্যন্ত আটকে রাখার খবর দেখা গেছে। এটি অবশ্যই অপরাধ। প্রশাসনিক এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে যদি একটি কার্যকর ফোর্স নিয়োগ করা হতো, তবে হয়তো এমন পরিস্থিতি কমে আসত। মানবতা যেখানে হেরে যায়, সেখানে শুধু পশুর অস্তিত্ব ছাড়া কিছুই থাকে না।

তাই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে বিনীত অনুরোধ, সরকারি-বেসরকারি প্রতিটি হাসপাতালে নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি জরুরি অনুসন্ধান করুন।

আবদুর রশিদ

শিক্ষক, সাতকানিয়া, চট্টগ্রাম

ফুটবল ঘিরে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা

ফুটবল ঘিরে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা

বিশ্বকাপ মানেই ফুটবলপ্রেমীদের আনন্দ আর উন্মাদনা। মাঠে খেলোয়াড়দের লড়াই আর সমর্থকদের উচ্ছ্বাসে মুখরিত বাংলাদেশ। দেশের ফুটবলপ্রেমীরা পরছে পছন্দের দলের জার্সি, টাঙিয়েছে পতাকা। এ ছাড়া পছন্দের দলের সমর্থনে চলছে মিছিল, শোডাউন। ফেসবুক পোস্ট কমেন্টে নিজের দলকে সামনে রাখতে প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে সবাই। তবে বাংলাদেশে ফুটবল উন্মাদনার আড়ালে চলছে কথা-কাটাকাটি, এমনকি সংঘর্ষের মতো অপ্রীতিকর ঘটনাও। বাংলাদেশ থেকে হাজার কিলোমিটার দূরত্বের খেলাকে কেন্দ্র করে দেশে হতাহতের ঘটনাও ঘটেছে। পতাকা টাঙানো কিংবা খেলা দেখাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে কয়েকজনের মৃত্যুর খবরও পাওয়া গেছে। নিহতদের মধ্যে পতাকা টাঙাতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়া, স্ট্রোক, খেলা দেখা নিয়ে সংঘর্ষ এবং পছন্দের দল হেরে যাওয়ায় অভিমানে আত্মহত্যার ঘটনা দেখা গেছে। এতে খেলার আনন্দ পরিণত হয়েছে বেদনাদায়ক শোকের ঘটনায়। আমাদের উচিত ফুটবল বিশ্বকাপকে শুধুই বিনোদনের মাধ্যম হিসেবে নেওয়া এবং এই খেলা নিয়ে অতিরিক্ত বাড়াবাড়ি ও আবেগতাড়িত হয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে না পরা। বিশ্বকাপ ফুটবল হোক শুধুই সুস্থ বিনোদনের মাধ্যম।

আল-আমিন ইসলাম

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া