কেমব্রিজ সেন্ট্রাল মসজিদ পরিদর্শন করেছেন ব্রিটিশ রাজা তৃতীয় চার্লস। তিনি গত ২০ জুলাই সোমবার মসজিদ পরিদর্শনে যান। যুক্তরাজ্যের ইতিহাসে দায়িত্বে থাকা অবস্থায় এটাই প্রথম কোনো রাজার আনুষ্ঠানিক মসজিদ পরিদর্শন। যুক্তরাজ্যে মুসলমানদের বিরুদ্ধে ক্রমবর্ধমান ইসলামোফোবিয়া ও বৈষম্য নিয়ে উদ্বেগের মধ্যেই ব্রিটিশ রাজা তৃতীয় চার্লস এই সফর করলেন, যা ব্রিটিশ সমাজের প্রতি শান্তি ও সম্প্রীতির বার্তা প্রদান করে।
ব্রিটিশ রাজা মসজিদটির ট্রাস্টি, ইমাম ও কমিউনিটির সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। ইউরোপের প্রথম পরিবেশবান্ধব (ইকো-ফ্রেন্ডলি) মসজিদ হিসেবে পরিচিত কেমব্রিজ সেন্ট্রাল মসজিদ। রাজার আগমন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে যুক্তরাজ্যে তুর্কি রাষ্ট্রদূত ওসমান কোরাই এরতাশ, কেমব্রিজ মসজিদ ট্রাস্ট বোর্ডের সদস্য জেইনেপ চোশকুন কোচ ও সেলিম আরগুন, ব্রিটিশ লেখক আবদুল হাকিম মুরাদসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
মসজিদ পরিদর্শনের সময় রাজা তৃতীয় চার্লসকে সেলিমিয়ে মসজিদের গম্বুজের স্থাপত্য থেকে অনুপ্রাণিত একটি কাচের পেপারওয়েট এবং মসজিদটির নির্মাণকাজ ও অর্জিত আন্তর্জাতিক পুরস্কারগুলো নিয়ে প্রকাশিত একটি বিশেষ স্মারক গ্রন্থ উপহার দেওয়া হয়।
ট্রাস্ট বোর্ডের সদস্য জেইনেপ চোশকুন কোচ বলেন, এই সফরটি মসজিদ ও সাধারণ মানুষের জন্য ঐতিহাসিক গুরুত্ব বহন করে। এই প্রথম কোনো ব্রিটিশ রাজা আনুষ্ঠানিকভাবে মসজিদ সফর করলেন। এর আগে তাঁর মা রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ ২০০২ সালে একটি মসজিদ পরিদর্শন করেছিলেন। এরপর গত ২০ বছরে এমন কোনো সফর হয়নি এবং কোনো ব্রিটিশ রাজা এর আগে কখনো আনুষ্ঠানিকভাবে মসজিদে আসেননি।
জেইনেপ চোশকুন কোচ বলেন, ‘ইংল্যান্ডের এই বিশ্ববিদ্যালয় শহরে মসজিদটি প্রতিষ্ঠায় তুরস্কের সহায়তা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই মসজিদ নির্মাণের গুরুত্ব, এর সম্ভাব্য অবদান এবং সমাজে এর ইতিবাচক প্রভাব প্রথম উপলব্ধি করেছিল তুর্কি দিয়ানেত ফাউন্ডেশন। শুরু থেকে তারাই আমাদের সবচেয়ে বড় সহায়ক। প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান ব্যক্তিগতভাবে নির্মাণকাজের প্রতিটি ধাপ পর্যবেক্ষণ করেছেন এবং তুর্কি দিয়ানেত ফাউন্ডেশন প্রকল্পটির জন্য সর্বোচ্চ আর্থিক সহায়তা দেওয়ার পর ২০১৯ সালে তিনি নিজেই মসজিদটির উদ্বোধন করেন।’
মসজিদটির স্থাপত্যে ইসলামী জ্যামিতিক নকশার সঙ্গে কেমব্রিজের স্থানীয় স্থাপত্য ঐতিহ্যের সমন্বয় ঘটানো হয়েছে। মসজিদটিতে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য ফটোভোল্টাইক প্যানেল, বায়ু-উৎসভিত্তিক হিট পাম্প এবং সবুজ উদ্ভিদে আচ্ছাদিত সেডাম ছাদ ব্যবহার করা হয়েছে। প্রাকৃতিক বায়ু চলাচলের ব্যবস্থা এবং টেকসই উৎস থেকে সংগৃহীত কাঠ ব্যবহারের মাধ্যমে ভবনটির শূন্য-কার্বন (জিরো-কার্বন) পরিবেশগত প্রভাব বজায় রাখা হয়েছে। এ ছাড়া বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের ব্যবস্থা এবং সৌরবিদ্যুতের মাধ্যমে মসজিদটির মোট বিদ্যুৎ চাহিদার প্রায় ৪০ শতাংশ পূরণ করা হয়। ভবনের অভ্যন্তরে বাতাসের মান ও তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে আধুনিক সেন্সর প্রযুক্তি ব্যবহৃত হচ্ছে।
ব্রিটিশ গবেষক ও লেখক আবদুল হাকিম মুরাদ বলেন, যুক্তরাজ্যে মুসলমানদের মধ্যে যখন উদ্বেগ ও ভুল-বোঝাবুঝি বাড়ছে, তখন এই সফর ব্রিটিশ মুসলিমদের জন্য অত্যন্ত প্রতীকী গুরুত্ব বহন করে। তিনি জানান, সফরকালে রাজা তৃতীয় চার্লস তরুণ-তরুণী ও শিশুদের সঙ্গে দীর্ঘ সময় ধরে কথা বলেছেন। একই সঙ্গে তিনি পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি এবং বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে সেতুবন্ধ গড়ে তোলার উদ্যোগের প্রতি গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেন।
সূত্র : ইয়েনি সাফাক, টিআরটি ওয়ার্ল্ড ও এশিয়ান ইমেজ