কক্সবাজারের সীমান্তবর্তী টেকনাফে একের পর এক অপহরণ ও জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায়ের ঘটনা এলাকার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতিকেই সামনে নিয়ে এসেছে। পাহাড়ি জঙ্গলে গড়ে ওঠা নিয়ন্ত্রণহীন এই অপরাধচক্রের দৌরাত্ম্যে জনমনে ভয়াবহ আতঙ্ক বিরাজ করছে। অনেকে ঘরবাড়ি ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছে। কয়েক বছরে ওই এলাকায় তিন শতাধিক লোক অপহরণের শিকার হয়েছে। এই নৈরাজ্যের শেষ কোথায়?
কালের কণ্ঠের গতকালের প্রতিবেদনে বলা হয়, টেকনাফের বাহারছড়া ইউনিয়নের জুম্মাপাড়ায় গত তিন সপ্তাহে দুটি অপহরণের ঘটনা ঘটেছে। এই আতঙ্কে অন্তত ২০০ পরিবার নিজেদের ঘরবাড়ি ছেড়ে অন্যত্র আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছে। এলাকাবাসীর কাছ থেকে জানা গেছে, জুম্মাপাড়ায় পাহাড়ের পাদদেশে পাঁচ শতাধিক পরিবারের বসবাস। আর পাহাড়ের ওপরে সন্ত্রাসীদের আস্তানা। সন্ধ্যা নেমে এলেই সন্ত্রাসীরা নিচে নেমে আসে এবং সামনে যাকে পায়, তাকেই অপহরণ করে নিয়ে যায়। কাউকে না পেলে বাড়িঘরে লুটপাট চালায়। এলাকার বয়োবৃদ্ধরা জানিয়েছেন, সারা জীবনেও তাঁরা এমন আতঙ্কজনক পরিস্থিতি দেখেননি।
খবরে বলা হয়েছে, ২৮ জুন দিনের বেলায় অস্ত্রের মুখে অপহরণ করা হয় পল্লী চিকিৎসক কামাল উদ্দিনকে। পরে তিনি মুক্তিপণ দিয়ে ফিরে আসেন। এরপর ১৭ জুলাই বিকেলে আবদুল মাবুদের শিশুপুত্র আরাফাত (১২) মহিষ আনতে গেলে সন্ত্রাসীরা তাকে অপহরণ করে এবং ১২ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। পরে চার লাখ টাকা মুক্তিপণ দিয়ে তাকে উদ্ধার করা হয়। এভাবে ২০২৩ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত এই তিন বছরে টেকনাফের বাহারছড়া এলাকাসহ আরো কয়েকটি এলাকায় অন্তত ২৯৫ জন অপহরণের শিকার হয়েছে। চলতি বছরেই এখন পর্যন্ত অন্তত ২০টি অপহরণের ঘটনা ঘটেছে। একই সময়ে ওই এলাকায় হত্যা ও সশস্ত্র সহিংসতার ঘটনাও বেড়েছে। এই পরিস্থিতিতে এলাকাবাসী জান-মালের নিরাপত্তা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় ভুগছে।
খবরে বলা হয়েছে, রোহিঙ্গা ও বাঙালি সন্ত্রাসীদের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা অন্তত তিনটি সশস্ত্র গোষ্ঠী এই অপহরণকাণ্ডে জড়িত। এই গ্রুপগুলোর হোতাদের নামও প্রতিবেদনে এসেছে। এরাই দুর্গম পাহাড়ি আস্তানায় আটকে রেখে ভুক্তভোগীদের অকথ্য নির্যাতন করে থাকে। অপহরণের টাকা না পেলে তাদের পাচার করা হয়; তা না হলে প্রাণে মেরে ফেলা হয়।
এটি ঠিক যে সীমান্তবর্তী পাহাড়ি এলাকা হওয়ায় অপরাধীরা কৌশলগত সুবিধা পেয়ে থাকে। এ কারণে নিরাপত্তা বাহিনীকে অবস্থান ও পরিস্থিতি অনুযায়ী পদক্ষেপ নিতে হবে। ড্রোন ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে এলাকায় নজরদারি বাড়ানো যেতে পারে। সর্বোপরি যৌথ অভিযান ও সীমান্তে নিরাপত্তা বাড়িয়ে টেকনাফের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।

