তৈরি পোশাক শিল্প দেশের প্রধান রপ্তানি খাত হলেও এর কাঁচামালের একটি বড় অংশ এখনো আমদানিনির্ভর। বিশেষ করে ওভেন পোশাক খাতে কাপড় ও অন্যান্য উপকরণ আমদানির হার তুলনামূলক বেশি। গত এক দশকে স্পিনিং, উইভিং, ডায়িং ও ফিনিশিং খাতে ব্যাপক অগ্রগতি হয়েছে এবং পোশাকশিল্পের কাঁচামালের একটি বড় অংশ এখন দেশেই তৈরি হচ্ছে। কিন্তু সম্প্রতি ব্যাংকঋণের উচ্চ সুদের হার, জ্বালানিসংকট, ডলার সংকট, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক বাজারে চাহিদা কমে যাওয়ায় দেশের অনেক স্পিনিং ও টেক্সটাইল মিল চাপে রয়েছে। এই অবস্থায় দেশীয় বস্ত্রশিল্পের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং রপ্তানি খাতে দেশীয় কাঁচামালের ব্যবহার উৎসাহিত করতে বিকল্প নগদ সহায়তার হার বাড়িয়েছে সরকার। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সরকারের এই সময়োপযোগী উদ্যোগে সুতা ও কাপড়ের স্থানীয় উৎপাদন বাড়বে এবং একই সঙ্গে বাড়বে এই খাতে কর্মসংস্থান।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত সুতা ও কাপড় ব্যবহার করে তৈরি রপ্তানিমুখী পোশাকের ক্ষেত্রে বিদ্যমান ১.৫ শতাংশের পরিবর্তে ৫ শতাংশ হারে নগদ সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। নতুন এই সুবিধা চলতি অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে কার্যকর হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার জারি করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, নগদ সহায়তা পেতে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানকে বিজিএমইএ, বিকেএমইএ অথবা সংশ্লিষ্ট বাণিজ্য সংগঠনের প্রত্যয়নপত্রের মাধ্যমে প্রমাণ করতে হবে যে উৎপাদনে ব্যবহৃত সুতা বা কাপড় দেশীয় উৎস থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বাংলাদেশ ব্যাংককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমএ) দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় কাঁচামাল ব্যবহারে উৎসাহ দিতে বিকল্প নগদ সহায়তার হার বাড়ানোর দাবি জানিয়ে আসছিল। অর্থনীতিবিদ ও শিল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, সহায়তার হার বৃদ্ধি করায় স্থানীয় সুতা ও কাপড়ের চাহিদা বাড়বে। ফলে বর্তমানে সক্ষমতার তুলনায় কম উৎপাদনকারী স্পিনিং ও উইভিং মিলগুলোও উৎপাদন সম্প্রসারণে উৎসাহিত হবে। বিটিএমএর সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল কালের কণ্ঠকে বলেন, স্থানীয় বস্ত্র খাতকে টিকিয়ে রাখা এবং রপ্তানি পণ্যে দেশীয় মূল্য সংযোজন বাড়ানোর জন্য সরকারের এই সিদ্ধান্ত অত্যন্ত সময়োপযোগী। এর ফলে স্থানীয় সুতা ও কাপড়ের ব্যবহার বাড়বে, শিল্পে নতুন বিনিয়োগ আসবে এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। একই সঙ্গে এটি আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
শ্রমঘন এই খাতটির সঙ্গে দেশের অর্থনীতি গভীরভাবে সম্পৃক্ত। তাই এই খাতটির অগ্রযাত্রা ধরে রাখতে হবে। নগদ সহায়তা বৃদ্ধির পাশাপাশি নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস-বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা, সহজ শর্তে ঋণপ্রাপ্তি এবং নীতিগত স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করাও অত্যন্ত জরুরি।

